Connect with us

top1

ইরানে বিক্ষোভ: পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি ওয়াশিংটন ও তেহরানের

Published

on

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এই বিক্ষোভ ঘিরে দেশটির সরকারের সঙ্গে আবারও মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রবিবার তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে তারা ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা শক্তিশালী হামলা চালাবে।

চলমান বিক্ষোভ দমনে ইরান সহিংস হলে সামরিক হামলার মাধ্যমে সেটির জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ার করেছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।  

গত শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ফোনে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে বলে এক খবরে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো হস্তক্ষেপের বিষয়ে ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

ভুল না করার হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ রবিবার সংসদ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তারা যেন কোনো ধরনের “ভুল হিসাব-নিকাশ” না করে। রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাবেক এই কমান্ডার হুঁশিয়ার করে বলেন, “যদি ইরানে কোনো হামলা হয়, তবে দখলকৃত অঞ্চল (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।”

বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকির জবাবেই এই কড়া বার্তা দিল ইরান।

অন্যদিকে ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ইরান এখন স্বাধীনতার মুখ দেখছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের “সাহায্য করতে প্রস্তুত”।

নিহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ

ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। ইউএসভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ’র মতে, নিহতের সংখ্যা ১১৬ জন; তবে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৭ জন সদস্যও রয়েছেন। অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক সংস্থাগুলো বলছে, অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন, যার মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে।

তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সারা দেশে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। ইসফাহান ও কেরমানশাহ শহরে নিহত পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীদের জানাজা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিক্ষোভের খবর ছড়ানো আটকাতে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। নেটব্লকস-এর তথ্যমতে, বর্তমানে সংযোগ স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র ১ শতাংশ রয়েছে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে, যা পরে ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। তেহরানের পুনাকসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে থালা-বাসন বা ধাতব বস্তু পিটিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনা করেছেন। নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান যদি ইসরায়েলকে আক্রমণ করে তবে তার ফল হবে ভয়াবহ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে একটি “ধৈর্যের খেলা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, একদিকে বিক্ষোভকারীরা সরকারের ওপর চাপ বজায় রেখে কর্মকর্তাদের পক্ষত্যাগের অপেক্ষা করছে, অন্যদিকে প্রশাসন ভয় দেখিয়ে রাস্তা খালি করার চেষ্টা করছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ না পায়।

ইরানের পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান বলেছেন, “দাঙ্গাবাজদের” দমনে নিরাপত্তা বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ইরানেও যেসব নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বহুমুখী কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে প্রধান হলো তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা, যার মাধ্যমে ইরানের প্রধান আয় বন্ধের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

২০২৫-২৬ সালের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির আওতায় জাহাজ চলাচল, ধাতু শিল্প ও সামরিক সরঞ্জাম গবেষণার ওপরও কড়াকড়ি রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপরও ভ্রমণ ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিষেধাজ্ঞার কী প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার ও ওষুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির প্রধান আয়ের উৎস তেল রপ্তানিতে ধস নামায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা—সুইফট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। কাঁচামাল ও প্রযুক্তির অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। এই সংকট কাটাতে ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্যের চেষ্টা করলেও তা অর্থনীতির মূল ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট হচ্ছে না।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

চলন্ত বাসে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগ দিল বিএসসিএল

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির ‘মহিলা বাস সার্ভিসে’ পরীক্ষামূলকভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করেছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ উদ্বোধনের সময় একটি বাসে স্থাপিত এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ প্রদর্শন করা হয়।

বিএসসিএলের উদ্যোগে বাসটিতে Starlink-এর হাই পারফরম্যান্স ডিভাইস স্থাপন করে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

চলন্ত অবস্থায় উচ্চগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশের গণপরিবহনে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসসিএল।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য উন্নত ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাসসহ বিভিন্ন চলমান যানবাহনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসসিএল বলছে, দেশের গণপরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা কাজ করছে।

Continue Reading

top1

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Published

on

By

সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের অন্যতম বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর নতুন জ্বালানি দিতে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এ সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ জন্য পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Continue Reading

top1

বরিশাল/ দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা

Published

on

By

সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন অন্তত ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। ফলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।

বরিশাল নগরে সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ইজিবাইকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬০০ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এই সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের বাইরে কয়েক গুণ বেশি যান চলায় এর কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

পাটের বাজারে বড় ধাক্কা, ১৫ দিনেই মণপ্রতি কমল হাজার টাকা

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে হচ্ছে আর কতটা অবৈধ বা আবাসিক সংযোগে—তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওজোপাডিকোর দুই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা ১২৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার থাকার কথা বললেও কর্মচারীদের দাবি, প্রায় ২০০ গ্যারেজে মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। গভীর রাতে মূল লাইনে হুক লাগিয়ে বা আবাসিক মিটারে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নগরের কাউনিয়া, নবগ্রাম রোড, ভাটিখানা, বটতলা, কেডিসি কলোনি, স্টেডিয়াম কলোনি, জিয়া সড়ক, নতুন বাজার, রূপাতলী, ধান গবেষণা রোড, চাঁদমারী, পলাশপুর ও আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় এসব গ্যারেজে রিকশা ও ইজিবাইক রাখা হয়। রাত গভীর হলে শুরু হয় ব্যাটারি চার্জ।

কয়েকটি গ্যারেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক মিটারে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার কথাও গ্যারেজ মালিকেরা স্বীকার করেছেন।

স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে, যাতে লাইন কেটে না দেয়। সামান্য এই ঘুষের মাধ্যমে আমরা আবাসিক মিটার ব্যবহার করি। কম খরচে বেশি যানবাহন চার্জ দিতে পারি।

বিসিক এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, বেশি ব্যবসার জন্য রাত ১টার পর মেইন লাইনের সঙ্গে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকে মাঝে মাঝে কিছু টাকা দিই। গ্যারেজে ১৮ থেকে ২০টি ব্যাটারিচালিত যান আছে। অনেক খরচ বেঁচে যায়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) দাবি, বরিশাল বিভাগে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে গত ছয় মাসে ৬৮১টি মামলা করেছেন তারা। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক মিটার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় আদায় করা হয়েছে ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

ওজোপাডিকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৮০টি গ্যারেজ কাম চার্জিং স্টেশনে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। আবাসিক মিটার ব্যবহার করে কেউ ব্যাটারি চার্জ করছে—এমন তথ্য পেলে অভিযান চালানো হয়।

ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, আমার আওতাধীন এলাকায় ৪৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। অনিয়ম হলে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

বরিশাল নগরের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘাটতির মধ্যে রাতভর হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এর প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, বরিশালের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. গোলাম সালেহ আহমেদ ছালেমের মতে, ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত যান চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। এত বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকরা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পেতে চাইলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোতে চার্জ করতে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। আসলেই এর কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে যদি ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোর সোলার সিস্টেম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ নিয়ে সকল সমস্যার ৯০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে।

সু শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নগরের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই এগুলো একদিনে বন্ধ করার বাস্তবতা নেই। কিন্তু যানগুলোর সংখ্যা, নিবন্ধন, রুট, চার্জিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরই। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনা জরুরি। সিটি করপোরেশন এ যানগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিদ্যুৎ সংকটের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

ওজোপাডিকো (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোথাও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ করতে কেউ অবৈধ পথ বেছে নেয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিদ্যুৎ সংকটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নগরীতে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে আরও ২ হাজার ৬০০টি ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব যান পুনঃনিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। অনুমোদনের বাইরে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক সীমিত পর্যায়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Continue Reading

Trending