Connect with us

top1

ইরানে বিক্ষোভ: পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি ওয়াশিংটন ও তেহরানের

Published

on

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এই বিক্ষোভ ঘিরে দেশটির সরকারের সঙ্গে আবারও মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রবিবার তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে তারা ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা শক্তিশালী হামলা চালাবে।

চলমান বিক্ষোভ দমনে ইরান সহিংস হলে সামরিক হামলার মাধ্যমে সেটির জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ার করেছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।  

গত শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ফোনে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে বলে এক খবরে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো হস্তক্ষেপের বিষয়ে ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

ভুল না করার হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ রবিবার সংসদ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তারা যেন কোনো ধরনের “ভুল হিসাব-নিকাশ” না করে। রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাবেক এই কমান্ডার হুঁশিয়ার করে বলেন, “যদি ইরানে কোনো হামলা হয়, তবে দখলকৃত অঞ্চল (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।”

বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকির জবাবেই এই কড়া বার্তা দিল ইরান।

অন্যদিকে ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ইরান এখন স্বাধীনতার মুখ দেখছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের “সাহায্য করতে প্রস্তুত”।

নিহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ

ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। ইউএসভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ’র মতে, নিহতের সংখ্যা ১১৬ জন; তবে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৭ জন সদস্যও রয়েছেন। অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক সংস্থাগুলো বলছে, অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন, যার মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে।

তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সারা দেশে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। ইসফাহান ও কেরমানশাহ শহরে নিহত পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীদের জানাজা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিক্ষোভের খবর ছড়ানো আটকাতে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। নেটব্লকস-এর তথ্যমতে, বর্তমানে সংযোগ স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র ১ শতাংশ রয়েছে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে, যা পরে ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। তেহরানের পুনাকসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে থালা-বাসন বা ধাতব বস্তু পিটিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনা করেছেন। নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান যদি ইসরায়েলকে আক্রমণ করে তবে তার ফল হবে ভয়াবহ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে একটি “ধৈর্যের খেলা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, একদিকে বিক্ষোভকারীরা সরকারের ওপর চাপ বজায় রেখে কর্মকর্তাদের পক্ষত্যাগের অপেক্ষা করছে, অন্যদিকে প্রশাসন ভয় দেখিয়ে রাস্তা খালি করার চেষ্টা করছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ না পায়।

ইরানের পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান বলেছেন, “দাঙ্গাবাজদের” দমনে নিরাপত্তা বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ইরানেও যেসব নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বহুমুখী কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে প্রধান হলো তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা, যার মাধ্যমে ইরানের প্রধান আয় বন্ধের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

২০২৫-২৬ সালের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির আওতায় জাহাজ চলাচল, ধাতু শিল্প ও সামরিক সরঞ্জাম গবেষণার ওপরও কড়াকড়ি রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপরও ভ্রমণ ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিষেধাজ্ঞার কী প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার ও ওষুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির প্রধান আয়ের উৎস তেল রপ্তানিতে ধস নামায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা—সুইফট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। কাঁচামাল ও প্রযুক্তির অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। এই সংকট কাটাতে ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্যের চেষ্টা করলেও তা অর্থনীতির মূল ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট হচ্ছে না।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ

Published

on

By

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Continue Reading

top1

ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

Published

on

By

পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে টানা দুই টেস্ট জিতে নতুন ইতিহাস লিখেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের লাল বলের সেই জয়ের ছন্দটা এবার লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ধরে রাখল ঘরের মাঠেও। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে অতিথি পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এতে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলার দামাল ছেলেরা। ঘরের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয় পেল দেশের ক্রিকেটাররা। এর আগে নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য এসেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছর খুলনাতে পাকিস্তানে সঙ্গে প্রথম টেস্ট ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।এই ব্যাট-বলের দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দাপুটে এ জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ফাইফারের দেখা পেয়েছেন নাহিদ রানা। তার ফাইফারের ওপর ভর করে মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। তাতে ১০৪ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যাটিংয়ের মাঝে ভালো করলেও শুরুতে আর শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেননি পাকিস্তান। শেষের ৭ উইকেট সফরকারীরা হারিয়েছেন মাত্র ৪৪ রানের ব্যবধানে। যে কারণে লড়াই থেকে ছিটকে যায় শান মাসুদের দল। অথচ ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৬ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন আব্দুল্লাহ ফজল। আর ২৬ রান আসে সালমান আগার ব্যাট থেকে। দলীয় স্কোরে সমান ১৫ রান করে যোগ করেন আজান আওয়াইস, সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। নাহিদ ৪০ রান দিয়ে শিকার করে ৫ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।

তার আগে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে আজ পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমকে হারালেও লিড বাড়াতে কোনো সমস্যা হয়নি। ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যক্তিগত ১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা মুশফিক ফিরে যান ৩৭ বলে ২২ রান করেই। শাহিন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারে ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন লিটন দাস। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ২৮ বলে ১১ রান।


রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোরের শিকার হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ৫৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে সেঞ্চুরির আভাসই দিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক। কিন্তু জাদুকরী তিন অঙ্ক মিস করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল তার সামনে। তবে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান তিনি। শান্তকে শতক থেকে বঞ্চিত করেন নোমান আলী।

ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। নোমান আলীর বলে সালমান আগার হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ২৭ বলে ২৪ রান। তাসকিন আহমেদ অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে করছিলেন ব্যাট। ৬ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। হাসান আলীর বলে তার বিদায়ের পর ইনিংস ঘোষণা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৬৭। আর তাতে পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১ম ইনিংসে ৪১৩/১০ ও ২য় ইনিংসে ২৪০/৯ ডিক্লে. (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।
পাকিস্তান: ১ম ইনিংসে ৩৮৬/১০ ও ২য় ইনিংসে ১৬৩/১০ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)।
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।
সিরিজ: ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।

Continue Reading

top1

বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ছবি ভাইরাল

Published

on

By

সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে।

সবুজ মিয়া জামালপুর সদরের রানাগাছা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে সবুজ মিয়াকে নিচু হয়ে ইয়াবা সেবন করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক বিএনপি নেতা বলেন, সে আগে থেকেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত। ২৩ সালে ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার আগেই সে মাদক সেবন করত।

এ বিষয়ে সবুজ মিয়া ছবিটি তার স্বীকার করে বলেন, ছবিটি কোনো এক ঈদের পরের দিন তোলা হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের পরের দিন একটু মজা করতে গিয়ে সবাই মিলে মাল খেয়েছি, বেড়ার ফাঁক দিয়ে কেউ ছবিটা তুলেছিল। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পর এই ছবি প্রথমবার পোস্ট করা হয়েছিল একটি আইডি থেকে। দুই বছর পর কয়েক দিন ধরে নতুন করে ছবিটি পোস্ট করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি নেশা করি না, আগে মাঝেমধ্যে টুকটাক করলেও এখন করি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিউর রহমান সফি বলেন, মাদকের সঙ্গে যুক্ত কেউ বিএনপির রাজনীতিতে থাকতে পারে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Continue Reading

Trending