Connect with us

ক্যাম্পাস

জকসু নির্বাচনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে  তাড়াহুড়ো করেছে প্রশাসন- জবি ছাত্রদল

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের বিধিমালাতে নতুন ১০ পদ সংযোজনের দাবি জানিয়েছে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একইসাথে নির্বাচন কেন্দ্রিক ক্যাম্পাসে যেন কোনো সহিংসতা না ঘটে, সব সংগঠন যেন স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে, এবং প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল প্রশাসন একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত জকসু নীতিমালা প্রণয়ন করবেন। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রশাসন একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে তাড়াহুড়ো করেছে, যা হতাশাজনক।

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবার জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে আশাবাদী। প্রশাসন সকল ছাত্র সংগঠনকে সমান সুযোগ দেবে, যাতে প্রত্যেকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। জকসু কোনো দলীয় প্রভাব বা পক্ষপাতদুষ্টতার শিকার না হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের  মুক্ত মঞ্চ হোক। জকসু শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক। এছাড়া জকসুর নেতৃত্ব এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে।

বিধিমালা পর্যালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন,  সংবিধির বেশ কিছু ধারা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ইতিবাচক হলেও কিছু জায়গায় আরও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। জকসুর মেয়াদ ও দায়িত্বের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত করা। সদস্যপদে অংশগ্রহণের যোগ্যতা আরও সহজ করা। সংবিধিতে শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া। উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সাথে সমন্বয় করার ক্ষমতা শুধু সহ-সভাপতিাকে রাখা হয়েছে, এর সাথে। সাধারণ সম্পাদক ও সহসাধারণ সম্পাদককে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজনীয়।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত নতুন পদসমূহ হলো- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী বিষয়ক সম্পাদক; ছাত্রীকল্যাণ বিয়ষক সম্পাদক (শুধু নারীদের জন্যে বরাদ্দ থাকবে); দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক); ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক; মিডিয়া ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক; দফতর সম্পাদক; বিতর্ক সম্পাদক এবং আলাদাভাবে দুটি সম্পাদক করতে হবে; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক থেকে (ক) স্বাস্থ্য সম্পাদক, (খ) পরিবেশ সম্পাদক আলাদাভাবে করতে হবে; সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক থেকে করে দুটি সম্পাদক (ক) সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, (খ) সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পাদক; কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক

এর আগে ছাত্রদলের প্রস্তাবিত দাবির মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক সহ একটি সদস্য পদ জকসু বিধিমালায় সংযোজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, আমাদের যেসব নেতাকর্মী আছেন, সকলেই যোগ্য। তবে এখনও প্যানেলে কারা থাকবেন এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। জকসু নির্বাচনে অধিকরতর গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের নিয়েই প্যানেল প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমফিল ও পিএইচডি’র শিক্ষার্থীদের রাখার দাবি জানিয়েছিলাম। সেটা রাখা হয়নি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাবল এমফিল সুযোগ পেলেও জকসুতে সে সুযোগ নেই। এছাড়া বিগত ফ্যাসিস্টদের বিচার করা হয়নি। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ডিজিটাল রূপান্তরের পথে বেরোবির লাইব্রেরি:নতুন বই, বিশ্বমানের ই-জার্নালের সাথে চালু হচ্ছে অটোমেশন

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে লাইব্রেরিতে অটোমেশন, ই-রিসোর্স বৃদ্ধি, নতুন বই সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিটাল ও ই-রিসোর্স সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের ই-বুকস ও ই-জার্নালের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকাশনার (JSTOR এবং Emerald) ই-জার্নাল ক্রয় করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ডাউনলোড ও পড়তে পারছেন।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রকাশনার প্রায় ৩০,৭০০ শিরোনামের ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার ই-বুকস ও ই-জার্নাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে অটোমেশনের প্রাথমিক ধাপের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

নতুন বই সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যচাহিদা পূরণে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয় করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে রিডিং রুমে পাঠের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব বই লাইব্রেরি সংগ্রহে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা:

শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইব্রেরি ভবনের পশ্চিমাংশে আউটডোর রিডিং জোনে উভয়মুখী বসার বেঞ্চ ও টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের বসার ব্যবস্থা করার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও (স্টাফদের) যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ভবনের বাইরে গাড়ি রাখার জন্য একটি গ্যারেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইনডোর ও আউটডোর উভয় জোনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাবনা:

লাইব্রেরির এই আধুনিকায়ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, লাইব্রেরিতে JSTOR এবং Emerald-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ই-জার্নাল যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। আগে গবেষণার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভালো আর্টিকেল বা বই আমরা পেতাম না। এখন ক্যাম্পাসের আইপি ব্যবহার করে খুব সহজেই এগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারছি। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনে বসার সুন্দর ব্যবস্থা ও নতুন ওয়াশরুমের সুবিধা দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ স্বস্তি দেবে।

একই বিষয়ে নাম প্রকায় না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ও গবেষণা। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে এভাবে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিপুল পরিমাণ ই-বুক ও ই-জার্নাল সংযোজন শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। একই সাথে নতুন বইয়ের সংযোজন এবং লাইব্রেরির অটোমেশন প্রক্রিয়া শিক্ষক ও গবেষকদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম:

আর্কাইভস সেকশনকে সমৃদ্ধ করতে ২০১১ সাল থেকে অদ্যাবধি বাছাইকৃত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পত্রিকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাঁধাইকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি লাইব্রেরি ভবনের ৩য় তলার আংশিক সম্প্রসারণের কাজও খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এসব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সিংহভাগই ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

Continue Reading

top3

বেরোবিতে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি;

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবু সাঈদের পিতা মোঃ মকবুল হোসেন । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান প্রমুখ।

নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমানের সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। তিনি বলেন, আবু সাঈদ মুক্তিকামী মানুষের প্রতীক। আমরা রংপুরকে নিয়ে তিনটি কারণে গর্ববোধ করতে পারি। প্রথমত, যার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া। দ্বিতীয়ত, রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত এই ভাওয়াইয়া গানকে সারা বিশ্বে সমৃদ্ধ করেছেন সুরসম্রাট আব্বাস উদ্দিন। এবং তৃতীয়ত, শহিদ আবু সাঈদ, জুলাই আন্দোলনের বীর আবু সাঈদ যেভাবে বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে, রংপুরের মানুষ যে সাহসী- তা সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে এখন পরিচিত। এই তিন ব্যক্তিত্ব রংপুর অঞ্চলের গর্ব। মন্ত্রী বলেন, ২৪-এর আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একনেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাস করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যে কয়টি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম জুলাই আন্দোলন। শহিদ আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা বিশ্বের বুকে সবার উপরে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে পাস করা হবে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে আধুনিক ও যুগোপযোগী সাবজেক্ট যেমন—রোবটিক্স, এআই, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স—এগুলি খুব দ্রুত চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষক সংকট দূর করতে নতুনভাবে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

সভাপতির বক্তব্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, শহিদ আবু সাঈদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই গেট শুধু একটি প্রবেশদ্বার নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা, মূল্যবোধ ও চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য স্মারক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহযোগিতায় এবং বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুগোপযোগী নতুন কিছু সাবজেক্ট বা বিভাগ চালুর জন্য ইতিমধ্যেই ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আরো সমৃদ্ধ হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেরোবি শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন, রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন এবং রিফাত হোসেন রাফি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top3

জাপানে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ নিয়ে বাকৃবিতে সেমিনার

Published

on

By

বাকৃবি প্রতিনিধি:

জাপানে উচ্চশিক্ষা, সরকারি বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাপান এডুকেশন সেমিনার ২০২৬’। এতে জাপানের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা, মনবুকাগাকুশো (মেক্সট) বৃত্তি, আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে জাপানিজ ইউনিভার্সিটিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (জুয়াব) ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাস।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুয়াবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম জুলফিকার রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বর্তমানে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটিতে উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে জাপানে বৃত্তিসহ পড়াশোনা ও গবেষণার বহুমুখী সুযোগ রয়েছে। উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের কারণে দেশটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৃতীয় ভাষা চালুর নীতিমালার আওতায় জাপানি ভাষা শেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম বলেন, জাপানে সরকারি বৃত্তির কোটা কিছুটা কমায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে বেসরকারি বৃত্তি ও গবেষণা তহবিলের সুযোগও বাড়ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতার আওতায় শিক্ষার্থীরা টিউশন ফিতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি বলেন, দূতাবাসের সুপারিশে বৃত্তির আসনসংখ্যা সাধারণত দশটি বা তার কম হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকে। গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাস্টার্স পর্যায়ে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়কের গবেষণার সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপকের গবেষণার ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্স ও উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে ‘নাভি জাপান’-এর মতো তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বাকৃবির কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মাসুদ রানা।

এ সময় জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা, বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত, তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন ও উচ্চশিক্ষা-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন আলোচকেরা।

Continue Reading

Trending