Connect with us

top1

অভিশপ্ত ২৮ অক্টোবর: স্বৈরাচারের শুরু থেকে ১৯ বছরের কালো অধ্যায়

Published

on

আজ ২৮ শে অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। মানুষ রুপি হায়েনাদের নৃত্য মৃত লাশের উপর যেন শকুনের থাবা কেউ হার মানায়।২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার একটি স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হয়। ওইদিন ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাসুমসহ কয়েকজন নিহত হন। জামায়াত-বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও সমর্থিত বামপন্থী সংগঠনগুলোর কর্মীরা “”লগি-বৈঠা” নিয়ে রাজপথে নেমে আসে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দেয়।
সংঘর্ষের সময়: ঢাকার পল্টন ও আশপাশের এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।

নিহতদের মধ্যে: জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মাসুমসহ কয়েকজন নিহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিহতদের দেহের উপর কিছু ব্যক্তি নাচানাচি করছে, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

জামায়াত ও বিএনপি এই ঘটনাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” হিসেবে অভিহিত করে এবং বিচার দাবি করে।

গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া: বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিভাজনমূলক ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।
সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের আয়োজনে শহীদদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের হাতে পৈশাচিক হত্যাকা-ের শিকার পরিবারের সদস্যরা।

লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের নির্দেশ ॥

২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা এই আহ্বানে সাড়া দিয়েই আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সেদিনও মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভাস্থল থেকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল ‘জামায়াত-শিবিরের ওপর হামলা কর, ওদের খতম কর’। ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন বারবার উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে হামলার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে উৎসাহিত করছিলেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যা ঘটেছিল ॥

২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় লগি-বৈঠার তা-ব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেমন চালানো হয় পৈশাচিক হামলা, তেমনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর । তার প্রথম শিকার হয় গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর অফিস। এ সময় লগি-বৈঠা বাহিনীর তা-বে শহীদ হন রুহুল আমিন।

সুপরিকল্পিত হামলা চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ ছিল। সকাল থেকেই সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের লগি, বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। তাদের পৈশাচিক হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয় জামায়াত ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মী। তাদের এই আক্রমণ ছিল সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ। তারা একযোগে বিজয়নগর, তোপখানা রোড ও মুক্তাঙ্গন থেকে পল্টন মোড় দিয়ে আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

পল্টন মোড়ের পৈশাচিকতা সেদিন পুরো পল্টনজুড়ে ছিল লগি-বৈঠা বাহিনীর তা-ব। লগি-বৈঠা আর অস্ত্রধারীদের হাতে একের পর এক আহত হতে থাকে নিরস্ত্র জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লগি-বৈঠা দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার লাশের ওপর উঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে।

সেদিন আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা বাহিনী শুধু জামায়াতের সভা প- করার জন্যই পৈশাচিক হামলা চালায়নি, তারা জামায়াতকেই নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল জামায়াতের সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিতে। প্রথম দফা হামলার পর তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। আশপাশের ভবনের ছাদে উঠে বোমা ও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। সভার শেষদিকে মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হলে তারা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় হামলা চালায়।

একদিকে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো বোমাবর্ষণ করতে থাকে, অপরদিকে পল্টন মোড় থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে লগি-বৈঠাধারীরা সমাবেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তৈরি করে মানবঢাল। আওয়ামী অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জুরাইনের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ১৫ জন নেতাকর্মী শহীদ এবং আহত হন সহস্রাধিক।

হামলা ছিল একতরফা ॥ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে বিকেলে সমাবেশের জন্য সকাল থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। এজন্য মঞ্চ তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাসহ জামায়াত ও শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী মঞ্চের পাশে ছিল। এ সময় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিল। তাই জামায়াত ও ১৪ দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অবস্থানের কোনো সুযোগ ছিল না। বিকেলে সমাবেশ হওয়ার কারণে সকালে মঞ্চ তৈরির সংশ্লিষ্ট লোক ছাড়া মিছিল করার মতো জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতাকর্মী ছিল না। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের নেতৃত্বে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হাতে বিশাল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে আসে।

একই সময় জিপিও এলাকায় অবস্থানরত ১৪ দলের শত শত কর্মী লগি-বৈঠা নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ১৪ দলের কর্মীরা প্রকাশ্যে গুলি করা ছাড়াও লগি-বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একের পর এক আঘাত হানতে থাকে নিরীহ জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের ওপর। মঞ্চ গুঁড়িয়ে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে বায়তুল মোকাররম উত্তর সড়কের দিকে।

এ হামলায় পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. এইচবিএম ইকবালও তার বাহিনী নিয়ে যোগ দেয়। সেদিন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইকবাল সেদিন পল্টন মোড় থেকে একটু এগিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) অফিসের সামনে তার অনুগত একদল যুবককে হাত নেড়ে সামনে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। ডা. ইকবাল হাত নেড়ে নির্দেশ দেওয়ার পরই এক যুবককে ঘেরাও করে লগি-বৈঠা বাহিনী নির্মমভাবে পিটাতে থাকে। চতুর্দিক থেকে আঘাতে আঘাতে সে পড়ে যায় রাস্তার কিনারে। সাপের মতো লগি-বৈঠা দিয়ে তাকে পিটানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার লাশের ওপর উঠে নারকীয় উল্লাস করে লগি-বৈঠা বাহিনী। বিকল্প পথে মঞ্চ দখলের জন্য বিজয়নগর, পল্টন মসজিদের গলি দিয়ে ঢুকে পড়ে লগি-বৈঠা বাহিনী।

যেখানেই দাড়ি-টুপিধারী মানুষ দেখেছে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা। শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে তারা এ সময় পেয়ে যায় পল্টন মোড়ের কাছে। ঘিরে ধরে তাকে। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে নরপিশাচরা। আঘাতে আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মুজাহিদ। তারপর ঐ পিশাচরা লগি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিজেদের জিঘাংসা চরিতার্থ করে। লালবাগের জসিমকে প্রীতম হোটেলের সামনে একাকী পেয়ে লগি-বৈঠা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তিনি বারবার উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। এ দৃশ্যই টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ, বোমা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর আহতদের সারি বেড়েই চলছিল। আহতদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী অফিসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গুরুতর আহতদের নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দফায় দফায় হামলা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় বারবার পুলিশকে অনুরোধ করা হলেও তারা রাস্তার পাশে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অনেক পুলিশকে সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর চত্বরের ভিতরে অবস্থান নিতে দেখা যায়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে ১৪ দলের লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা হামলা জোরদার করে পল্টন মোড় থেকে সিপিবির অফিসের সামনে চলে আসে। এ সময় তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কয়েকজন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা কোনো ভূমিকা পালন করেনি। একই সময় বিজয়নগর, পুরানা পল্টন মসজিদ গলিসহ আশপাশের এলাকা দিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে। তারপরও সমাবেশ সফল হলো।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে জামায়াতের সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় পল্টন মোড়ের দিকে না হলেও বিজয়নগরসহ অন্যান্য এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে লগি-বৈঠা বাহিনী। তবে সমাবেশ চলতে থাকে স্বাভাবিকভাবে। যথারীতি আছর নামাজের বিরতি হয়। বিরতির পর বক্তব্য রাখেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সুবহান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এরপরই বক্তব্য দিতে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।

মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হওয়ার ৪/৫ মিনিট পর ৪টা ৪৩ মিনিটে পল্টন মোড়ে উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় নির্মাণাধীন র‌্যাংগস টাওয়ারের (বাসস ভবনের পূর্ব পাশের বিল্ডিং) ছাদ থেকে সমাবেশ লক্ষ্য করে ১০/১২টি বোমা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় গুলি ছোড়ে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা। এ সময় পুলিশ নিজেদের নিরাপদ স্থানে হটিয়ে নেয়। আবার শুরু হয় ১৪ দলের মরণ কামড়ের মতো আক্রমণ। সমাবেশ ভ-ুল করে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। মাগরিবের আজানের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে যখন বিডিআর পল্টন মোড়ে অবস্থান নেয়। এর আগে সমাবেশের কোনো বক্তাই উত্তেজনাকর বক্তব্য দেননি, আক্রমণাত্মক কথাও বলেননি কেউ।

সেদিন আওয়ামী হায়েনারা জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি লাশটি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল গুম করার জন্য। কিন্তু পুলিশের সহায়তায় যখন লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো সেখানেও চলতে থাকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম বাহিনীর লাশ দখলের খেলা। তারা নকল বাবা-মা সাজিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল লাশটি। পরবর্তীতে এ কারসাজি ধরা পড়ায় নকল বাবা-মা সটকে পড়ে। এখানেই শেষ নয়। আওয়ামী লীগ হাবিবুর রহমানকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তার লাশের ছবি ব্যবহার করে পোস্টারও ছেপেছিল। লাশ নিয়ে রাজনীতি এর চেয়ে জঘন্য নমুনা আর কী হতে পারে?

পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা ॥

ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। পুলিশের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের আগ্নেয়াস্ত্র ও লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অসহায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের শত অনুরোধেও পুলিশ কোনো ভূমিকা রাখেনি। জামায়াতের অভিযোগ তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভূমিকাও ছিল রহস্যজনক। ২৮ অক্টোবরের আগ থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিল লগি-বৈঠা, কাস্তে বা অন্য কোনো অস্ত্রশস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ও বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আওয়ামী লীগের অফিসে লগি-বৈঠা সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করলেও পুলিশ এ ব্যাপারে ছিল একেবারেই নীরব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ 

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় সাফল্য দেখাল বাংলাদেশ, ভারতসহ মিত্র দেশগুলো। ইরান সরকার জানিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশ, ভারত, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও ইরাকের মতো বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়।’

এ ছাড়া রয়টার্সের খবরের বরাতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই পথে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত এই তালিকায় আছে। গত কয়েক দিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু দেশ, এমনকি আমার জানামতে বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। এই দেশগুলো আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং সমন্বয় বজায় রাখছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যতেও এই দেশগুলোর জন্য আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য পথ খোলা রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তেহরান। আরাগচি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই আমাদের শত্রু এবং তাদের সহযোগীদের জাহাজ এখান দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সংঘাত থামাতে চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব তারা পেলেও এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা তাদের নেই।

Continue Reading

top1

পদ্মায় বাসডুবিতে নিহত বেড়ে ২৭

Published

on

By

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। ডুবে যাওয়া বাস থেকে উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে নারী ১১ জন, শিশু ৮ জন ও পুরুষ ৮ জন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজবাড়ীর অতি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসের একটি অংশ দৃশ্যমান হয়। সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরো বাসটি জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে টেনে পানির ওপরে নিয়ে আসে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। এ সময় বাসের ভিতর মরদেহ ছাড়াও স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগ ও অন্যান্য ব্যাগ ভেসে উঠতে দেখা গেছে।

এদিকে রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নৌপরিহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা তিন কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের রিপোর্ট দেবেন। আর আমাদের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তারাও তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। এরপর আমরা জানতে পারব কী ঘটেছিল।

ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি দ্রুতগতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। একইসঙ্গে তাকে অবগত করতে বলেছেন।

এর আগে, বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। সব মিলিয়ে বাসটি কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন।

Continue Reading

top1

১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসের কুজকাওয়াজ

Published

on

By

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আয়োজিত হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

২০০৮ সালের পর এই প্রথম ২৬ মার্চের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী যুক্ত হলো। বিগত বছরগুলোতে বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) এই আয়োজন নিয়মিত থাকলেও স্বাধীনতা দিবসে তা বন্ধ ছিল। ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালেও এই আয়োজন দেখা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারের স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে সশস্ত্র বাহিনীর এই প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন। রমজানের শুরু থেকেই প্যারেড স্কয়ারে এর ব্যাপক প্রস্তুতি চলে এবং গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত মহড়া (রিহার্সাল) সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট দেখতে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে এমন দৃশ্য দেখা যায়। দর্শনার্থীদের বসার জন্য প্লাস্টিকের চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের অনেকের হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা।

Continue Reading

Trending