Connect with us

top3

মায়ের দেওয়া কিডনিও বাঁচাতে পারল না বেরোবির শিক্ষার্থী জাহিদকে

Published

on

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি:

চার বছর আগে মৃত্যুর দুয়ার থেকে সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন মা। সন্তানের বেঁচে থাকার আশায় নিজের শরীরের অঙ্গটুকুও দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি তিনি। সেই কিডনি প্রতিস্থাপনের পর নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন ২৪ বছরের তরুণ জাহিদ হাসান। শুধু স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকেননি, ঘুরে দাঁড়িয়ে শুরু করেছিলেন কর্মজীবনও। এনটিআরসিএর সুপারিশে একটি মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মায়ের দেওয়া কিডনিটিও বিকল হয়ে যাওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মারা গেছেন জাহিদ হাসান।

জাহিদের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে মা সন্তানকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়েছিলেন, সেই মায়ের চোখের সামনেই শেষ হয়ে গেল সন্তানের জীবন।

মৃত্যুর আগের দিন সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন জাহিদ। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘কাল সকাল ৭টায় উন্নত চিকিৎসা করতে ঢাকায় যাব। যদি ওই পর্যন্ত টিকে থাকি। আমি নিঃস্ব, কাঙাল। যা পারেন তাই দিয়ে হেল্প করেন। ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা চেয়ে নিলাম। আমি অন্তিম মুহূর্তে এখন। হতে পারে শেষ কথাই।’

জাহিদের একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আর পারতেছি না। মৃত্যু ও আসে না। সর্ব শরীর কি যে অসহ্য ব্যাথা বলতে পারছি না। ২৪ ঘন্টা এই ব্যথা নিয়ে মরছি। চিকিৎসা করতে পারছি না অভাবে।”

ওই পোস্টে তিনি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করে আরও লিখেছিলেন, “আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হতে পারে।” পাশাপাশি পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের সহযোগিতার সুযোগ করে দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।

জাহিদের এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদনও জানান তিনি। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

জাহিদ হাসানের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঠেকরপাড়া গ্রামে। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেছিলেন।

২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি ঢাকার শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে জাহিদের শরীরে তার মা বুলি বেগমের একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর মা ও ছেলে দুজনেই শঙ্কামুক্ত ছিলেন বলে তখন পরিবার জানিয়েছিল।

এর আগে ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, জাহিদের দুটি কিডনিই কাজ করছে না। রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে সিকেডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলে সন্তানকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মা বুলি বেগম।

তখন জাহিদের বড় বোন নূরনাহার বলেছিলেন, ‘ভেবেছিলাম ভাইকে বাঁচানো যাবে না। এখন আমি ভাইকে স্পর্শ করতে পারছি। ভাই চোখের সামনে সুস্থ জীবনের পথে হাঁটছে- এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’

নিজের মায়ের দেওয়া কিডনি পেয়ে নতুন জীবন পাওয়ার অনুভূতিও জানিয়েছিলেন জাহিদ। বলেছিলেন, ‘ভালো আছি, নতুন করে জন্ম নিলাম পৃথিবীর বুকে। জগতজুড়ে একটাই মধুর নাম মা। কথাটি আজ বুঝতে পারছি।’

কিন্তু সেই নতুন জীবন দীর্ঘস্থায়ী হলো না। মায়ের দেওয়া কিডনিও পরে বিকল হয়ে যায়। ধীরে ধীরে জাহিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো তাকে।

জাহিদের পরিবার আগে থেকেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে আসছিল। ২০০৪ সালে ব্লাড ক্যানসারে মারা যান তার ছোট বোন। একই বছর বাসচালক বাবাকেও হারান তিনি। এরপর অভাব-অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছেন জাহিদ ও তার ভাই-বোনেরা।

জাহিদকে বাঁচাতে চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের ৩০ শতাংশ জমিসহ পৈতৃক ভিটাও বিক্রি করতে হয়েছিল। সবকিছু হারিয়েও তখন পরিবারের একটাই আশা ছিল, জাহিদ বেঁচে থাকবেন।

কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। মায়ের দেওয়া কিডনি নিয়ে যে সন্তান নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন, চার বছর পর সেই জাহিদই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

স্থানীয় জুলফিকার আলী জনি বলেন, ‘জাহিদ খুব ভালো ছেলে ছিল। অসুস্থ হওয়ার পর তার মা নিজের কিডনি দিয়ে ছেলেকে বাঁচিয়েছিলেন। পরে সে সুস্থ হয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছিল। তার এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাতাব প্রধান মারিফ বলেন, ‘জাহিদকে আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। মায়ের কিডনি পেয়ে যখন সুস্থ হয়ে শিক্ষকতার চাকরি করছিল, তখন আমরা সবাই খুশি হয়েছিলাম। আবার অসুস্থ হয়ে এত অল্প সময়ে সে মারা যাবে, এটা কখনো ভাবিনি।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

মামলা ছাড়া হবে না ফরেনসিক, কমিটির এই দাবিতে অডিওর সত্যতা যাচাই ছাড়াই মিলল অব্যাহতি

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন না হলেও তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।কমিটির দাবি মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরিক্ষা করার কোনো নিয়ম নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর ই-মেইলে অভিযোগ দেন। অভিযোগে ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, যৌন হয়রানি এবং নম্বর টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল খারাপ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক ও এক ছাত্রীর কথোপকথনের কণ্ঠসদৃশ তিনটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলামকে রাখা হয়।তদন্ত কমিটি অডিওগুলো পর্যালোচনা করে।

পর্যালোচনায় অডিওতে অন্য একজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার আভাস পাওয়া গেছে উল্লেখ করে অডিওগুলোর সত্যতা যাচাই ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পৃথকভাবে তদন্তের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যে আরেকটি কমিটি গঠন করে। তবে শেষ পর্যন্ত অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।

এ বিষয়ে ২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।

ফরেনসিক পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়ে কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ফরেনসিক রিপোর্ট করতে হলে আগে মামলা থাকা লাগে। জীবন স্যারের নামে কোনো মামলা নেই। বিষয়টি সিন্ডিকেটকে জানানো হয়েছে—এখন কী করা দরকার, সেটি সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ নেই।শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লেখা রয়েছে।

পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভায় অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন না হলেও ড. তানজিউল ইসলাম জীবনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তাহলে মামলা ছাড়া কোনো ফরেনসিক করতে বলা হলো এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন কলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছিলেন।

Continue Reading

top3

ইবির চার হলের নতুন প্রভোস্টের দায়িত্বে যারা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারটি আবাসিক হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম, জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. হামিদা খাতুন, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

পৃথক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে নবনিযুক্ত প্রভোস্টরা দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালন করায় পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।

দায়িত্ব পেয়ে শহীদ আনাস হলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় উপাচার্য আমার প্রতি আস্থা রেখে শহীদ আনাস হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য মাননীয় উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। হলটিতে বর্তমানে হলটির এক্সটেনশন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হলটিকে একটি আধুনিক আবাসিক হল হিসেবে গড়ে তোলার এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, ” আমি চিঠি হাতে পেয়েছি। হলে গিয়ে শিক্ষার্থী সমস্যাগুলো শুনবো এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করবো। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামান করি।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট ড. মো. রশিদুজ্জামান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি এবং হল ডিবেটিং সোসাইটি, কালচারাল সোসাইটি, স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এসব কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাই হলে একটি পারিবারিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেসব যৌক্তিক ও নৈতিক বিষয় আমার নজরে আনবে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”

এর আগে শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের , খালেদা জিয়া হলে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশেদুজ্জামান ও জুলাই ৩৬ হলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম শামছুল হক ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালন করেন।

Continue Reading

top3

জুলাই-৩৬ হলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই-৩৬ হলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী ৪৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানিয়ে জুলাই-৩৬ হলের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাজনুর বর্ণ বলেন, ‘এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য হল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এত সুন্দর একটি ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। এই ফলাফলের জন্য আমাদের যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, এতে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

একই হলের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত আনজুমান মিতা বলেন, ‘আমি হল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। বিভাগে প্রথম হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। তবে এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—আমার শিক্ষক, পরিবার এবং সহপাঠীদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণারও ফল। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা খুব ভালো করছে। বেশিরভাগ বিভাগে প্রথম দিকের সিরিয়ালে সব মেয়ে থাকে। এটা নারীদের জন্য খুবই ইতিবাচক একটি দিক। একসময় নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হতো। এখন সেখানেই তারা খুব ভালো করছে। এটা খুবই গর্বের। আজকে যারা পুরস্কৃত হলেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আপনারা জুলাই-৩৬ হলকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন। এছাড়া সমাজের প্রতিটি কাজে সমানভাবে অবদান রেখে যাবেন।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা খুবই ভালো করছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের। তারা বিভাগের নাম, হলের নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। সবার জন্য শুভকামনা রইল।’

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাভলী নাহার বলেন, “আমাদের কৃতি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে আজকের এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য লাভে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা আশা করি, তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জুলাই-৩৬ হলের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবে এবং ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাভলী নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামারুজ্জামান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান।

Continue Reading

Trending