Connect with us

top1

ডিএমপিতে যোগ দিয়েও ছাত্রদলের পক্ষে সক্রিয় ‘হাদির লাশ নিয়া যা’ বলা পুলিশ সদস্য

Published

on

জাতিসংঘের অধীনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার সময় ‘হাদির লাশ নিয়া যা’ বলা পুলিশ সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেতা। তিনি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও দলের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন ফেসবুকে।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর হামলা করে পুলিশ। ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন। এমনকি পুলিশ সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমাকেও সড়কে ফেলে বুট চাপা দেন।

এ সময় ছত্রভঙ্গ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের একটি অংশ পরীবাগের টিএমএসএস নার্সিং ইনস্টিটিউটের গলিতে অবস্থান নেন। তাদের উদ্দেশ্য করেই  ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আয় আয়, হাদির লাশ নিয়া যা।’ একটি সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে এই দৃশ্য ধরা পড়লে তা ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে সেই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি রাশেদ কাজী। তার ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, তিনি ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগ দিয়েছেন। এরপর ২৯ আগস্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে যোগ দেন।

তবে তার ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে,পুলিশে যোগ দেওয়ার ৪ মাস পরেও ছাত্রদলের স্মৃতিচারণ করে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। গত বছরের ২১ আগস্ট নিজ রাজনৈতিক সহযোদ্ধার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দেন রাশেদ কাজী। ওই পোস্টে শেখ নিশান নামে এক ছাত্রদল নেতাকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, ‘ছাত্র দলের সোনালী অতিথ, আমাদের সহযোদ্ধা ও প্রাণপ্রিয় ভাই নিশান বর্তমানে অসুস্থ। আল্লাহ পাক যেন তাঁকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন—এই দোয়া করি।’ পোস্টে তিনি ‘নর্থ খুলনা কলেজ ছাত্রদল (সাবেক ও বর্তমান নেতাবৃন্দ)’ও উল্লেখ করেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখার সময় তিনি প্রোফাইলটি ‘লক’ করে নিয়েছেন। পোস্টটির আর্কাইভ দেখুন এখানে

যদিও রাশেদ কাজীর ফেসবুকে দেওয়া তথ্য বলছে, খুলনা জিলা স্কুল ও সরকারি ব্রজলাল ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। নর্থ খুলনা কলেজে পড়াশোনা করেছেন কিনা এমন কোনো তথ্য ওই পোস্ট ছাড়া আর কোথাও দেননি।

পেছনের সারিতে ডান দিকে চতুর্থজন রাশেদ কাজী, গত বছরের ১৯ জুনের ফেসবুক পোস্ট

এদিকে রাশেদ কাজীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে শাহবাগের হাদি চত্বরে ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, আজকে সারাদিনে পুলিশের মধ্যে কিছু কুলাঙ্গাররা যারা জুলাইয়ে হামলা করেছিল এবং জুলাইয়ের ক্ষোভ এখনো যাদের মধ্যে রয়ে গেছে তারাই আমাদের ভাই-বোনদেরকে পিটিয়েছে রক্তাক্ত করেছে। শুধু পিটিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, আপনারা দেখেছেন পুলিশ সদস্য আমাদের ওপর হামলা করার পরে রাস্তার মধ্যে নৃশংস নৃত্য করেছে। 

জুবায়ের বলেন, আপনারা দেখেছেন পুলিশের মধ্যে কিছু কুলাঙ্গারের বাচ্চারা জুলাই যোদ্ধাদের হামলা করেছে। এসময় তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাওয়ার জন্য শুধু দ্বিতীয়বার না যদি প্রয়োজন হয় আমরা ১০০ বার জীবন বাজি রাখতে ও রক্ত দিতে প্রস্তুত আছেন? এ সময় উপস্থিত সকলে বলে ওঠেন হাঁ রাজি আমরা। 

ফেসবুক থেকে নেওয়া রাশেদ কাজীর সাম্প্রতিক কিছু ছবি

তিনি বলেন, হামলার সময় এক পুলিশ সদস্য পেটানোর পর বলেছে আয় হাদির লাশ নিয়ে যা। আমরা তাকে বলতে চাই, লাশ দিয়ে যা। সে এগুলো কেন বলল? আমরা প্রত্যেকটাকে চিহ্নিত করেছি। চিহ্নিত করে আমরা সেই তালিকা পুলিশকে দিয়ে এসেছি। আমরা এক ঘণ্টা সময় দিলাম। এই সময়ের মধ্যে ওই হায়নাগুলোকে অবশ্যই অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

‘আমি বাংলাদেশি’, ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Published

on

By

ডিজিটাল রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে আসার এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার অর্থই এটি। কোনো সুবিধাভোগী মানুষ এখানে কাজ করবে না।’

সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে মন্ত্রিত্ব গ্রহণে কোনো আইনি বাধা রয়েছে কি না এবং এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘আমি সিটিজেনশিপ নিয়ে এসেছি, আর আপনারা বললেন নেটিজেন! মানে কোন নেটিজেন? আমি তো নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করতে এসেছি, আমরা কাজ করি।’

এর আগে একটি গণমাধ্যমে তাঁর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মঈন-মঈনুদ্দিন, ফখরুদ্দিনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি।’

দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘দেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়া মানুষ সব, দেশপ্রেমিক মানুষ যারা আছে, গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক নেতারা—এখন আমরা সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

Continue Reading

top1

মিড-ডে মিলে খাবারের মানে কোনো আপস নয়: প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচির খাবার পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানানো হয়।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মিড-ডে মিল বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মিড-ডে মিল পরিচালনার দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় দুটি পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন

Published

on

By

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দুজনের ফাঁসি ও চরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এছাড়া খালাস পেয়েছেন ১০ জন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামী।

আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় রায় দেন। রায়ে মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে নুসরাতের মা শিরীন আক্তার মামলা করেন। পরে সিরাজকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগপত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা করেন। ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন আদালত।

Continue Reading

Trending