Connect with us

top3

আসছে ভোট, বাড়ছে শঙ্কা

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশজুড়ে নির্বাচনি সহিংসতার কারণে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দিন যত যাচ্ছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।

সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়া ২১ জানুয়ারি থেকে চারজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৪১৪ জন এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৫১টি।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে: ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক নজরুল ইসলাম, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিম, কিশোরগঞ্জ-২ কটিয়াদি উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. কামাল উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনে আজাহর।

রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি ছিনতাই ও সাধারণ অপরাধের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্জন ও ব্যস্ত সড়কেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি মনে করছেন। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসও নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের অনুরোধ জানিয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ১৪৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫৫টি সংঘর্ষ, ১১টি ভীতি প্রদর্শন ও আক্রমণাত্মক আচরণ, ৬টি প্রার্থীর ওপর হামলা, ২টি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, ১৭টি প্রচারণা কাজে বাধা, ৮টি নির্বাচনি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং ২৪টি অন্যান্য ঘটনা অন্তর্ভুক্ত।

পুলিশের আরও তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি আসনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনগুলো হলো পাবনা-১ ও ৩। এ ছাড়া খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা–৭, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫। পুলিশের তালিকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ এসব আসনের কয়েকটিতে এরই মধ্যে একাধিক দফায় নির্বাচনী সংঘাত হয়েছে।

‘পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, লালমনিরহাট-১, রংপুর-৩, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-২, বগুড়া-৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৪, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোনা-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-১০, নারায়ণগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৪, সুনামগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৩, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৬ এ আসন গুলো মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে।’

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে সহিংসতা আরও বেড়েছে। ৬৪টি নির্বাচনি সহিংসতার মধ্যে ৩৩টি সংঘর্ষ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে, ১৩টি বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব, ৯টি বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং বাকিগুলো অন্যান্য পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ঘটেছে।

আইন ও সালিশকেন্দ্র জানায়, জানুয়ারি মাসে কমপক্ষে ৭৫টি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত এবং ৬১৬ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি কমপক্ষে ৫১টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আর ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে সাতটি সহিংসতায় একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি ২৭ জন আহত হয়েছিলেন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৫১টি আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ হয়েছে। এসব আসন হলো– পঞ্চগড়-১, লালমনিরহাট-১, চুয়াডাঙ্গা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-৩, ভোলা-১, বরিশাল-৩, টাঙ্গাইল-৮, শেরপুর-৩, নেত্রকোনা-৩, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, কুমিল্লা-১১, যশোর-৫, কুমিল্লা-৯, বাগেরহাট-১, খুলনা-৩, শরীয়তপুর-১, সিরাজগঞ্জ-১, ঢাকা-১২, ভোলা-৩, চট্টগ্রাম-২, ফেনী-৩, ফেনী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, লক্ষ্মীপুর-৩, ময়মনসিংহ-১, বগুড়া-৫, কিশোরগঞ্জ-৪, চট্টগ্রাম-১১, বরিশাল-১, মাদারীপুর-৩, ভোলা-২, ময়মনসিংহ-৯, লক্ষ্মীপুর-২, টাঙ্গাইল-১, খুলনা-২, সিরাজগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, শরীয়পুর-২, নারায়ণগঞ্জ-২, ঢাকা-৩, ঝালকাঠি-১, চট্টগ্রাম-১, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-২, ঢাকা-৪ ও ভোলা-৪।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক সতর্ক। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডিওর্ন ক্যামেরাসহ পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, নির্বাচনী সহিংসতার মূল কারণ হলো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আধিপত্য বিস্তার এবং প্রার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধের অভাব। তিনি বলেন, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় সমানভাবে আইন প্রয়োগ না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

নৈতিক স্খলনের প্রমানিত, জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলাম বহিষ্কার

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাংগঠনিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে বলে দল জানিয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।

বৈঠক শেষে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের পর সংসদ সদস্য হিসেবে গাজী নজরুল ইসলামের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

Continue Reading

top3

মেস থেকে ববি শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

Published

on

By

মাফিদুল হাসান, ববি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকার অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস কক্ষ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।

সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল জানান, ‘লাশের সার্বিক অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। আত্মহত্যা কিনা, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

Continue Reading

top3

শাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতা ৪ সেমিস্টার বহিস্কার

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে ( সদ্য বহিষ্কৃত) ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে বহিষ্কৃত এ দুই ছাত্রনেতা আগামী দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবেনা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও পরিসংখ্যার বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় আজ জরুরী সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার ও আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাস অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” “একইসঙ্গে তাদের আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

Trending