Connect with us

আইন-শৃঙ্খলা

কারাগারে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে বিশেষ খাবার খেলেন সাবেক আইজিপি মেয়র এমপিরা

Published

on

ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের নতুন পোশাক ও বিশেষ খাবার দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দিদের জন্য আলাদা আলাদা ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকা শিশুদের মধ্যে বিশেষ খাবারের পাশাপাশি নতুন জামা, চকলেট, কেক, চিপস বিতরণ করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এই কারাগারে বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম মো. শহীদুল হক, নারায়নগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা. আইভি রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মমতাজ বেগম, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবুর মতো বিশেষ ব্যক্তিরা। তারা সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে কারাগারের দেওয়া খাবার খান।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই কারাগারে ২ হাজার ৬০০ বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪২৬ জন ফাঁসির এবং ৪০৮ জন যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আসামি রয়েছেন। ঈদের আগের দিন অসহায় বন্দিদের মধ্যে ৪০টি লুঙ্গী-গামছা, ৫০টি পাঞ্জাবি ও ৫০টি গেঞ্জি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কারাগারে ঈদের নামাজের জন্য ১৭টি জামাতের আয়োজন করা হয়।

বন্দিদের খাবারের তালিকায় সকালে ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, সালাদ ও কোমল পানীয়, পান-সুপারি, মিস্টি এবং রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দিদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ কারাগারে উল্লেখযোগ্য বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, নড়াইলের সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি, সাবেক আইজিপি মো. শহিদুল হক, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু, শাকিল আহমেদ।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর সিনিয়র সুপার নজরুল ইসলাম জানান, তার কারাগারে ১ হাজার ২০৪ জন বন্দি রয়েছেন। এরমধ্যে শতাধিক ফাঁসি, অর্ধশতাধিক যাবজ্জীবনের আসামি রয়েছেন। এ কারাগারে বন্দিদের জন্য ঈদের তিনটি জামাতের আয়োজন করা হয়। খাবারের তালিকায় সকালে ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, সালাদ, পান সুপারি, মিস্টি ও কোমল পানীয়। আর রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ। এ ছাড়া ঈদের আগে অস্বচ্ছল বন্দিদের মধ্যে ৬০টি লুঙ্গি ও ২৫টি পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়।

কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর সুপার মো. আল মামুন জানান, তার কারাগারে ৩ হাজার ৮০০ বেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে শতাধিক ফাঁসি ও শতাধিক যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আসামি রয়েছেন। কারাগারে ঈদের সাতটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ ছাড়া সকালে বন্দিদের খাবারের তালিকায় ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, পান-সুপারি, সালাদ, মিস্টি ও কোমল পানীয় এবং রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ। এ ছাড়া কারাগারের অসহায় ২০০ বন্দিকে শার্ট, ২০০ বন্দিকে পাঞ্জাবি ও ১০০ বন্দিকে লুঙ্গি দেওয়া হয়েছে। এ কারাগারে উল্লেখযোগ্য বন্দিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ছাগলকাণ্ডে জড়িত মো. মতিউর রহমান।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, এখানে ৬৪৪ বন্দি রয়েছেন। কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দিরে সঙ্গে ৩৩ জন শিশু রয়েছে। ফাঁসির আসামি রয়েছেন ৩৬ জন ও যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ৬৬ জন আসামি রয়েছেন।

এ কারাগারে উল্লেখযোগ্য বন্দিদের মধ্যে নারায়নগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা. আইভি রহমান, সাবেক এমপি মমতাজ বেগম ও সাবিনা আক্তার তুহিন রয়েছেন। সকল নারী বন্দিদের লিপস্টিক, নেইল পলিশ, টিপ ও মেহেদী দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অসহায় ২১ বন্দিকে থ্রি-পিস ও শাড়ি দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের কেক, মিষ্টি, চিপস, চকলেট ও বিশেষ খাবারের পাশাপাশি নতুন জামা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলার শিরিন আক্তার। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে এ কারাগারে খাবারের তালিকায় সকালে ছিল পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে মাংস, পোলাও, কোমল পানীয়, পান-সুপারি, সালাদ ও মিষ্টি এবং রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুইমাছ দেওয়া হয়েছে। বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের রজনীগন্ধা স্টিক, জুস, চকলেট দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আইন-শৃঙ্খলা

রায় হলেও কার্যকর হয়নি কোনো নারীর ফাঁসি

Published

on

By

ফাঁসির রায় হয়েছে, বছরের পর বছর কেটেছে কারাগারের কনডেম সেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশে ফাঁসির মঞ্চে উঠতে হয়নি কোনো নারী আসামিকে।

স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। তবে দেশে এখন পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার নজির নেই।

ফাঁসি থেকে বাঁচতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীদের করতে হয়নি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনও। কিংবা কেউ আবেদন করেছেন, এমন দৃষ্টান্তও নেই।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী আসামির আবেদন সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে গেলেই দণ্ড কমে হয়ে যায় যাবজ্জীবন। তখন জীবন কাটে ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্মিত কনডেম সেলে।

কেন কার্যকর হয় না নারীদের মৃত্যুদণ্ড? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে এসেছে আইনি প্রক্রিয়া, বিচারিক ধীরগতি ও বিশেষ মানবিক বিবেচনার নানা তথ্য।

জানা যায়, দেশের একমাত্র নারী কারাগার গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারেও কোনো ফাঁসির মঞ্চ নেই। ২০০৭ সালে কারাগারটি চালু হলেও সেখানে ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণ করা হয়নি। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকরের নজির নেই।

কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের কারাগারে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী আসামি আছেন ৯৪ জন। এর মধ্যে কাশিমপুর কারাগারেই ৫৪ জন। তবে তাদের কারও ফাঁসির রায় কার্যকরের পথে রয়েছে আইনি জটিলতা।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতের রায়ের পর আপিলের সুযোগ থাকে আসামির। উচ্চ আদালতে অনেক সময় শাস্তি কমে যায় বা আসামি পেয়ে যান খালাসও। তাই হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ছাড়া কার্যকর হয় না ফাঁসি। নারী আসামিদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আপিলেই যাবজ্জীবনে রূপান্তরিত হয় ফাঁসির দণ্ড। মামলা থেকে খালাসও পেয়েছেন অনেকে।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার তানিয়া ফারজানা বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদিদের জন্য আলাদা ভবন থাকলেও রাখা হয়নি ফাঁসির মঞ্চ। কারণ দেশে নারীর ফাঁসির কোনো নজির নেই। যেখানে কোনো নারীর ফাঁসিই হয়নি, সেখানে মঞ্চ তৈরি করবে কেন?—তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সিলেট ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নারী কয়েদিদের জন্যও নেই আলাদা কনডেম সেল। পুরুষ আসামিদের জন্য থাকলেও তা তৈরি করা হয়নি নারীদের জন্য। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না গর্ভবতী নারীর। এ ছাড়া বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণেও স্থগিত করা হয় ফাঁসি।

কারা সূত্র জানায়, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন্নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি, ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী হত্যা মামলার দুই আসামি রীতা আক্তার ও রুমা ওরফে রেশমা এবং মা-বাবা হত্যা মামলায় দণ্ডিত ঐশী রহমানসহ আরও অনেকে। তাদের বেশিরভাগের মামলাই বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় শিথিলতা রয়েছে নারী আসামিদের জামিনে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে নারীদের মামলার নিষ্পত্তি হতে বছর পেরিয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থার চাপও আরও তীব্র হয় নারীদের ক্ষেত্রে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফ জামিলের মতে, নারীদের ফাঁসি কার্যকরে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, আপিলে সাজা হ্রাস, সামাজিক বাস্তবতা এবং বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছায় না।

এদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নারীর ফাঁসি কার্যকরের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের আলোচিত আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ২০২৪ বছরের আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশর ইতিহাসে ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে একজন মাত্র নারীর। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমি আবেদন করেছি কারা মহা অধিদফতরের কাছে।’ এ সময় সেই তথ্য এখনও পাননি বলেও জানান তিনি।

কনডেম সেল কী

কনডেম সেল হলো কারাগারের সেই বিশেষ কক্ষ বা আবাসন, যেখানে শুধু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের রাখা হয়। বাংলাদেশে কনডেম সেল বলতে সবসময় আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ বোঝায় না। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব বন্দির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং যাদের মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বা রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। এই পৃথক আবাসনই হচ্ছে কনডেম সেল।

প্রতিবেশী ভারতে নারীর ফাঁসি!

ভারতে স্বাধীনতার পর থেকে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নিশ্চিত নজির নেই। তবে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা শবনমকে মৃত্যুদণ্ড দেন দেশটির আদালত। ২০০৮ সালে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে বাবা-মা, দুই ভাই, ভাবি এবং মাত্র নয় মাস বয়সী এক শিশুসহ পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করেন তিনি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। রাষ্ট্রপতির কাছেও ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন খারিজ হয়।

শবনমের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি হিসেবে উত্তর প্রদেশের মথুরা কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে আজও তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

ফলে স্বাধীনতার পর ভারতেও এখন পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকরের নজির প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে শবনমের মামলাটি দেশটিতে নারী মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরানে নারী মৃত্যুদণ্ডের চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আব্দর রহমান বোরোমান্ড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রয়া বোরোমান্ড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রয়া বোরোমান্ড জানিয়েছেন, ইরানের আইন অনুযায়ী খুনের অপরাধে কারাদণ্ডের পরিবর্তে সাধারণত দুটি পথ খোলা থাকে। ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষমা করে দিতে পারে অথবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

রয়া বোরোমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অন্তত ২৩৩ জন নারীর মৃত্যুদণ্ডের তথ্য নথিভুক্ত করেছে তাদের সংস্থা। এর মধ্যে ১০৬ জনকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে এবং ৯৬ জনকে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অল্পসংখ্যক নারীকে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কসংক্রান্ত অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

সুত্র: আগামীর সময়

Continue Reading

top1

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দুজনকে আটক ও তাদের কাছ থেকে চোরাই তামার তার উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসির সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তার চুরি করেন।

পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রেজাকুলের তথ্যে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডে একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আজ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এই রহস্য উদঘাটন করেছি। সংশ্লিষ্ট রঞ্জন চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছি। এছাড়া ৮ কেজি তার উদ্ধার করা হয়েছে একটি ভাঙারির দোকান থেকে, যেখানে তার বিক্রি করেছিল রঞ্জন। এছাড়া ভাঙারির দোকান মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুন সচিবালয়ের দায়িত্বরত কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন লাইনগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। সচিবালয়ের পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান কপার ক্যাবলগুলো ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন।

কোথাও কোথাও তার কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় তার ছিল না। এতে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়; বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

Continue Reading

top1

স্বজন-প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যে উঠে এলো রামিসা হত্যার ভয়াবহ চিত্র

Published

on

By

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ১৯ মের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ একে স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দেন।

আদালতে সাক্ষীরা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, রক্তাক্ত ঘরের দৃশ্য এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন।

রামিসার চাচি আদালতে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেন, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গিয়ে দেখি বাসায় ভিড় ও কান্নাকাটি চলছে। ঘরে গিয়ে খাটের নিচে এক পাশে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। তখন পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘আমি গলাকাটা মরদেহ দেখেছি, ধর্ষণের দৃশ্য দেখিনি।’

রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, ‘আমি মেট্রোরেলে থাকাকালে স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাসায় এসে দেখি রক্ত পড়ে আছে। একটি বড় বালতির মধ্যে রামিসার মাথা ছিল। তার গলা ও হাত কাটা ছিল।’ তিনি আদালতে উপস্থিত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন।

একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন রামিসার মা সোহেল রানার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্ত দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘স্বপ্নাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ভেতরের আরেকটি গেট তালাবদ্ধ ছিল। সেটি খুলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই।’

প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন আদালতে বলেন, ‘রামিসার মা ডাকাডাকি করলে ফিরে আসি। দরজা না খোলায় পরে ভেতরে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে কাপড় পড়ে থাকতে দেখি। এরপর রক্ত দেখতে পাই। স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানে না বলে। পরে খাট উঁচু করে রামিসার মরদেহ দেখতে পাই। একটি বালতির মধ্যে মাথা ছিল।’

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন আবু সামা নামের এক প্রতিবেশী। তিনি আদালতে বলেন, ‘সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাস্তা করছিলাম। তখন দেখি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তি খালি গায়ে নিচে নামছে। আমি তাকে চোর মনে করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করি। পরে পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখি।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘পরে মিডিয়ায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, জানালা দিয়ে নামা ব্যক্তিই আসামি সোহেল রানা।’

আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি পাতলা ছুরি এবং বালতির মধ্যে রামিসার মাথা দেখতে পান।

পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বিস্তারিত অংশ দুপুরে বিরতির পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সাক্ষ্যে তথ্য এসেছে। মামলার ১০ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ দুপুরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Continue Reading

Trending