Connect with us

top1

প্রাথমিকে ফিরছে পরীক্ষা বদল আসছে মূল্যায়নেও

Published

on

খাতা-কলমের সেই চিরচেনা লড়াই আর পরীক্ষার আগের সেই টানটান উত্তেজনা আবারও ফিরছে প্রাথমিকের আঙিনায়। শিশুদের পড়ার টেবিলে ফেরানো, ডিভাইসের আসক্তি কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ফিরছে পরীক্ষা। আর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাড়ানো হয়েছে সামষ্টিক মূল্যায়নের (লিখিত) নম্বর। এতে বদলে যাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সমীকরণও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে এতদিনের শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি থেকে সরে এসে এখন থেকে ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) এবং ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সামষ্টিক মূল্যায়নের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। এই শ্রেণিতে আগে ৪০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৬০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ১০ শতাংশ কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে এবং সেই ১০ শতাংশ যুক্ত হয়েছে সামষ্টিক মূল্যায়নের সঙ্গে। এতে তৃতীয় শ্রেণিতে সামষ্টিক মূল্যায়নের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতেও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ দুই শ্রেণিতে এখন থেকে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ফল নির্ধারণ করা হবে। চলতি সপ্তাহেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নতুন নির্দেশিকা জারি করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমাতে তৎকালীন সরকার ২০২১ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা বাতিল করে। এতে সুফলের পরিবর্তে খুদে শিক্ষার্থীরা বইবিমুখ ও ডিজিটাল ডিভাইসনির্ভর হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বাসায় নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাসও দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক স্তরে ফের পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২১ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। চিঠিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকার একটি গাইডলাইন তুলে ধরা হয়। এর আগে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ২০২৬ সালের বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনায় সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ‘গাইডেড রিডিং রুটিন (জিআরআর)’ মডেল এবং বহুমুখী সহশিক্ষা কার্যক্রম চালুর একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন এই মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে প্রথম দফায় গত ১৩ জানুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে ২৬ জানুয়ারি এনসিসির সভা হয়। ওই সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই প্রাথমিক স্তরের জন্য নতুন মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়।

নতুন মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ কালবেলাকে বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকে শিশুরা আরও বেশি শ্রেণিমুখী হবে, সঙ্গে শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা বাড়বে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, নতুন মূল্যায়ন নির্দেশকা প্রাথমিক স্তরে আমূল পরিবর্তন আনবে। আশা করছি চলতি সপ্তাহে মূল্যায়নের নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে।

নতুন মূল্যায়ন প্রস্তাবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ৫০ শতাংশ লিখিত (সামষ্টিক) পরীক্ষা, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ লিখিত পরীক্ষা ও ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাথমিকে জিআরআর মূল্যায়ন: নেপের প্রস্তাবে প্রাথমিকে জিআরআর মূল্যায়ন পদ্ধতি কথা বলা হয়। এ পদ্ধতিতে মুখস্থবিদ্যার চিরচেনা পথ ছেড়ে খুদে শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এটা এমন একটি কাঠামো যেখানে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীকে স্বাধীনভাবে শিখতে সক্ষম করে তুলবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নে জিআরআর মূল্যায়ন পদ্ধতি ‘গ্র্যাজুয়াল রিলিজ অব রেসপনসিবিলিটি’ নামে পরিচিত। জিআরআর হলো একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের ওপর শেখার দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এখানে শিক্ষার্থীদের ‘আমি করি, আমরা করি, তুমি একা করো’ (I do, we do, you do) কৌশলে শেখানো হয়। এটি মূলত চারটি ধাপে সম্পন্ন হবে। শিক্ষক প্রথমে নিজে পড়ে শোনাবেন, এরপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে একসঙ্গে পড়বেন, তারপর জুটিতে বা সহপাঠীরা মিলে একে অপরকে সহযোগিতা করে পড়বে এবং সর্বশেষ শিক্ষার্থী শিক্ষক বা অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই নিজে পড়তে শিখবে।

এ রূপরেখার সঙ্গে যুক্ত নেপের বিশেষজ্ঞরা জানান, নতুন মানবণ্টনে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্বল জায়গাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যাবে। এ ছাড়া শিশুদের শুধু অক্ষরজ্ঞানই নয়, বরং স্বাধীনভাবে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রারম্ভিক স্তরে (প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণি) শিক্ষকের সহায়তায় ‘পড়তে শেখা’ এবং পরবর্তী স্তরে (তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণি) নিজে নিজে ‘পড়তে শেখার’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পুরো প্রক্রিয়াতে শিক্ষকের সহায়তা ধীরে ধীরে কমিয়ে শিক্ষার্থীকে স্বনির্ভর করে তোলা হয়। সহায়ক হিসেবে এসআরএম (সাপ্লিমেন্টারি রিডিং ম্যাটেরিয়ালস) থাকবে, যেখানে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাড়তি জ্ঞানের জন্য সরবরাহ করা হবে সম্পূরক পঠন সামগ্রী। শ্রেণিকক্ষে গল্পের বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ বইগুলো বিতরণের জন্য সুনির্দিষ্ট রেজিস্টার ও ‘বুক ক্যাপ্টেন’ নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশ বা পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ১০টিরও বেশি কার্যক্রমকে পাঠ পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, সাংস্কৃতিক চর্চা যেমন ছড়া, গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও একক অভিনয়। দক্ষতা উন্নয়নে সুন্দর হাতের লেখা, ইংরেজি কথোপকথন ও উপস্থিত বক্তৃতা থাকবে। উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রকাশ এবং দলভিত্তিক বিজ্ঞান মেলার আয়োজনও করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করতে আমরা একটি সমন্বিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা পাঠিয়েছি। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করবে, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শেখা, দক্ষতা ও প্রয়োগ ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন শিখন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় শেষে শিক্ষার্থীর সার্বিক দক্ষতা নিরূপণ সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি ভীতি কমে শেখার প্রতি আগ্রহ ও আনন্দ বাড়বে।

নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে আগে শ্রেণি কার্যক্রম থাকলেও ২০২৬ সালে সামষ্টিক মূল্যায়ন (লিখিত পরীক্ষা) যুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে শ্রেণি মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের সঙ্গে নতুন করে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ধারাবাহিক নম্বর রাখা হয়েছে ৫০ এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় রাখা হয়েছে বাকি ৫০ নম্বর। এই দুই শ্রেণিতে অন্য বিষয়গুলোয় ৫০ নম্বরের মধ্যে ২৫ ধারাবাহিক মূল্যায়নে এবং ২৫ সামষ্টিক মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বিজ্ঞান ও ধর্ম শিক্ষা বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ ধারাবাহিক নম্বর এবং সামষ্টিকে (লিখিত ও মৌখিক বা ব্যাবহারিক পরীক্ষা) ৭০ নম্বর রাখা হয়েছে। শিল্পকলা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে ধারাবাহিক মূল্যায়নে ১৫ ও সামষ্টিক মূল্যায়নে ৩৫ নম্বর রাখা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বিনা জামানতে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ ১০ লাখ টাকা

Published

on

By

নতুন উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য দেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনরর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনরর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এ ছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্টার্টআপদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ ও ইক্যুইটি সহায়তা স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরো একটি পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করার কথা জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

Continue Reading

top1

ইরানের সঙ্গে ‘চুক্তি হচ্ছে’, দুই মাসে অন্তত ৩৭ বার দাবি ট্রাম্পের

Published

on

By

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি। তবে সেই প্রতিশ্রুত চুক্তি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। দুই মাসে অন্তত ৩৭ বার চুক্তি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘অনেক দূর এগিয়েছে’ এবং চুক্তি চূড়ান্ত করতে মাত্র দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। 

কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে দুই মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প বিভিন্ন জনসভা, সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার, ফোনালাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৩৭ বার দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে অথবা তেহরান চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ মার্চ। যুদ্ধ শুরুর এক মাসও পূর্ণ না হতেই ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “শান্তি আলোচনায় ‘প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা’ হয়ে গেছে”।

যদিও সে সময় ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। পরবর্তী দিনগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্য আরও জোরালো হতে থাকে।

তিনি কখনো বলেন, “ইরান খুবই আগ্রহী চুক্তি করতে”, আবার কখনো দাবি করেন, “তারা চুক্তির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে”।

২৯ মার্চ ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি দেখতে পাচ্ছি”।

এরপর ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে তিনি দুই সপ্তাহের একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন, যার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

১৫ এপ্রিল তিনি বলেন, “আমি মনে করি বিষয়টি শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি”। একদিন পর সাংবাদিকদের জানান, “চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ভালো”।

১৭ এপ্রিল ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেন, ইরান “সব বিষয়ে রাজি হয়েছে” এবং “এক-দুই দিনের মধ্যেই চুক্তি হবে”। এমনকি ২০ এপ্রিল ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, “সবকিছু খুব দ্রুতই হয়ে যাবে”।

সেই পূর্বাভাসও সত্যি হয়নি

এপ্রিলের শেষ দিকে তিনি আবার বলেন, “ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া”। ১ মে তিনি মন্তব্য করেন, “যুদ্ধ শেষ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না”।

মে মাসেও একই ধরনের বক্তব্য অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প। ১৮ মে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে সামরিক হামলা দুই-তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ তারা মনে করছে চুক্তি “খুব কাছাকাছি”।

এ সময় ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেন, অতীতেও একাধিকবার মনে হয়েছিল চুক্তি হতে যাচ্ছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, এবার পরিস্থিতি “ভিন্ন”।

এরপরও হয়নি সমঝোতা

২৩ মে ট্রাম্প আবার বলেন, “আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে এবং চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ ঘোষণা করা হবে”।

২৮ মে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, উভয় পক্ষ “একটি খুব ভালো চুক্তির কাছাকাছি”।

গত রবিবারও তিনি বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি”।

তবে একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সোমবারও তিনি একই সুরে কথা বলেন। সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের একটি টেলি-র‍্যালিতে ট্রাম্প দাবি করেন, “আমরা এখন আলোচনা করছি, তারা একটি ভালো চুক্তি করতে চায়”।

এমনকি তিনি আরও বলেন, “তারা আমাদের সবকিছু দিতে প্রস্তুত”।

তবে এতবার আশ্বাস দেওয়ার পরও বাস্তবে কোনো চুক্তির অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের এসব বক্তব্যকে এখন আর গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই।

সোর্স: সিএনএন

Continue Reading

top1

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

Published

on

By

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত ২১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

Continue Reading

Trending