Connect with us

top1

ভারতে ঈদগাহে নামাজের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, আতঙ্কে মুসলিমরা

Published

on

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলার মালিয়ানা গ্রামের একটি ছোট মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক চলছে। তবে সেখানে উৎসবের আমেজের চেয়ে উদ্বেগই বেশি স্পষ্ট। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কোরবানির পশু বা দান নয়; বরং রাস্তা, ব্যারিকেড, পুলিশি অনুমতি এবং কোথায় ও কীভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে— সেই প্রশ্ন।

দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মুসল্লিদের সতর্ক করে দিচ্ছেন— মসজিদের গেটের বাইরে জড়ো না হতে, ভিড় হলে পরবর্তী জামাতের জন্য অপেক্ষা করতে, কোনো ধরনের বিতর্কে না জড়াতে এবং উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া না জানাতে।

উপস্থিত মুসল্লিদের কেউ কেউ মোবাইলে স্থানীয় পুলিশের পরামর্শসংবলিত বার্তা দেখছিলেন। সেখানে প্রকাশ্যে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকে আবার উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন।

মালিয়ানা গ্রাম মুসলিমদের জন্য এক বেদনাদায়ক স্মৃতির জায়গা। ১৯৮৭ সালের মে মাসে সেখানে হিন্দু জনতা ও প্রাদেশিক আর্মড কনস্ট্যাবুলারির সদস্যদের হাতে ৭২ মুসলিম নিহত হন। দীর্ঘ ৩৬ বছরের বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালে প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তদের খালাস দেয় আদালত। তবে এবারের উদ্বেগ সেই পুরোনো ঘটনার কারণে নয়; বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদের নামাজকে ঘিরে বাড়তে থাকা বিধিনিষেধের কারণে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন ডানপন্থী হিন্দু সংগঠন প্রকাশ্যে মুসলিমদের নামাজের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, রাস্তা বা খোলা জায়গায় নামাজের কারণে যানজট ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় রাস্তা, পার্ক বা খালি জমিতে নামাজ আদায় বন্ধ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলা স্থানে নামাজের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন মুসলিমদের দেওয়া অনুমতিও বাতিল করেছে।

সম্প্রতি বিজেপির ঘনিষ্ঠ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সারা দেশে রাস্তার ওপর নামাজ নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। সংগঠনটির অভিযোগ, এটি মুসলিমদের ‘শক্তি প্রদর্শনের’ অংশ।

তবে মুসলিমদের বক্তব্য, বাস্তবতা ভিন্ন। জনবহুল এলাকায় অধিকাংশ মসজিদ বা ঈদগাহে একসঙ্গে সব মুসল্লির জায়গা হয় না। ফলে ঈদ বা জুমার সময় সাময়িকভাবে রাস্তার কিছু অংশ ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প থাকে না।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মুসলিম বাস করেন। ২০১৭ সাল থেকে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যোগী আদিত্যনাথ, যিনি মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তাঁর সরকারের আমলে রাস্তা ও খোলা জায়গায় মুসলিমদের নামাজ আদায়ের ওপর কঠোরতা বেড়েছে।

গত ১৮ মে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, মুসলিমদের ‘শিফটে’ ঈদের নামাজ আদায় করা উচিত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নিলে ভালো, না মানলে অন্য পদ্ধতি নেওয়া হবে।’

এই ‘অন্য পদ্ধতি’ কী হতে পারে, সে বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মিরাটের এক মুসলিম বাসিন্দা জানান, গত বছর খোলা জায়গায় নামাজ পড়ার অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কোথাও কোথাও বাড়িঘর ভাঙার ঘটনাও ঘটে। এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট যাচাই আটকে দেওয়ার অভিযোগও ছিল। এসব কারণে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে।

আলিগড় জেলার দোকানদার আরিফ মালিক বলেন, গত ঈদে তাদের এলাকার মুসল্লিরা কয়েক মিনিটের জন্য খোলা মাঠে নামাজ পড়লেও পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এবার পরিবারগুলো মানুষকে ভিড় এড়িয়ে চলতে বলছে।

উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন মসজিদ কমিটিগুলো ঈদের আয়োজন নতুনভাবে সাজাচ্ছে। কোথাও জামাত ছোট করা হচ্ছে, কোথাও মুসল্লিদের ছোট ছোট দলে আসতে বলা হচ্ছে। নামাজ শেষে দ্রুত সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন কেউ সাময়িকভাবেও রাস্তার ওপর চলে না যান।

মিরাটের মসজিদ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আরিফ বলেন, এখন মানুষের উদ্বেগ শুধু নামাজ কোথায় হবে তা নয়; বরং ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে প্রকাশ্যে একত্র হওয়াকেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, এখন মানুষ ভাবতে বাধ্য হচ্ছে কোথায় জায়নামাজ বিছাবে, কীভাবে চলাফেরা করবে, কতটা দৃশ্যমান থাকবে।

মিরাটের এক ব্যবসায়ী আরশাদ বলেন, আগে ঈদের সকাল আনন্দের ছিল। এখন আগের রাত থেকেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়। মানুষ ভাবতে থাকে পুলিশ আসবে কি না, কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে কি না।

এই পরিস্থিতির মানসিক প্রভাবও বাড়ছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নোমান খান বলেন, অনেকে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন। শারীরিকভাবে কিছু না ঘটলেও ভিডিও ধারণ, অনলাইনে টার্গেট করা বা মিথ্যা অভিযোগের ভয় কাজ করে। অনেক পরিবার তরুণদের মসজিদের বাইরে দাঁড়াতেও নিরুৎসাহিত করছে।

পশ্চিম উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার এক ইমাম বলেন, ঈদের প্রস্তুতির চেয়ে এখন বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে বিধিনিষেধ এড়ানোর কৌশল নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিতর্ক এড়ানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।’

লখনউর আরেক ইমাম বলেন, জায়গার অভাবে নামাজের সময় অল্প সময়ের জন্য রাস্তার কিছু অংশ ব্যবহার করা হতো, কিন্তু আগে এটি বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখা হয়নি। এখন এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন মুসলিমরা ইচ্ছাকৃতভাবে জনপরিসর দখল করতে চাইছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মসজিদের বাইরের ময়দানে ঈদের জামাত। এখন আর এভাবে দিল্লিতে বাইরে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয় না হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ২৬ জুন ২০১৭

এই উদ্বেগ শুধু উত্তর প্রদেশে সীমাবদ্ধ নয়। দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিজেপিশাসিত অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের আশপাশের ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এখন ঈদ এলেই নতুন নিয়ম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কাপড় ব্যবসায়ী দানিশ খান বলেন, মানুষ শুধু শান্তিতে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরতে চায়। কিন্তু এখন প্রত্যেক ঈদের সঙ্গে নতুন কোনো বিধিনিষেধের আশঙ্কা জড়িয়ে থাকে।

তবু ঈদের প্রস্তুতি থেমে নেই। রাত পর্যন্ত বাজারে ভিড়, দর্জিদের ব্যস্ততা, শিশুদের নতুন জুতা ও মিষ্টির আবদার— সবই চলছে আগের মতো। মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকেরা কার্পেট পরিষ্কার করছেন, মুসল্লিদের জন্য পানির ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু উৎসবের সেই পরিচিত পরিবেশের নিচে চাপা উদ্বেগ স্পষ্ট।

কোরবানিকেও এবার বাড়তি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পশুর রক্ত বা বর্জ্য যেন রাস্তায় বা ড্রেনে না যায়, তা নিয়ে কড়া সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও রয়েছে।

একই সময়ে টেলিভিশন বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ধর্মীয় চর্চাকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক প্রচার বাড়ছে। হিজাব, হালাল খাবার, আজানের লাউডস্পিকার— বিভিন্ন বিষয় ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্ক মুসলিমদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে ঈদের জামাতের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে ভারতীয় পুলিশ। ৭ জুলাই ২০১৬

নয়ডার সফটওয়্যার প্রকৌশলী ফাইজান আলি বলেন, ধীরে ধীরে এমন অনুভূতি তৈরি হয় যেন পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ। এমনকি নামাজ পড়ার আগেও এখন মানুষ দুবার ভাবছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিমদের প্রকাশ্য নামাজ নিয়ে বিতর্ক আসলে ভারতের জনপরিসরে মুসলিমদের দৃশ্যমানতা ও অবস্থান নিয়ে বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন।

ধর্ম ও জনপরিসর নিয়ে কাজ করা গবেষক নাদিম খান বলেন, একটি সম্প্রদায় যদি তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষে প্রকাশ্যে একত্র হতে ভয় পায়, তাহলে তা বোঝায় জনপরিসর কার জন্য এবং কে সেখানে নিজের উপস্থিতি বৈধ মনে করবে— সেই প্রশ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।

সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জনশৃঙ্খলা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য। তবে সমালোচকেরা বলছেন, একই সময়ে বড় হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও উৎসবের জন্য প্রশাসনিক সহায়তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে মুসলিমদের মধ্যে আইন প্রয়োগে বৈষম্যের ধারণা আরও জোরালো হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিল্লির এক আইনজীবী বলেন, সংবিধান জনশৃঙ্খলার শর্তে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু যদি একটি সম্প্রদায় ধারাবাহিকভাবে কঠোর নজরদারির মুখে পড়ে, আর অন্যরা প্রশাসনিক সহায়তা পায়, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠবেই।

আগ্রার তাজমহল এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে একসময় ঈদের জামাত হতো। এখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথ উন্মুক্ত স্থানে নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

গত এক দশকে বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যে অনুমতি ছাড়া খোলা জায়গায় নামাজ পড়ার অভিযোগে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কোথাও কোথাও অভিযুক্তদের বাড়িঘরও ভেঙে ফেলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতে স্বাভাবিক ধর্মীয় আচারকেও অপরাধমূলক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দিল্লিভিত্তিক সমাজবিজ্ঞানী আজহার আহমদ খান বলেন, জনপরিসর শুধু ভৌত জায়গা নয়, এটি প্রতীকীও। নামাজ নিয়ে বিতর্ক মূলত এই প্রশ্নকে সামনে আনে— সমসাময়িক ভারতে দৃশ্যমানতা, বৈধতা ও অন্তর্ভুক্তির অধিকার কার হাতে থাকবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, মিরপুরের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে অনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, তাকে কিছুক্ষণ আগে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিককে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সূত্র। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

top1

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। এমন কার্যক্রমে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। পুলিশের কোন সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন তাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি থাকলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।

পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের সবচেয়ে বেশি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে’।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Continue Reading

top1

ইবিতে প্রেমিক যুগল ধরা, বিয়ের সিদ্ধান্ত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের (প্রেমিক যুগল) হাতেনাতে ধরেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয়রা। প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্তে আগামীকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি মেসের পাশে এই ঘটনা ঘটে। প্রেমিক যুগল শিক্ষার্থীরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের এক ছাত্র এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের এক ছাত্রী।

জানা গেছে, ওই মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মল্লিক মেসে থাকেন। রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে হস্তান্তর করেন। পরে প্রক্টর অফিসে আনা হলে স্বীকারোক্তি দিয়ে বিয়ের সম্মতি দেয় প্রেমিক যুগল। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সিদ্ধান্তে কাল (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের পিতামাতার উপস্থিতিতে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা কয়েকমাস ধরে নিয়মিত নির্জন জায়গায় বসে। তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে এবার হাতেনাতে ধরে তারা। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেয়। তবে ওই সময় ছাত্রকে চড় থাপ্পড় মারছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, দুই শিক্ষার্থকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞেসাবাদ করলে তারা স্বীকারোক্তি দেয়। পরে বিয়ের সম্মতি জানান তারা। বাবা-মাকে আহ্বান করবো। তারপর বিয়ে দিয়ে দিব। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া মেয়েটি যে মেসে থাকে ওই মেস মালিককে তলব করবো, যেহেতু সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

Continue Reading

Trending