Connect with us

জাতীয়

শিক্ষার দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, অনেক চমক রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

Published

on

ডেস্ক নিউজ

শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে প্রবর্তন করাসহ আমূল পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে শপথের পর রাতে গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকালে এই মন্তব্য করেন তিনি। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন, নিশ্চয়ই দেখবেন। দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, ইনশাল্লাহ অনেক চমক রয়েছে। শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। এক শব্দে বলতে গেলে, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। উই আর লিভিং ইন এ গ্লোবাল ভিলেজ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেসে আনতে হবে। ইটস নো লঙ্গার এ লোকাল কমোডিটি, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমোডিটি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফোর্থ জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে ন্যানোটেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োটেক এগুলিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার লিংকিংসগুলিকে আমাদের লক্ষ্য দিতে হবে। আমাদের টিভেট (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং)-কে গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। বললাম না, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি। এটাকে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে আমি বিজয়ী হয়েছি, সবাই আমার। সবার জন্য কাজ করব। এবং বাংলাদেশের সেরা উপজেলা শুধু শিক্ষা নয়, মাদক নির্মূল, দুর্নীতি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বাংলাদেশের সেরা উপজেলা বানাব, এটাই আমার স্বপ্ন।’

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে মন্ত্রিসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি শের-ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভার্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারী বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। 

এহসানুল হক মিলন ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মজীবনে ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

শুরুতেই ধাক্কা খেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ

Published

on

By

সংবিধান সংস্কার পরিষদ

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। এতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ওই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার একই স্থানে দুটি শপথ হওয়ার কথা ছিল। এর একটি সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে; কিন্তু সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিএনপি জোট ও স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরা এই শপথ পাঠ করেননি। তারা শুধু এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে জামায়াত ও তাদের মিত্র এনসিপিসহ অন্য দলগুলো থেকে বিজয়ীরা দুটি শপথই নিয়েছেন।

এদিকে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে গতকাল রিট করেছেন এক আইনজীবী। এ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রথমেই আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ে একটা ধাক্কা খেল। এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করাটাও সংবিধানসম্মত হয়নি। ফলে শুরুতেই এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা তৈরি হলো। শুরুতেই একটি বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলো। আমরা আশা করব, জটিলতা সৃষ্টি না করে সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা এমনিতেই অর্থনীতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সমজাতীয় জাতি হলেও আমরা বহুধাবিভক্ত। বিভক্ত জাতি বেশিদূর এগোতে পারে না। বিভিন্ন দলীয় অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এসব সমস্যা সমাধানে জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম কালবেলাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশ প্রদানের কোনো ক্ষমতা নেই। তিনি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু আলী রীয়াজ সাহেব এটা পেলেন কোথায়? এটা কোনো নির্বাহী আদেশ হতে পারত। অথবা কোনো অঙ্গীকার হলে সেটা মানত। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংবিধানসম্মত হয়নি। সংবিধানকে সংবিধানসম্মতভাবেই চলতে দিতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুটি শপথের কথা বলা হয়েছে। এটা পেল কোথায়? কেন তারা দুটো শপথ নেবে? দুটো শপথের বিষয়টি তো সংবিধানে থাকতে হবে। তার প্রেসক্রাইবড একটা ফর্ম থাকতে হবে। কিন্তু এগুলো নেই। সে কারণে এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, ‘বেআইনিভাবে কিছু কাজ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি শপথের বিষয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যুক্ত করা হয়েছে, যার কোনো এখতিয়ারই নেই।’ তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ হিসেবে সবগুলো আইন প্রশ্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আদেশ জারি করেছেন, যা এই আমলে একমাত্র আদেশ। এই আদেশে একটি শপথ যুক্ত করেছেন। কোনো আদেশ দিয়ে এভাবে সংবিধানের বিধান পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন হয়ে যায়, এমন কোন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি।’’

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় আরও বলেন, ‘সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে তৃতীয় তপশিলে যে শপথের নমুনা দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী শপথ পাঠ করাবেন। কিন্তু সনদ বাস্তবায়ন আদেশে তপশিল-১ বলে আরেকটি শপথ যুক্ত করা হয়েছে। আলাদা একটি আদেশ দিয়ে এভাবে বিকল্প করা যায়? সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন করে এভাবে শপথ ঢুকাবেন? এভাবে দ্বিতীয় শপথের আদেশ তো অবৈধ।’

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরাও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন। আর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে। জুলাই সনদ ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ৩০ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। বাকিগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত পোষণ) রয়েছে। এই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ নির্ধারিত আছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি গত বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন।

সনদ বাস্তবায়নের গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠানের পর, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফল অনুসারে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সংবিধান সংস্কার হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তপশিল-১ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। সংসদ সদস্যদের যিনি শপথ পড়াবেন, তিনিই পরিষদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। অর্থাৎ গতকাল সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে দুটি শপথ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের এই শপথ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপি শপথ গ্রহণ করেনি: গতকাল শপথের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি ফরম দেওয়া হয়। এর একটি ছিল সাদা রঙের, যেটি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। অন্যটি ছিল নীল রঙের, যেটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শপথকক্ষে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে; সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের ফরম যুক্ত হলে; কে এই শপথ পড়াবেন তা নির্ধারিত হলে; তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া যাবে।’

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সহকর্মীদের জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের শপথপত্রে সই করেন। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

জামায়াত জোটের শপথ: সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ, তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। এ বক্তব্যের পরও তারা আলোচনা করে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। গতকাল দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। আর দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জামায়াত জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পৃথকভাবে এই দুই শপথ পড়ান সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট: গণভোট পরিচালনা ও ফলাফলের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন হয়েছে। এতে গণভোট-২০২৬–এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ গতকাল বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ বলেন, মূলত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং গণভোটের ফল ঘোষণা করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বাতিল চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।

গণভোটের বৈধতা, সাংবিধানিক স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক বৈধতা, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির গেজেটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতের দিকগুলো রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ বা কোনো সাংবিধানিক সভা (গণপরিষদ) নয়; বরং এটি একটি সাংবিধানিক ট্রাস্টি, যা কঠোরভাবে সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকতে বাধ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ আনুষ্ঠানিক নয়; বরং এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, যা ভঙ্গ করা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো; বিস্তৃত গণভোট আইন অথবা বিধিমালা; স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, সমান অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের অবহিত করে সম্মতি নিশ্চিত করা ছাড়াই ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ ধরনের বিষয় বাদ দেওয়া এবং কার্যক্রম (গণভোট পরিচালনা) জনগণের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো।

রিটের যুক্তিতে বলা হয়, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন, যা অন্তর্বর্তী সরকারসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গের জন্য বাধ্যতামূলক। শপথগ্রহণ বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক দায়িত্ব আরোপ করে যে ব্যক্তি সংবিধানের মধ্যে থেকেই কার্যপরিচালনা করবেন। সাংবিধানিক অনুমোদন ছাড়া ক্ষমতার যে কোনো চর্চা নিয়মবিরুদ্ধ ও বাতিলযোগ্য। প্রয়োজন, সুবিধা বা রাজনৈতিক উত্তরণের যুক্তিতে সংবিধান লঙ্ঘন কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।

রিটের প্রার্থনায় বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির প্রকাশিত গেজেট (গণভোটের ফল) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোনো গণভোট প্রয়োগের আগে একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত কাঠামো তৈরি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল বিচারাধীন অবস্থায় গণভোট-২০২৬-এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিবাদীদের বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইনসচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

Continue Reading

top1

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

Published

on

By

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত করেছেন। জিয়ারত শেষে মোনাজাত করা হয়। বুধবার দুপুর ১২টার ৫ মিনিটের দিকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারেক রহমান। বেলা ১১টার দিকে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন তিনি। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে আবারও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে একটি ‘পারিজাত’ ফুলের চারা রোপণ করেন তিনি।

Continue Reading

top1

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

Published

on

By

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।

এ ছাড়া তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়ে আলাদা গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

Continue Reading

Trending