Connect with us

ক্যাম্পাস

পরিবার থেকে দূরে গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের রমজান

Published

on

শাকিল আহমেদ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ হলো বন্ধুত্বের ও সোনালি স্মৃতির আধার, যা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষকে নস্টালজিক করে রাখে।” গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ছুটি হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ভিড় যেন কমছেই না। পরিবার থেকে দূরে শিক্ষার্থীদের রমজান কাটছে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে। ফ্রেন্ড সার্কেলদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে তাদের রমজান মাস যেন এক আনন্দঘন পরিবেশে কাটছে।

সেহরিতে একে অপরকে দাওয়াত দিয়ে প্রভাতকেও করে তুলেছে আনন্দের শামিল। এ যেন পরিবারেই বসবাস করছেন তারা।

বিকেল হলে ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল ফিল্ড, প্রশাসনিক ভবনের সামনের মাঠ এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে তারা।

রমজান যতই এগোচ্ছে, ততই যেন তাদের ইফতার মাহফিল বাড়ছে। সেই সঙ্গে রমজানের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ারও যেন শেষ নেই। বিকেলে ইফতার মাহফিলে তারা বিভিন্ন ধরনের ইসলামী সঙ্গীত ও কোরআন তেলাওয়াতসহ নানা আয়োজন করে থাকে। শুধু মুসলিম শিক্ষার্থী নয়, ইফতার মাহফিলে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

রমজানে ক্যাম্পাসে থাকার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ‘ক্যাম্পাসে থাকার একটি উদ্দেশ্য হলো আমাদের ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ইফতার মাহফিল ছিল। সব মিলিয়ে আরও কিছু কাজ আছে, যেমন বন্ধের পর সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হবে—সেজন্যও থেকে যাওয়া।’

“বন্ধুদের সাথে ইফতার-সেহরির আনন্দ”

বন্ধ ক্যাম্পাসে থাকার অনুভূতি প্রকাশ করেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন,

‘ক্যাম্পাসে গত বছর থাকা হয়নি, কিন্তু এ বছর থাকার পর মনে হচ্ছে যত দিন যাচ্ছে ততই ভালো লাগছে। এখানে বন্ধুদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ইফতারের আয়োজন হয়। আমরা বিকেলে সবাই একসঙ্গে ইফতার মাহফিলে যোগ দিই। এলাকায় যেভাবে আনন্দের সঙ্গে ইফতার ও সেহরি করি, এখানেও যেন সেই আনন্দই বহমান রয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছে আরও কিছুদিন থেকে যাই। আমরা অনেকেই আছি, এজন্য দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড় ভাই, ছোট ভাই এবং অন্যান্য সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে থাকতে থাকতে বাসার কথা যেন ভুলেই গেছি। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে রমজান মাস ভালোই কাটছে। এখনো বেশ কিছুদিন থাকব, হয়তো ঈদের দু-এক দিন আগেই বাসায় যাব।’

“বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার-সেহরিতে কম মনে পড়ে বাড়ির কথা”

ক্যাম্পাসে থাকার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান হাওলাদার। তিনি বলেন,

‘আমাদের ছুটি যদিও অনেক আগেই হয়ে গেছে, তবুও আমরা এখানে আছি। অনেকে টিউশনের জন্য যেতে পারছি না। আবার বন্ধুদের সঙ্গে সেহরি ও ইফতার একসঙ্গে করতে পারায় খুব বেশি খারাপ লাগছে না এবং বাসার কথাও কম মনে পড়ছে। এখনো অনেকে থাকায় রমজানের পরিবেশ ভালোই লাগছে।’

“শূন্য ক্যাম্পাসে পূর্ণতার রমাদান”

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন ইসলামের অভিমতে, ‘শূন্য ক্যাম্পাসে পূর্ণতার রমাদান: এক টুকরো স্মৃতিকথা। বন্ধ ক্যাম্পাসে নিউমার্কেটের চেনা কোলাহল এখন নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা। লাইব্রেরির টেবিলে জমেছে আলস্যের ধুলো। জনশূন্য এই করিডোরে ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্টের দৌড়ঝাঁপ নেই ঠিকই, কিন্তু হলের প্রতিটি কোণে এক মায়াবী বসন্ত নেমেছে—পবিত্র রমজানের ছোঁয়ায়।

রাতের নিস্তব্ধতা, বসন্তের ফুলের সুগন্ধি মেশানো বাতাস সেহরির সময়টাকে করে তুলছে মায়াবী, স্মৃতিকাতর এবং অপার্থিব তৃপ্তিময়। ডাইনিংয়ের মামাদের হাঁকডাক, ছাতার দোকান কিংবা বালুর মাঠের মামাদের আমাদের জন্য অপেক্ষার প্রহর; এমনকি ক্যালিফোর্নিয়া এলাকায় হেঁটে বেড়িয়ে গল্পে মেতে বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে সেহরির অপেক্ষা—এই স্মৃতিগুলোই ক্যাম্পাসের দিনগুলোকে রঙিন করে তোলে।

তাছাড়া ইফতারে বাড়ির ডাইনিংয়ের সেই চেনা পরিপাটি আয়োজন হয়তো নেই, তবে ক্যাম্পাসের নিস্তব্ধতায় বন্ধুদের সঙ্গে মাদুর পেতে অথবা নরম ঘাসের কোমল আদরে বসা—এ যেন এক পশলা মায়ার গল্প। ছোলা-মুড়ি মাখানো আর বরফ-ঠান্ডা শরবতের খোঁজে যখন নিউমার্কেট এলাকায় ছোটাছুটি; সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত তৃপ্তি।

সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে আজানের প্রতীক্ষায় যখন আমরা সেন্ট্রাল ফিল্ডে গোল হয়ে বসি, বাড়ির শূন্যতাটুকু তখন বন্ধুদের হাসিমুখ আর এই ‘ভাগ করে খাওয়া’র আনন্দেই পূর্ণতা পায়। বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে এই শূন্য ক্যাম্পাসটাই এখন আমার সবচেয়ে পূর্ণতার গল্প। হ্যাঁ, এটাই ক্যাম্পাসে শেষ রমাদান।

“এমন সুখের দিন তুমি আর নাও পেতে পারো

প্রতিটা ক্ষণ আঁকড়ে ধরো, গাফলতি ঘুম ছাড়ো

খুশবু যে তার ছড়িয়ে যাবে ফেরদাউসের দ্বারে

সুশোভিত হয়ে দেখো দাঁড়ায়ে রাইয়ান।”

এছাড়াও টানা ৪৫ দিন ছুটি দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বাসায় যেতে বিলম্ব করছে। সেই সঙ্গে তারা রমজানের আনন্দ বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য অনেকে ক্যাম্পাসেই রয়ে গেছে। মাঝে মাঝে রমজানের গান তাদের ইফতারি ও বিভিন্ন আড্ডাকে আরও বেশি আনন্দমুখর করে তুলছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে দুইটায় হলের ২জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে সংগঠিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অত্র হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম তালুকদারকে আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের করতে বলা হলো।

এদিকে একইদিনে ঘটনার তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা লিখিতভাবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন ভবনের ১০৯ নম্বর কক্ষে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। তথ্য সত্য, নিরপেক্ষ ও যথাসম্ভব বিস্তারিতভাবে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় ও দেওয়া তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তথ্যদাতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বা আলোচনার জন্য নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি তথ্য প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাৎ বা আলোচনা করে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, গতকাল (শনিবার) দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলিনূর রহমান বাঁধন কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় উত্তাল হয় ক্যাম্পাস। হলেই এক দফা হট্টগোলের পরে ছাত্রশিবির জিয়া মোড়ে এবং ছাত্রদল মেইন গেটে অবস্থান নেয়। এসময় উভয় দলের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এদিকে ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগত অনেককে হাতে রামদা, কিরিচ, চাপাতি-সহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনার পরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে ইবি প্রশাসন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

পুনরায় শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব রিয়াজ রিমন বলেন, ‘কেউ একজন বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব।” আমরাও প্রশাসনকে বলতে চাই শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটায় ‘শাকসু পুনরুদ্ধার আন্দোলন’ এর ব্যানারে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে এ কথা বলেন তিনি। মানবন্ধনে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র আন্দোলন, ইনকিলাব মঞ্চের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে কারা হাইকোর্টে গিয়েছিল, কারা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছিল এবং কারা শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শাকসু নির্বাচনে সহযোগিতা করবে না বলে সংবাদ সম্মেলন করেছিল তা পুরো বাংলাদেশ দেখেছে। বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিরাই শাকসু নির্বাচন বানচালের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, শাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার। শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন হবে, প্রশাসনকে নির্বাচন দিতেই হবে। আমরা শাকসু নিয়েই ঘরে ফিরব। নির্বাচন না দিলে কীভাবে শাকসু আদায় করতে হয়, তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানে।’

মানববন্ধনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল হাসান বলেন, শাকসু স্থগিত হওয়ার পর প্রশাসন বলেছিল ৪ সপ্তাহ পর শাকসু নির্বাচন হতে কোন বাঁধা থাকবে না। কিন্তু প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন এখনো কি সেই ৪ সপ্তাহ হয় নাই?

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, ‘‘বর্তমান প্রশাসন এবং নির্বাচিত সরকার কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু তাদের কাছে কি গণতন্ত্রের অর্থ শুধুমাত্র ৩০০ আসনের সংসদীয় নির্বাচন? একটি দেশের জনগণের ভোটাধিকার থাকলে সেই দেশের শিক্ষার্থীদেরও তো গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু তারা সেটি বাস্তবায়ন করছেন না। তারা যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে সব জায়গাতেই এর চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা এক ধরনের মুনাফিকি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘৯০ এর পর বিএনপি আর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হইতে দেয় নাই। তারা ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ‘হত্যাকারী’। যদি তারা সেই ‘ছাত্র সংসদ হত্যাকারী’ তকমা বহন করতে না চায় এবং সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে, তাহলে তাদের স্বীকার করতে হবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রয়েছে।’’

স্বতন্ত্র ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক শাকিল বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে রিটের মাধ্যমে তা নির্বাচন বন্ধ করার মতো এমন নোংরামির নজির আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। আমি এখনো শাকসুর সময়ে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অন্যায় কেন করা হলো? প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, শিক্ষার্থীদের যে কষ্ট দিয়েছেন, তা উপলব্ধি করুন। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত শাকসু নির্বাচন দিন।’

ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রশিদ আবরার বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বানচালে যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে, তাদের জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসন শাকসু চায় না। কারণ শাকসু প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। শিক্ষকদের স্বৈরাচারী মনোভাব, অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পুতুলের মতো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও তারা হারাবে। এ কারণেই প্রশাসন শাকসু নির্বাচন দিতে চায় না।

ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, আশা করছিলাম নতুন যে প্রশাসন এসেছে তারা শিক্ষার্থীদের পার্লস বুঝবেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়নে তারা তাদের ন্যূনতম কর্তব্য (শাকসু নির্বাচন দেওয়া) পালন করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন ‘নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন’, ‘দায়িত্ব বুঝে পাই নাই’ এরকম নানা কথা বলে নাটক মঞ্চায়ন করছেন।

মানবন্ধনে আরো বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম পবন প্রমূখ।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘‘শাকসু পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গত বৃহষ্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছি। আজ মানববন্ধন করলাম। আগামীকাল দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করব। যদি প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।’’

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ববিতে সংঘাত-বিশৃঙ্খলা রোধে উপাচার্যকে ছাত্র অধিকার পরিষদের স্মারকলিপি

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরানো, বিভাগভিত্তিক সংঘাত বন্ধ এবং সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক মামুন অর রশীদ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ববি শাখা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতারা।

স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের মেসগুলোতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব সংঘাত ব্যক্তিপর্যায় ছাড়িয়ে ‘বিভাগভিত্তিক’ রূপ নিচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করছে।

নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসন অবিলম্বে এসব নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আপসহীন ও কঠোর অবস্থান না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায়ভার কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়।

ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়:

  • জিরো টলারেন্স নীতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দল-মত ও বিভাগ নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ও একাডেমিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • নিরাপত্তা জোরদার: ক্যাম্পাস, প্রধান ফটক ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে প্রক্টরিয়াল বডি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শুরুতেই রুখে দিতে প্রক্টরিয়াল বডিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
  • কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বৃদ্ধি: বিভাগভিত্তিক রেষারেষি বন্ধে প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা বা ‘কাউন্সেলিং’-এর আয়োজন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক উগ্রতা কমাতে এবং পারস্পরিক সহনশীলতা বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবন ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় উপাচার্য অভিভাবকসুলভ দৃঢ়তা দেখিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে স্মারকলিপিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

Continue Reading

Trending