Connect with us

আন্তর্জাতিক

ইন্ডিয়া জোটে ‘রিসেট বাটন’ চাপলেন মমতা, কার্যকর হবে কতটা?

Published

on

এনডিটিভি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পর আবারও ইন্ডিয়া জোটের ঐক্য ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ডাকায় বিজেপিবিরোধী জোটটির ভেতরের টানাপড়েন, অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তিত সমীকরণ সামনে এসেছে নতুন করে।

পশ্চিমবঙ্গে বড় পরাজয়ের পর নতুন সমীকরণের চেষ্টা

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আহ্বান করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গঠিত বিজেপিবিরোধী এই জোট রাজনৈতিক সমন্বয় ও কার্যকারিতা নিয়ে সংকটে রয়েছে শুরু থেকেই।

এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। দলটি মাত্র ৮০টি আসন জিততে সক্ষম হয়, যেখানে আগের নির্বাচনে তারা ২১৫টি আসন পেয়েছিল। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ভবানীপুর আসনে তার সাবেক সহযোগী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান।

এই ফলাফল ছিল বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। প্রায় ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান প্রতিহত করে আসছিলেন এবং বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বারবার পরাজিত করেছিলেন গেরুয়া শিবিরকে।

পরাজয়ের পর এখন তিনি বিরোধী শক্তিকে পুনর্গঠনের জন্য কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিকদের সমর্থন চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বৈঠক সম্পর্কে তাদের কাছে সীমিত তথ্য রয়েছে, তবে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জুনে।

কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক এখনো অস্বস্তিকর

কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে নতুন করে সহযোগিতা শুরু হলেও তা হবে জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে তৃণমূলের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল গান্ধী।

তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান এবং অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ‘ভোট চুরির’ কারণে প্রায় ১০০টি আসন হারিয়েছে তৃণমূল।

কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করছে এবং লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বিরোধীদের ভোটভিত্তিকে।

রাহুল গান্ধীর সমর্থনের বার্তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হলেও এখনো সহযোগিতা ও দ্বন্দ্বের মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক। ইন্ডিয়া জোটের সামগ্রিক অস্থিরতাকেই তুলে ধরে এটি।

ডিএমকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে নতুন জটিলতা

টানাপড়েনের মধ্যেও নারীদের সংরক্ষণ বিল নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের সর্বশেষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিল তৃণমূল। কংগ্রেস বরাবরই বলেছে, জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী ঐক্যকে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে রাখতে হবে আলাদা।

তবে তামিলনাড়ু থেকে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে ডিএমকে সংসদে কংগ্রেস থেকে আলাদা বসার ব্যবস্থা চেয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে দুই মিত্র দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং ইন্ডিয়া জোটে ডিএমকের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা।

ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

অভ্যন্তরীণ বিভাজন থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ আঞ্চলিক দল এখনো বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ গড়তে কংগ্রেসকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। সংসদে বিরোধী ঐক্য ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক আহ্বানও।

তবে জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে শেষ পর্যন্ত মমতার উদ্যোগকে পুরোপুরি সমর্থন করবে কি না, কিংবা জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আদৌ হবে কি না— তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারে ইরান, আশঙ্কা মার্কিন গোয়েন্দাদের

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে ইরান এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। দেশটির নেতৃত্ব বড় পরিসরের সংঘাতে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে ইরান আগের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে মার্কিন চাপের সীমাবদ্ধতা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কাজে লাগানোর সুযোগ সম্পর্কেও দেশটির নেতৃত্বের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্ব সংঘাত আরও বড় পরিসরে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বন্ধে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। এমনকি আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কৌশল ইরান বিবেচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান আরও উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানি হ্যাকাররা নতুন করে সংগঠিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন জনগণের সমর্থন দুর্বল করা।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

Continue Reading

top2

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহমূল্য ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বেড়ে ৯৫ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩২ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৮৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৭ শতাংশের বেশি এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে ২০ জুলাইয়ের পর কোনো একক সপ্তাহে তেলের বাজারে এত বড় সাপ্তাহিক উত্থান দেখা যায়নি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কয়েক দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।

সূত্র: অয়েল প্রাইস ডটকম

Continue Reading

top1

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে অন্য দেশে সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

বেন গাভিরের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরেই গাজা থেকে প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে অঞ্চলটির বাকি বাসিন্দাদেরও স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ গাজাবাসীদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

তার দল ‘জুইশ পাওয়ার’ আগামী সরকার গঠিত হলে ‘অভিবাসনবিষয়ক নতুন মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানাবে বলেও জানান বেন গাভির। তার দাবি, প্রায় দেড় বছর গবেষণার পর ২০ পৃষ্ঠার পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। নথিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গাজা উপত্যকা থেকে স্বেচ্ছায় অভিবাসনের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’।

তবে ‘স্বেচ্ছায়’ অভিবাসনের কথা বলা হলেও পরিকল্পনাটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা নিষিদ্ধ।

বেন গাভিরের বক্তব্যের কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তার দাবি, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে অঞ্চলটি পুনর্গঠনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে অক্টোবরের ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে বেন গাভিরের এমন বক্তব্যকে চরম ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী ভোটারদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি গাজার একটি সামরিক অবস্থান পরিদর্শন করে জানান, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে তারা সরে যাবে না। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Continue Reading

Trending