Connect with us

ক্যাম্পাস

বেরোবিতে অনুমোদনবিহীন ভর্তি: অনিশ্চয়তায় ২০৫ গবেষক

ছবি: সংগৃহীত

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) -এ এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) -এর অনুমোদন না থাকলেও ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট ২০৫ জনকে ভর্তি করে করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুমোদন ছাড়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিষয়টি ১০ বছর গোপন থাকলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে তা প্রকাশ্যে আসে।

পরবর্তীতে গত বছরের ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বর্তমান ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স) অধীনে গবেষণার জন্য ভর্তির অনুমোদন মেলে। ফলে পূর্বে ভর্তি হওয়া ২০৫ জনের অনুমোদন না থাকায়  অনিশ্চয়তায় দিন গুনছেন তারা। বিষয়টির সুরাহা করতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে। 

অনুমোদবিহীন গবেষকদের সাথে বর্তমান উপাচার্য দুই দফায় মিটিং করার পর ইউজিসির নিকট অনুমোদন ছাড়া ভর্তি হওয়া ২০৫ গবেষকদের ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন জানালে ইউজিসি আরেকটি ফিরতি চিঠিতে জানানো হয়, ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই। ইউজিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০৫ গবেষকের ডিগ্রি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। 

গবেষকরা বলেন, তারা অনেকেই ৮/১০ বছর ধরে গবেষণা কার্যক্রম করছেন, অনেকেই আবার গবেষণা কার্যক্রম শেষ করেছেন, এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউজিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে সময় ও আর্থিক ক্ষতির মধ্য পড়ছেন গবেষকেরা।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ১০ সিন্ডিকেট সভার নবম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইনস্টিটিউট থেকে এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১১ সালের ৩ নভেম্বর ২০তম সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১২ সালের ৭ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমফিল, পিএইচডিতে ভর্তি করানো হয়।

ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট সূত্র হতে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এসব ব্যাচে এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ভর্তি হন ২০৫ জন। তাদের মধ্যে ২০১১-২০১২ সেশনে ১৬ জন, ২০১৮-২০১৯ সেশনে ৩৭ জন, ২০১৯-২০২০ সেশনে ৭১ জন, ২০২০-২০২১ সেশনে ৪৪ জন, ২০২১-২০২২ সেশনে ৩৭ জন ভর্তি হন। ২০১২ থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে তাদের ভর্তি করা হলেও ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধীনে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ১৬ মে। ফলে আগের ১০ বছরে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের কোনো ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ থাকছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র শিক্ষকের জানান, গবেষণার জন্য অনুমোদন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে এই ভর্তি শুরু হয়। প্রথম কর্মকর্তা হন তার মেয়ে। পরে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট খুলে এর অধীনে গবেষক ভর্তি করানো হয়।

জানা গেছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে গবেষণার জন্য ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ভর্তি হওয়ায় অনেকের ছুটি শেষ হয়েছে। অনেকেই গবেষণা শেষ করতে পারেননি, গবেষণাপত্র জমা দিতে পারেননি। এমন অনেকেই আছেন যে গবেষণা শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা ফেরত দিতে চিঠিও পেয়েছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা সার্কুলার দেখে ভর্তি হয়েছি। ২০১২ সালে ভর্তি হলেও অদ্যবধি কোনো সুরহা হয়নি। আমাদের অপরাধটা কোথায়? আমরা সব নিয়ম মেনে ভর্তি হয়েছিলাম। এর দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের।

গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হক বলেন, ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য যারা চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাদের আইনি জ্ঞান স্পষ্টতই নেই। ইউজিসির এই চিঠিই তার প্রমাণ। কোনো প্রতিষ্ঠান কখনো ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পায় না; ভূতাপেক্ষভাবে অ্যাবজর্ব করা যায় কেবল শিক্ষার্থী বা ফেলোদের, প্রতিষ্ঠানকে নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্বে অনুমোদন না থাকলেও ফেলো ভর্তি হতে পারে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের ফেলোদের ইউজিসি ফেলোশিপ দিয়েছে।  উদাহরণস্বরূপ, কেউ একটি স্কুল খুললেন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি দিয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনুমোদন পেলেন। এখন কি সেই শিক্ষার্থীদের আবার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করতে হবে? নতুন করে ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে এরকম শত নজির রয়েছে। আইন সর্বদা এক।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক ভর্তি করলো কেন? এটা নিছক প্রতারণা ও ক্রিমিনাল অফেন্স। যেকোনো গবেষক ফেলো চাইলে প্রতারণা ও ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।  ভর্তির লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সেটাও ফৌজদারি অপরাধ।

২০১২ সালে গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, আমি যথাযথ নিয়ম মেনে পিএইচডি প্রোগ্রাম এ ভর্তি হয়েছি এবং আমি থিসিসও জমা দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমি ন্যায়বিচার চাই।

আরেক শিক্ষার্থী রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মাহাতার হোসেন সুজন বলেন, অনুমোদন আছে কি মেয়ে সেটা তো আমরা জানি না। পত্রিকায় সার্কুলার পেয়েছি আমরা আবেদন করেছি। আমাদের সকল কাজ শেষ আমরা থিসিসও জমা দিয়েছি। তাহলে কেন এত বছর পর এসে বলবে যে সেটার অনুমোদন নেই। তাহলে কেন আমাদের ভর্তি করানো হলো। এখন তো আমাদের আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় দেখছি না। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। আমি দুইবার চেষ্টা করেছি। ব্যর্থ হয়েছি। এখন আমরা নতুন করে সার্কুলার দেব। কেউ চাইলে এখানে রি অ্যাডমিশন নিতে পারবেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বাসে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারির ঘটনায় ইবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, আহত ৪

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহগামী বাসে (মধুমতি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীকে লোকপ্রশাসন বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর মারধরের ঘটনায় দুই বিভাগের মধ্যকার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে আটটার বাস ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সময় প্রধান ফটকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে বাসে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সায়মন আহমেদ হৃদয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অন্তর বিশ্বাস।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মধুমতি বাস নিয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা। এসময় হৃদয়সহ তাঁর কয়েকজন বন্ধু বাসে উচ্চস্বরে কথাবার্তা ও হইচই করছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে অন্তরের পাশের সিটে বসা এক শিক্ষার্থী তাঁদের থামতে বলেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে হৃদয় তেড়ে এসে অন্তরের গায়ে হাত তোলেন এবং উপর্যুপরি আঘাত করেন। বাসের এই ঘটনার জের ধরে অন্তর ও হৃদয়ের বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় এবং রাত আটটার বাসে অভিযুক্ত হৃদয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের উপস্থিতিতেও ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ মোতায়েন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি, ট্রেজারার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত হয়ে পরিবেশ শান্ত করে।

এদিকে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল করিম, বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাগর, লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাসু প্রধান ফটকের সামনে সংঘটিত সংঘর্ষে আহত হন। পরে ইবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল চিকিৎসক তাদের বিষয় নিশ্চিত করে জানান, “একজনের নাকে, আরেক শিক্ষার্থীর পায়ের আঙুলে, অন্যজনের ঘাড়ে সামান্য আঘাত ছিল। ট্রিটমেন্ট দেওয়ার পর ঠিক হয়ে গেছে। বড় ধরনের সমস্যা নেই।”

এবিষয়ে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর রাত আড়াই পর্যন্ত উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মীমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ক্ষমা চাওয়ায় এবং ভুক্তভোগীরা ক্ষমা করে দেওয়ায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। উভয় পক্ষ মুচলেকা দিয়েছে।”

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে ইবিতে ‘ছাত্রশক্তি’র কমিটি গঠনের গুঞ্জন!

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র কমিটি গঠন নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এতদিন ক্যাম্পাসে সক্রিয় রাজনীতি করে গেছে জুলাই বিপ্লবী প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ছাত্রশক্তির কমিটির প্রয়োজনবোধ ছিল না বলে মনে করছিলেন জুলাই যোদ্ধারা। তবে এবার ইবিতে প্রথমবারের মতো ছাত্রশক্তির কমিটি ঘোষণার কথা ভাবছে কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রশক্তি আদর্শ ও ছাত্র রাজনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সারাদেশে কমিটি ঘোষণা করবে কেন্দ্র। ইতোমধ্যে সিভি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান। খুব শিগগিরই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠন করা হবে। এতে জুলাই যোদ্ধাদেরকে মূল্যায়ন করছেন বলে জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র ইবি শাখার নেতৃত্বে কমিটি আনার তোড়জোড় শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান। এতে তাকে নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রলীগ আমলে মিছিল মিটিং-এ সক্রিয় ছিল বলে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিপ্লব পরবর্তী সময়েও আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা তাড়িয়ে দেয় ওই নেতাকে। তখন থেকে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি বা মাঠপর্যায়ে রাজনীতি করার সুযোগ পাননি তিনি। তবে জেলা পর্যায় থেকে তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছে।

এদিকে কমিটির গুঞ্জনে উঠে আসা বিতর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিন। তার বিরুদ্ধে মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে দৈনিক মজুরিতে কাজ না করে নিয়মিত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে কর্মরত এক সাংবাদিকও কমিটিতে আসার তোড়জোড় চালাচ্ছে বলে অভিযোগ একাধিক শিক্ষার্থীর।

সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংস্থায় সক্রিয়ভাবে কাজ করা শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ’র নামও কমিটির প্রথম সারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বৈছাআ’র ইবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ, প্লাটফর্মটির সংগঠক ইমরান হোসেন ও মোহন রায় উল্লেখযোগ্য। তবে তাদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিতর্কিত কোনো ইস্যুু তৈরি হয়নি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বিতর্কিতদের নিয়ে কমিটি গঠনের গুঞ্জনে ফেসবুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার যুগ্ম সদস্য বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ লেখেন, ফ্যাসিস্টের দোসর ফুয়াদ হাসান ২০২৪ সালের ৮ আগস্টে আজিজ হল ইন্টারন্যাশনালের এক ব্লক দখল করে ছাত্রলীগ পুনর্বাসিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ প্রদর্শন করে তাকে হল থেকে বের করে দেয়।এই গণহত্যাকারীর দোসর জুনিয়ররা প্রোগ্রামে না গেলে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। ফুয়াদ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করেছে এবং এমনও আছে যে, সে ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে তার বাসায় যেতে পরিবহন ভাড়া দিত না।

এছাড়া আরও লেখেন, এখন ইবিতে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সহকারে কমিটি আনতে চাচ্ছে এবং তার সাথে আছে এক সুশীল সাংবাদিক— পূর্বে বৈছাআ, এতদিন ছাত্রদল আর এখন ছাত্রলীগকে চাটে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমিটি পুর্নগঠনের দায়িত্বে থাকা জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা হাসিব আল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

‎রুয়েটে কেক কেটে এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন

Published

on

By

‎রুয়েট প্রতিনিধি

‎নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার (১১ মে) যাত্রা শুরু করেছে অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এশিয়া পোস্ট’। এ উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৬টায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)  ক্যাফেটেরিয়াতে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

‎কেক কেটে এ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার। 

‎অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন মাহিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সোহাগ রানা, রুয়েট রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান নুর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

‎এসময় ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, নতুন একটি নিউজ পোর্টাল এশিয়া পোস্ট যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।  আশা করি তারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করি।  এবং আশা প্রকাশ করছি, এটি দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নিউজ পোর্টালে পরিণত হতে পারে।”

Continue Reading

Trending