Connect with us

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য

বাংলাদেশ–ভুটান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের অঙ্গীকার

Published

on

স্টাফ রিপোর্ট 

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদার করতে অঙ্গীকার করেছে দেশ দুটি।

গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভুটানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তবগে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এসময়ে তিনি বাংলাদেশ ও ভুটান,  কুড়িগ্রাম–গেলেফু করিডোরের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করতে এই করিডোরের ভূমিকাকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

এ সময়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে G2G অংশীদারত্বে নির্মাণাধীন কুড়িগ্রাম স্পেশাল ইকোনমিক জোন ভুটানের আসন্ন বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে শিল্প–বাণিজ্যিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বিডা ও বেজা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদা) আশিক চৌধুরী কুড়িগ্রাম ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময়ে তিনি বলেন “কুড়িগ্রাম ও গেলেফু আমাদের যৌথ অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের পরিপূরক ইঞ্জিন হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার, দক্ষ মানবসম্পদ ও বৈশ্বিক সংযোগের শক্তি; আর ভুটানের টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবনী দৃষ্টি ও মানবিক মূল্যবোধ এই দুই শক্তির সমন্বয় সীমান্ত অতিক্রম করে নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক সহযোগিতার মডেল গড়ে তুলবে।”

বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থিক, শিল্প ও সেবা খাতে ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এসব সম্ভাবনা যাচাই ও বিনিয়োগ সুযোগ অনুসন্ধানে শীঘ্রই ভুটানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। 

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নবান্ধব বিনিয়োগ পরিবেশ বিনির্মাণে বিডার সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়; যেমন কর কাঠামো উন্নয়ন, মূলধন প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার গতিশীলতা, কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সমর্থন। এ সময়ে দুই পক্ষই ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বন্ধন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ভুটান প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত হে.ই. রিনচেন কুয়েন্তসেল এবং দেশটির স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডা, বেজা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভুটানে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তির খবরেই তেলের দামে বড় পতন

Published

on

By

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে আশাবাদের আবহ তৈরি হয়েছে। এরই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। সামান্য কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

যদিও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবুও যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ডেলিভারির দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৩৬ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৭১ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে।

অন্য দিকে বেশি লেনদেন হওয়া আগস্টের ব্রেন্ট ফিউচারস ৪৬ সেন্ট বা ০.৫০ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। এই সময়ে ব্রেন্টের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে দাম ১০৯ দশমিক ৪৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, সেখানে তা নেমে আসে ৮৭ দশমিক ১১ ডলারে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর গুঞ্জনের কারণে বাজারে এমন ওঠানামা হচ্ছে। বিশ্বে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির অনুমোদন দেননি। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Continue Reading

top1

চীন ও ভারত থেকে দেশে এলো ৫৩ হাজার টন ডিজেল

Published

on

By

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিকৃত এই জ্বালানি দিয়ে দেশের বর্তমান দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন চাহিদা অনুযায়ী প্রায় চার দিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে।

জাহাজগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন জানায়, শুক্রবার (১ মে) বিকেলে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘লিলা কিংস্টন’ ১৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। এর পরদিন শনিবার ভোরে ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী ‘প্রাইভেট সোলানা’ কুতুবদিয়া এঙ্করেজে এসে পৌঁছায়।

প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ডলফিন জেটি ও বহির্নোঙর মিলিয়ে বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। এর মধ্যে একটি জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে তেল খালাস কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার ২২৭ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। মে মাসে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েলসহ মোট ৬ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এই চালান দেশের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Continue Reading

top1

রাশিয়ার তেল কিনতে বাংলাদেশকে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

Published

on

By

রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি সবুজ সংকেত দিয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া এখনো শুরু না হলেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার মতে, গত ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়টি ৯ই জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরআগে, গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়ে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল।

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সে সময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ আরও নানা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ আগামী ৩ মাসের জন্য তেল ছাড়ের (ওয়েভার) অনুরোধ করেছিল। কূটনীতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে সম্মতি চাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি কূটনীতিকরা দেশটির ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে রাশিয়ার কিছু তেল কোম্পানির নামও দিয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তেল আমদানি করা যাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে এমন ধরনের তেল আমদানি করতে চায়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। সেটি না হলে বাংলাদেশকে তৃতীয় কোনো দেশে তেলটি প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে। বর্তমান রিফাইনারির সক্ষমতা অনুযায়ী রাশিয়া থেকে অবশ্যই বিশেষ ধরনের হালকা অপরিশোধিত তেল আনতে হবে।

Continue Reading

Trending