Connect with us

সারাদেশ

দিনাজপুরের আসনগুলোতে কোন্দলে বিএনপি, জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত

Published

on

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে দিনাজপুরের রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ, মহাসড়ক অবরোধ, মশালমিছিল, কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ ও গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। তাদের এই কোন্দলে আসনগুলোতে জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ১১ ডিসেম্বর পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। টার্মিনালের গোল চত্বরে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা। এর আগেও ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হকের সমর্থকরা। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় একেএম কামরুজ্জামানের। এরপর থেকেই এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। কারণ এই আসনে যোগ্য প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক। তিনি দীর্ঘ ৩০-৩২ বছর ধরে বিএনপিকে আগলে রেখেছেন। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।’

দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া একেএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু তাদের দলের নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক কম। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আমার সঙ্গে আছেন। তাদের এমন কর্মসূচির ফলে আমার নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না।’

একই অবস্থা দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনেও। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ, গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন ও মশালমিছিল করা হয়। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের নাম ঘোষণা হয়। তিনি যোগ্য প্রার্থী নন দাবি এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম বজলুর রশিদ কালু ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম সমর্থিত নেতাকর্মীদের। আবার সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তারা। যদিও বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী।

দিনাজপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত বিরল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই আসনে এমন একজনকে চাই যিনি বিজয়ী হতে পারবেন। যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি উপযুক্ত নন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অভিযোগ আছে। এজন্য প্রার্থী পরিবর্তনের কথা বলছি আমরা।’

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির দড়ি গলায় ঝুলিয়েছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা

একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের যে দাবি তা কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্র যোগ্য মনে করেছে এবং এই এলাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকায় কাজ করছি। যারা আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।’

দলীয় কোন্দল আছে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) ও দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনেও। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর-১ আসনে মনজুরুল ইসলাম ও দিনাজপুর-৪ আসনে আখতারুজ্জামান মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা যোগ্য নয় আখ্যা দিয়ে দিনাজপুর-১ আসনে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। প্রায় একই দাবিতে দিনাজপুর-৪ আসনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হালিম ও মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তাদের দাবি, এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন খুবই জরুরি। নয়তো বিএনপি এসব আসন হারাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা চান একজন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিক দল। নয়তো এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বিএনপির মনোনয়ন দিয়ে আসনটি ঘরে তোলা উচিত।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার কোনও লোকজনও জড়িত নয়। দলীয়ভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু প্রার্থী পরিবর্তন করার দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেহেতু আমি দিনাজপুর-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় হাইকমান্ডের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব হচ্ছে তা অন্য দলকে সাহায্য করার একটি এজেন্ডা। দল যাচাই-বাছাই করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া ভুল হলে দলকে জানাতে হবে। কিন্তু রাস্তায় নেমে আন্দোলন নয়। আমি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আহ্বান করছি, যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। নিশ্চয়ই হাইকমান্ড এটি দেখবেন এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

বিরল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘কথা ছিল দলের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। এখন দেখছি উল্টো চিত্র। আমি চাই দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘দ্বন্দ্ব সংগঠনকে বিকশিত করে। বড় দলে প্রতিযোগিতা থাকবে। যারা প্রতিযোগী ছিলেন তারা চেষ্টা করছেন মনোনয়ন পাওয়ার। এটা দোষের নয়, বরং দলের কাঠামোগত দিক থেকে, দল অনেক গ্রহণযোগ্য এগুলো তারই প্রমাণ। কিছু কিছু আসনে প্রার্থী শতভাগ ভালো হয়নি। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র, তারেক রহমান চাইলে পরিবর্তন হতে পারে, নাও হতে পারে। তবে দলের নেতাদের এসব কোন্দলে অন্য দলের প্রার্থীদের সুযোগ নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই।’

এদিকে, এবার দিনাজপুর-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।দিনাজপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-১ আসনে খালেদা জিয়া আগে কখনও প্রার্থী হননি। ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তার বোন খুরশীদ জাহান হক (বর্তমানে প্রয়াত)। সদরে মনোনয়ন নিয়ে নেতাদের মধ্যে বিভেদ থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করায় তারা এককাট্টা হয়েছেন। 

অন্যদিকে অনেক আগে থেকেই সবগুলো আসনে মাঠে রয়েছে জামায়াত। ছয়টি আসনে প্রচার-প্রচারণা করছে দলটি। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন দলের প্রার্থীরা। 

বিএনপির এমন কোন্দলে জেলার সবগুলো আসনে জয়ের আশা করছে জামায়াত, এমনটি জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দিনাজপুর-১ আসনে আমাদের এমপি ছিলেন, মেয়র ছিলেন। সেদিক দিয়ে এটি আমাদের আসন। আর বিএনপির সেখানে কোন্দল আছে। আমরাই জিতবো। দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভক্ত। বিরলের জনগণ আমাদেরও ভোট দেবেন। সেখানেও আমরা জিতবো। আর দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির চারটি গ্রুপ। সেখানে তাদের দলীয় প্রধান প্রার্থী হলেও আমাদের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। দিনাজপুর-৪ আসনটি ও দিনাজপুর-৫ আসনটিতেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। সেখানে আমাদের বিপুল ভোটার। দিনাজপুর-৬ আসনেও আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবেন। সবগুলো আসনে বিএনপির সঙ্গে আমাদের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং আমাদের প্রার্থীরাই জিতবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

গাছ কাটার মামলায় পদ স্থগিত হওয়া বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

Published

on

By

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সরকারি গাছ চুরির ঘটনায় পদ স্থগিত হওয়া মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ওই বিএনপি নেতার বাড়িতে যাতায়াতের পথ সুগম করতে উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত বেড়িবাঁধে রোপণ করা ২০টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেন।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার মিঠামইন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এছাড়াও, দলীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বার্তায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার সকল দলীয় পদ স্থগিত করা হয়

Continue Reading

top2

রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে কিশোরীর আত্মহত্যা

Published

on

By

রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে রেজিনা সরকার পাখি নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আত্মহত্যার আগে ওই কিশোরী রাজশাহীর একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেগঘন এক চিরকুট লিখে রেখে গেছে।

উদ্ধারকৃত চিরকুটে কিশোরী তার পরিচয় দিয়ে লিখেছে, “আমি রেজীনা পাখি। আমার মারা যাওয়ার জন্য কেউ দায়ী না।” চিরকুটে সে তার ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে লিখেছে, “আমি আমার ভালোবাসার এই জীবন রেখে কী হবে।”

এছাড়া চিরকুটের শেষ অংশে সে জনৈক Mohamm HaronAnsari)-এর নাম লিখে তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছে। একইসাথে তার বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অভাববোধের কথা জানিয়ে লিখেছে, “I Love you, I Miss u Baba”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে রেজিনা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লাইভে আসে। লাইভ চলাকালীন সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বিষয়টি দেখে পরিচিতজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। 

বিস্তারিত আসছে…

Continue Reading

সর্বশেষ

ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা

Published

on

By

রমজানে বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরও (২০২৫) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের ফিতরার এ হার নির্ধারণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক।

এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।

সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনির- যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।

গম ও আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়।

এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।

মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা (প্রতি কেজি ৬৫ টাকা ধরে)। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা ফিতরা দিতে হবে (প্রতি কেজি ১৮০ টাকা ধরে)।

এছাড়া প্রতি কেজি ৮০০ টাকা ধরে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৪৭৫ টাকা (প্রতি কেজি ৭৫০০ টাকা ধরে) ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা (প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা ধরে) দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলেও জানান আবদুল মালেক।

আব্দুল মালেকের পক্ষে বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

কোনো ব্যক্তি (ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময়) নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে ঈদের দিন সকালে তার ওপর নিজের, নাবালক সন্তানসহ নির্ভরশীলদের সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

Continue Reading

Trending