Connect with us

ক্যাম্পাস

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গোবিপ্রবি শাখার নেতৃত্বে সোহেল-তাওহীদ

Published

on

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি


ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার তিন সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সোহেল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম।

এছাড়াও সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, গোবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইফতার মাহফিল ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিন সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করান ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান।

উক্ত অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ হাবিবের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. সোহেল হোসেন বলেন, “সকল অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে সোচ্চার থাকব। কুরআন ও শরিয়াভিত্তিক আদর্শকে ধারণ করে আমরা আমাদের সাংগঠনিক ও শিক্ষাবিষয়ক সকল কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, নৈতিক উন্নয়ন ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা আন্তরিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা এবং প্র্যাকটিক্যাল মুসলিম হিসেবে জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা একে অপরের সহযোগী ও সহযাত্রী হয়ে কাজ করতে চাই।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

অনুমতি ছাড়া শিক্ষকের কক্ষে ভিডিও ধারণ, মোবাইল হারাল সাংবাদিক

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ব্যক্তিগত কক্ষে অনুমতি ছাড়া দুই শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার ভিডিও ধারণের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার ক্যাম্পাস সাংবাদিক ওয়াসিফ আল আবরার।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টররিয়াল টিম বলছে, শিক্ষার্থীদের রোষানলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মোবাইলটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে লিখিত স্টেটমেন্টে নিয়ে সুরক্ষিত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগে অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বাকবিতণ্ডার ভিডিও ধারণকালে এমন ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেন। এছাড়া শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে হেনস্তা এবং তাদের কক্ষ ও অফিস ভাঙচুর করেছেন। পরে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও চিহ্নিত আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ড. মাহবুবুর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে হুমকি, হেনস্তা ও টেবিল ভাঙচুর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এদিন দুপুর ১টা ২০ মিনিটে এই ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান উপস্থিত হলে নিরাপত্তার ইস্যুতে ড. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। তারা দুইজনই একই বিভাগের অধ্যাপক। অনুমতি না নিয়ে হুট করে রুমে প্রবেশ করে দুই শিক্ষকের পার্সোনাল বাকবিতণ্ডার ভিডিও ধারণ করতে থাকেন সাংবাদিক আবরার। পরে অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে ভিডিও ডিলিট করার অনুরোধ জানান। এবং মোবাইল নিয়ে টানাটানি শুরু হয়৷ বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তাকর্মী মিজানুর রহমান সাংবাদিকের মোবাইলটি হেফাজতে নেয়।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা তাকে চিনি না, জিজ্ঞেস করলাম আপনি কে? তখন সে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। যেহেতু অনুমতি ছাড়া পার্সোনাল কক্ষের ভিডিও ধারণ করছে, তাকে ডিলিট দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, সে কোনো মতেই ডিলিট দেওয়ার পক্ষে না। উত্তেজিত অবস্থায় একজন কর্মকর্তা মোবাইলটা নিয়ে নেয়।

তবে সাংবাদিক আবরারে দাবি- হিট অব দ্যা মোমেন্টের ডকুমেন্টস সংগ্রহ করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছি। ধস্তাধস্তি করে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অধিকার তো রাখে না।

নিরাপত্তা কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হওয়ার সম্ভবনা দেখে উত্তেজিত মোমেন্টে মোবাইলটা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক আবরার আমাকেও ধাক্কা দেয়, এর আগেও সে আমাকে কল দিয়ে হুমকিও দিয়েছে।

ইইই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন বলেন, যখন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তখন গিয়ে দেখি দুই শিক্ষকের মাঝে বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। তখন কোনো ধরনের পারমিশন না নিয়ে সাংবাদিক ভিডিও করা শুরু করে দেয়, এর আগে এক শিক্ষককে হুমকি বা রুমে ভাংচুর করে একদল গেল, তাতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। শিক্ষার্থীরা ভিডিও ডিলিট করার অনুরোধ জানালে অস্বীকার করে সাংবাদিক আবরার। তখন এক নিরাপত্তা কর্মী মোবাইলটি নিয়ে নেয়।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হই। ড. মাহবুবুর রহমানকে সালাম দিই। এনি আমার সিনিয়র কিন্তু সালামটা ওনি নেগেটিভলি নিয়ে বলে ওঠল— ‘বাহ শাহীন, ভালো কাজ করছো, আজকের ঘটনা তুমি করিয়েছো।’ তখন আমি বলল, আমি করাবো কেন, প্রমাণ করতে পারবেন? এভাবে বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। তখন হুট করে রুমে সাংবাদিক আবরার অনুমতি না নিয়ে ভিডিও করতে থাকে৷ পাশে বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম- সাংবাদিক কি কারো অনুমতি নিয়েছে কিনা। পারসোনাল রুমে কিভাবে প্রবেশ করলো। এক পর্যায়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে যায়। মোবাইলটি নেওয়ার চেষ্টা করে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা কর্মী সাংবাদিকের মোবাইল হেফাজতে নেয়। এরপর উপাচার্য স্যারকে অবগত করেছি। প্রক্টরিয়াল মিটিং শেষে লিখিত স্টেটমেন্ট নিয়ে সুরক্ষিত অবস্থায় মোবাইল ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখানে কেড়ে নেওয়া বা আটকানোর কোনো ঘটনায় ঘটেনি। বিভাগের সভাপতিকে জানানো হলে তাকে সহ অন্যান্য সাংবাদিকরা সভাপতির কক্ষে বসে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, আমি অবগত হয়েছি। প্রক্টরকে মোবাইলটি দিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। ঘটনাটি লিখিত দিতে উভয়কে বলেছি। তদন্ত কমিটি যেহেতু আছে সার্বিক বিষয় দেখবে।

এদিকে সাংবাদিক আবরার প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত স্টেটমেন্টে লিখেন, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী ওয়াসিফ আবরার, আজ ১৬ আগস্ট দুপুরে ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ইইই বিভাগ থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ইবির নিরাপত্তাকর্মী মিজানুর রহমান আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। আজ বিকাল ৫টার সময় ইবির প্রক্টর অফিস থেকে আমি আমার ফোনটি সুরক্ষিত এবং যথাযথভাবে বুঝে পেলাম।

Continue Reading

top3

ব্র্যাক ব্যাংকের সহায়তায় কুবিতে ৩৫০০ দুর্লভ প্রজাতির চারা রোপণ শুরু

Published

on

By

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে ব্র্যাক ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতা ও উদ্ভিদ ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘তরুপল্লব’-এর সার্বিক সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজার ৫০০টি দুর্লভ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বরে চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, ব্র্যাক ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ আলম, ‘তরুপল্লব’-এর সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন ও সংগঠক হেনা সোলতানা।

জানা যায়, চারাগুলোর মধ্যে রয়েছে কনকচাঁপা, স্বর্ণচাঁপা, ম্যাগনোলিয়া, পলাশ, বিভিন্ন ঔষধি ও ফলজ গাছের চারা।

ব্র্যাক ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ‘প্রকৃতির উন্নয়ন ও সবুজায়নে ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় বিশ্বাসী। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও আর্থিক সহায়তায় ৩ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। সারাদেশের ১৪টি প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ব্র্যাক ব্যাংকের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।’

‘তরুপল্লব’-এর সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় ‘তরুপল্লব’ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও প্রতিষ্ঠানে মোট ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা এসব চারার মধ্যে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গাছই বেশি।’

তিনি আরও বলেন, “উপাচার্য কনকচাঁপার চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা স্বর্ণচাঁপার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে এ প্রজাতির চারা পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংক ও ‘তরুপল্লব’-এর সহযোগিতায় রোপণ করা ৩ হাজার ৫০০টি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও দেখাশোনা করা হবে। গাছগুলো বেড়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।”

Continue Reading

top3

ববিতে নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের রাতভর সংঘর্ষ, অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধর

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অর্থনীতি বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় বিভাগের কমপক্ষে ১০জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানাগেছে। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে রাতভর  দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ-সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স চালক তারেককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আজ অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রেখেছে চালকরা এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অসুস্থ শিক্ষার্থীরা।

রাত নয়টায় সংঘর্ষ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে তাদের দুই বিভাগকে নিভৃত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের কিছু আহত শিক্ষার্থীদের হসপিটালে নেয়ার সময় ভিসি গেটের সামনে এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ  ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদেরকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করেছে। 

অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তারেককেও মারধর করেছে কতিপয় শিক্ষার্থী। এতে সকল ড্রাইভাররা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ম্যানেজারের কাছে এই ঘটনার বিচার চাইবেন বলে জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার মো. শহিদ বলেন, আমাদের তারেককে মারধর করা হয়েছে আমরা রেজিস্ট্রার ও পরিবহন পুল ম্যানেজারের কাছে যাচ্ছি বিচারের জন্য।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের মুসা নামের এক শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে নবীন বরনের দিন প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ঐ নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠে মুসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ১৫তম ব্যাচের অর্থনীতি  বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে তারা মুসাকে ভিসি গেটের অপজিটে অবরুদ্ধ করে। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে ইংরেজি বিভাগের মুসা নামের ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরে তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়, এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাতাহাতি রাত ১০ টার দিকে একবার থামলেও পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফের শুরু হয় আরে ধাপে। এসময় একটি বিভাগ অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগেটের ভিতরে আরেকটি বিভাগ গেটের বাইরে রাস্তায়। দু’পক্ষই একে অপরের দিকে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত হয়েও শিক্ষার্থীদের থামাতে পারছিলেন না। আধাঘন্টা সময় ধরে চলে ১১টার দিকে থামে সংঘর্ষ। 

এবিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের বিভাগের জুনিয়র  এক মেয়েকে র‍্যাগিংয়ের কায়দায় উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের মুসা। মেয়ে রাজি ন হওয়ায় আটকে রাখে মুসা   বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আজকে ভিসি গেটের অপজিটে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে হাত চালালে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষ থামিয়ে দেয়ার পর এম্বুলেন্সে করে আহত শিক্ষার্থীদের হসপিটালে নেয়ার পথে ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী হামলা করে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীসহ ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী।

অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধরের ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে আসলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন প্রক্টর। এসময় প্রক্টরকে বলতে শোনা যায়, সবার বিচারের আওতায় আনা হবে। তখন এক শিক্ষার্থী বলেন, কি বিচার হবে স্যার প্রক্টর বলেন, বিধিমোতাবেক বিচার করা হবে।”

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। দুই বিভাগের শিক্ষার্থী উত্তেজিত ছিলো। মারধরে অংশ নেয়ার ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করেন তিনি। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আশিক বলেন, আমরা মারামারি ঠেকাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছি। কেউ কাউকে মানতে চায় না সবাই উত্তেজিত, দুই বিভাগই ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করেছে আমার শরীরে দুই টুকরো ইট আঘাত হেনেছে৷ তিনি বলেন দোষীদের তদন্তপূর্বক শাস্তির আওতায় আনা উচিত। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “আমরা সারারাত ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে নিভৃত করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি নিয়ে আজকে আমরা প্রক্টরিয়াল টিম বসবো কেন বারবার শিক্ষার্থীরা এমন সংঘাতে জড়াচ্ছে এবং তার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য।”

Continue Reading

Trending