Connect with us

আন্তর্জাতিক

ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে শনাক্ত করা হয় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মরদেহ

Published

on

ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টার সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনায় বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ারসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাইলট ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই দিন মহারাষ্ট্রের আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের শহর বারামতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তারা।

বিমানের নজরদারি করা কয়েকটি সংস্থার তথ্যমতে, ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় হঠাৎ সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয় বিমান। পরে অবশ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে আবারও সংকেত পাঠানো হয়।

‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্যমতে, অজিতের বিমানটি প্রথমবারের চেষ্টায় বারামতির রানওয়েতে নামতে পারেনি। এরপর একবার ঘুরে ফের অবতরণের চেষ্টা করেছিল। পরে ৮টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই বিমানের সিগন্যাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়েই বিমানটি ভেঙে পড়েছে।

জানা গেছে, যে জায়গা থেকে বিমানটি সংকেত পাঠানো বন্ধ করেছিল সেটি মূল অবতরণস্থল বারামতি বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। বারামতি বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের থেকে কিছুটা দূরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

যেভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে অজিতের মরদেহ শনাক্ত

পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে কারও মরদেহ প্রথমে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে হাতঘড়ি এবং পোশাক দেখে অজিতের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। ঘটনাক্রমে অজিতের দল এনসিপির নির্বাচনী প্রতীকও ঘড়ি। এই প্রতীক নিকে কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছিল নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।

দুর্ঘটনার কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা

প্রাথমিকভাবে অজিতের বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করা যায়নি। ওড়ার ১০ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তখন গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১০৩৬ কিলোমিটার। ভেঙে পড়ার আগে বিমানটির উচ্চতা কমে এসেছিল ১০১৬ মিটারে। গতিবেগ ছিল ২৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

দেশটির কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভেঙে পড়ার আগ মুহূর্তে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না। তারপর বিমানটি একবার ঘুরে ফের অবতরণের চেষ্টা করে। সে সময়ও পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। তারপরই বিমানটি ভেঙে পড়ে।

যা বলছে বিমান সংস্থা

ভিএসআর অ্যাভিয়েশন সংস্থার বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট-৪৫ বিমানে করে মুম্বাই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। গত আড়াই বছরে ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের বিমান দুবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতেই নিয়ে মুখ খুলেছেন সংস্থার মালিক ভিকে সিংহ।

ভিকে জানান, তার সংস্থার অধীনে এখন সাতটি বিমান রয়েছে। কোনো বিমানই বাতিল করা হবে না। কারণ, সব বিমান ওড়ার উপযুক্ত, কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। এমনকি অজিতের বিমানটিতেও কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছেন ভিকে।

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুম্বাই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভেঙে পড়েছিল ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের একটি ব্যক্তিগত বিমান। সে সময়ও ত্রুটির কথা মানতে চায়নি ভিএসআর অ্যাভিয়েশন।

ভিকে বলেন, ‘আমাদের বিমানে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না। খুব ভালো ভাবে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। কেন আমরা বাকি বিমানগুলোকে বসিয়ে দিতে যাব? সবগুলো ফিট। এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেয়নি।’

সূত্র : আনন্দবাজার

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৫ পুলিশ সদস্য ও এক শিশু নিহত

Published

on

By

গাজার উত্তরাঞ্চলে একটি পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য ও ১৩ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

গাজার পুলিশ জানিয়েছে, আত-তওয়াম এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলার সময় ঘটনাস্থলেই পুলিশ সদস্যরা নিহত হন। কাছাকাছি থাকা এক শিশুও মারা যায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই গাজায় হামলা চালাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, ফলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরও শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে গাজার শিশুদের মধ্যে চর্মরোগসহ নানা রোগ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

এবার আত্মপ্রকাশ করল ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’

Published

on

By

ভারতে শুরু হওয়া ব্যঙ্গাত্মক ভাইরাল আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়েছে।পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অনুপ্রেরণায় তৈরি একাধিক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’, ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ এবং ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’। খবর: এনডিটিভি

‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’র বায়োতে লেখা রয়েছে, ‘যুবদের দ্বারা, যুবদের জন্য পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট’।

একই ধরনের আরেকটি অ্যাকাউন্টের বায়োতে বলা হয়েছে, ‘যাদের সিস্টেম ককরোচ ভেবেছে, আমরা সেই জনগণের কণ্ঠস্বর’।

এই পেজগুলোর লোগো ভারতের মূল আন্দোলনের সঙ্গে অনেকটাই মিল থাকলেও পাকিস্তানে এটি সবুজ-সাদা রঙে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল যেমন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির থেকে আলাদা পরিচয় তৈরি করছে।

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন ৩০ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দিপকে। তিনি আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। এই আন্দোলনের একটি ইশতেহার এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও রয়েছে।

তবে পাকিস্তানের সংস্করণগুলো অনেক বেশি বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন নির্মাতা আলাদাভাবে তাদের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করছেন।

ভারতের এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি শুরু হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত একটি শুনানিতে বেকার যুবক ও কিছু পেশাজীবীকে ‘ককরোচ’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পর। পরে তিনি অবশ্য ব্যাখ্যা দেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারকারীদের কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন।

যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, তবুও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ অল্প সময়েই ইনস্টাগ্রামে ২ কোটিরও বেশি অনুসারী অর্জন করেছে।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

ইরানে আবারও হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম।

সিবিএস এবং অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জানান, তিনি তার ছেলের বিয়েতে অংশ নিতে যাচ্ছেন না। তিনি এর কারণ হিসেবে ‘সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হোয়াইট হাউসে ওয়াশিংটনে থাকা আমার জন্য জরুরি’। 

তবে সিবিএস ও অ্যাক্সিওস—দু’টি গণমাধ্যমই জানিয়েছে, ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিবিএস জানায়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ‘ইরান যদি চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে এর ফলাফল কী হতে পারে তা প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস বলছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, সপ্তাহজুড়ে তার অবস্থান কূটনৈতিক সমাধান থেকে সরে গিয়ে সামরিক হামলার দিকে ঝুঁকেছে।

অন্যদিকে সিবিএস জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অনেক কর্মকর্তা তাদের ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।

Continue Reading

Trending