দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের স্বার্থে একে অপরের সঙ্গে সমঝোতা করে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার খেলার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীর একেবারে কাছেই অবস্থান হলেও বাড্ডা-রামপুরা এলাকার মানুষ বছরের পর বছর অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে এসেছে। অনেক জায়গায় এখনো ঢাকার বদলে মফস্বলের চিত্র চোখে পড়ে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই বাড্ডা ও রামপুরা এলাকাই আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধে তখন ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পিছু হটতে হয়। সেই আন্দোলনে এই আসনের বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই এলাকার মানুষ শুধু আন্দোলনের সময়ই নয়, গত ২৮ বছর ধরে নানা সংগ্রামে পাশে থেকেছেন। এখন সেই ঋণ শোধ করার সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আজীবন এই এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।
এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ভূমিদস্যুতাই প্রধান কারণ বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, শত শত মানুষের ব্যক্তিগত জমি, খাস জমি ও জলাশয় দখল করে ভরাট করা হয়েছে। এতে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। যারা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল, তারাই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৩০ বছর ধরে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে এই দখল কার্যক্রম চালিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তারা বিরোধী হলেও ব্যবসায়িক স্বার্থে সবসময় এক ছিল এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কেউ কেউ দীর্ঘদিন বিদেশে থেকেও এখানকার অবৈধ ব্যবসা ও ভূমি দখলের ভাগ ঠিকই পেত। ৫ আগস্টের পর হাতবদল হয়েছে, কিন্তু দখলদারি ও চাঁদাবাজির চরিত্র বদলায়নি। এই হাতবদলের রাজনীতিই এতদিন জনগণের ক্ষতি করেছে।
ভূমিদস্যুদের চিরতরে উৎখাতের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা হবে এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। যাদের জমি দখল হয়ে গেছে, তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া না গেলে ন্যায্যমূল্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
আরেকটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সেই ষড়যন্ত্র রুখতে ১২ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওইদিন ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টের অর্জনও ব্যর্থ হয়ে যাবে। দেশকে দখলদার, আধিপত্য ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।