Connect with us

top1

চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ‘সাহসী’ তাজুল ইসলামকে

Published

on

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তার জায়গায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই এ পরিবর্তন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিচারকাজের গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। তার আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যূনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারকাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে। তার দেড় বছরের দায়িত্বকালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ফাঁসিসহ বিভিন্ন কারাদণ্ড হয়েছে।

বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও তার টিম এবং বিচারকরা এর প্রশংসার দাবিদার। তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ট্রাইব্যূনালে চলমান মামলাগুলো আগের গতিতে এগোবে কি না এ নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুলের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ইতঃপূর্বে দায়িত্ব পালন করেন। গতকাল সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর মনজুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

বিদায় বেলায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা পেয়েছেন এবং নতুন চিফ প্রসিকিউটরও একই সহযোগিতা পাবেন বলে আশা করেন। তিনি বলেন, যে অপরাধগুলোর বিচার চলছে, সেগুলোর রায় সম্পন্ন হওয়ার পর যেন বাংলাদেশে আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা এ ধরনের অপরাধকে আর অ্যাফোর্ড করতে পারব না। আবার গুম হয়ে যাবে, যখন-তখন যাকে খুশি তুলে নিয়ে হত্যা করবে। পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারবে এমন দিন আমরা আর দেখতে চাই না।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয় এবং আমি মনে করি, এখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এ বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।

চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামের ভূমিকা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। জুলাই-আগস্টের এক মাসের আন্দোলনে এক হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতা মারাত্মকভাবে আহত হন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তাজুল ইসলাম প্রায় দেড় বছর চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশি-বিদেশি সব বাধা-হুমকি উপেক্ষা করে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যান। নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাসহ জুলাই খুনিদের বিচারে সাহসী ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনা ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিচার শুরুর ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মামলার রায়

তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ। এর মধ্যে ২১টি মামলার বিচার চলছে এবং তিনটির রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন দণ্ডিত হন।

রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা। এছাড়া রামপুরায় সংঘটিত একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপি-মন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।

তাজুল ইসলামের দৃঢ় ভূমিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যা প্রথম মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এ রায়ে আরো পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরপর ট্রাইব্যুনাল-২-এ আশুলিয়ায় আন্দোলনকারীদের হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলার রায় হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এছাড়াও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এমন মামলার মধ্যে রয়েছে, শেখ হাসিনা এবং ১১ জন সেনা কর্মকর্তা ও অন্যান্যসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযুক্ত মামলা। জেআইসি বা আয়নাঘরে গুমের মামলার শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। শতাধিক মানষকে গুম খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিচার শুরু হয়েছে।

জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীর তাইমুর হত্যা মামলা, কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি জঙ্গি নাটকে গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত চলমান মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের হেফাজত হত্যাকাণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভে গণহত্যা, জুলাই বিপ্লবে ফার্মগেটে গণহত্যা, উত্তরায় তাপস-নানকের গণহত্যার মামলা।

এসব মামলা অল্প সময়ের মধ্যে বিচারের প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার পেছনে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কঠোর পরিশ্রম, চেষ্টা ও আন্তরিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ ২৪টি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে; ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৮টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ ছয়টি। বিচার চলছে ২১টি মামলার, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৬টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ পাঁচটি। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটি; ট্রাইব্যুনাল-১-এ দুটি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি।

সাজা দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে। একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলায় সর্বমোট আসামির সংখ্যা ৪৫৭ জন। উভয় আদালতে গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ১৬১ জন। পলাতক আসামির সংখ্যা ২৯৩ জন। জামিন দেওয়া হয়েছে একজনকে। মারা গেছেন একজন এবং খালাস পেয়েছেন একজন।

এছাড়া রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ মামলা দুটি। আবু সাঈদ হত্যা মামলা ও রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলির মামলা। এ দুই মামলায় ৩৫ জন আসামি। বিচারাধীন মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৭৪ জন। এছাড়া পুলিশের ৬৫ জন, সেনাবাহিনীর ২০ জন ও আনসারের একজন।

এছাড়া বিবিধ মামলার সংখ্যা ৩৪টি, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৩২টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ দুটি। আসামির সংখ্যা ২২১ জন। গ্রেপ্তার ৯৬ জন। পলাতক ১২৫ জন।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিচারকাজে সহযোগিতা করব আমিনুল

গতকাল সোমবার চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমিনুল ইসলাম। দুপুর আড়াইটার দিকে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর প্রেস ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব বিচার চলমান আছে এবং আগামী দিনে যে মামলাগুলো বিচারের জন্য আসবে, আমি সম্পূর্ণরূপে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই। এ ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধী বিচারের সম্মুখীন তাদের জন্য সুস্পষ্ট মেসেজযারা কোনো অন্যায় করেনি, অন্তত প্রসিকিউশনের মাধ্যমে তারা কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে।

নতুন সরকারের অধীনে ট্রাইব্যুনালের বিচার মন্থর হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের গতি আরো বাড়বে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

শাপলা চত্বর গণহত্যায় সাবেক আইজিপি মামুনকে আসামি করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

Published

on

By

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তাকে আসামি করা হবে।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এতথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

এর আগে জুলাই আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি ও রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন মামুন।

ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা ও নারীনীতির বিরোধিতাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে হেফাজতে ইসলাম। এতে লাখো কওমি আলেম শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মুসলমান মহাসমাবেশে অংশ নেন।

সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। পরে সেই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।

Continue Reading

top1

হরমুজ প্রণালিতে ২৪ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন বিধ্বস্ত

Published

on

By

পারস্য উপসাগরে নজরদারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে এই ঘটনা ঘটে।

বিধ্বস্ত ড্রোনটি ছিল এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উন্নত নজরদারি ড্রোন। এটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে সক্ষম হওয়ায় একে ‘ডানাযুক্ত উপগ্রহ’ বলা হয়। ড্রোনটির মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলার।

মার্কিন কোম্পানি নর্থরুপ গ্রুম্যান এই ড্রোনটি তৈরি করেছে। এটি ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত সিগোনেল্লা নৌঘাঁটি থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি নিয়মিত তিন ঘণ্টার নজরদারি শেষে ফেরার পথে হঠাৎ বিপদ সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এরপর সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

প্রাথমিক তথ্য বলছে, ড্রোনটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। সেখান থেকে এটি হঠাৎ অনেক নিচে নেমে যায় এবং পরে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ড্রোনটি শত্রুপক্ষের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাত্র দুই দিন পর, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

Continue Reading

top1

রুশ জাহাজ আটকের পরিকল্পনা ইউক্রেন-ইসরায়েলের

Published

on

By

ইউক্রেনের কাছ থেকে চুরি করা শস্য নিয়ে আসা একটি রুশ জাহাজ ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে নোঙর করার অনুমতি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ‘এবিআইএনএসকে’ নামক এই রুশ জাহাজটি রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের বিভিন্ন বন্দর থেকে ছোট নৌকার মাধ্যমে সংগৃহীত শস্য দ্বারা বোঝাই করা হয়েছে।

মিরোতভোরেটস সেন্টারের সিক্রাইম প্রকল্পের সাংবাদিক কাতেরিনা ইয়ারেস্কো এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা তার ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ইসরায়েলের একটি বন্দরে চুরি করা শস্যসহ রুশ জাহাজকে নোঙর করতে দেওয়া হয়েছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কৃষি পণ্য চুরি করে অবৈধভাবে রপ্তানি করা রাশিয়ার বৃহত্তর যুদ্ধ প্রচেষ্টারই একটি অংশ। এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা এবং চুরি করা পণ্যের লেনদেন বন্ধ করার জন্য তিনি ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান। ইউক্রেন মনে করে, এই শস্য বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ রাশিয়া তাদের সামরিক অভিযানে ব্যয় করছে।

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত ইয়েভজেন কর্নিচুক গত ২৭ মার্চ ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে তিনি জাহাজটিকে বন্দরে নোঙর করতে না দেওয়ার জন্য আগাম অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

এছাড়া গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের অ্যাটর্নি জেনারেল কিয়েভে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল ব্রডস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে তিনি জাহাজটিকে হাইফা বন্দর ছেড়ে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। জাহাজটি যাতে কোনোভাবেই অবৈধ পণ্য নিয়ে প্রস্থান করতে না পারে, সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েল ও ইউক্রেনের মধ্যকার এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েল এখন পর্যন্ত জাহাজটি আটকের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চুরি করা পণ্য বাজারজাত করতে না পারে রাশিয়া।

যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী দেশের এমন অবস্থান ইউক্রেনীয় সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসরায়েল এই জাহাজের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল

Continue Reading

Trending