Connect with us

top1

চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ‘সাহসী’ তাজুল ইসলামকে

Published

on

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তার জায়গায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই এ পরিবর্তন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিচারকাজের গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। তার আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যূনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারকাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে। তার দেড় বছরের দায়িত্বকালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ফাঁসিসহ বিভিন্ন কারাদণ্ড হয়েছে।

বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও তার টিম এবং বিচারকরা এর প্রশংসার দাবিদার। তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ট্রাইব্যূনালে চলমান মামলাগুলো আগের গতিতে এগোবে কি না এ নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুলের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ইতঃপূর্বে দায়িত্ব পালন করেন। গতকাল সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর মনজুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

বিদায় বেলায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা পেয়েছেন এবং নতুন চিফ প্রসিকিউটরও একই সহযোগিতা পাবেন বলে আশা করেন। তিনি বলেন, যে অপরাধগুলোর বিচার চলছে, সেগুলোর রায় সম্পন্ন হওয়ার পর যেন বাংলাদেশে আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা এ ধরনের অপরাধকে আর অ্যাফোর্ড করতে পারব না। আবার গুম হয়ে যাবে, যখন-তখন যাকে খুশি তুলে নিয়ে হত্যা করবে। পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারবে এমন দিন আমরা আর দেখতে চাই না।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয় এবং আমি মনে করি, এখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এ বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।

চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামের ভূমিকা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। জুলাই-আগস্টের এক মাসের আন্দোলনে এক হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতা মারাত্মকভাবে আহত হন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তাজুল ইসলাম প্রায় দেড় বছর চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশি-বিদেশি সব বাধা-হুমকি উপেক্ষা করে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যান। নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাসহ জুলাই খুনিদের বিচারে সাহসী ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনা ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিচার শুরুর ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মামলার রায়

তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ। এর মধ্যে ২১টি মামলার বিচার চলছে এবং তিনটির রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন দণ্ডিত হন।

রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা। এছাড়া রামপুরায় সংঘটিত একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপি-মন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।

তাজুল ইসলামের দৃঢ় ভূমিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যা প্রথম মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এ রায়ে আরো পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরপর ট্রাইব্যুনাল-২-এ আশুলিয়ায় আন্দোলনকারীদের হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলার রায় হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এছাড়াও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এমন মামলার মধ্যে রয়েছে, শেখ হাসিনা এবং ১১ জন সেনা কর্মকর্তা ও অন্যান্যসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযুক্ত মামলা। জেআইসি বা আয়নাঘরে গুমের মামলার শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। শতাধিক মানষকে গুম খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিচার শুরু হয়েছে।

জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীর তাইমুর হত্যা মামলা, কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি জঙ্গি নাটকে গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত চলমান মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের হেফাজত হত্যাকাণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভে গণহত্যা, জুলাই বিপ্লবে ফার্মগেটে গণহত্যা, উত্তরায় তাপস-নানকের গণহত্যার মামলা।

এসব মামলা অল্প সময়ের মধ্যে বিচারের প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার পেছনে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কঠোর পরিশ্রম, চেষ্টা ও আন্তরিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ ২৪টি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে; ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৮টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ ছয়টি। বিচার চলছে ২১টি মামলার, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৬টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ পাঁচটি। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটি; ট্রাইব্যুনাল-১-এ দুটি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি।

সাজা দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে। একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলায় সর্বমোট আসামির সংখ্যা ৪৫৭ জন। উভয় আদালতে গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ১৬১ জন। পলাতক আসামির সংখ্যা ২৯৩ জন। জামিন দেওয়া হয়েছে একজনকে। মারা গেছেন একজন এবং খালাস পেয়েছেন একজন।

এছাড়া রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ মামলা দুটি। আবু সাঈদ হত্যা মামলা ও রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলির মামলা। এ দুই মামলায় ৩৫ জন আসামি। বিচারাধীন মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৭৪ জন। এছাড়া পুলিশের ৬৫ জন, সেনাবাহিনীর ২০ জন ও আনসারের একজন।

এছাড়া বিবিধ মামলার সংখ্যা ৩৪টি, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৩২টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ দুটি। আসামির সংখ্যা ২২১ জন। গ্রেপ্তার ৯৬ জন। পলাতক ১২৫ জন।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিচারকাজে সহযোগিতা করব আমিনুল

গতকাল সোমবার চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমিনুল ইসলাম। দুপুর আড়াইটার দিকে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর প্রেস ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব বিচার চলমান আছে এবং আগামী দিনে যে মামলাগুলো বিচারের জন্য আসবে, আমি সম্পূর্ণরূপে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই। এ ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধী বিচারের সম্মুখীন তাদের জন্য সুস্পষ্ট মেসেজযারা কোনো অন্যায় করেনি, অন্তত প্রসিকিউশনের মাধ্যমে তারা কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে।

নতুন সরকারের অধীনে ট্রাইব্যুনালের বিচার মন্থর হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের গতি আরো বাড়বে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট, হাইকোর্টের রায় আপিলেও বহাল

Published

on

By

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এর ফলে সংবিধানে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত ৩ নভেম্বর ওই রায়ের বিরুদ্ধে এবং পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রিট মামলার বাদীপক্ষ সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি। সর্বোচ্চ আদালতে সেই আপিলের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দিলেন আপিল বিভাগ।

Continue Reading

top1

শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পরও মিশরকে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দিচ্ছে ফিফা

Published

on

By

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। তখন মনে হচ্ছিল, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় ঘণ্টা বুঝি বেজেই গেছে। কিন্তু ফুটবল শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে। শেষ দিকে লিওনেল মেসিদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সামনে আর টিকে থাকতে পারেননি মোহাম্মদ সালাহরা। ৩-২ গোলের নাটকীয় হারে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা হয়নি মিশরের।

তবে বিদায়ের আক্ষেপের মধ্যেও এবারের বিশ্বকাপ মিশরের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে তারা। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছিল মিশর। এরপর আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দীর্ঘ সময় আধিপত্য দেখিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা।

এবারের আসরে একটি নতুন রেকর্ডও গড়েছে দলটি। বিশ্বকাপের একক কোনো সংস্করণে এর আগে কখনো পাঁচটি ম্যাচ খেলেনি মিশর। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই মাইলফলক স্পর্শ করেছে তারা। শুধু তাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডও গড়েছে মিশরীয়রা।

মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বড় প্রাপ্তি নিয়ে ফিরছে মিশর। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে প্রায় ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার পেতে যাচ্ছে ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

বিশ্বকাপের বর্তমান সংস্করণের প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক ব্যয় মেটাতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ফেডারেশনকে দেওয়া হয়েছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য যোগ হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলোতে ওঠার পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মিশরের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৮ কোটি টাকা)।

Continue Reading

top1

র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১৫ দলের কারো সঙ্গে খেলতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে

Published

on

By

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের হট ফেভারিটও লিওনেল মেসিরা। কিন্তু বিশ্বকাপের এবারের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও এখনও শক্তিশালী কোনো প্রতিপক্ষের সামনে পরেনি আর্জেন্টিনার।

শুধু তাই নয়, ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১৫–এর একটি দলেরও মুখোমুখিও হতে হয়নি বিশ্বকাপের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর সেই সম্ভাবনাই এখন ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া (র‌্যাঙ্কিং ৩৩), অস্ট্রিয়া (২৩) ও জর্ডান (৬৩)। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দে (৬৯) এবং শেষ ষোলোতে মিশরকে (৩২) হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল।

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, বর্তমানে তারা ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৯ পজিশনে আছে । অন্যদিকে সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণে নরওয়ে যদি ইংল্যান্ডকে বিদায় করে সেক্ষেত্রে শেষ চারে ৩০তম স্থানে থাকা নরওয়েকে পাবে আর্জেন্টিনা।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন, এটি নিছক ড্র ও নকআউট পর্বের স্বাভাবিক সমীকরণ। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম সহজ পথ পেয়েই কি ফাইনালের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা?

তবে ফুটবলের বাস্তবতা ভিন্ন কথাও বলে। র‌্যাঙ্কিং যতই কম হোক, নকআউট পর্বে কোনো প্রতিপক্ষই সহজ নয়। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হয়েছে তাদের।

পরিসংখ্যানও দেখাচ্ছে, এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার পাঁচ প্রতিপক্ষের গড় ফিফা র‌্যাঙ্কিং প্রায় ৪৪। তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল ২৩তম স্থানে থাকা অস্ট্রিয়া। অর্থাৎ ফাইনালের পথে এখনও পর্যন্ত শীর্ষ ২০-এর কোনো দলও তাদের সামনে আসেনি।

Continue Reading

Trending