Connect with us

top1

এনসিপি নেতাদের যত সম্পদ

Published

on

দল গঠন করেছে এক বছরও হয়নি। অনেকেরই শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে মাত্র এক দেড় বছর আগে। প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এরপরও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের হলফনামায় উঠে এসেছে বিপুল সম্পদের হিসাব। এর মধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজেকে পরামর্শক পরিচয় দিয়ে ৩২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন। আর মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ যে সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন, তা তার বাবার সম্পদের চেয়েও ১৮ গুণ বেশি। ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণ ও ১৩ লাখ টাকা নগদ দেখিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সম্পদও ৩৩ লাখ টাকার বেশি। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মনোনয়নপত্র জমার সময় হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরও সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে আইনে।

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেই কোনো স্থাবর সম্পদ, নেই তার নামে কোনো মামলাও। ৩২ লাখ টাকার সম্পদের সঙ্গে তাঁর ৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন হলফনামায়। ২৭ বছর বয়সি এ নেতা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন পরামর্শক। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারে ছয় মাস উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলিয়েছেন। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নাহিদ ১৩ লাখ টাকার বেশি আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। ঢাকা-১১ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য তুলে ধরেছেন নাহিদ। হলফনামায় নাহিদের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটির বাড্ডার বড় বেরাইদ। থাকছেন দক্ষিণ সিটির গোড়ান এলাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে। নাহিদের নিজের অর্জনের পৌনে ৮ লাখ টাকা মূল্যের অলংকার এবং স্ত্রীর রয়েছে ১০ লাখ টাকার গয়না।

এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন অফিসে দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আখতার হোসেনের গাড়ি ও বাড়ি নেই। তবে নিজের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ১৬ লাখ টাকা। নগদ আছে ১৩ লাখ টাকা। স্ত্রী সানজিদা আক্তারের আছে ৪ লাখ টাকা। নিজের ব্যাংকে জমা আছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪২৬ টাকা। হলফনামায় পেশা হিসেবে আখতার হোসেন ‘শিক্ষানবিশ আইনজীবী’ এবং স্ত্রী ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে আখতার হোসেনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। নিজের ৭ লাখ ও স্ত্রীর আছে ১০ লাখ টাকার গয়না। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৮ শতাংশ কৃষি জমি। যার বর্তমান মূল্য ২৩ হাজার টাকা।

এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে হঠাৎ আলোচনায় আসা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা যায়, হান্নান মাসউদের কাছে বর্তমানে টাকা রয়েছে ৩৫ লাখ আর তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের কাছে টাকা রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার। সে হিসেবে হান্নান মাসউদের কাছে বাবার চেয়ে ১৮ গুণের চেয়ে বেশি টাকা রয়েছে।

হলফনামায় হান্নান মাসউদ নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজেকে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক সমমান) পাস উল্লেখ করে ঢাকায় ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখিয়েছেন। এতে তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রয়েছে ১ হাজার ৫৫ টাকা।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৮ আসন থেকে। নির্বাচন উপলক্ষে তিনি ইতোমধ্যেই হলফনামা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। হলফনামায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীর মোট ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারের হিসাব দিয়েছেন। হলফনামায় দেখা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে নগদ আছে ২৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর মিলে ২২ লাখ টাকার গয়না রয়েছে। হলফনামায় পেশা হিসেবে মার্কেটিং কনসালটেন্সির বিষয় উল্লেখ করেছেন পাটওয়ারী। তার নামে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। পেশা থেকে বার্ষিক আয় ২ লাখ ২ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। চাকরি করে তিনি বছরে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার হাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা রয়েছে। হলফনামায় আরও দেখা গেছে, ব্যাংকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ হাজার ২৭৫ টাকা জমা আছে, তবে স্ত্রীর নামে আছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৮০ টাকা।

পঞ্চগড়-১ আসন থেকে ভোটে অংশ নিচ্ছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন হলফনামায়। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। দান পাওয়া কৃষি জমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্জনের সময় যার মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা; যা বর্তমানে হয়েছে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তার নির্বাচনি হলফনামায় নিজের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেন। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা ও নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা রয়েছে। তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তার নামে বাড়ি, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা ভবন কিছুই নেই। তবে তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৯ আসন থেকে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী জারার সম্পদ আছে ১৯ লাখ টাকার। বছরে চাকরি থেকে আয় করে ৭ লাখ টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন। তাসনিম জারার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা, সম্পদ আছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকার, আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা। কোনো মামলা, ঋণ, দায় বা সরকারি পাওনা নেই। নেই বাড়ি, ফ্ল্যাট, কৃষি বা অকৃষি জমিও। অলংকার আছে আড়াই লাখ টাকার। ব্যাংকে নিজ নামে জমা আছে ১০ হাজার ১৯ টাকা, হাতে নগদ আছে ১৬ লাখ টাকা ও ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৩টিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিন প্রার্থীই উচ্চ শিক্ষিত। এর মধ্যে দুজনের সম্পদ ও আয় অপেক্ষাকৃত কম হলেও একজন কোটিপতি। দুজনের দেশে ও দেশের বাইরে রয়েছে আয়ের উৎস।

হলফনামা থেকে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এহতেশামুল হক ছিলেন দ্বৈত নাগরিক। চলতি বছরের ২২ অক্টোবর তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। মাস্টার্স পাস এহতেশামুল হক পেশায় পরামর্শক (কনসালট্যান্ট)। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকারের একজন কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি। স্ত্রী সাবিনা আক্তার পেশায় যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি কাউন্সিলর ক্যাবিনেট মেম্বার।

দেশের ভিতরে এহতেশামুলের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও দেশের বাইরে আয় ৬ লাখ টাকা। দেশের বাইরে তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৪০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়িও রয়েছে। এহতেশামুলের কাছে নগদ সাড়ে ৩ লাখ ও ব্যাংকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা রয়েছে। নিজের নামে ৩ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। হলফনামায় এহতেশামুল উল্লেখ করেছেন তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৫  লাখ টাকা।

সিলেট-৩ আসনে এনসিপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ একসময় যুক্তরাজ্যে ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী জুনেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলএম।

তার স্ত্রী তানজিনা শহীদ পেশায় চিকিৎসক। হলফনামায় নুরুল হুদা জুনেদ উল্লেখ করেছেন তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আইন পেশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে ৮০ হাজার টাকা জমা আছে। ১০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি, ১০ ভরি স্বর্ণ, ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অর্জনকালীন অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন ব্যারিস্টার জুনেদ। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪ কেদার কৃষি, অকৃষি জমি ১ কেদার ও যৌথ মালিকানায় ৭ কেদার জমিসহ একটি দোতলা বাড়ি। তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন।

সিলেট-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী মো. রাশেল উল আলম পেশায় আইটি ডেভেলপার। তিনিও একসময় যুক্তরাষ্ট্রে সপরিবারে বসবাস করতেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রানু বেগম সেখানকার ব্যবসায়ী।

রাশেলের দেশের ভিতরে বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ টাকা ও দেশের বাইরে ৬২ লাখ টাকা। দেশের বাইরে স্ত্রীর বার্ষিক আয় রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। রাশেলের ব্যাংকে কোনো টাকা নেই, নগদ আছে ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা। স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের কাছে নগদ আছে ৪০ লাখ টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণ, ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য ও ৪ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। রাশেলের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ৬০ ডেসিমেল অকৃষি জমি ও ১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৫ টাকা মূল্যের একটি বাসা। হলফনামায় রাশেল তার স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ ২২ হাজার ২৮৫ টাকা উল্লেখ করেছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলছে ভারত

Published

on

By

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ভারতের একজন কূটনীতিকের বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের বৈঠককে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে। জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটিও সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের শুরুতে তিনি ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেও ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো পথ নেই।

এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে সে সময় কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য এলো

Continue Reading

top1

জামায়াতের জোট থেকে দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে চরমোনাই পীরের আহ্বান

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের জোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। এ সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি থেকে সরে এসেছে। তাই ১১ দলীয় জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

ইসলামপন্থী দলগুলোর জন্য আলোচনার দরজা খোলা আছে, বলেও জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে জামায়াত।

দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিলেন, এর ফলে সেই প্রত্যাশা পূরণ পূরণ হওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।

ইসলামের নীতি থেকে জামায়াত সরে এসেছে দাবি করে একলা পথে গিয়ে ২৬৮টি আসনে লড়ার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
বাকি আসনগুলোতে বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সাথে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন চরমোনাই পীরের দল।

Continue Reading

top1

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব নথি জব্দের দাবি চিকিৎসকদলের প্রধানের

Published

on

By

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সব নথিপত্র জব্দ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বর্তমান চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এ দাবি তুলে ধরেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–এর জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষার শুরুতেই তারা দেখতে পান, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, অথচ বিএমইউর ছাড়পত্রে তাকে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের জন্য ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধ নিয়মিত সেবনের নির্দেশ দেওয়া ছিল এবং ভর্তি অবস্থাতেও সেটি খাওয়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে ওষুধ বন্ধ করে ন্যূনতম একটি আলট্রাসনোগ্রাম করানো প্রয়োজন। কিন্তু সরকার গঠিত মেডিকেল টিম ম্যাডামের লিভার ফাংশন খারাপ দেখার পরও কোনো আলট্রাসনোগ্রাম করেনি এবং ওষুধটিও বন্ধ করেনি।”

তিনি দাবি করেন, এই অবহেলার কারণেই ফ্যাটি লিভার দ্রুত সিরোসিসে রূপ নেয়। “মেথোট্রেক্সেট তার লিভারের জন্য কার্যত ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে”—বলেন তিনি।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, তৎকালীন চিকিৎসকদের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে খালেদা জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফিতে রাজি হননি, তবে বেডসাইড ‘পয়েন্ট-অব-কেয়ার’ আলট্রাসনোগ্রাম সহজেই করা যেতো।

তিনি অভিযোগ করেন, “চিকিৎসায় এমন অবহেলা খালেদা জিয়ার অবস্থাকে দ্রুত অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা কি না বা পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ কি না—তা বিশদভাবে তদন্ত করা জরুরি।”

তার ভাষ্য, মেডিকেল বোর্ডের কাছে ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলারও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এজন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটির মাধ্যমে তিনটি বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন— সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন, কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা দায়িত্ব পান, এবং ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কি না; ভর্তিকালে কারা চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না; বিএমইউতে চিকিৎসার সময় খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে আইনজীবীর মাধ্যমে যে অনুরোধ করেছিলেন, তা কেন গ্রহণ করা হয়নি এবং কারা বাধা দিয়েছিল।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএমইউয়ের সব চিকিৎসা-নথি জব্দ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

Continue Reading

Trending