Connect with us

রাজনীতি

জুলাই জাতীয় সনদ: ৮৪ বিষয়ে ‘ঐকমত্য’

Published

on

অলটাইম নিউজ ডেস্ক

জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। খসড়া্য় রয়েছে সাত দফা অঙ্গীকারনামা। যাতে সই করলে রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

স্বাক্ষরের জন্য এই চূড়ান্ত খসড়া আজ বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্টসহ) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এই চূড়ান্ত খসড়ায়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর চূড়ান্ত ভাষ্য আজই পাঠানো হচ্ছে৷ এ সনদে সকলের মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।’

সনদে স্বাক্ষরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে দুজন ব্যক্তির নাম কমিশনে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করবে দলগুলো। তবে সনদ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ এসেছিল, চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই।

আগের সমন্বিত খড়ায় বলা হয়েছিল, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর প্রতিটি বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বলবৎ হিসেবে গণ্য হবে বিধায় এর বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা, কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।’

সে অবস্থান থেকে সরে এসে চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে ‘তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে’ সংযুক্ত করা হবে এবং স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো এ সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তুলবে না।

অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ যেসব বিষয় রয়েছে তা অন্তবর্তীকালীন সরকারই বাস্তবায়ন করবে।

আগের সমন্বিত খসড়ায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় আটটি বিষয় ছিল। বলা হয়েছিল, ‘এ সনদের সকল বিধান, নীতি ও সিদ্ধান্ত সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করব এবং বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোন আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সেই ক্ষেত্রে এই সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপরিশ প্রাধান্য পাবে।’

জামায়াতে ইসলামী ও জুলাই আন্দোলনের নেতাদের দল এনসিপির দাবিতেই এ শর্ত সনদে যুক্ত করা হয়েছিল। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছিল তাদের মূল দাবি।

তবে বিএনপিসহ কয়েকটি দল সংবিধানের ওপর এর অবস্থান করার বিরোধিতা করেছিল। চূড়ান্ত সনদে ওই শর্ত পরিবর্তন করে কেবল তফসিল আকারে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

সবশেষ জুলাই সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে মতামতের জন্য ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এরপরই এ নিয়ে আবার দলগুলোর ভিন্ন মতের খবর আসে।

সেসব সমন্বয় করে চূড়ান্ত খসড়া ৪ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোকে সই করার জন্য দেওয়ার কথা ছিল। এদিন সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশন সংশ্লিষ্টরা বহুল আলোচিত এ সনদে সই করবেন বলা হয়েছিল।

সনদে ১২ দলীয় জোটসহ ৩৩টি দলের জুলাই সনদে একমত হওয়ার কথা লেখা হয়েছে।

বলা হয়েছে, মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে চলতি বছরের ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক হয়।

আলোচনা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়।

দ্বিতীয় দফায় ২০টি বিষয়ের ওপর আলোচনায় উক্ত ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামতই কেবল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফলস্বরূপ নিম্নলিখিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ কয়েকটি ভিন্নমতসহ সর্বসম্মতভাবে প্রণীত হয়।

অঙ্গীকার

জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে:

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে–

(১) জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।

(২) জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক; তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে। এমতাবস্থায়, আমরা রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসাবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ গ্রহণ করেছি বিধায় এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব।

(৩) আমরা জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না; উপরন্তু উক্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।

(8) আমরা ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি যে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করব।

(৫) আমরা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করছি যে, গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারসমূহকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।

(৬) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।

(৭) আমরা এই মর্মে একমত যে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যে সকল সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষপেণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

পিকেডি/অলটাইম

top3

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার: নুর

Published

on

By

আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে

Continue Reading

top2

দুর্যোগ কি সরকারি-বিরোধী দল দেখে আসে, প্রশ্ন আখতারের

Published

on

By

সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বিবেচনা করে দেশে দুর্যোগের কোনো আলাদা মানচিত্র তৈরি হয়েছে কি না, জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এমপিদের টিআর-কাবিখার বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের এমপিদের তা দেওয়া হয়নি।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছেন, তারা আগামী দু দিনের মধ্যেই তা পেয়ে যাবেন।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস‌্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।

অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্যের সমালোচনা করেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের দুর্যোগের যে ম্যাপ সেটাতে কি কোনো ধরনের পরিবর্তন এসেছে? কারণ আমরা দেখলাম যে, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০শে এপ্রিলে যে বরাদ্দটা দেওয়া হয়েছে, সেটা শুধুমাত্র সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কারো ওটাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। যদি এরকমটা হয়ে থাকে, যে বাংলাদেশে দুর্যোগগুলো যখন আসবে তখন শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতেই আসবে, বিরোধী দলের আসনগুলোতে আসবে না… তাহলে হয়তো একভাবে হতে পারতো। কিন্তু দুর্যোগ যখন আসে তখন কিন্তু আমরা সবাই সাফারার (ভুক্তভোগী) হই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩০শে এপ্রিলে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল ও গম শুধুমাত্র সরকারি দলের এমপি বা সরকার দলের আসনগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো আসনেই এটি দেওয়া হয়নি। এই অর্থ জনগণের ট্যাক্সের টাকা। জনগণের অর্থ আহরণ করে তারপরে এই বরাদ্দ করা হয়। বিরোধী দলের আসনের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এটি চূড়ান্ত বৈষম্য।’

এ সময় তিনি ত্রাণমন্ত্রীর কাছে বৈষম্য দূর করে কবে নাগাদ বিরোধী দলের এমপিদের সমতাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে তা জানতে চান।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এই অভিযোগের পর সংসদে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন। তিনি ত্রাণমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আপনাকে ধন্যবাদ। মাননীয় মন্ত্রী, এটি একটি ভেরি ফান্ডামেন্টাল কোয়েশ্চেন (অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন)। ইফ ইট ইজ ট্রু, আনফেয়ার (যদি এটি সত্য হয়, তবে তা অনুচিত)। আপনি দয়া করে একটু উত্তর দেন আমরা সকলেই শুনি।’

ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর জবাব দিতে দাঁড়িয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নানা প্রস্তুতি সবসময়ই থাকে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র করি। পাশাপাশি যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জেলা পর্যায়ে প্রত্যেকটা জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের জিআর ক্যাশ (নগদ অর্থ) এবং জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে।’

এমপিদের উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আখতার হোসেন) টিআর-কাবিখার কথা বলেছেন। যে সমস্ত এমপি মহোদয়রা আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দেন, সেখানে আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। আমার মনে হয় যে কাল-পরশুর মধ্যে ওনারা ওনাদের বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’

এ সময় সংসদে উপস্থিত অভিযোগকারী সংসদ সদস্যসহ অন্যদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাও পেয়ে যাবেন। আপনাদের মধ্যে যারা চাহিদাপত্র দিয়েছেন তাদেরকে আমরা বরাদ্দ দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

Continue Reading

top1

কার অনুমতিতে জাবের হাদি হত্যা মামলার বাদী?: ওসমান হাদির বোন

Published

on

By

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মাসুমা হাদি বলেন, শুরু থেকেই তিনি পারিবারিক কারণে অনেক গুরুতর বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি। তবে ভাইয়ের মামলার বাদী নির্বাচন ঘিরে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনা চলছে, তাতে বাধ্য হয়ে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চান।

তিনি দাবি করেন, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং পুরো সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও স্থান ত্যাগ করেননি।

মাসুমা হাদি প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশাসনের লোকজন আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে মামলার স্বাক্ষর নেয়া হলো। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, তাকে জানানো হয়েছিল—একজন স্বজন ওমর ফারুক তখন চিকিৎসা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি দেখবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। ওই মুহূর্তে চিকিৎসাই অগ্রাধিকার ছিল বলেও ব্যাখ্যা দেন তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নেই এবং পুলিশ চাইলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

ওমর ফারুকের ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন মাসুমা হাদি। তিনি দাবি করেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকা ও পরিস্থিতির চাপের মধ্যেও চিকিৎসা ও বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন ওমর ফারুক। পরে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে যায় বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ভাইয়ের চিকিৎসা ও সংকটময় সময় নিয়ে পরিবার শুরুতে অনেক কিছু প্রকাশ্যে আনেনি, তবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা ও সমালোচনার কারণে তারা বাধ্য হয়ে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

মাসুমা হাদি আরও অভিযোগ করেন, একটি ‘বিপ্লবী’ ব্যক্তিত্বের পরিবারকে ঘিরে অনলাইনে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অসম্মান ছড়ানো হচ্ছে। তিনি এসব অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করার অনুরোধ করেন।

Continue Reading

Trending