Connect with us

top1

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি

Published

on

ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম খলনায়ক, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের অন্যতম নেপথ্য নায়ক ও বিনা ভোটের এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পল্টন থানায় এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক এই লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।

ডিআইজি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।’

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর কথিত দুর্নীতিবিরোধী গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।

তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন। সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।

২০০৬ সালের শেষ ভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর রাজনৈতিক মতানৈক্যের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত দলগুলো।

ওই অবস্থায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানির মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে জিম্মি করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য করে প্রভাবশালী কুশীলবেরা। বাতিল করা হয় ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।

আলোচিত সেই ঘটনাপ্রবাহের শুরুর দিনটি পরিচিতি পায় ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে। বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, ‘এক-এগারো’ না ঘটলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারাই আবার ক্ষমতায় ফিরতেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক কর্মকর্তাদের অন্যতম নায়ক ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পরে চার তারকা জেনারেল হন) মইন উ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জেনারেল মাসুদই কার্যত সেই প্রভাবশালী কমিটি (গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি) পরিচালনা করতেন, যার নির্দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র রাজনীতিকদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ অনেক ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও সে সময় গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়েছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে পাল্টে ফেলে রাজনীতিকে নতুন চেহারা দেওয়ার অপচেষ্টা দেখা যায়।

সেই সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওপরে তুলে শূন্য থেকে ফ্লোরে ফেলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কথা তখন জানা যায়। জেনারেল অব. মাসুদের তত্ত্বাবধানে কতিপয় অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা পারিবারিক সূত্রে খালেদা জিয়া পরিবারের আত্মীয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। সেই সুবাদে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে পদোন্নতি পান এবং গুরুত্বপূর্ণ নবম ডিভিশনের দায়িত্ব পান।

মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের দেড় বছরের মাথায় সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালের জুনে লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে।

১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনী গঠিত হলে সেই বাহিনীতে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পরে তাদের সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ করা হয়।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ২০১৮ সালে তিনি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, অভিজাত রেষ্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা চালিয়ে যান। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে কারসাজি ও বহু মানুষকে প্রতারিত করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের হাসিনা-পতন আন্দোলনের সময় ফনীর মহিপালে অস্ত্রধারীদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১১ জন শহীদ হন। ওই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ফেনীতে যে কয়টি মামলা হয়েছে তার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি জেনারেল মাসুদ। কিন্তু প্রায় দুই বছরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অবশেষে আজ আটক হলেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, মিরপুরের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে অনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, তাকে কিছুক্ষণ আগে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিককে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সূত্র। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

top1

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। এমন কার্যক্রমে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। পুলিশের কোন সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন তাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি থাকলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।

পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের সবচেয়ে বেশি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে’।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Continue Reading

top1

ইবিতে প্রেমিক যুগল ধরা, বিয়ের সিদ্ধান্ত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের (প্রেমিক যুগল) হাতেনাতে ধরেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয়রা। প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্তে আগামীকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি মেসের পাশে এই ঘটনা ঘটে। প্রেমিক যুগল শিক্ষার্থীরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের এক ছাত্র এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের এক ছাত্রী।

জানা গেছে, ওই মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মল্লিক মেসে থাকেন। রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে হস্তান্তর করেন। পরে প্রক্টর অফিসে আনা হলে স্বীকারোক্তি দিয়ে বিয়ের সম্মতি দেয় প্রেমিক যুগল। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সিদ্ধান্তে কাল (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের পিতামাতার উপস্থিতিতে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা কয়েকমাস ধরে নিয়মিত নির্জন জায়গায় বসে। তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে এবার হাতেনাতে ধরে তারা। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেয়। তবে ওই সময় ছাত্রকে চড় থাপ্পড় মারছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, দুই শিক্ষার্থকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞেসাবাদ করলে তারা স্বীকারোক্তি দেয়। পরে বিয়ের সম্মতি জানান তারা। বাবা-মাকে আহ্বান করবো। তারপর বিয়ে দিয়ে দিব। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া মেয়েটি যে মেসে থাকে ওই মেস মালিককে তলব করবো, যেহেতু সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

Continue Reading

Trending