Connect with us

top1

আসন ভাগাভাগি নিয়ে ঐক্যের পথে ৬ ইসলামি দল

Published

on

অলটাইম নিউজ ডেস্ক

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ইসলামি দলগুলো নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে এক হওয়ার চেষ্টা করছে। আলোচিত ছয়টি ইসলামি দল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ পাঁচ দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করছে। একই সঙ্গে একক ভোটব্যাংক তৈরিতে দলগুলো আসন সমঝোতা নিয়েও বেশ তৎপর। নির্বাচনে তাদের মধ্যে কীভাবে আসন ভাগাভাগি হবে তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে চলছে নানান আলোচনা।

ইসলামি দলগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, আসন ভাগাভাগি হবে আলোচনার মাধ্যমে। সবার চাহিদা ও এলাকার অবস্থান অনুযায়ী সমঝোতা করে প্রার্থী দেওয়া হবে। সমঝোতা হলেও আসন ছাড় দেওয়া কিংবা ত্যাগ ব্যতীত কোনো দলের সঙ্গে ঐক্য হবে না।

আসন ছাড় দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ৩ অক্টোবর খুলনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক অনুষ্ঠানে বলেন, সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে জামায়াতে ইসলামী আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১০০ আসন ছেড়ে দিতে পারে। 

যেসব আসনে জামায়াতের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ বা কখনো নির্বাচন করেনি, সেসব আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। নির্বাচনের এমন কিছু আসন থাকবে, যেসব আসনে আমরা নির্বাচন করতে পারবো না। যদিও আমরা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করেছি। কিন্তু আলটিমেট কথা—যাদের সঙ্গে সমঝোতা করবো, তাদের সঙ্গে একটা ঐক্য হয়ে যাবে।

‘এমনও হতে পারে, সমঝোতা করতে করতে শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রায় ১০০ আসনও ছেড়ে দিতে হতে পারে। কমপক্ষে ২০০ আসনে আমরা নির্বাচন করবো।’ যোগ করেন তিনি।

আসন নিয়ে যেভাবে ‘সমঝোতা’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরীর একজন নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইসলামি দলগুলো প্রথমবারের মতো এক বাক্সে ভোট আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেদিকে চিন্তা রেখেই নির্বাচনি সমঝোতা হবে। যেমন- বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান ভালো, সেখানে হয়তো জামায়াত প্রার্থী দেবে না। আবার পিরোজপুর, পাবনা, কক্সবাজার, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের অবস্থান ভালো, সেখানে অন্যান্য ইসলামী দল হয়তো তাদের প্রার্থী রাখবে না। আল্লামা মামুনুল হকের দল (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন- তাদেরও চাহিদা অনুযায়ী সমঝোতা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার নির্বাচনি ঐক্য প্রক্রিয়াধীন। সবার অগ্রাধিকার সমঝোতা। এটা সব দলের চাহিদা, অবস্থান ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সমঝোতার ক্ষেত্রে আমরা দেখবো যে কোন আসনে কোন দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত, জনশক্তি বেশি এবং প্রার্থীও সেই মানের; এভাবে এসব বিষয় বিবেচনা আনা হবে। অর্থাৎ প্রার্থীর মান নজরে রাখবো, সাংগঠনিক শক্তি কেমন তাও দেখবো। জনসমর্থন এবং সমাজে তার অবস্থান কেমন এটাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এসব বিষয় বিবেচনা করে সব দলের মাঝ থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামি দল যারা আমরা একযোগে চলছি, সবার ক্ষেত্রে একই কথা। যে দলের যেখানে প্রার্থীর অবস্থান ভালো, আমরা সেখানে তাকে বেশি গুরুত্ব দেবো। প্রায় সব দলের ত্যাগের মানসিকতা থাকতে হবে।’

মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, ‘তফসিলের আগে সব কাজ শেষ করতে চাই আমরা। তফসিল ঘোষণা হলেই নির্বাচনি সমঝোতা হবে।’

মাওলানা মামুনুল হকের দল বিএনপির দিকে ঝুঁকছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামুনুল হক স্পষ্ট করে বলেননি যে তিনি বিএনপির সঙ্গে যাবেন। আমরা যে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছি, সেখানে তার দলের প্রতিনিধি আছেন। আমরা বারবার বসছি। একসঙ্গে আন্দোলনও করছি।’

আসন সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আসন সমঝোতার বিষয় আলোচনায় আছে। সবার চাহিদা গুরুত্ব দিয়েই আসন নিয়ে সমঝোতা হবে। সবাই তাদের অগ্রাধিকার এলাকায় প্রার্থিতা নিশ্চিত করবে। তবে এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে সব দলের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর।’

প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবেন যারা

ইসলামি দলগুলোর নির্বাচনি সমঝোতায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের আমির কিংবা কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশেষ বিবেচনায় রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালউদ্দিন আহমদ।

জালালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘প্রতিটি আসনে তো দলের চেয়ে প্রার্থীদের অবস্থান কিংবা তার প্রতি এলাকার জনসমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছোট ছোট দলের ক্ষেত্রে আমির কিংবা হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা এলাকায় জনসমর্থন কিংবা পরিচিতিতে পিছিয়ে থাকলেও, প্রার্থী বিবেচনায় তাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। তা না হলে ঐক্য নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব দলের তো সমান সমর্থক নেই। ছোট ছোট দলের সমর্থক কম, এলাকায় তো তাদের অবস্থা ভালো নাও হতে পারে। সেজন্য এসব দলের আমির কিংবা কেন্দ্রীয় নেতাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’

যেসব ইসলামি দলের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখন পর্যন্ত আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

ইসলামি দলগুলোর সূত্র বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকেই ইসলামি দলগুলো একক ভোটব্যাংক তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে আরেক ইসলামী দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিএনপির সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আবার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করলেও মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার বিষয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যম গুঞ্জন ছড়িয়েছে বিএনপির সঙ্গে আমাদের জোট হচ্ছে, কিন্তু এগুলো বানোয়াট। সেজন্য ২৫ অক্টোবর আমরা দলের মজলিসে শুরা সদস্য ও দলের সাধারণ পরিষদ সদস্যরা মিটিংয়ে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।’

top1

যুদ্ধে ইরান বিজয়ী, ব্রিটিশ সাংবাদিক হার্স্টের বিশ্লেষণ

Published

on

By

ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড হার্স্ট লিখেছেন, ইরান বিশ্বক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছে। বশ্যতার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আরব বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাদের চোখে চোখ রেখে অন্য কিছু দাবি করতে পারবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে চলা যন্ত্রণাদায়ক আলোচনায় প্রতিটি দিনই নতুন মোড় নিচ্ছে।

যখনই কোনো একটি বিষয়ে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আসে, তখনই ট্রাম্প তার অপরাধের সহযোগী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং তারপর সেই আলোচনা থেকে সরে আসেন।

এমনটাই ঘটেছে দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে, যেগুলোতে ইরানি আলোচকেরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে মনে করেছিলেন। ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক হাসান আহমাদিয়ানের মতে, প্রস্তাবিত ৩০-৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির দুটি মূল শর্ত ছিল যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করা হবে।

কিন্তু পথটা যতই আঁকাবাঁকা হোক না কেন এবং এই চুক্তি ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প যদি তৃতীয়বারের মতো ইরানের ওপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবু এটা নির্মমভাবে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধে হেরে গেছে। এটা গত ২৫ বছরে তাদের ষষ্ঠ পরাজয়।

ইরানের হাতেই সব তাস রয়েছে, প্রধানত হরমুজ প্রণালি। কিন্তু সেই সঙ্গে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিরোধব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আরও কিছু তাস ইরান এখনো খেলেনি, যেমন—লোহিতসাগরের মোহনায় বাব এল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। ট্রাম্পের হাতে এর কোনোটিই নেই।

বর্তমান শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা দৃশ্যমান যখন তার সামরিক শক্তি অবিসংবাদিত এবং এর ব্যবহারে তার একচেটিয়া অধিকার রয়েছে।

ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প শুধু আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তার পূর্বসূরিদের ভুলেরই পুনরাবৃত্তি করেননি; এর সঙ্গে তিনি নিজেরও কয়েকটি ভুল যোগ করেছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ যেমন সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, তেমনি ট্রাম্পও মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরান আক্রমণ করেছেন।

কিন্তু অন্তত বুশের সন্দেহজনক ডসিয়ারটি তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থাই সরবরাহ করেছিল। বিপরীতে ট্রাম্পের মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্য মোসাদ তৈরি করেছে এবং মার্কিন কমান্ডার-ইন-চিফ তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থার সেরা পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে তা পুরোপুরি বিশ্বাস করেছিলেন।

নেতানিয়াহু ও মোসাদের পরিচালক ডেভিড বারনিয়া ট্রাম্পকে বোঝান যে, জানুয়ারির অভ্যুত্থানের পর তেহরানের শাসনব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর তা বড়জোর কয়েক দিন টিকবে।

নেতানিয়াহুর চেয়ে জোরালোভাবে আর কেউ বলেনি যে, এর জন্য শুধু একটি শেষ ধাক্কার প্রয়োজন। এটা ঘটলে তার জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছিল। যুদ্ধ যেহেতু প্রায় শেষ, তাই এখন তার চেয়ে বড় পরাজিত আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

কিন্তু এই যুদ্ধ যখন অবশেষে থামবে, তখন এ দজনের জন্যই চূড়ান্ত হিসাবনিকাশ নিশ্চিতভাবেই আসবে।

ক্ষমতার ভারসাম্য

তারা শুধু খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আঞ্চলিক পরিকল্পনার প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের হুমকি যথেষ্ট গুরুতর।

তিনটি মার্কিন প্রশাসনের নীতিই ছিল—ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ, জো বাইডেন এবং এখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ—সুন্নি আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উৎসাহিত করা।

প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়েছে—সুন্নি-ইসরাইল জোট, আরব ন্যাটো, আব্রাহাম চুক্তি—কিন্তু এর রূপরেখা স্পষ্ট। এটি কোনোভাবেই সমতার অংশীদারিত্ব হবে না। ইসরাইলকে নতুন আঞ্চলিক আধিপত্যকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি হবে এমন একটি কেন্দ্র যার মাধ্যমে অস্ত্র, উচ্চ প্রযুক্তি, তথ্য এবং বাণিজ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হবে।

এই জোটের একমাত্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ। একমাত্র তিনিই দুটি ‘ছোট স্পার্টা’র একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিতসাগরের চারপাশে কৌশলগতভাবে ছড়িয়ে থাকা বিমানক্ষেত্র ও বন্দরের একটি পারস্পরিক লাভজনক সাম্রাজ্য গঠনের সুবিধা দেখেছিলেন।

ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ফলে হয় শাহের পুত্র রেজা পাহলভীর মতো একজন দুর্বল লোককে ক্ষমতায় বসানো হতো অথবা গৃহযুদ্ধ শুরু হতো কিংবা ইরান খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যেত। ইসরাইল এসবের তোয়াক্কা করেনি। ইরাক এবং এখন সিরিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড হওয়া ও স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়াটাই ইসরাইলের প্রতিষ্ঠিত নীতি।

সৌভাগ্যবশত, এটি এমন একটি কল্পনা, যা এখন কেবল ট্রাম্পের মাথাতেই বিদ্যমান। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে।

প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে

শুধু দেখুন কারা আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে: পাকিস্তান ও কাতার। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান বরাবরই এই অঞ্চলের প্রান্তে ছিল। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতোই তারাও সহানুভূতি দেখিয়েছিল, শুধু এটুকুই।

মূল পরিবর্তনটি আসে ইরান যুদ্ধের চরম মুহূর্তে, যখন প্রধান আরব শক্তিগুলো—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত—দেখল যে মার্কিন সামরিক ছাতার জন্য তারা এত চড়া মূল্য দিলেও তা তাদের রক্ষা করতে পারছে না। ফলে তারা বিশাল সেনাবাহিনী এবং প্রতিষ্ঠিত বিমান শক্তি সম্পন্ন বাইরের শক্তিগুলোর দিকে তাকায়। তা হলো তুরস্ক ও পাকিস্তান।

হঠাৎ করেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির একজন প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হন।

পাকিস্তান এমন আরেকটি দেশ, যাকে একজন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তালেবানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধে সহযোগিতা না করলে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এটি একটি পারমাণবিক শক্তি এবং এর একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে। চীনের সঙ্গে এর একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক আছে। ফলে দেশটির কাছে চীনের তৈরি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ভারতের অত্যাধুনিক ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, উপসাগরীয় যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত আবির্ভাবে মোহাম্মদ বিন জায়েদের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল তাদের দেওয়া অর্থ ফেরত চাওয়া।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। সৌদি আরব আবুধাবিকে অর্থ পরিশোধের জন্য পাকিস্তানকে তহবিল সরবরাহ করে।

প্রধান আলোচক হিসেবে কাতারের অন্তর্ভুক্তিতে তেমন কোনো বিস্ময় ছিল না। ইরানের সঙ্গে আসন্ন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প অন্তত তিনজন কাতারি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

উদীয়মান জোট

কিন্তু এখন দুটি স্বতন্ত্র জোটের উদ্ভব ঘটেছে। যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে গঠিত একটি জোটে রয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার এবং ওমান। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েত পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে গাজায় ইসরাইলের পরিকল্পনা নিয়ে মিশরের যথেষ্ট ভয় রয়েছে।

এই রাষ্ট্রগুলোর অধিকাংশই ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য, কিন্তু ইরানের বিজয়ের পর এর কোনো অর্থই থাকে না। তারা সবাই গাজার অর্ধেক, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পশ্চিম তীরের দুই-তৃতীয়াংশ স্থায়ীভাবে দখল করার ইসরাইলি প্রচেষ্টার বিরোধী।

এই উদীয়মান জোটের আরেকটি লক্ষণ ছিল তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিবৃতি, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সোমালিল্যান্ড অঞ্চলে ইসরাইলে দূতাবাস খোলার নিন্দা জানানো হয়। এতে অনুপস্থিত ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী সামরিক ও কূটনৈতিক জোটের উত্থান ঠিক সেটাই, যা ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চায়নি। এই জোট এখন শক্তিশালী এবং ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপিত হলে আবুধাবি নিজেকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের বন্দুকের নলের সামনে দেখতে পাবে, অন্তত রূপক অর্থে। এগুলো হলো প্রতিবেশী ইরান এবং সৌদি আরব।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে সৌদি আরবকে টেনে আনার আমিরাতের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। রিয়াদ কমবেশি তার অবস্থানেই অটল থেকেছে এবং ইরানের সাথে তার সম্পর্ক ও ইয়েমেনের হুথিদের সাথে যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

একটি বিষয় নিশ্চিত। যদিও সুন্নি দেশগুলোর এই উদীয়মান জোট নিজেদের ইসরেইলবিরোধী হিসেবে পরিচয় দেবে না, তবে এর অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই ইহুদিবাদী জন্য সুবিধাজনক নয়।

প্রতিরোধকে শক্তিশালী করা

পৃথিবীতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি এই অঞ্চলের অন্য সকল তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশের উপর তার প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও একবার প্রতিষ্ঠা করেছে, এবং ওমানের সাথে মিলে হরমুজের উপর তার কার্যত নিয়ন্ত্রণ আর কখনও ছেড়ে দেবে না।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, পাকিস্তান ও চীনের উদ্দেশে হরমুজ দিয়ে ট্যাংকারগুলোর যাতায়াত কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা কলের মতো হরমুজকে যখন-তখন চালু বা বন্ধ করতে পারে।

ইরানের এই বিজয় অঞ্চলজুড়ে প্রতিরোধ আন্দোলনকেও শক্তিশালী করেছে। ফাঁদ পাতা পেজার এবং ধারাবাহিক হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব একাধিকবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর তাদের একটি যুদ্ধশক্তি হিসেবে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতি-গোয়েন্দা কার্যক্রমের প্রাথমিক পাঠ শেখা এক নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের (হিজবুল্লাহ যখন বুঝতে পারে যে তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন থেকে কেউ ফোন ধরে না) এবং এফপিভি ড্রোন নামক একটি নতুন অস্ত্রের সাহায্যে তারা লেবাননকে লেবানন সরকারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে রক্ষা করছে। অথচ লেবানন সরকার বর্তমানে ইসরাইলের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে!

ইরান বিশ্বক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামনে ট্রাম্পকে নতজানু হতে দেখাটা ছিল বেদনাদায়ক, যেখানে চীনা নেতা এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েই তিনি তাইওয়ানকে স্পর্শ না করার সুস্পষ্ট হুমকি দেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা যথার্থই পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করার পালা, যেখানে চীন স্থিতিশীলতার কণ্ঠস্বর এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে, এমনকি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। গত ২৫ বছরে চীনই একমাত্র বৃহৎ শক্তি যা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি।

বশ্যতার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আরব বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বার্তাটি হলো- যথেষ্ট দৃঢ়সংকল্প এবং যথেষ্ট উচ্চ সহনশীলতা থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যম শক্তিগুলো মার্কিন ও ইসরাইলি ঔপনিবেশিক আধিপত্যকে প্রতিহত করতে এবং জয়ী হতে পারে।

ঐতিহাসিক পরাজয়

একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কী ঘটবে?

আমি মনে করি, ইসরাইল নতুন করে লেবানন ও গাজায় বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করবে। নেতানিয়াহু লিটানি নদীর দক্ষিণে প্রতিটি বাড়ি, গ্রাম ও শহর ধ্বংস করতে চাইবেন, যাতে ইরানে তার বিপর্যয়কে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে আড়াল করা যায়। তিনি হামাসের নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে পুরো গাজা দখল করার কথাও বিবেচনা করতে পারেন।

কিন্তু তিনি নিজের রাজনৈতিক কবর নিজেই খুঁড়বেন, কারণ ইসরেইলের পক্ষে তার কোনো উদ্দেশ্য অর্জন করে এই ধারাবাহিক যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাদের চোখে চোখ রেখে অন্য কিছু দাবি করতে পারবেন না।

গাজায় ইসরাইল তার গণহত্যায় যেমন আমেরিকান ইহুদিদের একটি পুরো প্রজন্মের সমর্থন হারিয়েছে, তেমনি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ রিপাবলিকান ট্রাম্প সমর্থকদের বয়স্ক প্রজন্মের ওপর একই রকম প্রভাব ফেলেছে। ইসরাইল যে যুক্তরাষ্ট্রকে “দখল” করে রেখেছে, এই ধারণাটি দ্রুতগতিতে বাড়ছে রিপাবলিকান খ্রিস্টান মহলে।

আর আমি যদি আবুধাবির শাসক হতাম, তবে আমি নিজেকে তেহরানে সরকার পরিবর্তনের কথা জিজ্ঞেস করতাম না। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করতাম, আমি আর কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারব?

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড হার্স্টের নিবন্ধ (সংক্ষেপিত)

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Continue Reading

top1

কঠিন সময়ে মুসলিম উম্মাহকে ধৈর্য ধারণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান 

Published

on

By

কঠিন সময়ে মুসলিম উম্মাহকে ধৈর্য ধারণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকা আহ্বান জানিয়ে মসজিদে নববীর ইমাম শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি বলেন, আমাদের পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে হজের খুতবায় তিনি এ আহ্বান জানান।

খুতবায় হজের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক তাৎপর্য তুলে ধরে শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান বলেন, হজ হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার এক অনন্য প্রতিফলন।

জনসমুদ্রের উদ্দেশে ইমাম বলেন, ‘হে মানুষ, আল্লাহকে ভয় করো, কারণ তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই বান্দা পরকালে মুক্তি লাভ করতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, পরকালের শ্রেষ্ঠ প্রস্তুতি হলো একত্ববাদ (তৌহিদ) এবং শুধু আল্লাহর ইবাদত করা। সেই সঙ্গে তিনি হাজিদের সততা বজায় রাখা এবং মিথ্যাচার ও গিবত থেকে দূরে থাকার নসিহত করেন।

খুতবা শেষে মুসলিম উম্মাহর সার্বিক অবস্থার উন্নতি এবং হাজিদের ইবাদত কবুল করার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শেখ হুদাইফি দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ, হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিন এবং তাদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফেরার তৌফিক দান করুন।’

খুতবা সমাপ্ত হওয়ার পর হাজিরা মসজিদে নামিরায় একত্রে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। এরপর হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে তারা মিনার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

উল্লেখ্য, মসজিদে নামিরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখানেই বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

Continue Reading

top1

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র আর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ পাবে না: মোজতবা খামেনি

Published

on

By

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র আর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ পাবে না। তিনি বলেন, এসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য আর ‘ঢাল’ হিসেবে আর কাজ করবে না।

মঙ্গলবার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই মন্তব্য করেন খামেনি। তিনি এমন সময়ে এ মন্তব্য করলেন, যখন ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর গত মার্চ মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা। এরপর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি।

সূত্র: আলজাজিরা

Continue Reading

Trending