Connect with us

ক্যাম্পাস

রাকসু নির্বাচন: বাতিল হওয়া প্রার্থীতা ফিরে পেলেন ৫ জন

Published

on

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন আপিলে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদের এক প্রার্থীসহ দুজনের আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা আপিল করেছিলেন। তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে পাঁচজনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় রাকসুতে জিএস পদে আশিকুর রহমান ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি পদে মারুফ হাসান জেমসের প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।’

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া প্রার্থীরা হলেন- কেন্দ্রীয় সংসদে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে সাগর আহমেদ মিয়া, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সহকারী সম্পাদক পদে শাহীন আলম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহকারী সম্পাদক পদে রিচার্স চাকমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সুজন চন্দ্র। এছাড়া সিনেট ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ওমর ফারুক সাফীন আজমীর।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হিন্দু শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্রও প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন।

এর আগে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে ৭ জন এবং বিভিন্ন হল সংসদে অন্তত ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন পদে মোট ৯২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে রাকসু কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি পদে ২০ জন, জিএস পদে ১৪ জন ও এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী শনিবার প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। রোববার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, যার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন যুগ পর নির্বাচনী উত্তাপ ফিরছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

ক্যাম্পাস

২ জুলাই থেকে ইবিতে আন্দোলনের সূচনা: ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হকের লেখা ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

শুরুর সময়টা ২০১৮ এর প্রথম থেকেই। সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছি। বছরের শুরু থেকেই আন্দোলন কিছুতেই পিছু ছাড়ার মতো না। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি পূর্বের থেকে অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটা কমানোর আন্দোলন, বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির আন্দোলন, সবশেষে যুক্ত হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। সবগুলো আন্দোলনেই অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়। একে একে বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুক্তিকামী জনতার বিজয়ের বার্তা নিয়ে হাজির হয় ২০২৪। আমি তখন এম.এস.সি. তে অধ্যায়নরত অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ পর্যায়ে।

২ জুলাই ২০২৪ তারিখ থেকে ক্যাম্পাস যেন আবার ২০১৮-তে ফিরে যায়। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও শুরু হয় আন্দোলন। আবারও সুযোগ আসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশীদার হওয়ার। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। একই আন্দোলন চলে ৮ তারিখ পর্যন্ত।

১০ জুলাই ২০২৪, বাসায় যাই। খুলনা থাকাকালীন আন্দোলন থেকে দূরেই ছিলাম। ১৫ জুলাই ২০২৪ শিক্ষার্থীদের অবস্থান খুলনা জিরো পয়েন্ট। ১৭ জুলাই খুবির শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ এর সামনে শহীদ আবু সাঈদ এর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তখন সিচুয়েশন এমন যে— বাসায় থাকাও অনিরাপদ। হয়রানির এক পর্যায়ে ৩১ জুলাই আমি খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাই।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

ইবি ক্যাম্পাসের সিদ্ধান্ত যেকোনো মূল্যে ৩ আগস্টের মধ্যে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হবে। অস্থিরতা বেড়ে চলে। ৩ আগস্ট ২০২৪, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি। সকাল বেলা রওনা রওনা হই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার সুবাদে এই দিনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ক্যাম্পাসে পৌঁছানো। দুপুর ২ টার দিকে বাসায় পৌঁছি।

দুপুরে খেতে খেতে ক্যাম্পাসে আসার কথা বললে আব্বু আম্মু কেউ রাজি হন না। শেষতক চোরের পানিসমেড কিছুটা সম্মতি দিলেন। বাসা থেকে বের হব শুধু এতটুকুই নিশ্চিত। এরপর কী হবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। বাসা থেকে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠি। রাত ৯ টার দিকে শেখপাড়া বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ত্রিবেনী রোড দিয়ে অজানা গন্তব্যে হাঁটতে শুরু করি। থাকার কোন সমাধান না পেয়ে আবু মুসা ভাইকে নক করলে তিনি থাকার ব্যবস্থা করেন।

বদলে যাওয়ার বার্তা:

৩ আগস্ট ২০২৪, ঢাকায় আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃতাধীন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।

৪ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে রুম থেকে বের হয়ে ডায়না চত্ত্বরে পৌছলাম। তখন কারোরই থাকা-খাওয়ার কোন ঠিক নেই। আল্লাহর কাছে শুধু একটাই ফরিয়াদ ছিল আল্লাহ যেন শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন। পুলিশ, বিজিবিসহ সকল বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেইটসহ রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়েই ডায়না চত্ত্বর থেকে মিছিল শুরু হল। কোন ক্লান্তি নেই, থেমে যাওয়ার আশংকা নেই। আন্দোলনের মাঝে ভাইয়েরা শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করছিল। সবশেষে এস এম সুইট ভাইয়ের পরবর্তী দিনে আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষণার মাধ্যমে আজকের আন্দোলন সমাপ্ত হয়।

রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রচণ্ড মাথা ব্যাথাসহ ঘুমাতে যাই। এ সময় ইউসুফ ভাই নির্দেশ দেন- মেস পাহাড়া দিতে হবে। আমরা ফজর পর্যন্দ মেস পাহাড়া দেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ি।

নতুন সূর্যোদয়:

৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল দশটায় এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। সকাল ১১ টায় ক্যাম্পাস থেকে আন্দোলন শুরু হবে। রুম থেকে বের হই। নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত জায়গা থেকেই শ্লোগানে-স্লোগানে আন্দোলন শুরু হয়। আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিতে থাকে। এলাকার মা-বোনেরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সাথে অংশ গ্রহণ করে। লাঠিতে ভর করে ও ঠিকমতো হাঁটতে না পারা আশি উর্ধ্ব বয়সের মুরুব্বী এবং হাত-পা না থাকা লোকও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো মেইন গেট এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে স্বৈরাচারের দোসর বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেটের আশেপাশে অবস্থান নেয়।

বেলা আড়াইটার দিকে মাইক্রোফোন হাতে ভ্যানের উপরে দাড়িয়ে আছে হাসানুল বান্না অলি। ওর সাথে জাকারিয়া, আমিনুর, জোবায়েরসহ আরো কয়েকজন। হঠাৎ কানে ভেসে আসে সেই অকাঙ্ক্ষিত বাক্য। যা শোনার অপেক্ষায় ছিল বাংলার লক্ষ-কোটি মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা। মাইক থেকে ঘোষণা হয়- স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। মনে হচ্ছিল সদ্য মুক্ত হওয়া স্বাধীন নতুন এক বাংলাদেশে নতুন করে প্রশ্বাস নিচ্ছি। বাংলাদেশের আকাশে যেন নতুন এক সূর্য উঠেছে। মহান রবের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আন্দোলনে আহতদের সুস্থতা দানের পাশাপাশি নিহতদের শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন এবং আমাদের সকলের এই প্রচেষ্টাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন।

লেখক: এহসানুল হক
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Continue Reading

top3

জবির শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসনে আরও ১০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি

Published

on

By

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের সাথে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১০০ কোটি টাকার গৃহ নির্মাণ ঋণ ‘ডিড অব কর্পোরেট গ্যারান্টি অ্যান্ড লোন এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে এই হোলসেল ঋণটি অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির জবি শাখার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ২০ বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদহারে আবাসিক গৃহ নির্মাণ ঋণের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষে শাখা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম সরওয়ার।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ের চুক্তি সমাপ্তির পর প্রায় দুইবছর ধরে ঋণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট ঋণ বরাদ্দ কমিটির আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুনরায় এ ঋণ কার্যক্রম চালু হওয়ায় তিনি কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘পূর্ববর্তী চুক্তিতে বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে নতুন করে চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

অনুষ্ঠানে ঋণ বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আবাসন ঋণ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ঋণ সুবিধার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপকৃত হবেন এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।’

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঋণ বরাদ্দ কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী নূর, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও উপ-পরিচালক (ফান্ড ও বাজেট) খন্দকার হাবিবুর রহমান এবং সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন) রঞ্জন কুমার দাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ঋণ বরাদ্দ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

Continue Reading

top1

ছাত্রশিবিরের ভর্তি কেন্দ্রের বুথ থেকে জমা রাখা আইফোন হারানোর অভিযোগ, পাঁচ মাসেও নেই সমাধান

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় হলে প্রবেশের আগে জমা রাখা একটি মোবাইল ফোন (আইফোন ১৩) হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে মোবাইল ফোনটি শাখা ছাত্রশিবিরের হেফাজত থেকে হারিয়ে যায়। তবে ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো ফোনটি ফেরত পাননি। একই সঙ্গে তার দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণও তাকে দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তারা ভুক্তভোগীকে সহযোগিতা করছে এবং পুলিশের মাধ্যমে ফোন উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টার অভিযোগও করেছে সংগঠনটি।

এদিকে গতকাল (১ জুলাই) “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামক” একটি ফেসবুক গ্রুপে অভিযোগকারী লিখেন, ‘আমার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে আমার ফোনটি জমা রাখি। পরীক্ষা শেষে বের হয়ে যখন তাদের কাছে ফোনটি ফেরত চাই, তখন তারা জানায় যে ফোনটি হারিয়ে গেছে। এরপর তারা আমাকে নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। কিন্তু জিডিতে সম্পূর্ণ দোষ আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, ফোনটি আমার অজান্তে হারিয়ে গেছে।’

তিনি আরও লিখেন, প্রথমে সংশ্লিষ্টরা তার মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। পরে ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব না হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি ফোনটি ফেরত পাননি এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ক্ষতিপূরণও পাননি। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে ছাত্রশিবিরের একাধিক দায়িত্বশীলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় আমাদের একটি বুথ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল, ওই বুথে কোনো ব্যাগ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা যাবে না। সেখানে শুধুমাত্র অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যবস্থা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে ওই ছেলেটি অনেক অনুরোধ করায় তার ব্যাগটি রাখা হয়। আমরা টোকেন ছাড়া কখনো কোনো মোবাইল ফোন গ্রহণ করি না। পরে সে এসে দাবি করে, তার ফোনটি ব্যাগের ভেতরে ছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই বুথে দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তাকে নিয়ে থানায় যান এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ওই ছেলেটির সঙ্গে আমার সরাসরি আর যোগাযোগ হয়নি।’

তবে অভিযোগকারী বলেন, ‘সেদিন রাতেই আমি সালাহউদ্দিন আম্মারের কাছে যাই। প্রক্টর তাকে ফোন করে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। তখন প্রক্টর আমাকে সাত দিন সময় দিতে বলেন এবং আশ্বস্ত করেন যে ফোনটি পাওয়া যাবে। পরে তারা আরও তিন মাস সময় চান। তিন মাস পর আমি আবার সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি শিবিরের কেউ নই, আমি স্বতন্ত্র। আপনি শিবিরের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলুন।” এরপর আমি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানকে ফোন করি। তিনি বলেন, “আচ্ছা, দেখতেছি।” কিন্তু এরপর তিনি আর আমার ফোন রিসিভ করেননি। একদিন অসুস্থতার অজুহাতও দেন তিনি।’

এ বিষয়ে শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘এডমিশন হেল্প ক্যাম্প থেকে সাধারণত তথ্য সেবা, পানি, গার্ডিয়ানদের বসার ব্যবস্থা, প্রাইমারি মেডিসিন সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও উপহার হিসেবে কলম এবং চাবির রিং দেওয়া হয়েছিলো। ফোন বা ব্যাগ রাখা আমাদের সার্ভিসের মধ্যে ছিলো না কিংবা প্রস্তুতিও ছিলো না। কিন্তু ঐদিন হলে ফোন, ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দিচ্ছিলো না বিধায় ক্যান্ডিডেটদের বারবার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বুথে কয়েক’শ ফোন ব্যাগ জমা রাখা হয়। শতশত ফোন ব্যাগ ক্যান্ডিডেটরা ফেরত পেলেও প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে একটা ফোন মিসিং হয়। এরপর উক্ত ক্যান্ডিডেটকে সাথে নিয়ে দায়িত্বশীল ভলান্টিয়াররা প্রক্টর স্যারের অফিসে নিয়ে যায়। প্রক্টর স্যার পুলিশের সাথে কথা বলে থানায় একটা জিডি করতে বলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের দায়িত্বশীলরা ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে থানায় যায় এবং জিডি করে। এখানে উল্লেখ্য যে জিডিতে চুরি লেখা যায়না, হারিয়ে যায় লিখতে হয়। চুরি লিখলে জিডি নয় মামলা করতে হয়। এটি বাংলাদেশের আইনেরই দুর্বলতা। তারপর প্রক্টর স্যার ও আমরা থানার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি, আপডেট নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফোন, ল্যাপটপ উদ্ধার হতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগে। ৬ মাস ১ বছর পরেও পাওয়া যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী সময় দিতে রাজি না হয়ে বারবার জরিমানা দাবি করতে থাকেন। ইভেন রিসেন্ট সময়েও পুলিশের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের উদ্ধারের কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন।’

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এমতাবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে নিয়ে ছাত্রদল নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছে এবং সবাই গণহারে পোস্ট দিয়ে তাদের হলে অবৈধভাবে সিট দখলের ইস্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন এবং প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টার ভুক্তভোগীর ফোন উদ্ধার হবে এবং তছরুপকারীকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আবদুল্লাহর দাবি, সেখানে মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থা ছিল এবং তিনি ফোন জমা দেওয়ার পর একটি টোকেনও পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে আমি টোকেন দেওয়ার পর তারা ১০–১৫ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে জানায়, “ভাই, ফোন তো মিসিং। ফোন পাওয়া যাচ্ছে না।” এরপর আমার টোকেনটিও আমাকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। আমি কোনো ব্যাগ জমা দিইনি, শুধু আমার মোবাইল ফোনটি জমা দিয়েছিলাম। পরে বিজয়-২৪ হলের ভিপি ভাইসহ আরেকজন আমাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। প্রক্টরের পরামর

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের দায়িত্বশীলরা ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে থানায় যায় এবং জিডি করে। এখানে উল্লেখ্য যে জিডিতে চুরি লেখা যায়না, হারিয়ে যায় লিখতে হয়। চুরি লিখলে জিডি নয় মামলা করতে হয়। এটি বাংলাদেশের আইনেরই দুর্বলতা। তারপর প্রক্টর স্যার ও আমরা থানার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি, আপডেট নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফোন, ল্যাপটপ উদ্ধার হতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগে। ৬ মাস ১ বছর পরেও পাওয়া যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী সময় দিতে রাজি না হয়ে বারবার জরিমানা দাবি করতে থাকেন। ইভেন রিসেন্ট সময়েও পুলিশের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের উদ্ধারের কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন।’

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এমতাবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে নিয়ে ছাত্রদল নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছে এবং সবাই গণহারে পোস্ট দিয়ে তাদের হলে অবৈধভাবে সিট দখলের ইস্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন এবং প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টার ভুক্তভোগীর ফোন উদ্ধার হবে এবং তছরুপকারীকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আবদুল্লাহর দাবি, সেখানে মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থা ছিল এবং তিনি ফোন জমা দেওয়ার পর একটি টোকেনও পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে আমি টোকেন দেওয়ার পর তারা ১০–১৫ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে জানায়, “ভাই, ফোন তো মিসিং। ফোন পাওয়া যাচ্ছে না।” এরপর আমার টোকেনটিও আমাকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। আমি কোনো ব্যাগ জমা দিইনি, শুধু আমার মোবাইল ফোনটি জমা দিয়েছিলাম। পরে বিজয়-২৪ হলের ভিপি ভাইসহ আরেকজন আমাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। প্রক্টরের পরামর্শে আমরা থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। কিন্তু জিডিতে এমনভাবে লেখা হয়, যেন ফোনটি আমার অজান্তে হারিয়ে গেছে। অথচ ফোনটি তাদের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হারিয়েছিল।’

আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘পরে আমি শাখা রাকসুর সভাপতি (ভিপি) জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের কেউ নই, আমি কিছু করতে পারব না।” সর্বশেষ আমি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কাছ থেকে জিডির কাগজ নিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর আর আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।’

Continue Reading

Trending