গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া একের পর এক অগ্নিকাণ্ড সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর মিরপুরে কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু, চট্টগ্রামের ইপিজেডে পোশাক কারখানায় ব্যাপক ক্ষতি এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এগুলো নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?
এছাড়া ছোট বড় প্রতি ঘণ্টায় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ছে। এমন ঘটনায় হিমশিম খাচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কেন থামানো যাচ্ছে আগুন- প্রশ্নজনমনে!
‘আর্থিক ধ্বস’, ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ
পরপর ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডগুলো কেবল ধ্বংসই নয়, দেশের ব্যবসা খাত ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিরপুরের কেমিক্যাল গোডাউন, চট্টগ্রামের পোশাক কারখানা ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-প্রত্যেকটিরই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ ত্রুটি এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের দিকগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, শুধু দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনাকেও অবহেলা করা যায় না। বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। কারণ, কার্গো সেকশনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখানে কাস্টমসের জব্দ পণ্য, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের দলিলপত্র, ওষুধশিল্প ও কৃষিপণ্যের কাঁচামাল সংরক্ষিত থাকে।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএইএবি) সভাপতি কবির আহমেদ জানিয়েছেন, ‘বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এয়ার এক্সপ্রেস ইউনিট পুরোপুরি পুড়ে গেছে।’
দেশের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ’স্কাইবাই বিডি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল বিন আহাদ বলেন, বিমানবন্দর কার্গো শেডে আগুনে স্কাইবাই বিডির দুই কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, হাজার হাজার গ্রাহকের জন্যও ক্ষতি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘কার্গো ভিলেজের ভেতরের লোক ও বাইরের চক্র মেলবন্ধনে এই ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সেখানে অনেক পণ্য চুরি হয় এবং ধামাচাপা দেয়ার জন্যই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিনা, সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন। এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করা সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানসহ প্রত্যেককেই দায়িত্ব নিতে হবে। পানির পাইপ নষ্ট, ফায়ার ফাইটিং কার্যকর নয়- এভাবে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?’
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টিআইএম নুরুল কবির বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমদানি-রফতানিতে বড় প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিকভাবে ফায়ার সেফটির অব্যবস্থাপনা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
শঙ্কা ও আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা
তথ্য বলছে, গত কয়েকদিনে স্থানীয় ও রফতানিমুখী একাধিক পোশাক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতি বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ কার্গো ভিলেজের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে যে এটি কতটা অনিরাপদ।
এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু করা উচিত।
রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ
বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শাহজালালে আগুন লাগার পর ফেসবুকে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এগুলো স্বৈরাচারের দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ। তথাকথিত তদন্ত কমিটির নাটক বাদ দিয়ে এর পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিরপুর ও চট্টগ্রামের অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড কী আকস্মিক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা, এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনায় এই ঘটনা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতির প্রমাণ। যদি কোনো গাফিলতি বা নাশকতার উপাদান থাকে, তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করতে হবে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
অগ্নিকাণ্ডগুলো পরিকল্পিত বলে বিএনপি নেতা রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘ভারত চায় না বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকুক। তারা সবসময় শেখ হাসিনার মতো অবৈধ সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কোনো বড় রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি, অথচ ভারতের কূটনীতিকেরা এরশাদকে সেই নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করাতে এসেছিলেন। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ।’
এদিকে, এক বিবৃতিতে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা গভীরভাবে অবগত। আমরা সব নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই-নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।’
তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত আছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী। কমিটির কাজ হলো অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা।
এ নিয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম রবিবার সচিবালয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, “ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ৭ সদস্যের কোর কমিটি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সদস্য আরও বাড়তে পারে।”
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্র দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন দলের ম্যানেজার স্যাম জাপাটকা এবং ইউএস সকার ফেডারেশনের নিরাপত্তাবিষয়ক সহসভাপতি ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল।
এই বরখাস্তের বিষয়টি ফিফার ডিসিপ্লিনারি প্রিভিউ বা শাস্তিমূলক তথ্যের তালিকায় প্রকাশের পর সামনে আসে। ফিফাও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি।
তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের পর ফিফার ম্যাচ প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং অননুমোদিত এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ওই ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির সাথে এটি সম্পর্কিত হতে পারে। বালোগুন বহিষ্কৃত হওয়ার পরও মাঠে ফিরে সতীর্থদের সাথে উদযাপন করেছিলেন, যা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
তবে ইউএস সকার ফেডারেশন জানিয়েছে, এই বরখাস্তের সাথে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বা তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলানোর চেষ্টার কোনো সম্পর্ক নেই।
ইউএস সকার ফেডারেশন বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি এবং বিষয়টি সরাসরি ফিফার এখতিয়ারভুক্ত বলে এড়িয়ে গেছে। ফিফাও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো পাবলিক বিবৃতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই দুই কর্মকর্তা সাধারণত দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন- স্যাম জাপাটকা ২০১৫ সাল থেকে ফেডারেশনের সাথে যুক্ত এবং ২০২০ সাল থেকে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, যার ক্যারিয়ারে সিক্রেট সার্ভিস এবং সিআইএর মতো সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিশ্বকাপ শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ছাপিয়ে এখন বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি। এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফিফার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, আর এই উত্তপ্ত বিতর্কেই এবার ঘি ঢালল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
মঙ্গলবার একদল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য—মার্কিন প্রশাসনের কোনো অনৈতিক চাপ এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছিল কি না, তা নিশ্চিত করা। ওই চিঠিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পেছনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তুলতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা মনে করি, ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো—যারা প্রত্যেকেই ফিফার সদস্য—তাদের এখন হস্তক্ষেপ করার এবং বালোগানের মামলার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানানোর উপযুক্ত সময় এসেছে।’
গত সপ্তাহে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে একটি বিতর্কিত লাল কার্ড পেয়েছিলেন বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী, লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের নকআউটে তার বেঞ্চেই বসে থাকার কথা ছিল। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি বালোগুনের লাল কার্ড নিয়ে ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন। ট্রাম্প সেই লাল কার্ডকে ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করলেও দাবি করেন যে, তিনি এর বিনিময়ে কোনো সুবিধা চাননি। এরপরই ফিফা একটি বিতর্কিত আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে—যা বিশ্বকাপে লাল কার্ড প্রথা চালুর পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনো ঘটেনি!
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা–মিশর ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের দুই সমর্থক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার কাঁটাছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তেতৈয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠু (৩৫) এবং আর্জেন্টিনা সমর্থক মোহাম্মদ সাকিব (২০)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাতে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচ চলাকালে মিশর গোল করলে ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠু উল্লাস প্রকাশ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা সমর্থক সাকিবের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে মাঈনুদ্দিন মিঠুর নাকে গুরুতর আঘাত লাগে এবং সাকিব মাথায় আঘাত পান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজু সিংহ জানান, মধ্যরাতে খেলা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার নাকে গুরুতর আঘাত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।