Connect with us

রাজনীতি

কয়দিন পর হয়তো বলবে, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক : রিজভী

Published

on

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ, মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছপা হন না।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির উদ্যোগে পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা করেন।

জামায়াত আমিরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের মা-বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তখন সেই অত্যাচারকে আপনারা অত্যাচার বলেননি। সেই নির্যাতনকে আপনারা নির্যাতন হিসেবেও স্বীকার করেননি; বরং তাদের আপনারা সমর্থন করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আজ কোন মুখে, কোন দুরভিসন্ধি নিয়ে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলছেন? কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম সাহেবই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক— এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ, মিথ্যা বলতে আপনারা পিছপা হন না।

তিনি বলেন, জামায়াতের আমির নারীদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্য করেছেন, তাতে সারা দেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সেই ক্ষোভ ঢাকতেই তিনি এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে সত্য আড়াল করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা (জামায়াত) ১৯৮৬ সালে বলেছিলেন এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। শেখ হাসিনাও বলেছিলেন, যারা যাবে তারা জাতীয় বেইমান। কিন্তু শেখ হাসিনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনে গেছেন, জামায়াতে ইসলামও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেছে। জনগণের কাছে ওয়াদা করে পরে আপনারা সেই ওয়াদা খেলাফ করেছেন। সে সময় বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে যাননি। তিনি নয় বছর সংগ্রাম করেছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাকে বন্দি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গৃহবন্দি করা হয়েছে তারপরও তিনি তার কথার বরখেলাপ করেননি। সত্যের মুখোশ একসময় খুলে পড়ে। আজ নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তাদের আসল চরিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।

রিজভী বলেন, গতকাল চট্টগ্রামে জামায়াতের আমির যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তিনি নিজেও কখনও এমন দাবি করেননি। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি তখন একজন মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সঙ্গে যিনি সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, তিনিও নিজের লেখায় বারবার অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এখন হঠাৎ করে রাজনৈতিক স্বার্থে এসব কথা বললে মানুষ কি তা গ্রহণ করবে? তিনি তো তার সামরিক বা পেশাগত জীবনে কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। এমনকি জিয়াউর রহমান দল গঠন করার সময়ও তিনি তার সহকারী হিসেবেই ছিলেন। এসব তথ্য তার প্রকাশিত বইয়েও রয়েছে।

শবেবরাতের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, শবেবরাত একটি পবিত্র রজনী। এই রাতে বিশ্বের মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হন। ইসলামের প্রতিটি উৎসবই আল্লাহর করুণা ও নেয়ামত লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত হোক তা ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবেবরাত বা শবেকদর। এসব পবিত্র দিন ও রাত মানুষের মধ্যে আত্মশুদ্ধির অনুভূতি সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, আজ দেশে দেশে সংঘাত, রক্তপাত, পাপ ও অনাচার বাড়ছে। কারণ, মানুষ আল্লাহর কাছে আত্মনিবেদনের চর্চা করছে না। পবিত্রতা ও শুদ্ধতার চর্চা না থাকলেই সমাজে ভয়াবহ অপরাধ ও নোংরা ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। যখন মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে না, তখনই সমাজে এই অনাচারগুলো বিস্তার লাভ করে।

রিজভী অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা করে ফায়দা লুটতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। অথচ এ দেশের মুসলমানরা ইসলামকে ব্যবসার বস্তু নয়, জীবনাচরণের আদর্শ হিসেবে ধারণ করে। আলেম-ওলামাদের দায়িত্ব হলো ইসলামের প্রকৃত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা, কিন্তু ধর্মের নামে মুনাফেকি করলে সমাজে পাপ-পঙ্কিলতা বাড়বেই।

তিনি বলেন, প্রকৃত মুসলমান কখনো মিথ্যা বলতে পারে না, মুনাফেকি করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বারবার মুনাফেকদের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। ইসলামের নামে রাজনীতি করতে গিয়ে যদি মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে হয়, তাহলে সেটি ইসলামের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা।

নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। ইসলামের প্রথম বাণী গ্রহণকারী ছিলেন একজন নারী হজরত বিবি খাদিজা (রা.)। মায়ের কাছ থেকেই সন্তানরা প্রথম নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে। অথচ আজ নারীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে পরে নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। এতে সারা দেশে ‘ছিছি’ পড়েছে এবং নারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।

তিনি বলেন, এই ক্ষোভ ঢাকতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। কিন্তু এই কৌশল কাজে আসবে না। নারীদের প্রতি অবমাননামূলক বক্তব্যের দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

বন্ধুর ডাকে শপিং মলে গিয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর, আদালতে শুনানি কাল

Published

on

By

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী চট্টগ্রাম এলাকার এক সংসদ সদস্য মোবাইলে ফোনে ডেকে নিয়ে শপিং মলে দেখা করার কথা বলে দুবাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার (১৫ জুন)সহ গত কয়েক দিন দুবাইয়ে সরকারি ছুটি থাকায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাইয়ের একটি আদালতে বেনজীর আহমদের জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি হতে পারে। এ জন্য তার পক্ষে দুবাইয়ের একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

বেনজীর আহমদের স্ত্রীর বরাত দিয়ে তার একসময়ের স্টাফ অফিসার বলেন, বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের মতো গত ১২ জুন দুবাইয়ের বাসায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় তার বন্ধু চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে কল করে বাসার পাশের একটি শপিং মলে দেখা করার কথা বলেন। তিনি বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শপিং মলে গেলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ওই সংসদ সদস্যের লোকজন উপস্থিত ছিল বলে আমরা জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক জারি করা ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই সংসদ সদস্য দুবাই পুলিশের কাছে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করান।

আটকের সঙ্গে সঙ্গে এ খবর পৌঁছে যায় দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত পলাতক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে। পরে তার পরিবার ও দুবাইয়ে অবস্থানরত নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনাটি দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট থানায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ আরেকজন জানান, আটক হওয়ার পর পুলিশ প্রথমে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ কী করছেন, কত দিন ধরে অবস্থান করছেন, ভিসার বৈধতা এবং তার দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তাও যাচাই করা হয়। এতে তারা নেতিবাচক কোনো তথ্য পায়নি। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ও তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এবং বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকায় চলমান একটি মামলার এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আমরা দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিই। ওই আইনজীবীর পরামর্শে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার নথিপত্র ঢাকা থেকে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের দিন ১২ জুন শুক্রবার দুবাইয়ের আদালত খোলা থাকলেও তা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া শনি ও রোববার দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামিক নববর্ষ (হিজরি ১৪৪৮) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সরকারি ছুটি পালন করে। অর্থাৎ টানা তিন দিন সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

তাই ওই দিনই দুবাইয়ের আদালতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে হাজির করা হতে পারে। যদি দুবাই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর জন্য বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আবেদন করে, তাহলে তার আইনজীবী ওই আদালতে জামিন চাইবেন। আর যদি আদালতে তাকে হাজির করা না হয়, তাহলে আইনজীবী স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রসিকিউশন দপ্তরে বেনজীর আহমেদের পক্ষে আবেদন করবেন। এ লক্ষ্যে শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বেনজীর আহমদকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে জানতে ওই সংসদ সদস্যের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে সোমবার বিকেল ৫টার পর থেকে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। পরে এই বিষয়ে প্রশ্ন রেখে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটি তিনি দেখলেও কোনো উত্তর দেননি। কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবার কল দিলে এবার তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু তার নাম ও সংসদীয় আসন ধরে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।

এদিকে দুবাই থেকে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপি। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পুলিশ ইন্টারপোলে যে আবেদন করেছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ দুবাই পুলিশকে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করানোটা দুবাই আদালত সহজভাবে দেখবেন না বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করানোর পেছনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিরোধ রয়েছে বলে শুনেছি। পরে দুবাই পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরকে অবগত করে। এখন যদি বাংলাদেশ সরকার তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষাপটও দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তর বিবেচনায় নেবে। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। কিন্তু মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তরে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে অভিযোগ অনেকাংশে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান ধর্মমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। তাকে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক চেষ্টা করেও দুবাই সরকারের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনতে পারেনি। কারণ তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে সরকারের করা মামলার আসামি ছিলেন।

তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগে দুবাই পুলিশ আরাভ খানকে আটক করেছিল। যিনি পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হত্যা মামলার আসামি এবং তাকেও ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড অ্যালার্টের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আদালতে আরাভ খান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি ভারতের পাসপোর্টধারী হওয়ায় তাকে এখনো বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। বেনজীর আহমেদও বাংলাদেশ থেকে দুবাই যাওয়ার সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে চলাচল করছেন। আবার কেউ বলছে তার কাছে কোনো পাসপোর্টই নেই। ফলে পরিচয়-সংকটে তাকে বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হন এবং তার বিরুদ্ধে যেহেতু ইন্টারপোলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাই বাংলাদেশের পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, ইন্টারপোলের নিয়মিত পদ্ধতিতে গ্রেপ্তার হয়েছে নাকি গ্রেপ্তারে অন্য কোনো ইস্যু আছে কি না এবং এক মাসের মধ্যে যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে বলে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে

Continue Reading

top1

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন: জিএম কাদের

Published

on

By

আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে বৃহৎ একটি গোষ্ঠিতে রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিশাল জনগোষ্ঠির রাজনৈতিক অধিকার বহাল না করলে দেশে স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

সোমবার (১৫ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক (ব্যবসা-বাণিজ্য) নিরিাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই মুহুর্তে দেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের স্থবিরতা দূর করা সম্ভব না।

জিএম কাদের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হলে, তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হলে, নির‌্যাতন ও নিপিড়নের মাধ্যমে দমন করে রাখা হলে, বিশাল জনগোষ্ঠি সব সময় তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম সক্রিয় থাকার চেষ্টা করবে। ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তার কোন দিকনির্দেশনা নেই। বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। এই খরচ কমানোর কোন সুযোগ নেই, বরং বেড়ে যাবে। রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এটা কোনভাবেই সম্ভব না। বিশেষ করে অর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের হাতে কর দেওয়ার মত যথেষ্ট অর্থ আছে বলে মনে করিনা।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে কখনই ৭৭ শতাংশের বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় রাজস্ব আহরণ এবার কমে যাবে বলে আমি মনে করছি। আমার হিসাবে বাজেটের ঘাটতির আকার দাঁড়াবে প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ পরিচালন ব্যয়ে মেটাতে সরকারকে ২ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ঋণ নির্ভর বাজেট, সে বিবেচনায় বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলা যায়। তবে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে যে, বাস্তবায়নের ব্যত্যয় সমুহ পরবর্তীতে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করার আশঙ্কা থাকবে।

জিএম কাদের বলেন, আমি মনে করি সরকারের উচিত হবে, সবাইকে নিয়ে পথচলা। রাজনৈতিক ঐক্যমত ছাড়া এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব না। ইরান যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে মন্দা নেমে আসতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। বাজেটে সেই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়নি।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, হাজী সাইফুদ্দীন আহমেদ মিলন প্রমুখ।

Continue Reading

রাজনীতি

প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা : মামুনুল হক

Published

on

By

২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মেগা-বাজেট হতে পারে, কিন্তু এটি মূলত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল করার এক বিশাল উচ্চাভিলাষী মহাপ্রকল্প। এই বাজেট কোনোভাবেই জাতির বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন নয়, বরং এটি জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা।’

শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার গালভরা এই বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা পূরণের জন্য সরকার এখন বৈদেশিক দাসত্ব এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর দেদারসে হাত বাড়াবে। ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণের অর্থ হলো, বেসরকারি খাতের গলা টিপে ধরা, দেশীয় বিনিয়োগকে পুরোপুরি স্থবির করে দেওয়া এবং জনগণের আমানতকে ঝুঁকিতে ফেলা। বিগত সময়ের ভুলনীতি এবং ঋণের ফাঁদে জর্জরিত অর্থনীতিকে সচল রাখার নামে সরকার দেশকে এক দীর্ঘমেয়াদী দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার চড়া মূল্য দিতে হবে এদেশের খেটে খাওয়া আমজনতাকে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, ব্যাপক বেকারত্ব, ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট এবং শিল্প ও কৃষিখাতের চরম স্থবিরতায় দিশেহারা। সরকার যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার রূপকথা শোনায়, তখন বাজার বাস্তবতায় তা জনগণের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো শোনায়। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ সরকার রাজস্ব আদায়ের নামে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে দানবীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা আদায়ের চাবুক চালানো হবে মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগণের পিঠে। নতুন কর আরোপ এবং পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়ে ধনীদের আরও ধনী এবং দরিদ্রদের আরও নিঃস্ব করার এক পুঁজিপতিবান্ধব দলিল পেশ করা হয়েছে।’

বাজেটের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের বৈষম্য তুলে ধরে আমিরে মজলিস বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় কোন মন্ত্রণালয়ে কত বরাদ্দ দেওয়া হলো, তার খতিয়ান দেখলেই স্পষ্ট হয় যে, এই সরকার গণমানুষের প্রকৃত সংকট মোচনে কতটা উদাসীন ও লোকদেখানো নীতিতে বিশ্বাসী। কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৭,৮৮১ কোটি টাকা। দেশের সিংহভাগ মানুষ যেখানে কৃষির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই যৎসামান্য বরাদ্দ দিয়ে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া কৃষকদের সাথে এক ধরণের তামাশা। অন্যদিকে, জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণের নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১,০৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কৃষি খাতের চেয়েও বেশি! এটা কি কৃষিকে বাঁচানোর বাজেট নাকি আমলাতান্ত্রিক শাসনযন্ত্রকে চাঙ্গা রাখার বাজেট?

বাজেটে দ্বীনি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একইভাবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বিভাজন করলেই সরকারের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৫৭,৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬,৭৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর দ্বীনি ও কর্মমুখী শিক্ষার এই খাতকে এভাবে চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যেখানে মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় দেশের স্বাস্থ্যখাত ভঙ্গুর, সেখানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯,৩৮৭ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে মাত্র ১৩,৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার সুদূরপরাহত।’

মাওলানা মামুনুল হক গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই বাজেট কতটা গণবিচ্ছিন্ন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে নিহত বহু শহীদের আত্মত্যাগকে এই বাজেটে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দীর্ঘদিন ধরে শাপলা শহীদ পরিবারসহ সকল শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসার জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের ভূত এখনো বাজেট প্রণেতাদের ঘাড় থেকে নামেনি, যার কারণে এই মহান শহীদদের দাবি আবারও উপেক্ষিত হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে অবিলম্বে কৃষি, শিক্ষা (বিশেষ করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করতে হবে, অর্থপাচারকারী, ব্যাংকডাকাত ও ঋণখেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, বাজার সিন্ডিকেটের হোতাদের কারাগারে পাঠাতে হবে এবং শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারসহ সকল শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে পৃথক বিশেষ বরাদ্দ সংযোজন করতে হবে। অন্যথায়, এই তথাকথিত মেগা-বাজেট জনআকাঙ্ক্ষার মরণফাঁদ হিসেবেই ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Continue Reading

Trending