Connect with us

top1

খুলনায় চলতি বছর ৩৬ হত্যাকাণ্ড, নেপথ্যে কী, বাড়ছে উদ্বেগ

Published

on

খুলনা যেন খুনোখুনির এক ভীতিকর অঞ্চল হয়ে উঠেছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি একদিনে চার খুনের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি মাসে প্রকাশ্যে আদালতের সামনে দুজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা বেপরোয়া খুনোখুনির আলোচনাকে সামনে এনেছে। সবশেষ সোমবার খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে সোনাডাঙ্গার একটি ভাড়া বাসার ভেতরে গুলির ঘটনা জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এসব ঘটনার মূলহোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

১৮ ডিসেম্বর খুলনা মহানগরীতে ইমদাদুল হক মিলন (৪৫) নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দেবাশীষ বিশ্বাস (৩৫) নামে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজার এলাকায় জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন ওই এলাকার মো. বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি ‘বর্তমান সময়’ নামের একটি নিউজ পোর্টাল চালাতেন এবং ডুমুরিয়ারর শলুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তবে এ ঘটনার রহস্য এখনও উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নগরীতে খুনের ঘটনায় ৩৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব হত্যার নেপথ্যে ১৪টি কারণ শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৩টি মামলার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। কিন্তু ১৩টি মামলার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। যা মোট হত্যাকাণ্ডের ৩৬ শতাংশ। সেগুলোর কারণ খুঁজছে পুলিশ।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‌‘‌২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে ২৩টির। ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে ১৩টি। ইজিবাইক চুরির উদ্দেশ্যে ঘটেছে দুটি, পরকীয়ার কারণে ঘটেছে দুটি, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, জমির ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটেছে একটি, চোরাই স্বর্ণের চেইন বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঘটেছে একটি, টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে ছয়টি, ব্যবসার টাকা লেনদেন নিয়ে ঘটেছে দুটি, প্রেমঘটিত কারণে দুটি, চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে হত্যার ঘটনা একটি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা হয়েছে একটি, দুই পক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে একটি, অজ্ঞাত কারণে হত্যা হয়েছে দুটি। বাকি হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে পুলিশ।’

ত ম রোকনুজ্জামান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুটি, ফেব্রুয়ারিতে একটি, মার্চে একটি, এপ্রিলে তিনটি, মে-তে পাঁচটি, জুনে তিনটি, জুলাইয়ে দুটি, আগস্টে পাঁচটি, সেপ্টেম্বরে একটি, অক্টোবরে পাঁচটি, নভেম্বরে পাঁচটি ও ডিসেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে সদর থানায় ১০টি, সোনাডাঙ্গা থানায় নয়টি, লবণচরা থানায় পাঁচটি, হরিণটানা থানায় চারটি, খালিশপুর ও দৌলতপুর থানায় তিনটি করে এবং আড়ংঘাটা থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘খুলনার অপরাধ জগত একাধিক উপদলের মধ্যে বিভক্ত। যার মধ্যে রয়েছে পলাশ গ্রুপ, গ্রেনেড বাবু গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ এবং হুমা, আরমিন এবং নাসিমের নেতৃত্বে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় আছে। নাসিম এবং আরমিনের মুক্তির পর সক্রিয় রয়েছে কার্যক্রম।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে দুই শীর্ষ অপরাধী–হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি রাজন হত্যা। গত ৩০ নভেম্বরের এ ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। ফলে হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি। একজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখালেও তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাব একজনকে গ্রেফতার করে ওই ঘটনার অন্যতম আসামি দাবি করা হয়। মূলত কেন ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর খুলনা কারাগার থেকে মুক্তি পায় শীর্ষ চরমপন্থী দলের দুই প্রধান নাসিমুন গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান ওরফে আরমিন শেখ। দৌলতপুরের আরেক সন্ত্রাসী টাইগার খোকন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাসিম ও আরমান হাইকোর্টের জামিন নিয়ে জেল থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। ফলে খুলনার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আরও একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্তৃত্ব শুরু হলো। বর্তমানে খুলনা শহরে বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়ালো। কীভাবে তারা মুক্তি পেলো তা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

এসব ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খুলনার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই শীর্ষ চরমপন্থী নেতা–নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান শেখ ওরফে আরমিন হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পরই আদালত পাড়ায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। উভয়ই দৌলতপুর-ভিত্তিক অপরাধী ‘টাইগার খোকন’ হত্যার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। মূলত তাদের মুক্তির কারণে খুলনার অপরাধ জগতে অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। খুলনায় বর্তমানে সাতটি বড় অপরাধী গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী চরমপন্থী এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলো আধিপত্যের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আরও আক্রমণ চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় আদালতে কর্তব্যরত পুলিশের কাছে কেবল লাঠি ছিল। কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। যার ফলে হস্তক্ষেপ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। কুখ্যাত গ্যাং লিডার ‘রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবু গ্রুপ’ এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত। খুলনা কারাগারে বাবুর সমর্থকদের সঙ্গে পলাশ গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় নিহতরা কারাগারে ছিলেন এবং সংঘর্ষে অংশ নেন। তার প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাব-৬-এর সিও লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যা মিশনে সাত সদস্যের টিম ছিল। গ্রেফতারকৃত এজাজুল হোসেন ছিল মূল আক্রমণকারী। ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ত এজাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে সে। মূলত খুলনা মহানগরীতে দুটি সন্ত্রাসী দলের (পলাশ ও গ্রেনেড বাবু) মাঝে কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।’ 

গত ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে সন্ত্রাসীরা নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে অর্ণব কুমার শীলকে গু‌লি ও কু‌পিয়ে হত্যা করেছিল। এ ঘটনায় পু‌লিশ বি‌ভিন্ন এলাকায় অ‌ভিযান চা‌লিয়ে অর্ণবের তিন বন্ধুকে হেফাজতে নেয়। তদন্ত করে পুলিশ এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে। মাদক সংক্রান্ত বিরোধে অর্ণব নিহত হন। এই মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দুজন আদালতে জবানবন্দি দেয়। বাকি হত্যাগুলোর রহস্য উন্মোচন হয়নি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বছরের পর বছর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ধারাবাহিকতা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৫১ জন কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেল করার ধারাবাহিকতা বছরের পর বছর চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষা নেওয়া কিংবা কালক্ষেপণের সুযোগ রাখবে না সরকার। যারা সাধারণ শিক্ষায় এগোতে পারবে না, তাদের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ। পড়ালেখা ও খেলাধুলার সমন্বয়ে বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সরদার কেরামত আলী। এতে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী।

Continue Reading

top1

ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা, আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান ঘটনাটিকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেওয়া হবে না।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা। পুনর্মিলনের পথ তৈরি করতে হলে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলটির মধ্যে এখন পর্যন্ত অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং তারা নানা ধরনের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন—এ কারণে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে। এ ছাড়া অভিনেত্রী বাঁধনকেও হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রকাশ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন একটি দলের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। পুনর্মিলনের ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলে আওয়ামী লীগেরই নিজেদের অবস্থান থেকে তা জানানোর কথা ছিল।

তিনি বলেন, দুই বছর পর দলটির আচরণ দেখে পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। ক্ষমা চাওয়া বা অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে তারা হুমকি দিচ্ছে এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Continue Reading

top1

হুতির হামলা: নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রাসাদ থেকে প্রাসাদে ছুটছেন সৌদি যুবরাজ সালমান

Published

on

By

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কায় একের পর এক প্রাসাদ বদলাতে হচ্ছে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই প্রাসাদগুলোয় রয়েছে বাংকার-সুবিধা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর জনসমক্ষে দেখা যায়। সেদিন তিনি দেশটির একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দেন। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুবরাজের নিরাপত্তায় তার পছন্দের একটি বিশেষ দল নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

বিন সালমানের এই ‘প্রাসাদ থেকে প্রাসাদে পালানো’র এই খবর এমন এক সময়ে আসছে যখন হুথিরা ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাজধানী রিয়াদে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বারবার হামলার মুখে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

হামলার বিষয়ে অবহিত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্রদের ওপর এটিই ছিল এককভাবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এতে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালা রক্তক্ষরণে মারা যান। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। হতাহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটেছে।

সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

১ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এই হামলাগুলো সৌদি আরবের রাজধানী রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যখন খবর বেরিয়েছে যে দেশটির ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উৎক্ষেপিত ইরানি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সৌদি আরবও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো বিপুল পরিমাণে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করেছে। ফলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মধ্যে আছে।

এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে এর জবাবও সমান গুরুতর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ২০১৫ সাল থেকে সংঘাত চলছে। ওই বছর ইয়েমেনের সরকারের পক্ষে দেশটির গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা শেষে হুতি নেতাদের নিয়ে তেহরান থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। বদলা নিতে হুতিরা আবার হামলা শুরু করে।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র মিত্র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার মতে, এই সংঘাত শুধু ইসরায়েলি শাসনকেই লাভবান করবে।

রোববার রাতে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংঘাতের বিস্তার নিয়ে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি সামরিক পন্থার ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা করতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য নিউ এরাব

Continue Reading

Trending