শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রদল কর্মীর প্রেমিকাকে এক শিক্ষার্থী প্রেমের চিঠি ও বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাবের অভিযোগে শাখা দুই নেতা-কর্মীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলের সামনে হলের প্রভোস্ট ও ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাধানকালে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রদলের ওইকর্মী তার প্রেমিকাকে স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন।
জানা যায়, হাতাহাতিতে জড়ানো শিক্ষার্থীরা যথাক্রমে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মিঠু সরকার ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদুজ্জামান নুরী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহির আসিফের কর্মী। অপরদিকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া শিক্ষার্থী গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কাউসার আহমেদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদল কর্মী খালিদুজ্জামান নুরীর বউকে (পরে জানা যায় প্রেমিকা) কাউসার আহমেদ কয়েকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কাউসারের সঙ্গে কথা বলতে মুজতবা আলী হলের টং দোকানের সামনে যান নুরী। এ সময় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা মিঠু সেখানে এসে নুরীর পরিচয় জানতে চান। নুরী তার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ না দেখালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মিঠু নুরীর পরিচয় জানার জন্য উত্তপ্ত হলে নুরী মিঠুকে গালাগাল দেন। এতে মিঠু রাগান্বিত হয়ে তার শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে নিচে নামান । এরপর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় নুরীর আরো দুই বন্ধু খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে মারধর করা হচ্ছে দেখে করে পাল্টা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
তখন ছাত্রদলের কয়েকজন ও মুজতবা আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একইসাথে বিষয়টি হলের প্রভোস্টকে জানান। পরে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড মো আসরাফ সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের মুজতবা আলী হলের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
সেখানে প্রভোস্ট এবং ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করা হয়।
এ বিষয়ে খালিদুজ্জামান নুরী বলেন, কাউসার আহমেদ আমার প্রমিকাকে (পরিবার আমাদের বিষয় জানে) চিঠি ও সুবিদ বাজার রাস্তায় দাড়িয়ে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে। এজন্য এ বিষয়ে কথা বলে সমাধান করতে আমি তাকে কল দেই। প্রথমে একাডেমিক ভবন ই এর টংয়ে দেখা করার কথা ছিল। পরে তিনি হলে এসে কথা বলার জন্য বলেন। তাই আমি হলে গিয়ে তার সাথে কথা বলি। তখন মিঠু সরকার ভাই এসে আমার পরিচয় জানতে চান। তাকে পরিচয় না দেওয়ায় তিনি আমার সাথে উগ্র আচরণ শুরু করেন। আমিও তখন তাকে একটা গালি দেই। তাই সে আমার শার্টের কলার ধরে আমাকে নিচে নিয়ে আসেন। এতে করে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এসময় আমার বন্ধুরাও আমার সাথে আসে। পরবর্তীতে হলের প্রভোস্ট ও ছাত্রদলের সিনিয়র ভাইয়েরা বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। তিনি ছাত্রদল করেন কি না জানতে চাইলে বলেন তিনি সহ-সভাপতি মাহির আসিফের কর্মী।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কাউসার আহমেদ বলেন, নুরী আমাকে কল দিয়ে বলেছে কথা বলার জন্য। তাই তাকে মুজতবা আলি হলে আসতে বলি। সে (নুরী) আমার উপর যে অভিযোগ এনেছে সব মিথ্যে। আমি এসবের কিছুই করিনি। মেয়েটাকেও আমি চিনি না। একদিন শুধু আমি তাকে তার নাম টা জিজ্ঞেস করেছিলাম। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি। আর গতকাল আমার সাথে কথা কাটাকাটির সময় মিঠু এসে আমায় বলে বন্ধু কি হয়েছে। তখন আমি তাকে বলি ছোট একটি বিষয় সমাধান হয়ে যাবে। তখন নুরী ছেলেটা তার সাথেও জামেলা শুরু করে। তখন যারাই আসছিল সবার সাথে সে ও তার বন্ধুরা খারাপ ব্যবহার করে। পরবর্তীতে প্রভোস্ট স্যার ও অন্যান্যরা মিলে আমাদের এই জামেলার সমাধান করে দেন। তবে নুরীর সাথে আমার হাতাহাতি কিংবা মারামারির ঘটনা ঘটে নি।
ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মিঠু সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, এটি বাইরের ঘটনা। ছাত্রদলের কোন ঘটনা নয়। একজন (কাউসার) তার (নুরীর) প্রমিকাকে বিরক্ত করছে তাই তাদের মধ্যে জামেলা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রদলের মিঠু তার বন্ধুর সাথে জামেলা হচ্ছে দেখে এগিয়ে গিয়েছে। সে ছাত্রদলের হয়ে সেখানে যায় নি। এ বিষয়টি হলের প্রভোস্ট তার মতো করে মিমাংসা করেছেন।
নুরীর বিষয়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহির আসিফ বলেন, সে ছাত্রদলের পোস্টেড কোন নেতা নয়। সে আমার সাথে থাকে। সে আমার জুনিয়র।
এ বিষয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আসরাফ সিদ্দিকী বলেন, এই বিষয়ে শোনার পর আমি ঘটনাস্থলে দ্রুত আসি। এসে হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে উভয় পক্ষের কথা শোনে একটি সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করি। একই সাথে সকল পক্ষকেই সতর্ক করে দেই এরকম ঘটনা পরবর্তীতে যেন কেউ আর না ঘটায়।