Connect with us

top3

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তারুণ্যের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়র (ইবি) অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন ‘তারুণ্যে’র ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি করিডোরে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করা হয়। তারুণ্যের সভাপতি ইমন হোসাইনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ইবি ঐক্যমঞ্চের সভাপতি নাজমুল হোসাইন,তারুণ্যের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ হিমেল ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আইরিন। এছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নবীন সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তী সময়ে চিত্রাঙ্কন করার জন্য ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম তিন জনই ছিলেন তৃতীয় শ্রেনীর ক্ষুদে শিক্ষার্থী। প্রথম হয়েছেন আয়েশা তাকিয়া, দ্বিতীয় রাইসা ও তৃতীয় সুইটি আক্তার। প্রথম তিনজনকে ক্রেস্টসহ সকল চিত্রশিল্পীদের সার্টিফিকেট ও কলম প্রদান করা হয়। এমন পরিবেশ বান্ধব কলমের দেয়া হয় সেসব কলমের কালি শেষ হওয়ার পর মাটিতে রোপণ করলে গাছের চারা উৎপাদন করা যাবে।

নবীন সদস্যরা বলেন, তারুণ্যের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আশেপাশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা যেটি একটি আসলেই চমৎকার আয়োজন। আমরা আগামীতে চেষ্টা করব এরকম শিশুদের বিকশিত করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন আয়োজন।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ হিমেল বলেন, আমাদের সংগঠনটি মূলত স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আশেপাশের মানুষদের বিশেষ করে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা।

এ সময় তারুণ্যের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আইরিন বলেন, তারুণ্যে’র সাথে এতোদিন থেকে যেটা বুঝেছি সেটা হচ্ছে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আর মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কখনো রক্তের জন্য ছুটেছি, শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি ও দেশের ক্রান্তিকালীন সময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমদের মানবিক কাজের ধারাবাহিকতায় শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। আমরা সবসময় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ও বাইরের মানুষদের আমাদের সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করি এবং আমদের এ ধারা অব্যাহত রাখার আগামীতে আপ্রাণ চেষ্টা করব।

সর্বশেষে সভাপতি ইমন হোসাইন বলেন, তারুণ্য সংগঠন সবসময় স্বেচ্ছাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে তার মধ্যে অন্যতম রক্তদান ও শীতকালে দুস্থ-গরীব মানুষদের শীতবস্ত্র বিতরণ করার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আমরা আশা করি, শুধু ইবিতে নয় সারা দেশের মধ্যে একসময় তারুণ্যের প্রতিনিধিরা কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ইবিতে ‘তারুণ্য’ ২০০৯ সালের ২৯জুলাই যাত্রা শুরু করে এসব স্বেচ্ছাসেবীমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারুণ্য সংগঠনের উদ্যোগে রক্তদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শীতবস্ত্র ও ত্রাণ বিতরণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিডারশিপ ট্রেনিং ও তারুণ্য লাইব্রেরি ইত্যাদি কার্যক্রম গুলো পরিচালনা করে যাচ্ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

কুবিতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে ৪২ প্রতিষ্ঠানের শিল্প-একাডেমিয়া বৈঠক

Published

on

By

সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি প্রতিনিধি :

শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া বৈঠকে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি চাকরিতে কুবি শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ল্যাব সুবিধা বিনিময়েরও প্রতিশ্রুতি দেন তারা। এছাড়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থান উপযোগী বিষয় চালুর পরামর্শ দেন তারা।

বৈঠক শেষে ছয়টি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এমওইউ স্বাক্ষরে সম্মতি জানায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা শুরু থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে কাজ করার কথা বলে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির উৎসাহেই আজকের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ ৪২টি প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। এসব এমওইউর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরি করা, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, পারস্পরিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ল্যাব পারস্পরিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ হয়েছে, সামনে আরও হবে। আজ ইউজিসির সদস্য জানিয়েছেন, দুই মাস পর এ উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। আমরা কতটুকু করতে পেরেছি, তা দেখা হবে। আমরা অবশ্যই আমাদের মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মযোগ্যতা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ করে যাব।’

ইউজিসির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন। এর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে যেসব সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এমওইউর উদ্দেশ্যের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না, তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আমরা যে জব লার্নিং পিরিয়ড নির্ধারণ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্কের মাধ্যমে সেটিও যেন ফলপ্রসূ হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটি এ ধরনের ১২তম আয়োজন।’

উল্লেখ্য, ৪২টি প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশ নিলেও এমওইউ স্বাক্ষর করেছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্মার্ট সলিউশন, বাংলাদেশ স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিক), ড্যাপকো ভেঞ্চারস লিমিটেড, সুপ্রিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, উইডেভস অ্যান্ড উইল্যাব এবং ফ্লোরিনা কসমেটিকস।

Continue Reading

top3

বেরোবিতে পাঁচ দফা দাবিতে শিবির নেতাকর্মীদের স্মারকলিপি

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আবাসিক হলের সিট বণ্টন, হল ডাইনিংয়ের খাবারে ভর্তুকি, আবাসন সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও হল প্রভোস্ট কাছে তারা এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আবাসিক পরিবেশও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পড়াশোনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তবে আবাসিক হলের সিট বণ্টন, ডাইনিংয়ের খাবারের দাম ও মান, হলের পরিবেশ এবং পড়াশোনার উপযোগী সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট সংকট রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে একটি সিটে একাধিকজন থাকতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনা ও বিশ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তাই মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টনের পাশাপাশি এক সিটে একজনের আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে হল ডাইনিংয়ের খাবারের খরচ শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ডাইনিংয়ের খাবারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

হলের ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ তুলে তারা বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পড়াশোনার জন্য নিরিবিলি পরিবেশ তৈরিতে হলে রিডিং রুমের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষের কথা স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

তাদের দাবি সমূহ হলো মেধার ভিত্তিতে হলে সিট বণ্টন করতে হবে,হল ডাইনিংয়ের খাবারে ভর্তুকি দিতে হবে,এক সিটে একজনের আবাসন নিশ্চিত করতে হবে,হলের ওয়াশরুমসহ সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে,বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান উন্নত করতে হবে।

অর্থনৈতিক বিভাগের মেহেদী হাসান বলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং পড়াশোনার জন্য আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়।

Continue Reading

top3

গত ৪ বছরে সড়ক দূর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে ববি’র ৪ প্রাণ

Published

on

By

মাফিদুল হাসান, ববি

দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ খ্যাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু হলেও এই ক্যাম্পাসের সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক এবং দপদপিয়া ব্রীজ যেন শিক্ষার্থীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম।

গত চার বছরে পিচঢালা রাজপথে স্পিড ব্রেকারের অভাব, বেপরোয়া গণপরিবহন আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় পিষ্ট হয়ে চিরতরে নিভে গেছে চার তরুণ প্রাণ। প্রতিটি দুর্ঘটনাই শুধু একটি নাম বা সংখ্যা নয়—একটি পরিবারের আজীবনের কান্নার গল্প।

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল ইমন ২০২২ সালের নভেম্বরে মহাসড়কে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে প্রথম বড় ধাক্কা খায় পুরো ক্যাম্পাস।
ইমনের ক্ষত না শুকাতেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মার্কেটিং বিভাগের আরেক উদীয়মান শিক্ষার্থী রাকিব হাসান রাফি।

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসের সামনের মহাসড়কে দ্রুতগতির বাসের চাপায় পিষ্ট হন পরিসংখ্যান বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী ছাত্রী মাইশা ফাওজিয়া মিম। রক্তে রঞ্জিত হয় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক।

আর সবশেষ গত ৯ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও সঠিক সময়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রাণ হারান তিনি।

এছাড়াও প্রায় প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দপদপিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আরো ছোটখাট সড়ক দুর্ঘটনা । ফলে বেড়ে যাচ্ছে আহতদের সংখ্যাও । প্রতিটি মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছেন, দাবি তুলেছেন, মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির আশ্বাস মিললেও মেলেনি টেকসই নিরাপদ সড়কের সমাধান।

তালিকা আর কতটা দীর্ঘ হলে কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে? প্রশ্ন তুলেছেন সকল শিক্ষার্থী। অবিলম্বে মহাসড়কে ফুটপাত ও ওভারব্রিজ নির্মাণ, গতি নিয়ন্ত্রক স্থাপন এবং নিরাপদ বাস সার্ভিস নিশ্চিতের দাবি আজ প্রতিটি শিক্ষার্থীর।

Continue Reading

Trending