Connect with us

top1

ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে গোপনে সহায়তা দিয়েছিল জার্মানি

Published

on

ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর থেকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তর গবেষণা, বই এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জার্মানি ‘গোপনে’ এই প্রকল্পে ‘অর্থায়ন’ করেছিল।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাভনার কোহেনের ‘ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য বোম্ব’সহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, পাশাপাশি সিমুর হার্শ, জাকি শালোম এবং আদম রাজের গবেষণায় এই কর্মসূচির উৎস, বিকাশ এবং গোপনীয়তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে সাংবাদিক শ্যানি হাজিজার প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘দ্য অ্যাটম অ্যান্ড মি’ এই গল্পে ব্যক্তিগত ও সামাজিক মাত্রা যোগ করে।

তবে দশকের পর দশক গবেষণার পরও দুটি বড় প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে—প্রকল্পের মোট খরচ কত ছিল এবং সেই অর্থ কে জুগিয়েছিল? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৬১ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে বন সরকার (তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির রাজধানী) গোপন ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন জার্মান মার্ক ইসরায়েলে পাঠায়। মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্ক, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো (৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি)। ১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত পরবর্তী এক পরিশোধ চুক্তির মাধ্যমে এই ঋণ কার্যত অনুদানে পরিণত হয় বলে জানা যায়।

এই দাবি সত্য হলে, ইসরায়েলের পারমাণবিক প্রকল্পের বড় অংশ ইসরায়েলি করদাতা বা ব্যক্তিগত দাতাদের অর্থে নয়, বরং জার্মান সরকারি অর্থে নির্মিত হয়েছিল।

ফ্রান্সের সহায়তা, জার্মান সমর্থন

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫৭ সালে, যখন ১৯৫৬ সালের সিনাই যুদ্ধের পর ইসরায়েল-ফ্রান্স সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্স কূটনৈতিকভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয় এবং দুই দেশের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে গোপনে একটি পারমাণবিক চুল্লি পেতে সহায়তায় সম্মত হয়। তবে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন কেবল ফরাসি সমর্থনে আশ্বস্ত ছিলেন না। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আব্দেল নাসের এবং প্যান-আরব জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

এ কারণে বেন-গুরিয়ন এমন এক শক্তির সন্ধান শুরু করেন, যাকে তিনি নাকি ‘বৃষ্টির দিনের ছাতা’ বা বিপদের সঙ্গী বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে পশ্চিম জার্মানিই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি ছিল দ্রুত উত্থানশীল ইউরোপীয় শক্তি, নাসেরবিরোধী এবং নেতৃত্বে ছিলেন কনরাড অ্যাডওয়ারের মতো ব্যক্তিত্ব, যিনি হলোকাস্টের পর ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির নৈতিক দায়বদ্ধতায় বিশ্বাস করতেন।

বনে গোপন সম্পর্কের সূচনা

১৯৫৭ সালের ৩ জুলাই বন শহরে এক গোপন বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শিমন পেরেস এবং পশ্চিম জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্রাঞ্জ জোসেফ স্ট্রাউস বৈঠকে বসেন। এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বেন-গুরিয়নের আশঙ্কা ছিল, জার্মানির সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক ইসরায়েলের ভেতরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বন সরকার ভয় পাচ্ছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে দৃশ্যমান সহযোগিতা আরব বিশ্বে তাদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং পূর্ব জার্মানিকে কূটনৈতিক সুবিধা দেবে।

পশ্চিম জার্মানি ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়াকে নৈতিক দায়িত্ব এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখছিল। আর ইসরায়েল চাইছিল সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন। আলোচনায় পেরেস জানান, ১৯৫২ সালের ক্ষতিপূরণ চুক্তির বাইরে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত। স্ট্রাউস ইতিবাচক সাড়া দেন, এমনকি সাবমেরিন সরবরাহের অনুরোধেও। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এগুলোকে অপরিহার্য মনে করেনি, তবুও এই অনুরোধ বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ খুলে দেয়।

শেষ পর্যন্ত সাবমেরিনগুলো ব্রিটেন থেকে জার্মান অর্থায়নে কেনা হয়। পশ্চিম জার্মানি ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জামও কেনে, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

১৯৬০ সালের বৈঠক: মোড় ঘোরানো মুহূর্ত

এরপর, ১৯৬০ সালের ১৪ মার্চ নিউইয়র্কের ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াতে বেন-গুরিয়ন ও অ্যাডেনওয়ারের বৈঠককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়। বৈঠকটি প্রকাশ্যে হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু বহু বছর গোপন ছিল। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিলিপি নেই, তবু এটিকে ইসরায়েল-জার্মানি নিরাপত্তা সম্পর্কের ইতিহাসে বড় ঘটনা হিসেবে ধরা হয়।

আলোচনায় বেন-গুরিয়ন নাকি ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সরাসরি হলোকাস্টের সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইহুদিদের ধ্বংস জায়নবাদী প্রকল্পকেও মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জার্মান সহায়তাকে তিনি অতীত অপরাধের ক্ষতিপূরণই নয়, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের টিকে থাকার জন্যও অবদান হিসেবে উপস্থাপন করেন।

‘নেগেভ উন্নয়ন’ ছিল আড়াল

জার্মান সামরিক সহায়তা নজর কাড়লেও প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গোপন আর্থিক ব্যবস্থা, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নেগেভ উন্নয়ন’ সহায়তা হিসেবে দেখানো হয়। অ্যাডেনওয়ারে দপ্তর এই পরিকল্পনার কোডনাম দেয় অ্যাকশিওন গুশাফসফ্রন্ড বা অপারেশন বিজনেস ফ্রেন্ড। এর আওতায় ইসরায়েলকে ১০ বছর ধরে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হওয়ার কথা ছিল, সুদের হার ৩.৬ শতাংশ।

প্রথমে বন সরকার চেয়েছিল ১৯৬৫ সালে ক্ষতিপূরণ প্রদান শেষ হওয়ার পর এই ব্যবস্থা কার্যকর হোক। কিন্তু ইসরায়েলের চাপের কারণে তা আগেই শুরু হয় এবং প্রথম অর্থ স্থানান্তর হয় ১৯৬১ সালের ডিসেম্বরে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়নি। পরিবর্তে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ফেলিক্স শিনার এবং অ্যাডেনওয়ারের উপদেষ্টা হারমান অ্যাবস এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেন, যাতে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ঋণের মতো করে অর্থ পাঠানো হয়।

অর্থের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে সরকারি কাগজে এগুলোকে অজ্ঞাত উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখানো হয়। জার্মানির অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থা অনুমোদন দেয়, তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

সে সময়, ১৯৬০ সালের মে মাসে বেন-গুরিয়ন নাৎসি কর্মকর্তা এডলফ আইখম্যানকে গ্রেপ্তার এবং জেরুজালেমে বিচার করার পরিকল্পনা ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। পশ্চিম জার্মান কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেন, এই বিচার অ্যাডেনওয়ার সরকারের সেইসব উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দিকে নজর টানতে পারে, যারা নাৎসি আমলে কাজ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর চিফ অব স্টাফ হ্যান্স গ্লবকে, যিনি নুরেমবার্গ আইন প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক সম্পর্কেও অবগত ছিলেন।

গোপন অর্থায়ন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হারমান অ্যাবসও নাৎসি আমলে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকার ছিলেন।

সব মিলিয়ে এই বিবরণ থেকে বোঝা যায়, ডিমোনা প্রকল্প শুধু ফ্রান্সের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নয়, বরং পশ্চিম জার্মানির গোপন আর্থিক সহায়তার ওপরও দাঁড়িয়ে ছিল। এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত হলে, তা ইসরায়েলের পারমাণবিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ কম আলোচিত দিকগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। হলোকাস্টের স্মৃতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং গোপন কূটনীতির জটিল মিশ্রণে এই ইতিহাস গড়ে উঠেছে

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল

Published

on

By

ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমন খবরের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে দেখা গেছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর এই দাম সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জুন মাসের ডেলিভারির জন্য বর্তমান ব্রেন্ট ফিউচার্স চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। ফিউচার চুক্তি হলো একটি নির্দিষ্ট তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয় করার চুক্তি। এশিয়ায় সকালের লেনদেনে অপেক্ষাকৃত সক্রিয় জুলাই মাসের চুক্তিটি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১১৩ ডলারে পৌঁছেছিল।

সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিক ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত এই হামলায় অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এই কাজে স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যতদিন তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, তত দিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ইরানের ওপর ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।

Continue Reading

top1

দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন আইভী

Published

on

By

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ আদেশ দেন বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে আরও ৫ মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নিয়ে আগামী রোববার (৩ মে) আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন পেলেও আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যেই গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

পাঁচটি মামলার মধ্যে যে চারটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো— ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এছাড়াও হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপর মামলাটি করা হয়েছে।

হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সে সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। তবে এর মধ্যেই আরও দুই মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Continue Reading

top1

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ

Published

on

By

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই মাইলফলকের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ধাপে পৌঁছানোকে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রূপপুরে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিসহ শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, এটি আমাদের আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অত্যাধুনিক। নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি ধাপে কঠোরভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পে বহুমাত্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যে কোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বাস্তব উদাহরণ, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তার ভাষায়, এই প্রকল্প দেশের জন্য জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের পথে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলে প্রকল্পটি নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে শক্ত অবস্থান অর্জন করেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রক ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফটির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে একটি স্বীকৃত অবস্থান অর্জন করছে। তিনি জানান, মহামারি, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নির্মাণকাজ একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং এখন প্রকল্পটি সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটে বর্তমানে পাইপলাইন ও পাম্পিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে এবং আগামী বছর সেখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়া ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গে লিখাচভ জানান, গত কয়েক বছরে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোসাটমের কোটা অনুযায়ী ৯০০-এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চতর পারমাণবিক শিক্ষা লাভ করেছে। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১১০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যারা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। এক বছরের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে কাজ দ্রুত এগিয়েছে। তিনি জানান, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যোগ করবে, যা শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি দীর্ঘমেয়াদি উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল প্রায় এক শতাব্দী।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগিয়ে গেল, যা বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Continue Reading

Trending