Connect with us

top3

পাল্টাপাল্টি মহড়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

Published

on


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরান। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে লাইভ-ফায়ার মহড়া করার ঘোষণাও দিয়েছে দেশটির সরকার।

সামা টিভি জানিয়েছে, ওই দিন থেকেই তিন দিনের মহড়া চালাচ্ছে তেহরান। এর মধ্যে ইরানের দিকে আরেকটি নৌবহর যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় নৌবহর মোতায়েন করতে যাচ্ছে পেন্টাগন। এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়া চালাবে। গতকাল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, এ মহড়া শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন হুমকির মুখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সৌদি যুবরাজকে ফোন করে সতর্ক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাদের ওই ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছেন, তেহরানে হামলায় আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এর আগে গত মঙ্গলবার ইরান নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করে। সেই নোটিশে হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৫ হাজার ফুট উচ্চতার নিচে কোনো বিমান দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে—সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে নোটেমে।

গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর বড় একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দিল সেন্টকোম।

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হয় তেহরানের। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই শত্রুতা আরও গভীর হয়।

তেহরানের পরমাণু প্রকল্প ঘিরে গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতও হয়েছে ইরানের। ১২ দিনের সেই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়, নিহত হন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং পরমাণু বিজ্ঞানী।

সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাস পায়নি, উপরন্তু ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সেই উত্তেজনাকে ফের উসকে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলেছে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভের সময়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের নির্দেশেই জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে রওনা হয়ে ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায় মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিন ২৭ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।

এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে লাইভ-ফায়ার মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী বেশ কিছুদিন মার্কিন বিমানবাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্সের মহড়া হবে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্স ‘এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল’ বা এফসেন্ট নামেও পরিচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ বিষয়ক বিবৃতিটি পোস্ট করেছে সেন্টকোম। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এই মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) আওতাভুক্ত এলাকায় শক্তি মোতায়েন, শত্রু বিমানবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা প্রদর্শন করবে এফসেন্ট। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।’

এর মধ্যে দ্বিতীয় নৌবহর পাঠানো হচ্ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে আরেকটি সুন্দর নৌবহর ইরানের দিকে ভেসে যাচ্ছে। আমি আশা করি, তারা আমাদের সঙ্গে চুক্তি করবে।’

এর আগে সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় নৌবহর ইরানের কাছে অবস্থান করছে। এখন তিনি জানালেন দ্বিতীয় নৌবহর দেশটির দিকে যাচ্ছে।

এদিকে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল একটি রণতরী পৌঁছানোর পর এবং ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দুজন ফোনে কথা বললেন।

মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই হুমকি শুধু এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নষ্ট করবে এবং অস্থিরতা বাড়াবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বা বাইরের হস্তক্ষেপ দিয়ে ইরানিদের দমানো যাবে না।

সৌদি যুবরাজ এই আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সৌদি আরব এ অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ইরানের ওপর হামলার জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা বা মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি যে কোনো বিবাদ আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর ওপর জোর দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

আসছে বৈশাখ, ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা

Published

on

By

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। এ উৎসব ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। বিশেষ করে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা এতটাই বেড়েছে যে দিন-রাত তাঁরা চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বিভিন্ন গ্রামে রাতদিন কাজ চলছে। পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা সামগ্রী তৈরি করে রাঙিয়ে তুলছেন তারা।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন কারিগরেরা। এর মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, নৌকা, টিয়া, সিংহ, দোয়েল, কচ্ছপ, মাছ, হাঁস ও বাহারি মাটির ব্যাংক। পয়লা বৈশাখ থেকে পুরো মাস চলবে এ ব্যবসা।

মৃৎশিল্পীরা জানান, বছরে এই একটা উৎসব ঘিরে তাঁদের অনেক আশা থাকে। এমনিতে সারা বছর মৃৎশিল্পের তেমন চাহিদা থাকে না। নববর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলায় কেবল চাহিদা থাকে। তাই সারা বছর উৎসবটার অপেক্ষা করেন তাঁরা। সারা বছর মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করলেও মেলার জন্য তৈরি করছেন বাহারি সব মাটির খেলনা।

শিবনগর গ্রামের নরেশ চন্দ্র পাল কালবেলাকে বলেন, এখন আর মাটির জিনিসের তেমন কদর নেই। সারা বছর টানাপোড়নে চলতে হয়। পূর্বপুরুষের পেশা তাই ইচ্ছে হলেও ছাড়তে পারেন না। বৈশাখ মাস এলে মেলায় মাটির তৈরি খেলনা ও সামগ্রীর চাহিদা থাকে। তাই এই সময়টায় ভালো আয় হয়।

মদির পাল বলেন, এ শিল্পের জন্য প্রয়োজন হয় পরিষ্কার এঁটেল মাটি। কিন্তু এখন মাটির অভাব। তার ওপরে রংসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্যের দাম অতটা বাড়েনি। তারপরও পূর্বপুরুষেরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এসব মাটির খেলনা ৩০ থেকে ১৫০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়।

রমেশ পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, বাজারে এখন মাটির তৈরি পণ্যের কোনো কদর নেই। প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কুমাররা কীভাবে বেঁচে আছে, তারা তাদের পারিশ্রমিক অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পায় কি না এ খোঁজখবর কেউ রাখে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই যথাযথ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেন, তাহলে একসময় মৃৎশিল্পের বিলুপ্তি ঘটবে।

Continue Reading

top3

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে চবি শিক্ষার্থী মৃত্যু

Published

on

By

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে পড়ার টেবিলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয় সহপাঠীরা। পরে সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম জীবক চাকমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাসা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায়। তার বাবার নাম রবিলেন্দু চাকমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বশান্তি প্যাগোডার হোস্টেলে থাকতেন।

জীবক চাকমার মৃত্যুর বিষয়ে চবির মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তৈয়ব চৌধুরী বলেন, আজ সকালে ওই শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় মেডিকেল সেন্টারে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করি, তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। তার কোনো জ্ঞান ছিল না। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, আজ সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন বলে আমরা জেনেছি।

Continue Reading

top3

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল সংসদের এজিএসসহ ৩ জনের আবাসিকতা বাতিল

Published

on

By

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কক্ষে ‘নারী প্রবেশ সন্দেহে’ তল্লাশির অভিযোগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল সংসদের এজিএসসহ ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় হল সংসদের ভিপিকে (সহসভাপতি) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও অধিকতর সত্য অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন হল সংসদের এজিএস মো. ইসরাফীল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সাকিব জুবায়ের ও আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হাফিজ জীম।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোর চারটার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার আনুমানিক ভোর পাঁচটায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী প্রবেশের অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো এবং হল ভিপি মো. মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনে তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমাদানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।

এর আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইসরাফীল বলেন, ‘একটি জায়গা থেকে হলে মেয়ে আনার তথ্য পাই। পরে ভিপি ও জিএসের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করতে যাই। সেখানে এমন কিছু না পেয়ে পরে আমরা সরি বলে চলে আসি।’

জিয়া হল সংসদের ভিপি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ফজরের আগে একজন হলে মেয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে জানায়। তখন আমি জিএস ও এজিএসকে জানাই এবং এ রকম কিছু হলে গোপনে মিটমাট করে ফেলতে বলি। এটা যাতে আলোচনার কোনো টপিক না হয় সেটাই চেয়েছিলাম এবং রাত গভীর হওয়ায় হল প্রশাসনের কাউকে জানানো হয়নি।’

এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘হল প্রভোস্ট ছাড়া আবাসিক হলে তল্লাশি করার অনুমতি কারোর নেই। হোক সে হল ছাত্র সংসদের নেতা। যারা এমনটি করেছেন, তারা হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল এবং হল সংসদ ভিপিকে শোকজ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে ‘নারী অবস্থান করছে সন্দেহে’ ভোর চারটার দিকে অনুসন্ধান চালায় হল সংসদের এজিএস ইসরাফীল হোসাইনসহ কয়েকজন। পরে তারা সেখানে কাউকে না পেয়ে ফেরত আসেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমানের কার্যালয়ে একটি সভা বসে। সভায় উপস্থিত হল সংসদের নেতাদের ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

পরে হলের এজিএসসহ কয়েকজনের অনুপস্থিত থাকায় সভাটি স্থগিত হয় এবং রাত ১১টায় আবার শুরু হয়। এ সময় হল প্রাধ্যক্ষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। টানা কয়েক ঘণ্টার আলোচনা শেষে হল সংসদের এজিএসসহ তিনজনের আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করে হল প্রশাসন।

Continue Reading

Trending