Connect with us

জাতীয়

প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দিনের কর্মবিরতি, দেশের সব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ

Published

on

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে তিন দিনব্যাপী কর্মবিরতি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চলবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পর্যন্ত। এতে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি চালানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা দূর করা। বহুদিনের আলোচনার পরও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এই কর্মবিরতি শুরু করা হয়েছে।

সংগঠন জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং লাগাতার অনশন শুরু করা হবে। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এখানে কর্মরত শিক্ষক ৩ লাখ ৮৪ হাজার। সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন, যা তাদের অসন্তুষ্টির কারণ।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

১৫৬ দিনে হাম ও উপসর্গে ৯১৮ শিশুর মৃত্যু

Published

on

By

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে মারা যায়নি কোনো শিশু।

একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২ জন। নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে ১ জন ঢাকার এবং ২ জন সিলেটের বাসিন্দা।

এ নিয়ে গত ১৫৬ দিনে (৫ মাস ৩ দিন) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯১৮ শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮১৯ শিশুর। নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জন। তাদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টা ভর্তি হওয়া ৯০৩ জনসহ এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৮৯ জন।

নতুন সুস্থ হওয়া ৯৬৭ জনসহ এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ ছেড়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১৮০ জন। 

Continue Reading

top1

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Published

on

By

সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের অন্যতম বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর নতুন জ্বালানি দিতে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এ সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ জন্য পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Continue Reading

top1

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি দুই দেশেই

Published

on

By

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে, আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার (যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পান) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।

মোদী-তারেকের সম্ভাব্য প্রথম বৈঠক

এনডিটিভি লিখেছে, নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে দুই দেশেরই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

তবে গত নির্বাচনের পর থেকে দিল্লি ও ঢাকা দুই তরফেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ১০ অগাস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে; তবে সেজন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।

আর এর অংশ হিসেবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘বড় ইস্যু’

এনটিভি লিখেছে, ভারত সফরে তারেক রহমানের আলোচনায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় ঢাকা।

ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা ‘যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়’ পর্যালোচনা করছে। তবে ভারত তাকে ফেরত দেবে, তেমন সম্ভবনা দেখছেন না অধিকাংশ বিশ্লেষক।

গত ৫ অগাস্ট দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ঢাকা।

দিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সেদিন অডিও কলে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি তোলেন এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানান।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দাণ্ডিত শেখ হাসিনা যাতে দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারেন, সেজন্য আগেই ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানটির আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজন এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তাতেও কোনো সমর্থন দিচ্ছে না।

কিন্তু তারপরও দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন হতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। ‘দণ্ডিত পলাতক আসামিকে’ বক্তৃতার সুযোগ করে দেওয়াকে সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারংবার পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব এখনও মেলেনি।

“এর বিপরীতে, যে কোনো অজুহাতেই হোক, তাকে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।”

এরপর ৭ অগাস্ট নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আবারো বলেন, ওই আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে যা কিছু বলা হয়েছে, তাও সমর্থন করে না সরকার।

ঢাকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ১০ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার ত্রিবেদীর।

ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়ার পাশাপাশি তাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বলেছে ঢাকা।

পরদিন দিল্লির ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়ালকে এ বিষয়ে আবারো প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে জানতে চান একজন সাংবাদিক। শেখ হাসিনার মামলার নথি ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও তিনি করেন।

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। ভারতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

‘সংশ্লিষ্ট সূত্রের’ বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, তারেক রহমান ও ভারতীয় হাই কমিশনারের বৈঠকেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

“তবে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক যাতে এই একটি প্রশ্নে আটকে না যায়, সে জন্য বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় আনা হবে, তাও উভয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।”

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে।

পানি বণ্টনও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আসছে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও জরুরি। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

দুই দেশের সাম্প্রতিক তৎপরতায় সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বেশ ভালোভাবেই। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছেন।

“আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে—ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে উইন-উইন সিচুয়েশন। এটা আমাদের ঐতিহাসিকভাবে আছে, এটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। প্রতিবেশী তো বদলাতে পারবেন না, ইতিহাস বদলাতে পারবেন না।”

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি সবসময় বলি, আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমরা তো স্বপ্ন ভাগাভাগি করি, তাই তো?

“আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন খুবই ভালো হবে। ইস্যুজটা শর্ট-আউট করতেই হবে, দুদিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী।”

এনটিভি লিখেছে, এই সফরেই দুই দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো, পানি বণ্টন, বাণিজ্য এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আরও আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে।

“তবে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক ভারতের নেতৃত্বকে বাংলাদেশের অবস্থান জানার একটি রাজনৈতিক সুযোগ করে দিতে পারে। একইভাবে নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিজেদের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নরেন্দ্র মোদী।”

ভারতের সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, “সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হলে সেটি বাংলাদেশ-ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

“দুই দেশের জন্য এখন মূল লক্ষ্য হতে পারে আবার সরাসরি আলোচনা শুরু করা এবং কঠিন প্রশ্নগুলোকে সামগ্রিক সম্পর্ক ছাপিয়ে যেতে না দেওয়া।

Continue Reading

Trending