Connect with us

top3

চাঁদা না দেওয়ায় ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ চারজনকে মারধর

Published

on

ময়মনসিংহে চাঁদা না দেওয়া এবং নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণসামগ্রী স্থানীয়দের কাছ থেকে না কেনায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা, তার স্ত্রীসহ চারজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শেরপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরের জনতা ব্যাংকের চরপাড়া শাখায় কর্মরত। ২০২৩ সালে তিনি নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি কিনে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে পাঁচতলা ভবনের ভিত্তিসহ একটি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শুরুর পর স্থানীয় সাইফুল ইসলাম (৪০) ও তার সহযোগীরা নজরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রী তাদের কাছ থেকে কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তবে নজরুল ইসলাম নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী মালামাল কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা একাধিকবার হুমকি দিয়ে বলেন, তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না। সর্বশেষ রোববার বিকেলে তারা আবারও বাড়িতে গিয়ে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তার ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করেন এবং অন্যদেরও মারধর করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র হাতে আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে নজরুল ইসলামের স্ত্রীও হামলার শিকার হন।

নজরুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা হায়াত বলেন, আমি বাসায় একাই থাকি। কয়েকদিন পরপর কিছু লোক এসে হুমকি দিত। রোববার ময়নার মোড়ের দিক থেকে কয়েকজন এসে হঠাৎ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছি। তারা চাঁদা দাবি করে এবং তাদের কাছ থেকেই মালামাল কিনতে বলে। আমি ভেবেছিলাম বিষয়টি হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু এভাবে হামলার শিকার হব, তা কল্পনাও করিনি। আমি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আহত সাকিম আহম্মেদ বলেন, আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ ৫ থেকে ৭ জন দৌড়ে এসে হামলা চালায়। একপর্যায়ে একজন আমার মাথায় চাকু দিয়ে আঘাত করে।

এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার বাসিন্দা।

সোমবার দুপুরে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে চাঁদা না দেওয়ায় হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা , ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

Published

on

By

স্টাফ রিপোর্টার

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার ৭ নম্বর চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চিলারং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মো. আলাউদ্দীন (৫৬) ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর বাবা অসুস্থ বড় মেয়েকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে নিয়ে যান। একই সময়ে কিশোরীর মা কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে থাকায় ১৫ বছর বয়সী মেয়েটি বাড়িতে একা ছিল।

দুপুরে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন বাড়িতে এসে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চান। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে কিশোরীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মরক্ষার্থে কিশোরী খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে সুযোগ বুঝে বাইরে বের হয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে দিনাজপুর থেকে ফিরে কিশোরীর বাবা মেয়ের গলায় আঁচড়ের দাগ ও শারীরিক অসুস্থতা দেখতে পেয়ে তাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো হুমকি দেন।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Continue Reading

top3

সয়াবিন তেলে মিলল উদ্বেগজনক মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ঢাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) যৌথ গবেষণায় প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে দূষণের মাত্রা আরও বেশি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Journal of Food Composition and Analysis-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও খোলা বাজার থেকে মোট ৬০টি সয়াবিন তেলের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে, যা বোতলজাত তেলের তুলনায় অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি। তেজগাঁও এলাকার খোলা তেলের নমুনায় দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। শিল্পকারখানার প্রভাব, প্লাস্টিক পাত্রের পুনঃব্যবহার এবং সংরক্ষণ পদ্ধতিকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

বিশ্লেষণে ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলনের উপস্থিতি ভোজ্যতেলে বিশ্বের কোনো গবেষণায় এবারই প্রথম শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া কণার অধিকাংশই ছিল আঁশ বা ফাইবারজাতীয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা আরও বেশি—প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি কণা শরীরে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণা দলের প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান দূষক, যা মানুষের প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি প্লাস্টিক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গবেষকরা খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

Continue Reading

top3

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা , সারজিস ও নাসীরুদ্দীন আহত

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও প্রধান সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় সাংবাদিকদের বহরে থাকা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত দাবি করেন, জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপির মিডিয়া টিমের একটি মাইক্রোবাস হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা শুধু গাড়ি ভাঙচুরই করেনি, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও নিয়ে গেছে। এ ঘটনার ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, জেলা সার্কিট হাউসের মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গাড়ি ভাঙচুর ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও তখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

Continue Reading

Trending