Connect with us

top3

গ্রাহকের স্বার্থ বিকিয়ে অপচয়ের ভবন বানাচ্ছে সিটি ব্যাংক

Published

on

বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি দামে জমি কিনে সিটি ব্যাংকের সুউচ্চ ভবন বানানোর সিদ্ধান্তে বিপুল অপচয় ও দুর্নীতির গুঞ্জন উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে দ্বিগুণ বেশি দামে জমি কেনার কারণে ব্যাংকটির পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি; বরং গ্রাহকের আমানত থেকে খরচ করার কারণে আমানতের ঝুঁকি বাড়বে। ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে যাবে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকটির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। শুধু তা-ই নয়, অপচয়ের কারণে ব্যাংকটির মুনাফা কমে গিয়ে খরচ বেশি হওয়ার কারণে সরকারকে দেওয়া করের অংশও কমে যাবে। ফলে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এমনই হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সিটি ব্যাংক রাজধানীর গুলশানে ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা নিজস্ব ভবন তৈরি করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে। ভবন বানাতে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে আগের ২০ কাঠার জমির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরো ২০ কাঠা জমিও কেনা হচ্ছে। নতুন জমি কেনাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে খরচ হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু গুঞ্জন উঠেছে, বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হচ্ছে এ জমি।

নতুন করে যে ২০ কাঠা জমি কিনতে যাচ্ছে ব্যাংকটি, তাতে কাঠাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা, যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। স্থানীয়রা জানায়, এখানে যে জমির কথা বলা হয়েছে, তার দাম এত হওয়ার কথা নয়। জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ধারণা এই উচ্চমূল্যে জমি কেনাবেচা হলে পার্শ্ববর্তী জমি ও ভবন মালিকদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু এত দাম দিয়ে সিটি ব্যাংক কেন জমি কিনছে তা নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা ও বির্তক শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলশান এভিনিউতে প্রতি কাঠা কমার্শিয়াল জমি এখন কম বেশি আট কোটি টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

কিন্তু সিটি ব্যাংক সেখানে জমি কিনছে প্রতি কাঠা ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘যদি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে জমি কেনা হয় তাহলে সেখানে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্ট হয়েছে কি না সেটা দেখার অবকাশ থাকে। বিক্রেতা সেই টাকা পেয়েছি কি? সেই জমির দাম প্রকৃতপক্ষে কত হওয়া উচিত এবং কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না এসব বিষয়ে তদন্তের অবকাশ থাকে। ’

এদিকে আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব ২৮তলা ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। তাতে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পেয়েছে ব্যাংকটি।

সর্বশেষ গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও এ জন্য নতুন করে আরো ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৮৩ সালে দেশের তৎকালীন ১২ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মিলে ব্যাংকটি গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। গুলশান-২-সংলগ্ন গুলশান এভিনিউয়ে ২০ কাঠার জমির ওপর আটতলা ভবনে ছিল প্রধান কার্যালয়। কিন্তু সেখানে সব জনবলের জায়গা না হওয়ায় পুরনো ভবনটি ভেঙে ২৮তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সিটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানি। সেই হিসাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিষয়টি মূল্য সংবেদনশীল। এ তথ্যটির কারণে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও পুঁজিবাজারে শেয়ারের দামে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও ব্যাংকটি এ তথ্যটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এ অপচয়ের কারণে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে গেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না।

সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি ব্যাংককে ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর গত বুধবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজউক থেকে ২৮তলা সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমোদনও এর মধ্যে হয়ে গেছে। এই ২৮তলা ভবনের মধ্যে পাঁচতলা বরাদ্দ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম। সেভাবেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জমির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধির আরো সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় খুবই নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও দেশের ব্যাংক খাতে সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ জন্য আমাদের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে সম্মতি দেওয়ার জন্য ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞ। খুব দ্রুততম সময়ে আমরা আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি ও সেখানে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করব। ’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবি সিআরসি’র নেতৃত্বে তানভীর-মাহবুব

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব আলম দায়িত্ব পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাসেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাকিব মুন্সী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বিষয়ে জানা যায়। আগামী ১ বছরের জন্য এই কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রেজাউল করিম, আল-গালিব ও রাদিফা মুমতাহিনা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন আখি আলমগীর ও রুবাইয়া হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইমা খাতুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইদী হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান মো. অলি উল্লাহ, উপ-কোষাধ্যক্ষ মারুফ হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. তানজিদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক শাহেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক নাদির আহমেদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেদোয়ানুল হাসান রায়হান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক সিফাত মিয়া, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ফাহমিদা আজিম রিশা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. সবুজ হাসান।

এছাড়া সংগঠনের স্কুল পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত পৃথক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন স্কুল পরিচালক সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, উপ-স্কুল পরিচালক খালেদ সাইফুল্লাহ, স্কুল ও শিক্ষা বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. সিয়াম এবং শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক রিফাত জাহান মিষ্টি।

দায়িত্ব পেয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, “নতুন কমিটি আগামী এক বছর পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সকলের একতাবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা শুধু পথশিশু নয়, সমাজের সকল অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

শাখা সিআরসির নবনিযুক্ত সভাপতি তানভীর আহমেদ বলেন, “সিআরসি কেবল একটি সংগঠন নয়— এটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি মানবিক উদ্যোগ। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। আগামী দিনে সিআরসি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্বপ্ন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে বেড়ে উঠতে হবে না। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সিআরসির মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।”

প্রসঙ্গত, ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এটি মূলত পথশিশুদের শিক্ষা, খাবার ও মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করে। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এবং মানবকল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। সিআরসি পথশিশুদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সহায়তা ও সচেতনতা তৈরি করে থাকে।

Continue Reading

top3

আইন বিভাগের ইমনের নেতৃত্বে  ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা।

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি নিয়োগকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও ইতিহাস বিভাগের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

আজ ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)  সন্ধ্যা 8:30 টায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিতুমীর হলের সামনে থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেটে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

জানা যায়, ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটির পদ নিয়ে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের ইমন ও ইতিহাস বিভাগের সবুজের (২০২২-২৩)  মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মেসেঞ্জার ইনবক্সে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন  ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজকে হুমকি দিলে উভয়ের মধ্যে ক্ষোভের উদ্রেক হয়।  ফলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনের নেতৃত্বে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরদেরকে লাঠিসোঁটা নিয়ে ৪০-৪৫ জন খুঁজে বেড়ায়। এক পর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও চড়াও হলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

অভিযুক্ত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “এইরকম কোনো কিছু ঘটেনি বরং সবুজ উনি আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীর সম্মানিত মাকে তুলে গালমন্দ করে, যাঁর রেকর্ড রয়েছে। স্বয়ং মাননীয় সহকারী প্রক্টর আরিফ স্যার ও মাননীয় প্রক্টর আহসান সৌরভ স্যার ই সঙ্গে ছিলেন, তাদের থেকেও জানতে পারেন।”

এবিষয়ে প্রক্টর আহসান সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতেছি। সলুশনের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর উভয় বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি তারা বলছে যে এটা যত দ্রুত সম্ভব একটা সলুশন হবে। আর আমরা পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য চেষ্টা করছি। এখন আর সমস্যা নাই এখন পুরোপুরি শান্ত আছে। ‘

Continue Reading

top3

ইবিতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন ও রক্তদান কর্মসূচি 

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন ও রক্তদান’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন মেডিসিন ক্লাব। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিচতলায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও ইবি মেডিকেল চিফ ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা বুথে শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদান করেন এছাড়া ভলেন্টিয়ার ও সহযোগিতায় ছিল ইবির ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ সেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা।

এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের চর্মরোগ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, রক্তচাপ পরিমাপ, রক্তে শর্করার পরিমাণ পরিমাপ ও সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা ও ওষুধপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও যারা রক্তদানে ইচ্ছুক তাদের থেকে রক্ত নেওয়া হয়।

রক্তিমার একজন প্রতিনিধি বলেন, “এই ব্লাড ডোনেশন প্রোগ্রাম এবং ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো মানুষ যেন রক্তের অভাবে মারা না যায়, সেই দিক থেকে চিন্তা করেই আজকের এই প্রোগ্রাম। মূলত সমাজসেবা এবং মানবসেবার কাজের জন্যই আমরা এই প্রোগ্রামের আয়োজন করেছি।”

মেডিসিন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ সাদ্দাম শিমুল বলেন, “আমাদের এই ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল অবস্থিত। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টির মতো অপারেশন হয়ে থাকে, যার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়। কয়েকদিন আগে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রক্তের অভাবে মাত্র ৬ বছরের একটি শিশু মারা যায়। আমরা যেন ভবিষ্যতে এমন সমস্যার সম্মুখীন না হই, সেই লক্ষ্যেই আজকের এই রক্তদান ও হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগের প্রতিটি সেশন থেকে একজন করে এম্বাসেডর বা ‘মেডিসিন ক্লাব অফিসার’ নিয়োগ করা হবে। তারা তাদের নিজস্ব বিভাগের প্রতিটি সেশনের রক্তের তথ্যাদি ও ব্লাড গ্রুপ সংক্রান্ত বিবরণ আমাদের প্রদান করবেন। তাদের মেডিসিন ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি অফিসিয়াল আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। সেশন শেষে ফ্রি ফেস্ট, সার্টিফিকেট এবং গিফটের ব্যবস্থা থাকবে। প্রদানকৃত আইডি কার্ডটি ব্যবহার করে তারা মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সম্মাননা ও সেবা পাওয়ার পাশাপাশি মেডিসিন ক্লাবের যেকোনো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রোগ্রামে বিশেষ আমন্ত্রণ পাবেন।”

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান বলেন, “ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অ্যান্ড ব্লাড ডোনেশন এই প্রোগ্রামটি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সকল চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য যারা অফিশিয়ালি সংশ্লিষ্ট তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।  ইবির যে সকল অর্গানাইজেশন বিশেষ করে ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ তাদের অংশীদারিত্বে এই প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে মেডিকেল কলেজের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চমৎকার সম্পর্ক স্থাপিত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি টিম গঠন হবে, যাদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদেরকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। যাতে তাদের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তিতে সাহায্য-সহযোগিতা পেতে পারে, সেই কাজটিও বাস্তবায়িত হবে।”

Continue Reading

Trending