Connect with us

CarlosSpin mobiele toegang en gebruiksgemak

Mobiel spelen zonder gedoe 

CarlosSpin richt zich duidelijk op spelers die niet vast willen zitten aan één apparaat. De mobiele site past zich aan kleinere schermen aan en werkt via de browser, zonder verplichte download. Dat maakt de toegang laagdrempelig voor spelers die snel een slot, live tafel of promotie willen openen vanaf hun telefoon. Volgens de informatie op de site is de mobiele omgeving volledig responsive en geschikt voor iOS en Android.

Een groot voordeel van mobiele toegang zit in de eenvoud. De speler hoeft geen aparte stappen te onthouden voor desktop en smartphone. De belangrijkste onderdelen blijven herkenbaar, zoals de lobby, het accountmenu, de bonuspagina en de betaalomgeving. Daardoor voelt een sessie op mobiel niet als een ingekorte versie, maar als een praktische manier om hetzelfde casino-aanbod te gebruiken.

Voor Nederlandse spelers telt vooral snelheid. Een mobiel casino moet snel laden, knoppen moeten groot genoeg zijn en menu’s mogen niet vol aanvoelen. Carlos Spin Casino speelt hierop in met een mobiele omgeving waarin toegang, navigatie en spelkeuze centraal staan. De ervaring is vooral handig voor korte speelmomenten, bijvoorbeeld onderweg, op de bank of tijdens een pauze.

Inloggen en accountbeheer 

De loginpagina laat zien dat het accountgedeelte is bedoeld als centraal startpunt. Na het inloggen komt de speler in het profiel terecht. Vanaf daar zijn saldo, stortingen, uitbetalingen, bonussen en favoriete spellen bereikbaar. Dat geeft de mobiele gebruiker direct grip op de belangrijkste acties binnen het casino.

Een goede mobiele login moet kort en logisch blijven. Spelers willen geen lange route volgen voordat ze hun saldo kunnen bekijken of een spel kunnen openen. Bij CarlosSpin draait het accountbeheer om directe toegang tot functies die vaak worden gebruikt. Dat past bij mobiel gebruik, omdat veel spelers via de telefoon korter en doelgerichter navigeren dan op een laptop.

Het profiel werkt ook als controlepunt. Een speler kan eerst het saldo checken, daarna een bonus activeren en vervolgens naar favoriete spellen gaan. Deze volgorde voelt natuurlijk, omdat de belangrijkste keuzes vóór het spelen plaatsvinden. Mobiel gebruik wordt daardoor rustiger. De speler hoeft niet telkens terug naar de homepage om een basisactie te vinden.

App en mobiele functies 

Naast de mobiele browserervaring noemt de site ook een speciale app voor iOS en Android. Deze app biedt snelle toegang tot het live casino, pushmeldingen voor bonussen en exclusieve mobiele aanbiedingen. Dat maakt de app vooral interessant voor spelers die vaak terugkomen en meldingen willen ontvangen zonder steeds zelf de promotiepagina te openen.

De waarde van een casino-app zit niet alleen in snelheid. Een app kan de vaste speler meer gemak geven door de lobby, login en acties dichter bij elkaar te brengen. Pushmeldingen kunnen nuttig zijn bij tijdelijke bonussen, toernooien of acties met beperkte looptijd. De speler moet wel bewust omgaan met meldingen, omdat mobiel spelen snel onderdeel van dagelijkse routines kan worden.

Voor incidentele spelers blijft de mobiele site vaak genoeg. Er is geen download nodig en de browser geeft toegang tot de kernfuncties. Voor vaste spelers kan de app praktischer zijn, vooral door snellere toegang en meldingen. CarlosSpin biedt daardoor twee routes: licht en direct via de browser, of persoonlijker via de app.

Gebruiksgemak tijdens het spelen 

Gebruiksgemak merkt de speler vooral in de lobby. Een mobiel casino moet spellen snel vindbaar maken, zonder lange zoektochten door drukke menu’s. CarlosSpin toont verschillende soorten aanbod, waaronder slots, live games en andere casinocategorieën. De officiële omgeving noemt onder meer live spellen zoals Crazy Time, Sweet Bonanza CandyLand, Ice Fishing en Lightning Roulette.

Op mobiel is spelkeuze vaak anders dan op desktop. Korte rondes, duidelijke knoppen en snelle laadtijden voelen belangrijker aan. Slots en crashachtige spellen passen goed bij korte sessies. Live casino past beter bij spelers die meer tijd nemen en een tafel of show willen volgen. De mobiele toegang moet beide stijlen ondersteunen zonder dat de speler het overzicht verliest.

Betalen en bonussen horen ook bij gebruiksgemak. Na een geslaagde login kan de speler stortingen, uitbetalingen en bonussen beheren vanuit het profiel. Dat voorkomt onnodig zoeken tijdens een sessie. Een mobiel casino voelt pas echt soepel wanneer accountbeheer, promoties en spellen logisch met elkaar verbonden zijn. CarlosSpin legt die verbinding door de belangrijkste functies dicht bij de speler te houden.

ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে

ডিজিটাল ডেস্ক

মাত্র ১৮ ঘণ্টার সামরিক অভিযানের পর ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুথিরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের সর্বশেষ অংশে অভিযান চালিয়ে হুথি যোদ্ধারা দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। সরকারি বাহিনী এর আগেই মোখা এলাকা থেকে সরে যাওয়ায় তাদের খুব বেশি প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি।

অভিযানের শুরুতে হুথিরা দুবাব এলাকা দখলে নেয়। পরে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ উপকূলীয় শহর মুরাদও তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

উপকূলীয় এলাকা দখলের পর হুথিদের নৌবাহিনী সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হয়। তারা বাব এল-মানদেব প্রণালির মায়্যুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং জুকাল দ্বীপে প্রবেশ করে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হুথিদের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Click to comment

বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল পাস

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাস হয়।

বিলটির বিভিন্ন ধারায় আপত্তি তুলে তা অনুমোদন না করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে তার আপত্তি এবং বিরোধী দলের বক্তব্য উপেক্ষা করেই বিলটি পাস করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এ আইনের ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং বাহিনীর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠবে।

Click to comment

‘জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠান’- এমপিদের নম্বর হ্যাক করে প্রতারণা

‘জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান’, ‘৩০ হাজার টাকা পাঠান’- এমন বার্তা পাঠিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্যদের নম্বর হ্যাক করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। মুঠোফোনের তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ হ্যাক, ভয়েস ক্লোন এবং স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণার ঘটনায় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা এর শিকার হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে গিয়ে এ বিষয়ে সতর্ক করেন চিফ হুইপ।

চিফ হুইপ বলেছেন, ‘পত্রিকায় এসেছে মোবাইল ফোনে… আমি কালকে এখানে পেয়েছি, আমাকে তিনজন সংসদ সদস্য বলেছেন জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান, ৩০ হাজার টাকা পাঠান, আবার ২৫ হাজার টাকা পাঠান। তিনটা নম্বর থেকে এসেছে। যাদের নম্বর থেকে এসেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কল করেছিলাম কিন্তু ধরেননি। মানে মোবাইল (নম্বর) হ্যাক হয়েছে।’

সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সচেতন হওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি আপনারা জানলে সারা বাংলা জানবে বলে মনে করি। টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ জানুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভয়েস ক্লোন করে এবং কাগজপত্র নিয়ে কাজটা করছে, কিছু কিছু মানুষ স্বাক্ষর জাল করে একটি কাগজ হাজির করছে, সেটাও সমস্যা হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যদের হয়েছে, সরকার দলের সদস্যদেরও হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান চিফ হুইপ।

এ সময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিষয়টি যখন উঠালেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে কিছু বলবেন না? ক্লোন হয় না হয়, সেটা তো ব্যক্তিগত পর্যায়ে যাদের হচ্ছে, তারা তো সেটার জন্য দায়ী নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের, নির্বাহী বিভাগ বা রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে বলার থাকলে বলেন।’

জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গতকালই (বুধবার) কথা হয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা বিটিআরসি শুরু করেছে। যাতে এ সমস্যার সমাধান করতে পারি।’

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘সব লবিতে ফেস রিডিং ডিভাইস রয়েছে। সেখানে ফেস রিডিং করা হয় না, ১২০ থেকে ১২২ জনের মতো হয়। আমাকে সংসদ থেকে অবহিত করা হয়েছে, যাতে সব সংসদ সদস্য ফেস রিডিং করে সংসদ কক্ষে ঢোকেন। আজ যেন যাওয়ার সময় সব সদস্য ফেস রিডিং করে যান।’

Click to comment

রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিল প্রশাসন

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবার জন্য অত্যাধুনিক নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করেছে বিশবিদ্যালয় প্রশাসন ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম অ্যাম্বুলেন্স দুটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে উপাচার্য অ্যাম্বুলেন্সের চাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান মাফরুহা সিদ্দিকা লিপির কাছে হস্তান্তর করেন।

অ্যাম্বুলেন্স দুটি উদ্বোধন করে উপাচার্য তাঁর মন্তব্যে বলেন, এর মাধ্যমে রাবিতে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের আনা-নেওয়া ও চিকিৎসা সেবা প্রদান আরও গতিশীল হলো। নতুন এই অ্যাম্বুলেন্স দুটিতে অক্সিজেন সরবরাহসহ জরুরি চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা আছে যা শিক্ষার্থীদের জরুরি মুহূর্তে ভোগান্তি দূর করবে।

উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা অনেক বেশি রামেক হাসপাতালের আইসিইউ এর উপর নির্ভরশীল। সেক্ষেত্রে রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবার অধিকতর উন্নয়নের জন্য আরও কিছু পরিকল্পনা, যেমন জরুরি চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ঔষুধের সরবরাহ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ দক্ষ টেকনিশিয়ান ও নার্স নিয়োগের কথা জানান। এছাড়া রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে আইসিইউ সুবিধা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, আমাদের মেডিকেল সেন্টারে অনেক অনেক সমস্যা। এই মুহুর্তে এম্বুলেন্সটি তৃষ্ণার্ত পথিকের নিকট একগ্লাস পানির মতো হয়ে আসলো। আমি এই মুহুর্তে অনেক খুশি। আশা করি প্রশাসন আমাদের লোকনল দিয়ে সবকাজে সাহায্য করবে।

উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর এস এম কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

নেহাল রাফি
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
০১৮২৯৩৩৬৪১৬

Click to comment

ইবিস্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে মহিম-আদিল

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চট্টগ্রাম থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র ২০২৬-২৭ সেশনের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মহিম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আদিল মুহাম্মদ তাছিফ মনোনীত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপদেষ্টার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এছাড়াও আংশিক কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে হান্নান আকিব, অর্থ সম্পাদক সম্রাট জিসান, অফিস সম্পাদক মিনহাজুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক আবু বকর ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক ইকরাম রিশাদ মনোনীত হয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ তাছিফ বলেন, “এই দায়িত্ব আমার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি একটি বড় আমানত । চট্টগ্রাম থেকে আগত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ঐক্য, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে চাই।”

সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মহিম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এই দায়িত্বকে আমি সম্মানের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত হিসেবে দেখছি। চট্টগ্রাম থেকে আগত সকল শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও কল্যাণে কাজ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। সকলের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে সমিতিকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ দায়িত্ব পালনে সবার দোয়া, সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।”

Click to comment

শাকসু বন্ধ করে ‘উপাচার্য’ হয়েছেন, এবার শাকসু নির্বাচন দিন

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের
সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি অ্যাকাডেমিক ভবন ‘ই’ প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব রিয়াজ রিমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধি থাকলেও শিক্ষার্থীদের কোন প্রতিনিধি নাই। শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলার মানুষ নেই। তাই প্রশাসনকে উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ঠিক করতে হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত সময়ে আপনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন যদি শাকসু নির্বাচন হয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা কোন সহযোগীতা করবে না। তার বিনিময়ে তারেক রহমান সরকার আপনাকে শাবিপ্রবির উপাচার্য বানিয়েছেন। আপনি আপনার পুরস্কার পেয়েছেন। এখন আপনি শিক্ষার্থীদের শাকসু নির্বাচন দিয়ে দিন।

ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি ও ছাত্রদলের ষড়যন্ত্রের কারণেই শাকসু নির্বাচনের একদিন আগে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটা আমাদের সকলের কাছে পানির মতো পরিষ্কার।’

উপাচার্যেকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু আপনি যখন উপাচার্যের দায়িত্বে আছেন, তখন আপনি ৯ হাজার শিক্ষার্থীর উপাচার্য। রাজনৈতিক পরিচয় এক পাশে রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করাই আপনার প্রধান দায়িত্ব।’

এ সময় প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘রবিবারের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে আপনাকে অতীত স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির কারণে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় মাসের পর মাস বন্ধ ছিল। আপনারা যদি শিক্ষার্থীদের দাবিকে উপেক্ষা করেন এবং আমাদের সঙ্গে বসে রোডম্যাপ ঘোষণা না করেন, তাহলে আবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আবরার রাশিদ বলেন, একটি রাজনৈতিক দল এবং একই সঙ্গে প্রশাসনের যোগসাজশে যেভাবে শাকসু বন্ধ হয়েছে এবং বর্তমান পর্যায়ে যেখানে নতুন প্রশাসন এসে সেটাকে পুনরুদ্ধার ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার কথা, কিন্তু একই প্রশাসন বর্তমান প্রশাসনও সেই আগের প্রশাসনের সঙ্গে যেভাবে হাঁটছে, এর ফল আমরা খুব একটা সুখকর মনে করছি না।

তিনি আরো বলেন, আমরা কিন্তু জুলাই থেকে উঠে আসা মানুষ। আমরা চাই, এই প্রশাসন, এই সরকার আমাদের শিক্ষার্থীদের স্পিডটা বুঝুক। যদি শিক্ষার্থীদের স্পিড বুঝতে ব্যর্থ হয়, যদি শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া বুঝতে এই সরকার ও প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণাম খুব একটা সুখকর হবে বলে আমরা মনে করি না।

Click to comment

জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল

জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ধাক্কা তার রাজনৈতিক মিত্রদের গণ্ডি পেরিয়ে এখন পরিবারের সদস্যদের ওপরও দৃশ্যমান হচ্ছে। হাসিনার ঘনিষ্ঠ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বর্তমানে বাংলাদেশে দুর্নীতিসহ নানা ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েছেন কিংবা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো প্রবাসে অবস্থান করছেন।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছর মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করলে একই বছরের জুলাই মাসে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত বছরের শেষের দিকে ডব্লিউএইচও তাকে অবৈতনিক প্রশাসনিক ছুটিতে রাখে।

রয়টার্সের দেখা গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচও বরাবর পাঠানো সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের একটি চিঠি অনুযায়ী, সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে ‘চীন সফরের বিষয়ে আর্থিক জালিয়াতি’ এবং ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল তথ্য উপস্থাপনের’ অভিযোগ তোলে। তবে সায়মা ওয়াজেদ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এ ছাড়া মহাপরিচালক বরাবর পদত্যাগপত্রে সায়মা উল্লেখ করেন, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বেআইনিভাবে একটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও এনেছিল। এর জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগদানের আগেই তিনি ওই জমি পেয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আইনের অধীনে তিনি তা পাওয়ার বৈধ অধিকারী ছিলেন।

ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে দেওয়া চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং নিষ্ঠার সঙ্গেই সেই দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু আপনি ক্রমাগত আমাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে আসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আপনার নেতৃত্বের ওপর আমি সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়েছি।’

চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি চরম সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’ তবে এ বিষয়ে তিনি নতুন করে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাৎক্ষণিকভাবে ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি এর আগে গোপনীয়তার স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য জানানো থেকে বিরত থেকে শুধু তার ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণের পরিকল্পনা করছিল জাতিসংঘ সংস্থাটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন মনোনয়ন আহ্বান করবে, ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বের জনস্বাস্থ্য নীতিনির্ধারণে আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি অত্যন্ত প্রভাবশালী। যে কোনো মহামারি বা জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নেতৃত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নীতিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে এই পদের ওপর। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটে প্রতি পাঁচ বছর পরপর এ পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আইনজীবীদের মাধ্যমে পাঠানো জুলাইয়ের চিঠিতে চীন সফরের আর্থিক জালিয়াতির ব্যাখ্যায় সায়মা ওয়াজেদ জানান, এটি মূলত তার এক সহকারী কর্তৃক রুটিন বিল দাখিলের সময় ঘটে যাওয়া একটি প্রশাসনিক অসাবধানতা ছিল, যার পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছিলেন এবং নিজের এই যোগ্যতার বিষয়টি ডব্লিউএইচও মহাপরিচালকের কাছে আগে থেকেই সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল।

Click to comment

সরকারি ছয় চাকরিতে বাড়ছে না ভাইভার নম্বর

সরকারি চাকরির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১-২০ গ্রেড) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন যেকোনো দিন জারি হতে পারে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের খসড়া সরকার ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছে। খসড়াটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ভাইভার নম্বর বাড়ানোর এ উদ্যোগ নিয়ে যখন বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও আন্দোলন চলছে, তখনই প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হওয়ার পর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা বৈষম্য তৈরির চিন্তা নেই; বরং দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

খসড়া বিধিমালায় বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৫৯ এর উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪০(২) অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হলো।

এতে উল্লেখ করা হয়, এই বিধিমালা মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১তম ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

এতে বলা হয়, এই বিধিমালার কোনো কিছুই শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব বা অন্য কোনো বাহিনী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে খসড়া বিধিমালায় ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

বর্তমানে এসব পদে ভাইভায় ১০ নম্বর থাকলেও নতুন প্রস্তাবে গ্রেডভেদে তা ২৫, ৪০ ও ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।

বিধিমালা অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডে মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫০ নম্বর থাকবে মৌখিকের জন্য; যা বিদ্যমান নম্বরের চেয়ে ৪০০ শতাংশ বেশি। একই গ্রেডের লিখিত পরীক্ষায় ৯০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বর করা হয়েছে। এই গ্রেডে বিদ্যমান লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করতে হয়, প্রস্তাবিত খসড়ায় তা ৩৫ শতাংশ করা করা হয়েছে।

১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের পদে বর্তমানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যথাক্রমে ৯০ ও ১০ নম্বর রয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ এবং ভাইভায় ৪০ নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপরদিকে ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের পদে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ এবং ভাইভায় ১০ নম্বর রয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় লিখিত ও মৌখিক এ দুই পরীক্ষায় ২৫ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে চাকরির ক্ষেত্রে নম্বর বাড়ানোর বিষয়টি সচিব কমিটির সভায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না। এ জন্য প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে একটি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেলে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

এসময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলেও উল্লেখ করেন সেই কর্মকর্তা।

খসড়া বিধিমালায় চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সময় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী চলমান থাকলে তা আগের বিধিমালা অনুসারেই নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে শুরু হওয়া নিয়োগ কার্যক্রমে নতুন নম্বর কাঠামো প্রযোজ্য হবে না।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, নতুন বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবে।

Click to comment

‘সুদূরপ্রসারী ভাবনা’ থেকে জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় বাদ, সিট পেল প্রাধ্যক্ষের বিভাগের নবীনরা

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিজয়-২৪ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের খেলোয়াড় কোটায় সিট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে দুজনই হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলামের নিজ বিভাগ সমাজকর্মের শিক্ষার্থী। এ নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। তবে প্রাধ্যক্ষের দাবি, হলের খেলাধুলার মান বাড়াতে ‘সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা’ থেকেই নবীনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

হল সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে খেলোয়াড় কোটায় চারজন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাদের একজন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এবং অন্য তিনজন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন। নবীন তিনজনের মধ্যে দুজন সমাজকর্ম ও একজন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী।

প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক হওয়ায় তার বিভাগের দুই নবীনকে খেলোয়াড় কোটায় সিট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলের নীতিমালা অনুযায়ী, স্নাতকের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা আবাসিকতার জন্য আবেদন করতে পারেন। আসনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হয়েও সিট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভাইভায় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলার কথা জানালে প্রাধ্যক্ষ শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রত্যয়নপত্র আনতে বলেন। পরে আমি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে গেলে জানানো হয়, সিট নেই। পরে সার্কুলার দিলে আবেদন করতে হবে।’

চতুর্থ বর্ষে এসেও আবাসিক সিট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহ জামাল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা চতুর্থ বর্ষে এসেও সিট পাইনি। অথচ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা কতদিন নিজেদের খেলা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে যে তাঁদের খেলোয়াড় কোটায় সিট দেওয়া হলো? এখানে স্বজনপ্রীতির বিষয়টি স্পষ্ট।’

অভিযোগের বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওরা হলে ভালো পারফরম্যান্স করছে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হল খেলাধুলায় পিছিয়ে আছে। চতুর্থ বর্ষ বা মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা পাঁচ-ছয় মাস পরই হল ছেড়ে চলে যায়। তাই সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করেই নবীনদের সিট দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দীর্ঘদিন হলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে নবীনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আবেদন তার কাছে আসেনি।

Click to comment

নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ইবি ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

ইবি প্রতিনিধি

নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের মাধ্যমে দলীয়করণ ও ঘুষ-দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা গেছে দিল্লিতে, ভাইভা যাবে লন্ডনে’, ‘নব্য কোটার নাম কি, ভাইভা ছাড়া আবার কি’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “২০২৪ এ ছাত্রজনতা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। সেটা অন্য নামে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ছাত্রজনতা সহ্য করবে না, তা রুখে দিবে।”

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, “বর্তমানে সরকার সকল জায়গায় দলীয়করণ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে ভাইভাকে মার্কস বৃদ্ধি করেছে। এই পদ্ধতিতে তারা বাংলাদেশের ভূখন্ডে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চায়। এর উদাহরণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখতে পেয়েছি। দেখতে পেয়েছি চাকরির লোভ দেখিয়ে এলাকার মানুষদের সন্ত্রাসী করাতে। তাদের এই ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দিব না। যে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে এসেছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। তা নাহলে প্রশাসনকে দ্বায় নিয়ে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হলগুলোতেও অবৈধভাবে দলীয় লোক উঠিয়ে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চায়। শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে হলে উঠিয়েছে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করার জন্য। এতে প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই জড়িত আছে। তারা আমাদের হল সেক্রেটারির গায়ে হাত তুলেছে। আর কোনোদিন কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলার দুঃসাহস করবেন না, তা নাহলে তাদের হাত আমরা ভেঙে দিব।”

তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, “হলগুলো থেকে অবৈধভাবে তিন দিনের মধ্যে অবৈধদের বের করতে হবে, তা নাহলে চতুর্থদিনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন। ছাত্রশিবির এতদিন মার খেয়েছে, এবার সময় প্রতিহত করার। আল্লাহর ফরজ বিধানকে মানার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন নিয়োগ দেওয়া হবে বলে শুনতে পেয়েছি। আমাদের রক্তের বিনিময়ে স্বচ্ছ নিয়োগ বাস্তবায়ন করবো। আমরা কোনো অনিয়ম সহ্য করবো না। ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে গেলে কি হবে তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিবেন। চাকরি পরীক্ষাসহ ইবির সকল অনিয়ম বন্ধ করতে হবে, নয়তো কিভাবে বন্ধ করতে হয় তা আমাদের জানা আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেবেন না। শিক্ষার্থীবান্ধব কাজে মনোযোগী হন, আধিপত্য নিয়ে মনোযোগী হবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রসঙ্গত, ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিদ্যমান বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ ও ১২ গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০, ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে ১০ থেকে ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০ গ্রেডে ১০ থেকে ২৫ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বরও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে এখনও প্রকাশিত হয়নি।

Click to comment