Connect with us

top1

ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে কত খরচ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের?

Published

on

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহু পুরোনো বিরোধ গত শনিবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। সেদিন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দু’পক্ষের এ পুরোনো শত্রুতা নতুন করে প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

ইরান পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে সামরিক অভিযান চার/পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে।

তার এমন ইঙ্গিতে প্রশ্ন উঠেছে, মধ্যপ্রাচ্যে এ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে কিনা যুক্তরাষ্ট্র। আর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হতে পারে?

অপারেশন এপিক ফিউরি:

২৮ ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ৮ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের ভূখণ্ডে একটি ‘বড় অভিযান’ শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী।

পরে পেন্টাগন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট দিয়ে জানায়, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়াই এ সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

এরপর শনিবার অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানের ১,২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

আরেক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ১১টি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের খবর জানায়।

এ অভিযানে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। সাগর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে। সমন্বিত হামলা চালানো হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে। পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ওপরও হামলা হচ্ছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহতদের তালিকায় সবার ওপরে আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রথমেই তেহরানে নিজ কার্যালয় কম্পাউন্ডে নিহত হন তিনি।

এরপরই সোমবার ট্রাম্প বলেন, যত দিন প্রয়োজন যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অভিযান কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।

২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কত খরচ করেছে:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলকে প্রায় ২,১৭০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে খরচের এ হিসাব দেওয়া হয়।

ওই দিন গাজায় যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল।‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলকে সামরিক হামলা চালানোর জন্য সহায়তা দিতে গিয়ে মার্কিন করদাতাদের ৯৬৫ কোটি থেকে ১,২০৭ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩,১৩৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩,৩৭৭ কোটি পৌঁছেছে এবং খরচ হয়েই যাচ্ছে।

ইরান যুদ্ধে কী কী অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে:

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালাতে আকাশ, সাগর, মাটি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিলিয়ে ২০টির বেশি অস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানে হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক অভিযান পরিচালক কেভিন দোনেগান আল-জাজিরাকে বলেন, “ইরানিদের হামলার সক্ষমতা যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। যাতে ইরান আর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে না পারে।’

ইরানে হামলায় ব্যবহার হচ্ছে যুদ্ধবিমান বি-১, বি-২ স্টিলথ, এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬ ফ্যালকন, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট, এ-১০ আক্রমণাত্মক জঙ্গি বিমান।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র: লুকাস ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এম ১৪২ হাই মবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমার্স), টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা: প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

নৌশক্তি: বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। সমুদ্রপথে টহলের জন্য পি-৮ পসেইডন বিমান। যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, সি-১৮০ হারকিউলিসসহ বিভিন্ন বিমান।

যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ?

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হতে পারে সেটি ঠিকমত অনুমান করা কঠিন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুমান করার সময় এখনও আসেনি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের ঊর্ধ্বতন ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবেল আল-জাজিরাকে বলেন, “পেন্টাগন যুদ্ধের খরচের কোনেও তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে আমরা কেবল অনুমান করতে পারি…তবে এখানে পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার মতো অনেক বিষয় আছে।

“তাই আমরা কেবল আলাদাভাবে অস্ত্রের দাম, সামরিক অভিযান এবং নৌ অভিযানের খরচ সম্পর্কে ধারণাই করতে পারি।”

তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরি-র প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে।

অভিযানের আগে যুদ্ধবিমানের অবস্থান পরিবর্তন, ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সম্পদ সংগঠিত করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও প্রায় ৬৩ কোটি ডলার খরচ করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’র হিসাবমতে, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো বিমানবাহী রণতরী পরিচালনায় প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ৬৫ লাখ ডলার খরচ হয়। তাছাড়া সরঞ্জামের ক্ষতির খরচও আছে।

কুয়েতে অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের যুদ্ধবিমান মনে করে ভুল করে কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বড় উদ্বেগ নয়; বরং অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুত কতটা আছে সেটি বড় বিষয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের ক্রিস্টোফার প্রেবেল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট এক ট্রিলিয়ন ডলারের। সেটি বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলার করার করার প্রস্তাব আছে। এটি আমার কাছে উদ্বেগজনক। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তার মতে, আর্থিক ব্যয়ের চেয়ে বড় প্রশ্ন হল যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অস্ত্রের মজুত কত দিন থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের অঙ্ক বড় হলেও প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬-এর মত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

ইরানে গত বছর জুনে ১২ দিনের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলার সময়ও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই ইন্টারসেপ্টরের মজুত শেষ হয়ে আসতে পারে বলে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রেবেল সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে যে গতিতে অভিযান চলছে সে হারে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে অভিযান দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নাও হতে পারে।

কারণ, এসব অস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন করে কাজে লাগানো সম্ভব না এবং এগুলোর কিছু অস্ত্র ইউক্রেইন, এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ইন্টারসেপ্টরগুলো অন্যান্য হুমকি ঠেকাতেও ব্যবহার হয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতের নামে ধোঁকাবাজি চলছে: বিরোধীদলীয় নেতা

Published

on

By

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ঈদের সময় যাত্রীরা টিকেট কিনতে গিয়ে দেখেছেন অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। যে আশা নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবে, সেমাই খাবে, তার আনন্দ তো এখানেই মাটি হয়ে গেল।

জনগণের সঙ্গে ধোকাবাজি চলছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, মন্ত্রী বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়া হবে। দেশবাসীর প্রশ্ন, লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের নিকট তিনি ফেরতকৃত টাকা পৌঁছাবেন কীভাবে? এটা দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের নিজ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে। অনিয়ম হলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি, যাতে দেশটা অচল না হয়। আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন তাহলে সারাদেশের মানুষ কিন্তু জুলাই যোদ্ধা। এই মানুষগুলো আপনাদের ক্ষমা করবে না।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের কণ্ঠে শুনতে চাই, ‘আর বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, মানুষের ওপর জুলুম করা হবে না।’ আমরাও সরকারকে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, যদি সরকার কথা ও কাজে এটা প্রমাণ করতে পারেন, আমরা সরকারের সকল ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করবো, সমর্থন করব। কিন্তু যে পদক্ষেপ জনস্বার্থের বিপক্ষে যাবে আমরা তার প্রতিবাদ করব। এতেও কাজ না হলে, আমরা প্রতিহত করবো।

প্রাণবন্ত এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা নায়েবে আমির জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা শূরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমেদ প্রমুখ।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঈদের প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও নিজ এলাকায় আসায় জনগণের মাঝে বেশ উচ্ছাস সৃষ্টি হয়। বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাকে বিশাল মোটর সাইকেল বহর নিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মেহমানদের সঙ্গে তিনি দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।

Continue Reading

top1

কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামালেন বৃদ্ধ, বাঁচল কয়েকশ যাত্রীর প্রাণ

Published

on

By

উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে দৃষ্টান্ত গড়লেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর দিনমজুর এনামুল হক (৬৫)। কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে কয়েকশ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৩ মার্চ) ঈদের তৃতীয় দিন সকাল সাড়ে ৬টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে । এনামুল হক ওই এলাকার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় এনামুল হক রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা রেলপথের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পান।

তাৎক্ষণিক তিনি আশপাশের লোকজনকে ডেকে রেলওয়ের অফিসে ফোন করতে বলেন। সেই সঙ্গে দ্রুত পাশের একটি কলাবাগান থেকে কলার মোচা ভেঙে এনে পাপড়ি (মোচার অংশ) লাঠিতে বেঁধে রেললাইনে দাঁড়িয়ে যান।

দাড়ানোর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসে। কিন্তু এনামুলের হাতে ‘লাল পতাকা’ দেখে ট্রেনটি দূর্ঘটনার আশংকায় নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে যায়।

এনামুলের উপস্থিত বুদ্ধিতে কয়েকশ যাত্রী ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যান। প্রতিদিন ওই পথে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, পার্বতীপুর, চিলাহাটিসহ উত্তরাঞ্চলে ১৫-২০টি ট্রেন যাতায়াত করে।

এদিকে এনামুল হকের কথায় ওই গ্রামের একরামুল হকের ছেলে শাহিনুর পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে ফোন করেন। খবর পেয়ে আধা ঘণ্টা পর রেলওয়ের প্রকৌশলী টিম ও শ্রমিকরা এসে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করেন।

বর্তমানে রেললাইন সম্পূর্ণ মেরামত সম্পন্ন হয়েছে এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামে এনামুল হকের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ঘটনার পর তিনি কাজের সন্ধানে ফরিদপুর জেলার উদ্দেশে বেরিয়ে গেছেন।

রেলওয়ে অফিসে ফোন করে খবর দেওয়া ব্যক্তি শাহিনুরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিবেশি এনামুল হক ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাকে বিষয়টি জানান। সেটি শুনে তিনি দ্রুত তার পরিচিত এক রেল কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে রেলওয়ের লোকজন গিয়ে ভেঙে যাওয়া স্থানে আটকে থাকা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে কাঠ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। তারপর ওই লাইন মেরামত করলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফুলবাড়ী স্টেশনমাস্টার শওকত আলী জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ মধ্যে রেললাইন ভেঙে যাওয়ার খবর পান তারা। দ্রুত প্রকৌশলী টিম গিয়ে রেললাইন মেরামত করে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ সময় আধা ঘণ্টার অধিক সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

স্টেশনমাস্টার জানান, এলাকাবাসীর সচেতনতার কারণে আজ একটি ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল।

Continue Reading

top1

সামনে কঠিন সময়, তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

Published

on

By

এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা আমাদের খুব ক্ষতি করছে। সামনে কঠিন সময়, তেলের দাম বেড়ে যাবে, সেই সঙ্গে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম। সেগুলো সয়ে নিয়ে আমাদের আগাতে হবে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফকরুল বলেন, আমরা কাজ করতে এসেছি, এই বৃদ্ধ বয়সেও আমাদের ছুটি নেই, প্রতিদিন সকালে অফিস করতে হয়। আমরা কাজ করে ইবাদত করে বেহেস্তে যাবো। একদল বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করে তারাতো এবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। আমরা ভোট দিয়ে জান্নাতের টিকিট নেয়ার দলে না। আমরা কাজ করে আরো পরিশ্রম করে কাজ করে বেহেশতে যাব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যুদ্ধ লেগেছে সেকারণে তেলের সরবরাহ কম কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা সমীচিন নয়। মবকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেব না।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘গম ঝড়-বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। আলু বৃষ্টিতে শুয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষকের ভাগ্য এটাই। এসব সমস্যা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষি ঋণ মওকুফের। আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সাহায্য হবে এমন কাজগুলো করছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে কয়েক কোটি মহিলাকে কার্ড দেওয়া হবে। এটার মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবে। আমাদের সব প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন করা হবে। গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।’

Continue Reading

Trending