Connect with us

top1

এনসিপিকে কতগুলো আসন ছাড়তে রাজি বিএনপি, যা জানা গেল

Published

on

রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ কিংবা রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে গত কয়েক মাস ধরেই বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এক ধরনের টানাপোড়েন দেখা গেছে রাজনীতির মাঠে।

এ নিয়ে প্রকাশ্যে সভা সমাবেশে এনসিপি নেতাদেরও অনেককে বিএনপির সমালোচনাও করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদেরও অনেককে এনসিপির সমালোচনা করতে দেখা গেছে নানা ইস্যুতে।

বিশেষ করে সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি ও এনসিপির মতপার্থক্য দল দুটির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো বাড়তে থাকে।

বিএনপি নেতাদের অনেককে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ছাত্র উপদেষ্টাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও করতে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়। আবার দেশের কোথাও কোথাও এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা কিংবা বাধা দেওয়ারও অভিযোগও উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ, সংস্কারের বেশ কিছু ইস্যুতে বেশ মত পার্থক্য দেখা গেছে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে।

একদিকে এই দুটি দলের মধ্যে যখন সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে তখন পর্দার আড়ালে বিএনপির সাথে নির্বাচনি সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের আলোচনার কথাও বলেছে দলটির নেতাদের কেউ কেউ।

তবে এনসিপির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির সাথে জোট গঠনের বিষয়ে এনসিপির মধ্যে দুই ধরনের অবস্থান আছে নেতাদের মধ্যে।

দলের যে পক্ষটি বিএনপির সাথে জোট গঠনের পক্ষে তাদের মত হচ্ছে, নির্বাচনে যদি বেশি সংখ্যক আসন ছাড় দেওয়া হয় তাহলে বিএনপির জোটে যেতে আগ্রহী তারা। সেক্ষেত্রে এনসিপির প্রত্যাশা অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি আসনে বিএনপি ছাড় দেয়, তাহলে তারা বিএনপি জোটে কিংবা বিএনপির সাথে আসন সমঝোতায় যেতে রাজি।

আর অন্য পক্ষটির বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচনে বিএনপি আসন ছাড় দিলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কোনো কোনো আসনে বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে পারে। যেটি এনসিপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আপাতত বিএনপির সাথে জোট বা আসন সমঝোতা কোনো বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেই নি’।

তবে শেষ পর্যন্ত এনসিপির সাথে জোট বা সমঝোতার সুযোগ আছে সেটি বলছেন বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ। এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে দুই দলের নেতাদের মধ্যে যোগাযোগও হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে—এনসিপিকে ২০টি আসন বিএনপি ছেড়ে দিতে পারে। এর মধ্যে বিএনপির পুরো সমর্থন পেলে, বিদ্রোহী প্রার্থী না দাঁড়ালে ৮ জন প্রার্থী জয়ী হয়ে আসতে পারে বলে বিএনপি প্রাথমিক তথ্য অনুসন্ধানে ধারণা পেয়েছে। বাকী ১২ জনের ব্যাপারে সম্ভাবনা কম থাকলেও জোটে টানার স্বার্থে বিএনপিকে ছাড় দিতে হতে পারে।

এদিকে আগামী নির্বাচনে তরুণদের বেশি সংখ্যায় প্রার্থী করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছে বিএনপি। ঢাকা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কাছে তরুণদের বেশি সংখ্যায় প্রার্থী করার বার্তা পাঠানো হয়েছে। দলের দায়িত্বশীল একজন নেতা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তরুণদের বেশি সংখ্যায় প্রার্থী করার বিষয় মাথায় রেখেই তরুণদের দল এনসিপিকে বিএনপি তাদের নির্বাচনি জোটে টানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঢাকার বার্তায় বলা হয়েছে, ৪৫ বছরের পুরোনো দল হিসেবে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির অনেক সাবেক এমপি রয়েছেন। তারা এবারও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। যদিও তাদের অনেকের বয়স ৭০ কিংবা তারও বেশি। এমনকি কারও বয়স আশিও পেরিয়ে গেছে। এলাকায় তারা সম্মানিত ব্যক্তি। তবে এবার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটটি ভিন্ন। ২০০৮ সালের পর গত ১৭ বছরে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দেশের বেশিরভাগ মানুষ ভোট দেননি। ২০০৮ সালের যার বয়স ১৮ এর কম ছিল, তিনি এখন ৩৫ বছরের টগবগে তরুণ। তারা এবার প্রথম ভোট দেবেন। সুতরাং তারা কাকে পছন্দ করবেন সেটা পরীক্ষিত নয়। বাংলাদেশে ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ ।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে (এমনকি বিএনপির উদ্যোগে পরিচালিতসহ) দেখা গেছে—একটি বড় সংখ্যক, প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নেননি, তারা কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এই ২৫ শতাংশের বড় অংশই তরুণ। সে বিবেচনায় এবার তরুণ ভোটাররা একটি ফ্যাক্টর হবে। তরুণরা তরুণ প্রার্থীদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার বড় যুক্তিও রয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে। আবার সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তরুণরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। সারা দেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে যাওয়া তরুণরা ছিল এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটার। সেখানেও দেখে গেছে তরুণদের মাঝে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদল সুবিধা করতে পারেনি। তারা পিছিয়ে আছে।

এসব নানা বিষয় বিবেচনা করে ঢাকা থেকে তারেক রহমানের কাছে বার্তা গেছে তিনি যেন প্রার্থী চুড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তরুণ ও ত্যাগী এবং জুলাইসহ ১৭ বছরের হাসিনার ফ্যাসিবাদ বিরোধী অন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালনকারী তরুণদের বিষয়টি গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনে দল থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে হলেও তরুণদের প্রার্থী করার ব্যাপারে যেনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বছরের পর বছর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ধারাবাহিকতা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৫১ জন কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেল করার ধারাবাহিকতা বছরের পর বছর চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষা নেওয়া কিংবা কালক্ষেপণের সুযোগ রাখবে না সরকার। যারা সাধারণ শিক্ষায় এগোতে পারবে না, তাদের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ। পড়ালেখা ও খেলাধুলার সমন্বয়ে বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সরদার কেরামত আলী। এতে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী।

Continue Reading

top1

ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা, আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান ঘটনাটিকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেওয়া হবে না।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা। পুনর্মিলনের পথ তৈরি করতে হলে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলটির মধ্যে এখন পর্যন্ত অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং তারা নানা ধরনের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন—এ কারণে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে। এ ছাড়া অভিনেত্রী বাঁধনকেও হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রকাশ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন একটি দলের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। পুনর্মিলনের ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলে আওয়ামী লীগেরই নিজেদের অবস্থান থেকে তা জানানোর কথা ছিল।

তিনি বলেন, দুই বছর পর দলটির আচরণ দেখে পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। ক্ষমা চাওয়া বা অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে তারা হুমকি দিচ্ছে এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Continue Reading

top1

হুতির হামলা: নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রাসাদ থেকে প্রাসাদে ছুটছেন সৌদি যুবরাজ সালমান

Published

on

By

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কায় একের পর এক প্রাসাদ বদলাতে হচ্ছে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই প্রাসাদগুলোয় রয়েছে বাংকার-সুবিধা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর জনসমক্ষে দেখা যায়। সেদিন তিনি দেশটির একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দেন। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুবরাজের নিরাপত্তায় তার পছন্দের একটি বিশেষ দল নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

বিন সালমানের এই ‘প্রাসাদ থেকে প্রাসাদে পালানো’র এই খবর এমন এক সময়ে আসছে যখন হুথিরা ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাজধানী রিয়াদে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বারবার হামলার মুখে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

হামলার বিষয়ে অবহিত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্রদের ওপর এটিই ছিল এককভাবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এতে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালা রক্তক্ষরণে মারা যান। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। হতাহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটেছে।

সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

১ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এই হামলাগুলো সৌদি আরবের রাজধানী রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যখন খবর বেরিয়েছে যে দেশটির ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উৎক্ষেপিত ইরানি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সৌদি আরবও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো বিপুল পরিমাণে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করেছে। ফলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মধ্যে আছে।

এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে এর জবাবও সমান গুরুতর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ২০১৫ সাল থেকে সংঘাত চলছে। ওই বছর ইয়েমেনের সরকারের পক্ষে দেশটির গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা শেষে হুতি নেতাদের নিয়ে তেহরান থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। বদলা নিতে হুতিরা আবার হামলা শুরু করে।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র মিত্র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার মতে, এই সংঘাত শুধু ইসরায়েলি শাসনকেই লাভবান করবে।

রোববার রাতে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংঘাতের বিস্তার নিয়ে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি সামরিক পন্থার ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা করতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য নিউ এরাব

Continue Reading

Trending