Connect with us

সর্বশেষ

উর্দুতে ভোট চেয়ে মাইকিং, সমালোচনা

Published

on

নীলফামারী-৪ আসনের সৈয়দপুর শহরে ভোট প্রার্থনায় বাংলা ও উর্দুতে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রার্থীদের ভোটের প্রচার মাইকিংয়ে উর্দুতে গান ও গজল বাজানোয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে সৈয়দপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন বহু উর্দুভাষী মানুষ। স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে এসে ক্যাম্পে আশ্রয় নেন আরো কিছু লোকজন। স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরা প্রথম থেকেই ভোটার থাকলেও ক্যাম্পে বসবাসকারীরা ভোটার হন ২০০৮ সালে। সৈয়দপুরের ২২টি ক্যাম্পে যারা থাকেন, তারা স্থানীয়ভাবে বিহারি বা উর্দুভাষী হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে সৈয়দপুর পৌরসভার মোট ভোটারের অর্ধেকই উর্দুভাষী। এসব উর্দুভাষী ভোটার নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক। ফলে তাদের ভোট সব প্রার্থীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানিয়েই অভিনব এ প্রচার।

প্রার্থীরা বলছেন, উর্দুভাষীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করতেই উর্দুতে মাইকিংয়ের উদ্যোগ। এতে তারা সহজেই প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সম্পর্কে বুঝতে পারছেন।

এ আসনের চার লাখ ভোটারের মধ্যে ৬০ হাজার ভোটার রয়েছেন সৈয়দপুরের ২২টি বিহারি ক্যাম্পে। এসব ভোটার বিজয়ের বড় নিয়ামক হওয়ায় তাদের কাছে টানতে মরিয়া প্রার্থীরা। তাই দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারে তাদের মাতৃভাষাতেই চালিয়ে আসছেন, যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দুটোই রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এমন প্রচার বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।

অতীতে এসব ক্যাম্পবাসীর ভোটে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কেউই কথা রাখেননি। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের ভোট নিজের দিকে টানতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। সভা-সমাবেশে বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে বক্তব্য রাখছেন। মাইকিংসহ সব ধরনের প্রচারে উর্দু ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে মাইকে ভিন্ন ভাষাতে প্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন অনেকেই। তারা বলছেন ‘পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল, কিন্তু বাঙালি জাতি অনেক সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। অথচ আজ সেই বাংলা রেখে উর্দু ভাষায় মাইকিং হচ্ছে। এতে অনুভূতিতে আঘাত লাগছে।

আবার অনেকে বলছেন, অবাঙালিরাও এদেশেরই নাগরিক। কাজেই উর্দুভাষার নাগরিকদের কাছে তাদের মাতৃভাষায় ভোট প্রার্থনা দোষের কিছুই নেই।

অন্যদিকে প্রার্থীর সমর্থকদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, উর্দুভাষীরাও বাংলাদেশের নাগরিক, ভোটার। ফলে তাদের মাতৃভাষায় ভোট প্রার্থনা করায় কোনো সাংবিধানিক বা নৈতিক বাধা নেই। এতে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

হাতিখানা ক্যাম্পের মোলায়েম হক বলেন, ভোট এসেছে বলে এখন প্রতিদিন বিভিন্ন প্রার্থীর আনাগোনা লেগে থাকছে ক্যাম্পে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও তাদের পাশে পাই না। যিনি আমাদের জীবনমান ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবেন, এবার তাকেই আমরা বেছে নেব। আরেক বাসিন্দা আশফাক বলেন, এবারের ভোট তাকেই দেব, যিনি ক্যাম্পের জন্য ভালো কিছু করবেন।

উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, ‘উর্দুভাষীরাও এ দেশের নাগরিক। আমরা ভোটাধিকার পেলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নির্বাচন এলেই উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু খুব কমই বাস্তবায়ন হয়। তিনি বলেন, দেশে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। যারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তারা যেন উর্দুভাষীদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেন— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, অবাঙালি উর্দুভাষী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে উর্দু ভাষায় নির্বাচনি প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি আরো জানান, নির্বাচনসংক্রান্ত ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি নীতিগত ও কমিশননির্ভর সিদ্ধান্ত। প্রচলিত নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধির আওতায় থেকে প্রার্থীরা নিজ নিজ কৌশলে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে পারবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৈয়দপুরে উর্দু ভাষায় নির্বাচনি মাইকিং একদিকে যেমন উর্দুভাষী ভোটারদের কাছে সহজভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তেমনি ভাষা, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন আলোচনা তৈরি করছে। ফলে এ ব্যতিক্রমী প্রচার শুধু নির্বাচনি কৌশল নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবেও স্থান করে নিচ্ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য

স্বর্ণের দামে বড় পতন

Published

on

By

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে মূল্য। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর রয়টার্সের।

স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৯১৮ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমেছে। সেশনের শুরুতে একপর্যায়ে দরপতন ২ শতাংশেরও বেশি ছিল।

অন্যদিকে, এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৯৩৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের শক্ত অবস্থান সাধারণত স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করে। কারণ ডলারের মূল্য বাড়লে অন্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত ইঙ্গিতও স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি নিয়ে নতুন সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন। এসব ইস্যুর ওপর নির্ভর করেই স্বর্ণবাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হতে পারে।

Continue Reading

top1

ভেঙে দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

Published

on

By

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।

এ ছাড়া তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়ে আলাদা গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

Continue Reading

সর্বশেষ

দুর্বৃত্তদের আগুনে অগ্নিদগ্ধ সেই জামায়াত সমর্থকের মৃত্যু

Published

on

By

লক্ষ্মীপুরে একটি মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে জামায়াত সমর্থক মারা গেছেন। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পাঁচদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের জিতু অ্যাগ্রো মৎস্য খামারে অগ্নিকাণ্ডে তিনি দগ্ধ হন। পরদিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নিহত আব্বাস উদ্দিন চররমনী মোহন এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে ও জিতু অ্যাগ্রো মৎস্য খামারের মালিক। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার বড় ছেলে এলাহি প্রিন্স।

প্রিন্স জানায়, তার মা ও বাবা খামারেই থাকতেন। তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি। ভোটের আগে রাতে দুর্বৃত্তরা বাহির থেকে খামারে থাকা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘর পুড়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত বের হয়ে যেতে পারলেও আব্বাস পারেননি।

এতে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।

এলাহি প্রিন্স বলেন, আমার বাবা মারা যাননি, শহীদ হয়েছেন। তিনি জামায়াত করেন এটাই তার অপরাধ ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, ঘটনাটি ভোটের আগের দিন ঘটেছে। যিনি মারা গেছেন তিনি প্রিন্সের বাবা। কয়েক মাস আগে থেকে প্রিন্সও দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ভোট করেছেন। প্রিন্সের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি তার বাবা আব্বাস উদ্দিন দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ভোট করেছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending