Connect with us

Betwinner: নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড

অনলাইন স্পোর্টস বেটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করার আগে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। এই গাইডে Betwinner সম্পর্কে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলো। আপনি চাইলে Betwinner ওয়েবসাইট থেকে প্ল্যাটফর্মটি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে পারেন। এরপর বোনাস, অ্যাকাউন্ট সেটআপ, ডিপোজিট, বেট করা এবং নিরাপত্তা—এই ধাপগুলো কীভাবে কাজ করে তা ধাপে ধাপে দেখা হবে। এখানে দেওয়া তথ্যগুলো শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে, যাতে আপনি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রথমে আপনার লক্ষ্য স্থির করুন, যেমন লাইভ বেটিং করবেন নাকি প্রি-ম্যাচ বেটিং।

Betwinner কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে

Betwinner মূলত একটি অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস ইভেন্টে বাজি ধরা যায়। সাধারণত ব্যবহারকারীকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং তারপর অর্থ যোগ করে বেট করতে হয়। প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের আগে এবং ম্যাচ চলাকালীন আলাদা ধরনের বাজার দেখা যায়। প্রি-ম্যাচে সাধারণত অডস স্থির থাকে, তবে সময়ের সাথে পরিবর্তনও হতে পারে। লাইভ বেটিংয়ে ইভেন্ট চলার সাথে সাথে অডস আপডেট হয়। আপনার পছন্দের খেলাধুলা ও বাজার বেছে নিয়ে আপনি বাজি দিতে পারেন।

উপলব্ধ বাজার ও ইভেন্টের ধারণা

বাজার বলতে নির্দিষ্ট ধরনের ফলাফল বা ঘটনার ভিত্তিতে বেট করার অপশনকে বোঝায়। উদাহরণ হিসেবে ম্যাচের ফলাফল, গোল সংখ্যা, নির্দিষ্ট দল বা খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স—এসব বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়। কিছু বাজারে একাধিক শর্ত যুক্ত থাকতে পারে, যেখানে একাধিক ফল একসাথে পূরণ হলে পেআউট হয়। ইভেন্ট তালিকায় সময়, লিগ, এবং প্রতিযোগিতা অনুযায়ী সাজানো অপশন থাকে। আপনি যে বাজারে বেট করবেন, সেটির নিয়ম আগে দেখে নেওয়া জরুরি। এতে করে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুল হয়।

নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি ও সেটআপ ধাপ

নতুন ব্যবহারকারীর প্রথম কাজ হলো একটি বৈধ অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। সাধারণত নাম, জন্মতারিখ, দেশ এবং যোগাযোগের তথ্য দিতে হয়। এরপর আপনাকে শর্তাবলীতে সম্মতি দিতে হয় এবং একটি সুরক্ষিত পাসওয়ার্ড সেট করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের পর ইমেইল বা ফোন নম্বর যাচাই লাগতে পারে। যাচাই সম্পন্ন হলে আপনি ডিপোজিট এবং বেট করার জন্য প্রস্তুত হন। সেটআপের সময় আপনার তথ্য সঠিকভাবে দিন, কারণ পরে তা পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে।

যাচাই ও নিরাপত্তা সেটিংস

অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তার জন্য সাধারণত অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া থাকে। এতে ইমেইল ভেরিফিকেশন বা পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অর্থ উত্তোলনের আগে পরিচয় নিশ্চিত করা লাগে। তাই শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ভালো। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী রাখলে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি কমে। আপনি যদি ডিভাইস শেয়ার করেন, তাহলে লগআউট নিশ্চিত করুন।

ডিপোজিট, বোনাস এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা

অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে পরের ধাপ হলো ডিপোজিট করা। প্ল্যাটফর্মে সাধারণত বিভিন্ন পেমেন্ট পদ্ধতি থাকে, যেমন ব্যাংক কার্ড বা অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট। আপনার জন্য কোন পদ্ধতি উপলব্ধ আছে তা ওয়েবসাইটে চেক করা দরকার। ডিপোজিট করার আগে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বোনাস ব্যবহার করলে শর্তগুলোও পড়া উচিত, কারণ বোনাসের কিছু নির্দিষ্ট ব্যবহার শর্ত থাকতে পারে। আপনি বোনাস সম্পর্কিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

বোনাস কীভাবে কাজ করে

বোনাস সাধারণত নির্দিষ্ট ইভেন্ট বা ডিপোজিটের সাথে যুক্ত থাকে। অনেক সময় বোনাসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিপোজিট প্রয়োজন হয়। এছাড়া বোনাস কবে ব্যবহার করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ কতটা বেট করা যাবে, সেটি উল্লেখ থাকে। কিছু বোনাসে ওয়েজারিং শর্ত থাকতে পারে, যেখানে নির্দিষ্ট অংকের বেট করার পরেই লাভ তোলার সুযোগ তৈরি হয়। আপনি যদি বোনাস নেন, তাহলে সব শর্ত একবারে বুঝে নিন। এতে করে ভবিষ্যতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিভ্রান্তি কমে।

বেট করা: প্রি-ম্যাচ এবং লাইভ ধাপ

Betwinner এ বেট করতে হলে প্রথমে একটি ইভেন্ট নির্বাচন করতে হয়। ইভেন্টে প্রবেশ করলে আপনি উপলব্ধ বাজার ও সংশ্লিষ্ট অডস দেখতে পাবেন। এরপর আপনি পছন্দের ফলাফল বেছে নিয়ে স্টেক নির্ধারণ করবেন। প্রি-ম্যাচে সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে অডস দেখা যায় এবং বেট নিশ্চিত করার পর তা কার্যকর হয়। লাইভ বেটিংয়ে ইভেন্ট চলাকালীন অডস পরিবর্তন হতে পারে, তাই আপডেট লক্ষ্য রাখা দরকার। শেষ ধাপে আপনি রিভিউ করে বেট কনফার্ম করলে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

স্টেক নির্বাচন ও অডস যাচাই

স্টেক হলো আপনি যে পরিমাণ অর্থ বাজি ধরবেন। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য কম স্টেক দিয়ে শুরু করা সাধারণত ভালো অভ্যাস। অডস দেখে নেওয়া জরুরি, কারণ একই ধরনের ফলাফলেও অডস ভিন্ন হতে পারে। বেট দেওয়ার আগে বাজারের নিয়ম ও শর্ত যাচাই করুন। আপনি যদি সিস্টেম বা ফর্মুলা ব্যবহার করতে চান, তাহলে সেটি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী করুন। অডস পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে কনফার্ম করার আগে একবার দেখে নেওয়া সুবিধাজনক।

বেট ইতিহাস ও স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং

বেট নিশ্চিত হলে সাধারণত বেট হিস্ট্রি অংশে তা দেখা যায়। সেখানে স্ট্যাটাস হিসেবে ম্যাচ শুরু হয়নি, চলছে, অথবা নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন তথ্য থাকতে পারে। নিষ্পত্তির পর ফল অনুযায়ী পেআউট বা ক্ষতি নির্ধারিত হয়। আপনি যদি একাধিক বেট দেন, তাহলে মোট ফলাফল বুঝতে আলাদা করে হিসাব দেখা লাগতে পারে। স্ট্যাটাস নিয়মিত দেখা আপনার সিদ্ধান্ত উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া কোনো বেটের ফল বুঝতে অসুবিধা হলে বাজারের বিবরণ আবার যাচাই করুন।

উত্তোলন, লেনদেন এবং অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ

বেট শেষ হলে আপনার ব্যালেন্সে পরিবর্তন আসে এবং সেটি উত্তোলনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। উত্তোলন প্রক্রিয়ায় সাধারণত একটি উইথড্রয়াল ফর্ম পূরণ করতে হয়। আপনাকে পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে উত্তোলনের আগে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে। প্রসেসিং সময় ব্যাংক বা পেমেন্ট সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রথম উত্তোলনের আগে আনুমানিক সময় এবং ন্যূনতম উত্তোলন সীমা দেখে নেওয়া ভালো।

লেনদেনের রেকর্ড রাখা

ডিপোজিট এবং উত্তোলনের তারিখ, পরিমাণ, এবং পদ্ধতি নোট করে রাখা সহায়ক। অনলাইনে কোনো সমস্যা হলে এই তথ্য দ্রুত সমাধানে কাজে লাগে। প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হিস্ট্রি দেখা যায়, যা ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি একাধিক বোনাস বা ক্যাম্পেইন ব্যবহার করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট রেফারেন্সও মনে রাখুন। নিয়মিত চেক করলে কোনো অনিয়ম দ্রুত ধরা পড়ে। তথ্য সংরক্ষণ করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।

গ্রাহক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ

সমস্যা হলে সাধারণত গ্রাহক সহায়তার মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যায়। প্রশ্ন থাকলে আপনার অ্যাকাউন্ট তথ্য এবং লেনদেনের বিবরণ প্রস্তুত রাখুন। এতে সাপোর্ট টিম দ্রুত যাচাই করতে পারে। আপনি যদি ভুল ডিপোজিট বা ভুল বেট সংক্রান্ত বিষয় দেখেন, তাহলে দ্রুত রিপোর্ট করা ভালো। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ম ও প্রক্রিয়া সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই বর্তমান নীতিমালা দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে সাহায্য চাওয়ার আগে নিজের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে লিখুন। এতে সমাধান দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল বেটিং এবং সাধারণ সতর্কতা

নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রধান বিষয়। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন। আপনার অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে লগইন তথ্য শেয়ার করবেন না। দায়িত্বশীল বেটিংয়ের জন্য বাজেট নির্ধারণ করা দরকার। আপনি যে পরিমাণ হারাতে প্রস্তুত, তার বেশি স্টেক নেবেন না। এছাড়া অল্প সময়ে বেশি বেট দেওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলুন। কোনো পর্যায়ে আপনি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মনে হলে বিরতি নিন এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা নিন।

দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চেকলিস্ট

বেট দেওয়ার আগে কিছু বিষয় যাচাই করলে ভুল সিদ্ধান্ত কমে। নিচের তালিকাটি নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজ চেকলিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি প্রতিটি বেটের আগে দ্রুত দেখে নেওয়া যায়। স্টেক নির্ধারণ, অডস যাচাই, এবং বাজারের শর্ত বুঝে নেওয়া—সবই এতে অন্তর্ভুক্ত। আপনি চাইলে নিজের জন্য আলাদা একটি নোট তৈরি করতে পারেন। ধারাবাহিকভাবে এসব অভ্যাস মানলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

  • নিজের বাজেট ঠিক করুন এবং সেই সীমার মধ্যে স্টেক রাখুন।
  • বাজারের নিয়ম ও সম্ভাব্য ফলাফল আগে বুঝে নিন।
  • অডস পরিবর্তন হচ্ছে কি না—বিশেষ করে লাইভ বেটিংয়ে—খেয়াল করুন।
  • বোনাস নিলে শর্ত, ওয়েজারিং, ও সময়সীমা যাচাই করুন।
  • বেট ইতিহাস নিয়মিত দেখে নিজের ফলাফল ট্র্যাক করুন।

ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত সতর্কতা

অনেক সময় ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তাজনিত ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে সতর্ক থাকুন এবং সম্ভব হলে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। ব্রাউজার বা অ্যাপ আপডেট রাখা নিরাপত্তা বাড়ায়। লগইন করার পর অটো-ফিল তথ্য অন্যের সাথে শেয়ার হতে পারে, তাই পাবলিক ডিভাইসে সাবধান থাকুন। কোনো অস্বাভাবিক অ্যাক্টিভিটি দেখলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং সহায়তায় যোগাযোগ করুন। পাশাপাশি আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার আছে কি না তা যাচাই করা উপকারী। এসব অভ্যাস অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা জোরদার করে।

‘জুলাই ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের লেখা ‘জুলাইয়ের ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। যে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী আমার মতো লাখো জনতা। শাসক যখন রক্তের নেশায় মেতে ওঠে, তার করুণ পরিণতি আমরা বইয়ের পাতায় পড়েছি কিন্তু আজ আমরাই এক নতুন ইতিহাসের জনক। নতুন ইতিহাস রচনার লক্ষ্যে সেই ভয়াল সফরের দিনগুলো আজও নাড়া দেয়। কত অনিশ্চয়তা, কত নির্ঘুম নির্বাসিত রাত, সহস্র ঘণ্টার মানসিক চাপ আমরা পার করে এসেছি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের আগে গত ১৬ বছরে যে জুলুম নির্যাতন হয়েছে তা আজও আমাকে তাড়িত করে। দেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য মনে হয়। একটা কালো শক্তির হাতে বাংলাদেশ বন্দী হয়ে গিয়েছিল। কণ্ঠস্বর থেমে গিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের। ঘরে ঘরে চাপা আর্তনাদ।

ইলিয়াস আলী সহ নাম না জানা হাজারো মানুষ হাসিনার ফ্যাসিবাদের ছোবলে হারিয়ে গেছে। আজ সেই সব হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবীদের কথা মনে পড়ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সহস্র মানুষ জীবন দিয়েছেন। আজ তারা আমাদের স্মৃতিপটে বেঁচে আছেন নিরবে।

২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শুরুটা যেদিন হলো, আমরা ধারণা করিনি যে, এই আন্দোলন হাসিনার পতনের দিকে নিয়ে যাবে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের মানুষ গণ্য করেননি। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সে গণহত্যা চালিয়েছে।

১৬ জুলাই, ২৪ এ আবু সাইদ, ওয়াসিম সহ ৫ জন শহিদ হলেন। তাদের উন্মুক্ত বুকে পুলিশ কাপুরুষের মতো গুলি চালালো। পরদিন মাগুরা, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফেনী, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রায় ৫০ এর অধিক ছাত্র জনতা শহিদ হলেন। ওই সময় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। আমরা সরাসরি তাদের ব্যানারে দাঁড়াতাম না। এটা আমাদের কৌশল ছিল। আমাদের ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের হাসিনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জাগরণে পাঠাতে লাগলাম। কঠিন সেই দিনগুলোতে ছিল গ্রেফতার আতঙ্ক।

পদে পদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অভিযানে আমরা তখন তটস্থ। বাড়ি থাকা যায় না। পরিচিত আত্মীয় স্বজনরা তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতেও সংকোচ করতেন। আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চে কয়েক ঘন্টা ঘুমাতাম। তারপরও নানা কৌশলে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হলে মাস্ক পরে তাতে অংশ নিতাম। অনেকেই চিনে ফেলতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহস দিতাম। ক্যাম্পাসে সরাসরি যাওয়ার অবস্থা ছিল না। এজন্য বিভিন্ন পথ ঘুরে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশগ্রহন করতাম প্রিয় সহযোদ্ধাদের নিয়ে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ শহরের আন্দোলন বেগবান করার কাজে মনোযোগ দিলাম। সারারাত জনমত তৈরির কাজ করতাম। সকাল হলেই রাজপথে।

ভয় ছিল। ছিল আতঙ্ক। আমরা জানতাম, এবার হেরে গেলে হাসিনা কাউকে বাঁচিয়ে রাখবে না। এই চিন্তা কেবল আমার একার ছিল না, এটাই সব আন্দোলনকারীদের মনোভাব ছিল। যে কারণে শত নির্যাতন সহ্য করেও আন্দোলনে হাল ছাড়েনি কেউ। পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে।

সারাদেশে যখন ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেয় ফ্যাসিস্ট সরকার, তখন আমরা একটা অন্ধকারে ডুবে যায়। সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় হাসিনা। কোলের শিশু, গর্ভবতী নারী শ্রমজীবী মানুষ, কেউ হাসিনার পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায়নি। হেলিকপ্টারে করে গুলি চালিয়েছে হাসিনার খুনি বাহিনী।

যেদিন ইন্টারনেট ফের সচল হয়, সেদিন থেকেই সারাদেশে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আমাকে গ্রেফতার করতে গ্রামের বাড়িতে বারবার পুলিশ অভিযান চালায়। দুর্বিষহ সেসব স্মৃতি আজও মনে হলে আঁতকে উঠি। তবে আমরা বারবার ভাবছিলাম, ছাত্ররা যেন আন্দোলন থামিয়ে না দেয়। আমরা সেই লক্ষ্যে যোগাযোগও রেখে যাচ্ছিলাম।

সর্বোপরি, ১ আগস্ট থেকে হাসিনা পতনের ১ দফার আন্দোলন শুরু হলে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে পড়ি। বিশেষ করে, সকালের দিকে ক্যাম্পাসে এবং বিকালে ঝিনাইদহের রাজপথে আমি ও আমার স্থানীয় সহকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখি। ৩ জুলাই থেকে সারাদেশে হাসিনার খুনি বাহিনী বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে। আগুন দেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় অসংখ্য রাজনৈতিক কার্যালয় ও বিএনপি নেতাদের বাড়ি।

আর এই ঘৃণ্য অপকর্মের মধ্য দিয়ে হাসিনা তার পতনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। ৫ আগস্ট সর্বসাধারণের গণ বিস্ফোরণে হাসিনা তার মনিব রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে যায়। রচিত হয় নতুন বাংলাদেশের মাথা উচু করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন ইতিহাস।

লেখক: সাহেদ আহম্মেদ, ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক

Click to comment

ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে হলের সিটের প্রলোভন দেখালেন রাবির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী

রাবি প্রতিনিধি
নিজ জেলার নবীন শিক্ষার্থীদের ছাত্রদল কর্মী পরিচয়ে হলের সিট সুবিধার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত ৯ জুন তিনি ‘আরইউ-৭৩ (ঝিনাইদহ)’ নামের একটি গ্রুপে এই প্রলোভন দেখিয়েছেন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহির শাহরিয়ার তানিম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী।

তবে শাখা ছাত্রদল বলছে, তানিমকে তারা চিনেন না বা তাকে কখনো দেখেছেন কিনা সেটিও নিশ্চিত না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলের অনুসারী। গত ৯ জুন ‘ঝিনাইদহ রাবি-৭৩’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তানিম রহমান ফেসবুক আইডি থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, “যদি কেউ ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহী থাকো বা জাতীয়তাবাদী পরিবারের হও, কিছুদিনের মধ্যে ফর্ম ছাড়বে, পূরণ করতে পারো। হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারো।” তার এই বার্তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে প্রতিবাদ করেন গ্রুপে থাকা শিক্ষার্থীদের। যার প্রমাণও মেলে ওই স্ক্রিনশটে।

এ বিষয়ে ওই গ্রুপে থাকা দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, হ্যাঁ, মেসেজটি সে-ই (ছাত্রদল কর্মী তানিম) দিয়েছিল। মেসেজটি দেওয়ার সাথে সাথে এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদও করেছিল। গ্রুপে রাজনৈতিক কোনো নোটিশ দিতে মানা করলে তানিম (অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী) দুঃখপ্রকাশও করে।

ওই গ্রুপে থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি নিজেও মেসেজটি দেখেছি। সেখানে ছাত্রদল করলে হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ ছিল। তবে কয়েকদিন পর তানিম মেসেজটি ডিলিট করে দেয় এবং পরে গ্রুপ থেকেও বের হয়ে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে তানিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনো কিছু জানার থাকলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আছি। সরাসরি এসে আমার সাথে কথা বলেন। তবে প্রতিবেদক পরিবহন মার্কেটে এসে অভিযুক্তকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেয়নি।

তানিমের বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমি তানিমকে চিনিনা, তাকে কখনো দেখেছি কিনা সেটিও মনে পড়ছেনা। সংগঠন থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আর আমাদের ছাত্রদলের ফর্ম ছাড়ার কোনো তথ্য বা নির্দেশনা নেই আপাতত, ফর্ম পূরণ করবে কীভাবে।

তানিমের অভিযোগের বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি এ বিষয়টি দেখেছি। সে এ বিষয়টা অস্বীকার করেছে। তার আইডি হ্যাক হয়েছে বলে জেনেছি। আমি তার সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলব।

Click to comment

বাংলাদেশে উগ্রবাদী শক্তির কোনো জায়গা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের কোনো জায়গা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তাদের কখনোই সুযোগ দেওয়া হবে না।

১০ বছর আগে রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার এক অনুষ্ঠানে এ একথা বলেন তিনি। ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর বাসভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে কখনো ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষেত্রে মোকাবিলায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান, ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন প্রতিনিধি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার প্রধান লরা স্কেলা অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এবং নিহতদের নাম পাঠ করেন। পরে তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। নিহতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতাও পালন করেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত প্রায় পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি ও গ্রেনেড নিয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় পাঁচ জঙ্গি। হামলাকারীরা ছিলেন মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল এবং শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি সংকট চলাকালে হামলাকারীরা ২০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নয়জন ইতালীয় নাগরিক, সাতজন জাপানি নাগরিক, একজন ভারতীয় এবং তিনজন বাংলাদেশি।

জিম্মিদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির সময় জঙ্গিদের ছোড়া বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন খান।

পরদিন ভোরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে। অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয় এবং ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এ জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দশ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই রাতের ক্ষত এখনো আমাদের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ছায়া আজও আমাদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এটি আমাদের জাতির ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়।’

নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হামলাটি ছিল আশা, মানবতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের অভিন্ন মূল্যবোধকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা। বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা শুধু তাদের স্মৃতিকেই নয়, তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও সংহতিকেও সম্মান জানাই।’

ওই হামলাকে মানবতার ওপর নির্মম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের প্রাণবন্ত, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টি করার পরিকল্পিত চেষ্টা। কিন্তু এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখেও বাংলাদেশ অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি এবং অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় সম্মিলিত সতর্কতার গুরুত্ব আজও স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই দিনের বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি ও সম্মিলিত সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ‘নৃশংস ওই সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশে থাকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলেছিল। ওই সন্ত্রাসী হামলা ২৪ জন নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।’

তিনি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

Click to comment

আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবো: কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড়সড় আত্মবিশ্বাসের কথা শুনিয়েছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোস মারিয়া নেভেস। তার বিশ্বাস, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ১-০ গোলে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে তার দেশের।

সাড়ে পাঁচ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে। কঠিন গ্রুপে উরুগুয়ে, স্পেন ও সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে তারা জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে।

প্রথম বিশ্বকাপেই এমন সাফল্যের পর আত্মবিশ্বাসী নেভেস বলেন, ‘আমরা ১-০ গোলে জিতব।’

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই খেলতে নামবো। যখন কোনো দলের প্রতি প্রত্যাশা কম থাকে, কিন্তু সেই দলের জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’

নেভেসের মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই ম্যাচটি কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রারই স্বাভাবিক পরিণতি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরা লেখার জন্য, আর সেই পথেই এখন আমাদের সামনে চ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করার সুযোগ এসেছে। তাই একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা আর্জেন্টিনা ও মেসির বিপক্ষে মাঠে নামবো। আমাদের লক্ষ্য পরের পর্ব।’

আগামী ৪ জুলাই মায়ামির রক গার্ডেন স্টেডিয়ামে হবে দুই দলের লড়াই

Click to comment

গণভোট না মানার কারণে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট না মানার কারণে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে ঢাকা-১৫ আসনের জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে নাগরিক সমাবেশ, মতবিনিময় সভা তিনি একথা বলেন।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেমন ধারণা করেছিলাম তার কাছাকাছি হয়েছে এবারের বাজেট।

বিজ্ঞাপন

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

Click to comment

নতুন ৩ উপজেলা ও এক থানার অনুমোদন

দেশে নতুন আরও তিন উপজেলা ও একটি থানার অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’। উপজেলা তিনটি হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনিসংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’। এছাড়া নতুন অনুমোদন পাওয়া থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার ১২১তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) ‘র বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন হয়।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা প্রকল্পের অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তুর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।

নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলা ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরাগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। চট্টগ্রামের হাটাজারি থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার এই বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Click to comment

অবশেষে আলোর মুখ দেখল নবম পে-স্কেল, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কার্যকর হলো নবম জাতীয় পে-স্কেল। তবে নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও বাড়তি বেতন কবে থেকে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখনো রয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, গেজেট প্রকাশ এবং হিসাব সমন্বয়ের ওপরই নির্ভর করছে বর্ধিত বেতন পাওয়ার সময়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে একই বেতন কাঠামোর অধীনে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। সেই বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নবম পে কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নে সব সুপারিশ হুবহু থাকবে কিনা, তা নির্ভর করবে সরকারের অনুমোদিত গেজেট ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে মূল বেতন ও ভাতার বিষয়টি আলাদা ধাপে কার্যকর করার চিন্তা ছিল। তবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থায় কারিগরি জটিলতা এড়াতে মূল বেতন এক ধাপে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার সংশোধন পরবর্তী ধাপে কার্যকর হতে পারে।

সরকার নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এই অর্থ সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যবহার হতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের বেতন ও পেনশন খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, পে-স্কেল কার্যকরের দিন শুরু হলেও প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ, সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয় এবং বেতন বিল প্রস্তুতের কারণে বর্ধিত অর্থ হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, গেজেট জারির পর বকেয়াসহ নতুন হারে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে।

নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি দিলেও অর্থনীতিবিদদের নজর এখন আর্থিক প্রভাব কী পড়ে তার দিকে। তাদের মতে, বেতন বৃদ্ধি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, তবে বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে বাড়তি চাহিদার প্রভাবে নিত্যপণ্যের দামে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে।

Click to comment

জোড়া গোল করে মেসিকে ধরে ফেললেন এমবাপ্পে

সুইডেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোল পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফ্রান্সকে। কখনও অফসাইড আবারও কখনও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর পাত্তাই পায়নি সুইডেন। ৩-০ গোলের বড় জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের ৪৫ ও ৭৪ মিনিটে সুইডেনের জালে বল জড়ান ফরাসি অধিনায়ক।

এতে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এমবাপ্পে ছুঁয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকে। দুজনেরই গোল এখন ৬।

আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল এখন ১৮। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে মেসির চেয়ে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে আছেন ফরাসি তারকা। মেসির গোল ১৯।

Click to comment

বাজেটকে ‘অস্বচ্ছ ও অবাস্তবায়নযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে না ভোট দিল বিরোধীদল

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ ও অবাস্তবায়নযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ‘না’ ভোট দিয়েছে বিরোধী দল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাজেট পাসের পর সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলের মুখপাত্র ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখলেও বাজেটের মৌলিক সমস্যাগুলো রয়ে যাওয়ায় তারা ‘না’ ভোট দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের চাপের মুখে সরকার বাজেটের কয়েকটি গণবিরোধী প্রস্তাব সংশোধন বা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মুদিদোকানের ওপর কর প্রত্যাহার, আবাসন খাতে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের একটি বিতর্কিত বিধান বাদ দেওয়ার ঘোষণা এবং করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করা।

তবে বিরোধী দলের মতে, দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। সরকার একদিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও অন্যদিকে ব্যাপক ঋণ গ্রহণ ও টাকা ছাপানোর নীতি অনুসরণ করছে, যা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে।

বিভিন্ন বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দল জানায়, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিন আগে বিলের কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে উত্থাপনের দিনই তা সদস্যদের হাতে দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ’ আইনকে স্বাগত জানালেও আদালতের অনুমতি ছাড়া কম্পিউটার ও সার্ভার জব্দে পুলিশের ক্ষমতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাজেটে কার্যকর বরাদ্দ না থাকারও অভিযোগ করেছে বিরোধী দল।

Click to comment

বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এবার বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজের আয়োজন করা হয়নি।

প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু এই খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করত। তবে আগের সরকারের সময়ের বিপুল অঙ্কের বিল এখনও বকেয়া রয়েছে, যা বর্তমান সরকারকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আপ্যায়ন ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা। এছাড়া দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’

তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে আসেন। তিনি শুরু থেকে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অধিবেশনের বিরতির সময়ও প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং জরুরি বিভিন্ন ফাইলে সই করেন।’

Click to comment