Connect with us

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহু ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ রূপ দিতে ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন: কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

Published

on

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসভাবে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য এবং একটি ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ গড়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম আল থানি।

আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

শেখ হামাদ জানান, ইরানের সাথে বর্তমান সংঘাত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। নব্বইয়ের দশকে ক্লিনটন প্রশাসন থেকেই নেতানিয়াহু তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু মার্কিন প্রশাসনকে এই ‘বিভ্রম’ দেখাতে সফল হয়েছেন যে, এই যুদ্ধ হবে স্বল্পস্থায়ী এবং দ্রুত ইরানি শাসনের পতন ঘটবে।”

তিনি ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির ওপর অতি-নির্ভরতার সমালোচনা করে বলেন, এ বছরের শুরুতে ওমানের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব ছিল।

সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ সতর্ক করেন যে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি হলো হরমুজ প্রণালীর সংকট। ইরান এখন এই জলপথকে তার নিজস্ব সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে গণ্য করছে এবং একে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অনেক বড় হুমকি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার আড়ালে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেহরান এই অঞ্চলে তার রাজনৈতিক পুঁজি ও জনসমর্থন হারিয়েছে।

অঞ্চলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় শেখ হামাদ একটি “উপসাগরীয় ন্যাটো” গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বাইরে থেকে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বিভেদ থেকে আসছে। সৌদি আরবকে মেরুদণ্ড হিসেবে রেখে একটি যৌথ রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা প্রকল্প শুরু করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন নিরাপত্তার ওপর চিরকাল নির্ভর না করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি।

গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ডকে “নৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়” হিসেবে অভিহিত করেন শেখ হামাদ। তিনি সতর্ক করেন যে, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি ছাড়তে উৎসাহিত করার জন্য ইসরাইল অর্থ প্রদান করছে, যা গাজাকে কার্যত একটি ‘রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে’ পরিণত করার ষড়যন্ত্র। তবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব তিনি নাকচ করে দেন। একই সঙ্গে, ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ছাড়া ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে সৌদি আরবের অস্বীকৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বাশার আল-আসাদের পতনে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং নতুন সিরীয় নেতৃত্বের বাস্তবসম্মত অবস্থানের প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি একটি ঐতিহাসিক গোপন তথ্যও ফাঁস করেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ক্লিনটন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি একটি বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে ইরান যেন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে অথবা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা মেনে নেয়।

শেখ হামাদ বিন জসিম আল থানি উপসংহারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে একটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে অনুভূত হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

মার্কিন ভিসার জন্য যোগ হলো নতুন নির্দেশনা

Published

on

By


মার্কিন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

শুক্রবার (৫ জুন) সব অনভিবাসী ভিসা প্রার্থীদের উদ্দেশে এই বার্তা দি‌য়ে‌ছে ঢাকাস্থ মা‌র্কিন দূতাবাস।

বার্তায় বলা হ‌য়ে‌ছে, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে এ-৩, সি-৩ (গৃহকর্মী হলে), জি-৫, এইচ-৩ এবং তাদের নির্ভরশীল এইচ-৪, কে-১, কে-২, কে-৩, কিউ, আর-১, আর-২, এস, টি এবং ইউ ভিসার জন্য আবেদনকারী সব অনভিবাসী ভিসা প্রার্থীকে তাদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সহজ করতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বার্তায়।

সক্রিয় হচ্ছে ‘এল নিনো’, মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা!
বিবৃতিতে বলা হয়, ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যাতে আবেদনকারীরা দেশটির আইন, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ না করেন। একইসঙ্গে আবেদনকারীদের বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে হবে যে তারা তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা আবেদন পর্যালোচনায় জাতীয় নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এমন কোনো তথ্য রয়েছে কি না, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনস্বার্থের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা যাচাইয়ে বিভিন্ন উৎসের তথ্য ব্যবহার করা হয়।

একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ভিসা পাওয়া কোনো মৌলিক অধিকার নয়; বরং নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এটি প্রদান করা হয়। ফলে আবেদনকারীদের তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা ভিসা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত

Published

on

By

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে চারটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে..

Continue Reading

top1

ইরানের জনগণকে বিভক্তের ষড়যন্ত্র করছে শত্রুরা: খামেনি

Published

on

By

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে এখন অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বীজ বপনের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করছে। শত্রুদের চক্রান্ত বিফল করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ তেহরানে ইমাম খোমেনির সমাধিসৌধে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

লিখিত বার্তায় খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘দমনমূলক ব্যবস্থা’ শক্তিশালী ও স্বাধীন ইরানকে মেনে নিতে পারছে না। ইসরাইলকে সেই ব্যবস্থার একটি ‘মনগড়া ঘাঁটি’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

খামেনি বলেন, ‘শত্রু—সামরিকভাবে ব্যর্থ ও গভীর অপমানিত হয়ে এখন হাইব্রিড যুদ্ধ চালিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে চাইছে। তাদের প্রধান হাতিয়ার হলো সন্দেহ, হতাশা, ভয় এবং বিভাজনের বীজ বপন করা।’

তিনি আরো বলেন, যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড যা জনগণের মধ্যে হতাশা, অসন্তোষ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তা পরোক্ষভাবে শত্রুদের উদ্দেশ্যকেই সাহায্য করে।

সূত্র: আলজাজিরা

Continue Reading

Trending