ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বাসিলানে যাত্রীবোঝাই ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে গেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন কোস্টগার্ড বাহিনীর ডুবুরিরা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতের পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি ত্রিশা কার্স্টিন-৩ বন্দর শহর জাম্বোয়াঙ্গা ছেড়ে দক্ষিণ সুলু প্রদেশের জোলো দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল।
বাসিলানের মেয়র আরসিনা লাজা কাহিং ন্যানোহ এবং ফিলিপাইন কোস্টগার্ড বাহিনীর বাসিলান শাখার কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেরিটিতে ৩৩২ যাত্রী ও ২৭ ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ৪৩ জন। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন কোস্টগার্ড বাহিনীর ডুবুরিরা।
দুয়া বলেন, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে। এদিকে বাসিলান প্রদেশের টাউন মেয়র আরসিনা লাজা কাহিং ন্যানোহ ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ফেরিডুবিতে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার এবং মৃতদেহ নৌকায় তোলার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
একটি পৃথক ভিডিও বিবৃতিতে কাহিং ন্যানোহ বলেন, উত্তাল সমুদ্র এবং অন্ধকারের কারণে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
বাসিলানের জরুরি উদ্ধারকর্মী রোনালিন পেরেজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, কমপক্ষে ১৩৮ জনকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।
মিন্দানাওয়ের কোস্টগার্ড কমান্ডার দুয়া জানিয়েছেন, কী কারণে ফেরিটি ডুবে গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি স্পষ্ট নয় এবং এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার আগেই কোস্টগার্ড ফেরিটি সরিয়ে ফেলেছে এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
ঘন ঘন ঝড়, জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তা বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণে ফিলিপাইনে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর : আলজাজিরা।