Connect with us

আন্তর্জাতিক

ইরান নিয়ে আবার উত্তপ্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, পাশে থাকার অঙ্গীকার সৌদি আরবের

Published

on

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির চারদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যেকোনো সময়ে তারা ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল। এর ফলে ইরানি মুদ্রার রেকর্ড পতন হয়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। এমন সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি মোহাম্মদ বিন সালমানকে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, ইরানে হামলা হলে তাতে কিছুই অর্জিত হবে না। শুধু এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে। জবাবে মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম এবং ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্যোগ সৌদি আরব প্রত্যাখ্যান করে। 

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান। বলেছে, যদি তাদের বিরুদ্ধে ‘বাতাস’ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে জবাবে তারা ‘ঘূর্ণিবাতাস’ প্রবাহিত করবে। একই সঙ্গে ইরান তার প্রতিবেশীদের বন্ধু বলে আখ্যায়িত করেছে। 

ওদিকে ইরানে হামলা চালাতে আকাশ, স্থল ও জলপথ ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অভিযানের জবাবে তারা সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী এই অঞ্চলে পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এসব হুমকি এ অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যেই দেয়া হচ্ছে। যার ফল হবে কেবল অস্থিরতা। এর বাইরে কিছুই নয়।

পেজেশকিয়ানের কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক চাপ ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ ও বাইরের হস্তক্ষেপ। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও সচেতনতা দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই সংলাপকে স্বাগত জানান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় রিয়াদের প্রস্তুতির কথাও তিনি জানান। 

ফোনালাপের পর সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, যুবরাজ ফোনালাপে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সৌদি আরব শ্রদ্ধাশীল এবং কোনো পক্ষই, যেখান থেকেই আসুক না কেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির যেকোনো উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্যোগ ও ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এই ফোনালাপটি হয় এমন এক সময়, যখন এ মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের দিকে একটি ‘নৌবহর’ পাঠানোর কথা জানান। যদিও বলেন- তিনি আশা করেন সেটি ব্যবহার করতে হবে না। মঙ্গলবার আইওয়ায় দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্প আবারও বলেন, একটি বিশাল ‘সুন্দর নৌবহর’ ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, ওরা যদি চুক্তি করে, সেটাই ভালো। আগেই করা উচিত ছিল। তাহলে ওদের একটা দেশ থাকত। 

এদিকে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক কমান্ডার দেশটির প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দেন। আইআরজিসির নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু। কিন্তু যদি তাদের মাটি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। ফার্স সংবাদ সংস্থা তার বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ইরানের ওপর একাধিক হামলা চালায়। এসব হামলায় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং পরমাণু স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ১২ দিনের যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এই যুদ্ধ হয় এমন এক সময়ে যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

সংঘাতের পর ট্রাম্প আবারও ইরানের কাছে দাবি জানান, তেহরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি ভেঙে ফেলতে হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। তবে এখনো আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি। সোমবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওরা শর্তগুলো জানে। তারা শর্ত সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত।

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ‘ইরান প্রজেক্ট’-এর পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবির কাছে ইরানের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ভায়েজ বলেন, ইরানের নেতৃত্ব মনে করে চাপের মুখে আপস করলে চাপ কমে না, বরং তা আরও বাড়ে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যখন অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে- যদি হামলা চালানো হয়, তারা পাল্টা জবাব দেবে। মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানে হামলার পরিণতি পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ভালোভাবেই জানে এ অঞ্চলে কোনো নিরাপত্তা ভাঙন হলে তা শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নিরাপত্তাহীনতা ছোঁয়াচে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

হরমুজে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নিহতের ঘটনায় ইরানের শোক

Published

on

By

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের নিহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছে ইরান।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ শোক জানিয়েছেন।

এক্সবার্তায় বাঘায়েই বলেন, ‘ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর নিষ্ঠুর হামলা এবং তার জেরে ভারতের ৩ জন নাগরিকের মৃত্যু আরও একবার প্রমাণ করলো যে যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র ডাকাতি এবং সরকারি জলদস্যুতার নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা নিহত ভারতীয় নাগরিক, তাদের পরিবার, বন্ধু-স্বজন, ভারতের জনগণ এবং সরকারের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং স্বান্তনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এ ধরনের আইনবহির্ভূত কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া আচরণের কারণে আজ বৈশ্বিক শান্তি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সমুদ্র চলাচলের স্বাধীনতা- উভয়েই গুরুতর হুমকির মধ্যে আছে।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন বুধবার হরমুজ প্রনালীর ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক বা ক্রু ছিলেন, তাদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়।

মার্কিন হামলার পর তিন জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ চলাচলমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিখোঁজ ৩ জনই নিহত হয়েছেন।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

Continue Reading

top2

বাংলাদেশে এসেই দুই দেশ এক করার কথা বললেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার

Published

on

By

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন,ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি যদি এই সঙ্গে করা হয় ১৬০ কোটি। দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা বৃহৎ একটি জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এ জন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।

শুক্রবার (দুপুর সাড়ে ১১টার পর) বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে পৌঁছে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে ওইটা আসল শক্তি। ওই শক্তিটা যেন পুরো পৃথিবী দেখে। ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশে যে ট্যালেন্ট আছে তাদের নিয়ে আগামী প্রজন্ম খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি —সবকিছু নিয়ে কাজ করব।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুই দেশের প্রতিভা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু, ভ্রমণ ও বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে। দুই দেশের জন্য যা কল্যাণকর, ভবিষ্যতে সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশে আসার সময় নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে, সেটাই আসল শক্তি।’

গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের ৫৫ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার করা হলো। তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা বর্তমানে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

Continue Reading

top1

বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মূল্যস্ফীতির চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। ফলে চলতি সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুটি বড় ধরনের সাপ্তাহিক লোকসানের দিকে এগোচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূণ্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। এতে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমার পথে রয়েছে। তবে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ হাজার ২১৯ দশমিক ৬৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল এবং শিগগিরই শান্তি চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়টি ভূমিকা রাখে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, বর্তমানে স্বর্ণের বাজার পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির খবরে পরিচালিত হচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘বাজার এখন ফেডের যেকোনো বার্তার দিকে নজর রাখবে। যদি তারা সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তাহলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে।’

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হতে পারে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়।

এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহান্তেই একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে। তবে ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্বর্ণভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড নিউইয়র্কভিত্তিক এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের স্বর্ণ মজুতও কমেছে। বুধবার তহবিলটির ধারণকৃত স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯২৩ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে।

বাজারের অস্থিরতার কথা বিবেচনায় নিয়ে এএনজেড ব্যাংক চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের মূল্য লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ ডলার কমিয়ে ৫ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারণ করেছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৫ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠলেও সপ্তাহজুড়ে লোকসানের দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯০ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে এবং সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Continue Reading

Trending