Connect with us

top1

যুদ্ধে ইরান বিজয়ী, ব্রিটিশ সাংবাদিক হার্স্টের বিশ্লেষণ

Published

on

ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড হার্স্ট লিখেছেন, ইরান বিশ্বক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছে। বশ্যতার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আরব বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাদের চোখে চোখ রেখে অন্য কিছু দাবি করতে পারবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে চলা যন্ত্রণাদায়ক আলোচনায় প্রতিটি দিনই নতুন মোড় নিচ্ছে।

যখনই কোনো একটি বিষয়ে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আসে, তখনই ট্রাম্প তার অপরাধের সহযোগী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং তারপর সেই আলোচনা থেকে সরে আসেন।

এমনটাই ঘটেছে দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে, যেগুলোতে ইরানি আলোচকেরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে মনে করেছিলেন। ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক হাসান আহমাদিয়ানের মতে, প্রস্তাবিত ৩০-৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির দুটি মূল শর্ত ছিল যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করা হবে।

কিন্তু পথটা যতই আঁকাবাঁকা হোক না কেন এবং এই চুক্তি ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প যদি তৃতীয়বারের মতো ইরানের ওপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবু এটা নির্মমভাবে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধে হেরে গেছে। এটা গত ২৫ বছরে তাদের ষষ্ঠ পরাজয়।

ইরানের হাতেই সব তাস রয়েছে, প্রধানত হরমুজ প্রণালি। কিন্তু সেই সঙ্গে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিরোধব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আরও কিছু তাস ইরান এখনো খেলেনি, যেমন—লোহিতসাগরের মোহনায় বাব এল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। ট্রাম্পের হাতে এর কোনোটিই নেই।

বর্তমান শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা দৃশ্যমান যখন তার সামরিক শক্তি অবিসংবাদিত এবং এর ব্যবহারে তার একচেটিয়া অধিকার রয়েছে।

ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প শুধু আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তার পূর্বসূরিদের ভুলেরই পুনরাবৃত্তি করেননি; এর সঙ্গে তিনি নিজেরও কয়েকটি ভুল যোগ করেছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ যেমন সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, তেমনি ট্রাম্পও মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরান আক্রমণ করেছেন।

কিন্তু অন্তত বুশের সন্দেহজনক ডসিয়ারটি তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থাই সরবরাহ করেছিল। বিপরীতে ট্রাম্পের মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্য মোসাদ তৈরি করেছে এবং মার্কিন কমান্ডার-ইন-চিফ তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থার সেরা পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে তা পুরোপুরি বিশ্বাস করেছিলেন।

নেতানিয়াহু ও মোসাদের পরিচালক ডেভিড বারনিয়া ট্রাম্পকে বোঝান যে, জানুয়ারির অভ্যুত্থানের পর তেহরানের শাসনব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর তা বড়জোর কয়েক দিন টিকবে।

নেতানিয়াহুর চেয়ে জোরালোভাবে আর কেউ বলেনি যে, এর জন্য শুধু একটি শেষ ধাক্কার প্রয়োজন। এটা ঘটলে তার জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছিল। যুদ্ধ যেহেতু প্রায় শেষ, তাই এখন তার চেয়ে বড় পরাজিত আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

কিন্তু এই যুদ্ধ যখন অবশেষে থামবে, তখন এ দজনের জন্যই চূড়ান্ত হিসাবনিকাশ নিশ্চিতভাবেই আসবে।

ক্ষমতার ভারসাম্য

তারা শুধু খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আঞ্চলিক পরিকল্পনার প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের হুমকি যথেষ্ট গুরুতর।

তিনটি মার্কিন প্রশাসনের নীতিই ছিল—ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ, জো বাইডেন এবং এখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ—সুন্নি আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উৎসাহিত করা।

প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়েছে—সুন্নি-ইসরাইল জোট, আরব ন্যাটো, আব্রাহাম চুক্তি—কিন্তু এর রূপরেখা স্পষ্ট। এটি কোনোভাবেই সমতার অংশীদারিত্ব হবে না। ইসরাইলকে নতুন আঞ্চলিক আধিপত্যকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি হবে এমন একটি কেন্দ্র যার মাধ্যমে অস্ত্র, উচ্চ প্রযুক্তি, তথ্য এবং বাণিজ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হবে।

এই জোটের একমাত্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ। একমাত্র তিনিই দুটি ‘ছোট স্পার্টা’র একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিতসাগরের চারপাশে কৌশলগতভাবে ছড়িয়ে থাকা বিমানক্ষেত্র ও বন্দরের একটি পারস্পরিক লাভজনক সাম্রাজ্য গঠনের সুবিধা দেখেছিলেন।

ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ফলে হয় শাহের পুত্র রেজা পাহলভীর মতো একজন দুর্বল লোককে ক্ষমতায় বসানো হতো অথবা গৃহযুদ্ধ শুরু হতো কিংবা ইরান খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যেত। ইসরাইল এসবের তোয়াক্কা করেনি। ইরাক এবং এখন সিরিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড হওয়া ও স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়াটাই ইসরাইলের প্রতিষ্ঠিত নীতি।

সৌভাগ্যবশত, এটি এমন একটি কল্পনা, যা এখন কেবল ট্রাম্পের মাথাতেই বিদ্যমান। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে।

প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে

শুধু দেখুন কারা আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে: পাকিস্তান ও কাতার। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান বরাবরই এই অঞ্চলের প্রান্তে ছিল। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতোই তারাও সহানুভূতি দেখিয়েছিল, শুধু এটুকুই।

মূল পরিবর্তনটি আসে ইরান যুদ্ধের চরম মুহূর্তে, যখন প্রধান আরব শক্তিগুলো—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত—দেখল যে মার্কিন সামরিক ছাতার জন্য তারা এত চড়া মূল্য দিলেও তা তাদের রক্ষা করতে পারছে না। ফলে তারা বিশাল সেনাবাহিনী এবং প্রতিষ্ঠিত বিমান শক্তি সম্পন্ন বাইরের শক্তিগুলোর দিকে তাকায়। তা হলো তুরস্ক ও পাকিস্তান।

হঠাৎ করেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির একজন প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হন।

পাকিস্তান এমন আরেকটি দেশ, যাকে একজন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তালেবানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধে সহযোগিতা না করলে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এটি একটি পারমাণবিক শক্তি এবং এর একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে। চীনের সঙ্গে এর একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক আছে। ফলে দেশটির কাছে চীনের তৈরি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ভারতের অত্যাধুনিক ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, উপসাগরীয় যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত আবির্ভাবে মোহাম্মদ বিন জায়েদের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল তাদের দেওয়া অর্থ ফেরত চাওয়া।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। সৌদি আরব আবুধাবিকে অর্থ পরিশোধের জন্য পাকিস্তানকে তহবিল সরবরাহ করে।

প্রধান আলোচক হিসেবে কাতারের অন্তর্ভুক্তিতে তেমন কোনো বিস্ময় ছিল না। ইরানের সঙ্গে আসন্ন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প অন্তত তিনজন কাতারি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

উদীয়মান জোট

কিন্তু এখন দুটি স্বতন্ত্র জোটের উদ্ভব ঘটেছে। যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে গঠিত একটি জোটে রয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার এবং ওমান। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েত পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে গাজায় ইসরাইলের পরিকল্পনা নিয়ে মিশরের যথেষ্ট ভয় রয়েছে।

এই রাষ্ট্রগুলোর অধিকাংশই ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য, কিন্তু ইরানের বিজয়ের পর এর কোনো অর্থই থাকে না। তারা সবাই গাজার অর্ধেক, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পশ্চিম তীরের দুই-তৃতীয়াংশ স্থায়ীভাবে দখল করার ইসরাইলি প্রচেষ্টার বিরোধী।

এই উদীয়মান জোটের আরেকটি লক্ষণ ছিল তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিবৃতি, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সোমালিল্যান্ড অঞ্চলে ইসরাইলে দূতাবাস খোলার নিন্দা জানানো হয়। এতে অনুপস্থিত ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী সামরিক ও কূটনৈতিক জোটের উত্থান ঠিক সেটাই, যা ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চায়নি। এই জোট এখন শক্তিশালী এবং ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপিত হলে আবুধাবি নিজেকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের বন্দুকের নলের সামনে দেখতে পাবে, অন্তত রূপক অর্থে। এগুলো হলো প্রতিবেশী ইরান এবং সৌদি আরব।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে সৌদি আরবকে টেনে আনার আমিরাতের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। রিয়াদ কমবেশি তার অবস্থানেই অটল থেকেছে এবং ইরানের সাথে তার সম্পর্ক ও ইয়েমেনের হুথিদের সাথে যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

একটি বিষয় নিশ্চিত। যদিও সুন্নি দেশগুলোর এই উদীয়মান জোট নিজেদের ইসরেইলবিরোধী হিসেবে পরিচয় দেবে না, তবে এর অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই ইহুদিবাদী জন্য সুবিধাজনক নয়।

প্রতিরোধকে শক্তিশালী করা

পৃথিবীতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি এই অঞ্চলের অন্য সকল তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশের উপর তার প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও একবার প্রতিষ্ঠা করেছে, এবং ওমানের সাথে মিলে হরমুজের উপর তার কার্যত নিয়ন্ত্রণ আর কখনও ছেড়ে দেবে না।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, পাকিস্তান ও চীনের উদ্দেশে হরমুজ দিয়ে ট্যাংকারগুলোর যাতায়াত কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা কলের মতো হরমুজকে যখন-তখন চালু বা বন্ধ করতে পারে।

ইরানের এই বিজয় অঞ্চলজুড়ে প্রতিরোধ আন্দোলনকেও শক্তিশালী করেছে। ফাঁদ পাতা পেজার এবং ধারাবাহিক হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব একাধিকবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর তাদের একটি যুদ্ধশক্তি হিসেবে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতি-গোয়েন্দা কার্যক্রমের প্রাথমিক পাঠ শেখা এক নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের (হিজবুল্লাহ যখন বুঝতে পারে যে তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন থেকে কেউ ফোন ধরে না) এবং এফপিভি ড্রোন নামক একটি নতুন অস্ত্রের সাহায্যে তারা লেবাননকে লেবানন সরকারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে রক্ষা করছে। অথচ লেবানন সরকার বর্তমানে ইসরাইলের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে!

ইরান বিশ্বক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামনে ট্রাম্পকে নতজানু হতে দেখাটা ছিল বেদনাদায়ক, যেখানে চীনা নেতা এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েই তিনি তাইওয়ানকে স্পর্শ না করার সুস্পষ্ট হুমকি দেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা যথার্থই পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করার পালা, যেখানে চীন স্থিতিশীলতার কণ্ঠস্বর এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে, এমনকি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। গত ২৫ বছরে চীনই একমাত্র বৃহৎ শক্তি যা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি।

বশ্যতার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আরব বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বার্তাটি হলো- যথেষ্ট দৃঢ়সংকল্প এবং যথেষ্ট উচ্চ সহনশীলতা থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যম শক্তিগুলো মার্কিন ও ইসরাইলি ঔপনিবেশিক আধিপত্যকে প্রতিহত করতে এবং জয়ী হতে পারে।

ঐতিহাসিক পরাজয়

একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কী ঘটবে?

আমি মনে করি, ইসরাইল নতুন করে লেবানন ও গাজায় বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করবে। নেতানিয়াহু লিটানি নদীর দক্ষিণে প্রতিটি বাড়ি, গ্রাম ও শহর ধ্বংস করতে চাইবেন, যাতে ইরানে তার বিপর্যয়কে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে আড়াল করা যায়। তিনি হামাসের নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে পুরো গাজা দখল করার কথাও বিবেচনা করতে পারেন।

কিন্তু তিনি নিজের রাজনৈতিক কবর নিজেই খুঁড়বেন, কারণ ইসরেইলের পক্ষে তার কোনো উদ্দেশ্য অর্জন করে এই ধারাবাহিক যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাদের চোখে চোখ রেখে অন্য কিছু দাবি করতে পারবেন না।

গাজায় ইসরাইল তার গণহত্যায় যেমন আমেরিকান ইহুদিদের একটি পুরো প্রজন্মের সমর্থন হারিয়েছে, তেমনি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ রিপাবলিকান ট্রাম্প সমর্থকদের বয়স্ক প্রজন্মের ওপর একই রকম প্রভাব ফেলেছে। ইসরাইল যে যুক্তরাষ্ট্রকে “দখল” করে রেখেছে, এই ধারণাটি দ্রুতগতিতে বাড়ছে রিপাবলিকান খ্রিস্টান মহলে।

আর আমি যদি আবুধাবির শাসক হতাম, তবে আমি নিজেকে তেহরানে সরকার পরিবর্তনের কথা জিজ্ঞেস করতাম না। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করতাম, আমি আর কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারব?

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড হার্স্টের নিবন্ধ (সংক্ষেপিত)

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদি আরবের নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

লোহিত সাগর, বাব-এল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে নতুন একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়েছে। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এ জোটের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈঠকে ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলসহ ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় লোহিত সাগর ও বাব-এল-মানদেব অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব ছাড়াও জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এই জোটে স্বাক্ষর করেনি।

জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সৌদি আরবই এর নেতৃত্ব দেবে এবং দেশটিতেই এর সদর দপ্তর থাকবে। যদিও সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জোট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।

নতুন এ জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আগ্রহী অন্যান্য দেশের জন্যও জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বাব-এল-মানদেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মাত্র ১৮ মাইল প্রশস্ত এই কৌশলগত নৌপথে কোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই নৌপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সদস্য দেশগুলো।

সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

top1

আগস্টের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ

Published

on

By

ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ দাম ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে জুলাই মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কমানো হয়েছে। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার তেলের দাম ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। যা আজ রাত থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে জুলাই মাসের জন্য প্রতি লিটার তেলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

Continue Reading

top1

রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এসএম সালমান সাব্বিরসহ ৯জন রাকসু ও শিবির নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলার মতিহার থানা আমলি আদালতে তিন দফা মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের পিতা এম.এস. আজাদ উজ জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

এ দিকে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীর আইনজীবী হযরত আলী।

মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব, তথ্য ও গবেষণা উপ-সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদ ভিপি আহসান উল্লা ফারহান, নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদ, শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব, ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা। এ ছাড়াও ১৭/১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অবস্থানের সময়ে ১৯-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেত ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর শুরু করে।

এজাহারে হত্যাচেষ্টার বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, প্রধান আসামি সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে একাধিকবার আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে উদ্ধার করে এম্বুলেন্সে তুলতে গেলেও, তাকে সেখান থেকে নামিয়ে একাধিকবার হত্যার উদ্দেশে মারধর করা হয়।

থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি উল্লেখ করে এজাহারে বলে হয়েছে, ঘটনার পরদিন বাদী মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মাহমুদুল হাসানের পিতা এম.এস. আজাদ উজ জামান জানান, সহিংসতার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি অভিযোগ করেন, ২৮শে জুলাই তিনি পুলিশের কাছে গেলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করেন এবং তাঁকে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাওয়ার পরামর্শ দেন।

অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী হযরত আলী বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ না দিয়ে বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠিয়েছে।

তিনি দাবি করেন যে, মাহিনের বাবা ‘আবেগের বশে’ অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন।

Continue Reading

Trending