Connect with us

ক্যাম্পাস

প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি ইবি ছাত্রদলের, দ্বিমত পোষণের হিড়িক শিক্ষার্থীদের

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

সাজিদ হত্যাকাণ্ডে খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে না পারা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। তবে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কোন সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ। তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। পাশাপাশি “আমি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির দ্বিমত পোষণ করছি” বলে ফেসবুকে স্টাটাস দেন শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষকের বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে প্রতিবাদলিপিও শেয়ার দিতে দেখা গেছে।

এছাড়া সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অন্য সংগঠনগুলোও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির সঙ্গে একমত নয় বলে জানিয়েছেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সাজিদ হত্যার বিচার দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মানববন্ধনে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। এছাড়া প্রক্টর যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে প্রশাসন কর্তৃক তাকে অপসারণ করতে হবে; অন্যথায় বুধবার উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন সাহেদ। সাহেদের দেওয়া এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কসহ মানবন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলো বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এ বক্তব্যের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি একান্তই ছাত্রদল আহ্বায়কের ব্যক্তিগত। আমরা এই দাবির সাথে একমত না। আমরা সাজিদ হত্যার বিচার চাই। কোন অদৃশ্যবলে বিচার আটকে আছে তার উদঘাটন চাই। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

মানববন্ধনের আয়োজক হিসেবে পরিচয় দেওয়া বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির সাথে একমত না। শুধু প্রক্টরের পদত্যাগ চেয়ে লাভ নাই, চাইলে পুরো প্রশাসনের পদত্যাগ চাইতে হবে। তাছাড়া আজকে আমাকে প্রোগ্রামের আয়োজক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে আমি প্রোগ্রামের আয়োজক ছিলাম না। আমি শুধু প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।’

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইবি শাখার সভাপতি সাদেক আহমদ বলেন, ‘এভাবে একক দায় দিয়ে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত হয়নি। আমি মনে করি স্যারের অনেক অবদান রয়েছেন।’

ইবি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সহ সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডল বলেন, ‘ছাত্রদলের আহ্বায়ক যে বক্তব্য দিয়েছে এটার সাথে আমরা একমত নই। এটা ছাত্রদলের বক্তব্য, আমাদের নয়। আমি ব্যক্তিগত তাড়না থেকে সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে গিয়েছি, তবে আয়োজক কারা জানি না। বিপ্লব পরবর্তী প্রশাসনের আমলে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী তেমন দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। তবে যতটুকু হয়েছে আমি তার প্রত্যেকটা কাজে প্রক্টর স্যারের অবদান রয়েছে। কাজেই প্রক্টর স্যারের পদত্যাগের দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করছি।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেহেতু প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগকৃত, তার একক কোনো দায় নাই; যদি দায় থেকে থাকে তাহলে সেটা সম্পূর্ণ আমাদের প্রশাসনের। সাজিদ হত্যার বিচার আমরা সবাই চাই। হত্যাকাণ্ডটি পুলিশি কেসের তদন্তাধীন, ভিসি থেকে শুরু করে প্রশাসনের আন্তরিকতার ঘাটতি নাই। যদি কোন কারণে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন কিছু কর্মসূচি দেয় তাহলে শুধু প্রক্টর কেন; আমরা সবাই শিক্ষার্থীদের কাতারে চলে যাব।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সিস্টেম আইসিটি সেল থেকে প্রক্টর অফিসে স্থাপনের বিষয়ে ১৫ জুলাই চিঠি ইস্যু করা হলেও আমরা চিঠি পেয়েছি ১৮ জুলাই। এছাড়া এখনো আইসিটি সেল মনিটরিং সিস্টেম প্রক্টর অফিসকে বুঝিয়ে দেয়নি। হলের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের দায় হল প্রভোস্টের। সাজিদ ইস্যুতে সিআইডিকে আমার দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমি সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। শিক্ষার্থীরা যেদিন চাইবে না এক মুহূর্তও আমি এ পদে থাকব না।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই ইবির শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে ভেসে উঠে সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ। পরবর্তীতে ভিসেরা রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনার পর দীর্ঘ ৬ মাস ৯ দিন পার হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি প্রশাসন। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ হত্যার তদন্তে কাজ করছে সিআইডি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Published

on

By

রাবি প্রতিবেদক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রাবাস থেকে মাহফুজুর রহমান (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার আয়েশা টাওয়ার নামের একটি মেস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহফুজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন মাহফুজুর। ঘটনার সময় তিনি মোবাইল ফোনে এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ওই তরুণী মাহফুজুরের পাশের কক্ষের এক বন্ধুকে ফোন করে দ্রুত খোঁজ নিতে বলেন।

খবর পেয়ে মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা মাহফুজুরের কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর সজোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় মাহফুজুরকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। তাকে নিচে নামানো হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হন সহপাঠীরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন।

মাহফুজুরের সহপাঠী মো. মোবাল্লেক বলেন, ‘প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে সম্পর্কে কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও পরে তা মিটে যায়। ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে থাকায় তাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মরদেহ নামানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং কক্ষ থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি।’

আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আত্মহত্যার আগ মুহূর্তেও তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। ওই তরুণীই পরে পাশের কক্ষের এক বন্ধুকে দ্রুত খোঁজ নিতে বলেন।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

প্রান্ত কুমার দাশ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

Continue Reading

ক্যাম্পাস

এসএসসি ও সমমানের ফলাফল ঘোষণা ২০ জুলাই

Published

on

By

চলতি বছরের (২০২৬) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ জুলাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। এটি পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৮ সালে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা এখনো চলমান আছে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

সম্পাদক: পলাশ মাহমুদফোন: +৮৮০১৩১২৫৫৯৯৬৬ই-মেইল: info@asia-post.com

ঠিকানা: লেভেল ১০, বেঙ্গল সেন্টার, ২৮ তোপখানা রোড, শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০।

চলতি বছরের (২০২৬) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ জুলাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। এটি পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৮ সালে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা এখনো চলমান আছে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

সমালোচনার মুখে ঢাবি নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

Published

on

By

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি পডকাস্টে দেওয়া তার মন্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপিত ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই মন্তব্যগুলো ছিল তার ব্যক্তিগত মতামত, যা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।

তিনি বলেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণাভিত্তিক ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমসহ বিভিন্ন অনৈতিক একাডেমিক চর্চারও সমালোচনা করেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, পডকাস্টের আলোচনা ছিল অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক বা নীতিনির্ধারণী আলোচনা ছিল না। আনুষ্ঠানিক পরিবেশে বক্তব্য দিলে ভাষা ও উপস্থাপনা আরও কাঠামোবদ্ধ হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও জাতি গঠনে এর অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি চান বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করুক।

সবশেষে তিনি বলেন, তার বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় এবং অনেকেই কষ্ট পাওয়ায় তিনি ওই মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালনের কথা জানা গেছে।

Continue Reading

Trending