Connect with us

top3

যেভাবে ‘স্বৈরাচার’ হয়ে ওঠে ওরা

Published

on

ক্রিকেট কি এখনো খেলা আছে, নাকি এটি ভারতের একচেটিয়া বাণিজ্যের একটি ‘পণ্য’ মাত্র? যে খেলাটির মূল মন্ত্র ছিল ‘জেন্টলম্যানস গেম’, আজ তা বিসিসিআই-এর টাকার থলে আর রাজনৈতিক কূটচালের কাছে বন্দি।

আইসিসি এখন আর কোনো স্বাধীন সংস্থা নয়, বরং এটি ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী একটি আজ্ঞাবহ দপ্তরে পরিণত হয়েছে। ক্রিকেটবিশ্বে এখন যা চলছে, তাকে ভদ্রভাষায় ‘আধিপত্য’ বলা হলেও মূলত এটি একটি ‘ক্রিকেটীয় মাফিয়াতন্ত্র’।

এককালে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট শাসন করলেও তারা অন্তত নিয়মের তোয়াক্কা করত। কিন্তু বর্তমান ভারত সেই নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইসিসিকে বানিয়েছে তাদের হাতের পুতুল। আইসিসির প্রতিটি সিদ্ধান্তে এখন বিসিসিআই-এর সিলমোহর লাগে।

রাজস্ব বণ্টনের অদ্ভুত মডেল তৈরি করে সিংহভাগ টাকা ভারত নিজেদের পকেটে নিচ্ছে, আর বাকি দেশগুলো দয়ার পাত্র হিসেবে চেয়ে থাকছে। জয় শাহর আইসিসি সভাপতি হওয়ার পর এই ‘মাফিয়াতন্ত্রের’ কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছে ভারত।

ক্রিকেটকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখার বুলি আওড়ানো ভারত আজ ক্রিকেটকে ব্যবহার করছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে। পাকিস্তানকে একঘরে করার পর ভারতের নজর এখন উদীয়মান শক্তি বাংলাদেশের দিকে।

মুস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন বিশ্বমানের বোলারকে আইপিএল থেকে ছুড়ে ফেলা কেবল ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটি মূলত একটি ‘কূটনৈতিক সংকেত’। ভারত চায় না তাদের প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে স্বনির্ভর হোক।

বরং তারা চায় সবাই যেন ভারতীয় অর্থের দাসের মতো আচরণ করে। আইপিএল এখন আর মেধার যাচাই নয়, বরং অনুগতদের পুরস্কৃত করার মঞ্চ।

আইসিসি ইভেন্টগুলোতে ভারতের সুবিধামতো পিচ তৈরি করা, বিভিন্ন দোহাই দিয়ে সূচি পরিবর্তন করা এবং আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ভারতের পক্ষ নেওয়া—এসব এখন নিয়মিত চিত্র।

মাঠের আম্পায়ার থেকে শুরু করে সম্প্রচারকারী ক্যামেরা, সবই যেন ভারতের ‘হোম কন্ডিশন’ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত। তথাকথিত বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বী, যাদের বিরুদ্ধে জিততে হলে কেবল ১১ জন খেলোয়াড় নয়, লড়তে হয় খোদ সিস্টেমের বিরুদ্ধে।

ক্রিকেট এখন আর প্রতিভা দিয়ে জেতা যায় না, এটি এখন ক্ষমতারও সমীকরণ। আইসিসি হলো সেই বিচারক যে বিবাদীর কাছ থেকেই সুবিধা নিচ্ছে!

যেভাবে একটি নির্দিষ্ট দেশ পুরো খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে, তাতে ক্রিকেটের ‘গ্লোবাল’ তকমা আজ হাস্যকর। যদি ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট কেবল ভারতের ব্যবসায়িক লাভের জন্য আয়োজিত হয়, তবে বাকি দেশগুলোর ক্রিকেট খেলার প্রয়োজন কী? ক্রিকেটের এই ‘ভারতীয়করণ’ আসলে এই খেলাটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অনেকেই আফসোসের সুরে বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডগুলো যদি এখনই এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায়, তবে অচিরেই ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় এমন এক খেলা হিসেবে পরিচিত হবে, যা একটি দেশের দাপটে তার প্রাণ হারিয়েছ

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ-সমাবেশ

Published

on

By

ডিজিটাল রিপোর্ট

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুর নগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে নগরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ টি এম আজম খান বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় এ অঞ্চল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে।

তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়া হবে, সেটি জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। উন্নয়নের সঙ্গে রাজনৈতিক পছন্দের সম্পর্ক তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের দায়িত্ব দল-মতনির্বিশেষে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

রংপুরের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।

সমাবেশ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত না করে রংপুরের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত রোববার রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রংপুরের মানুষের রাজনৈতিক পছন্দ নিয়ে মন্তব্য করেন। তার ওই বক্তব্যের পর রংপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে রংপুরে জামায়াতের ১১ জন সংসদ সদস্য সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা বলেন, রংপুরের মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন, সেটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। উন্নয়নের সঙ্গে কোনো অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক পছন্দকে শর্তযুক্ত করা যাবে না।

Continue Reading

top3

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পানচাষি

Published

on

By

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা এলাকায় নদীতীরবর্তী প্রায় ৫ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন চলছে। এতে ফসলি জমি, পানবরজ, কলাবাগান ও স্থানীয়দের একমাত্র শ্মশানঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গত বছর থেকে এ পর্যন্ত নদীভাঙনে প্রায় ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহৃত একমাত্র শ্মশানঘাট বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত পানচাষির প্রায় ৫ হাজার পিলি পানবরজ এবং ১০০ বিঘা কলাবাগান নদীতে ভেঙে গেছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা এলাকায় গত চার-পাঁচ দিন ধরে পদ্মার তীরে ব্যাপক ভাঙন চলছে। নদীর পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে খাড়া ভাঙন। এতে নতুন করে কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ক্ষুদ্র কৃষক গিরি দাস বলেন, এলাকায় তাদের প্রাচীন শ্মশানঘাট ছিল। সেটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। ফলে শ্মশানঘাটটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই স্থানে প্রায় ৫০ ফুট গভীর পানি রয়েছে।

পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম উদ্দিন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলার সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয় এ অঞ্চলে। দেশের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পান বাজারও মূলত এ এলাকার পানের ওপর নির্ভরশীল। নদীভাঙনে কয়েক শত পানচাষি প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে থাকা অন্তত ৫ হাজার পিলি পানবরজ হারিয়েছেন।

কৃষক আমিরুল বলেন, গত বছর তার ভাই ও ভাতিজারা মিলে ৭-৮ বিঘা জমিতে পান চাষ করেছিলেন। নদীভাঙনে তাদের ৮০০ পিলি বরজ বিলীন হয়েছে। একইভাবে রায়টার অনেক কৃষক ৫০ থেকে ১০০ পিলি পর্যন্ত পানবরজ হারিয়েছেন।

পানচাষি সুমন হোসেন বলেন, দুই বছর আগে এ অঞ্চলের হাজার বিঘা পানবরজ আগুনে পুড়ে যায়। এখন আবার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। এলাকার মানুষের জীবিকা মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ন্যূনতম ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতি এতটা হতো না বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ভাঙন দুই মাস আগে শুরু হয়েছে। তবে পানি বাড়ায় গত কয়েক দিনে ভাঙন তীব্র হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদন হয়ে বাজেট না আসা পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব নয়।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ভাঙন রোধে কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন।

Continue Reading

top3

চুয়েটে পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

Published

on

By

ডিজিটাল রিপোর্ট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত দেব (২৩) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অর্ণব দত্ত (২২)। তারা দুজনই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনের বাড়ি সিলেটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ফুটবল খেলা শেষে দুই শিক্ষার্থী হলের পাশের পুকুরে গোসল করতে যান। একপর্যায়ে পুকুরের মাঝামাঝি অংশে সাঁতার কাটতে গিয়ে তারা পানিতে ডুবে যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর অর্ণবকে এবং প্রায় ৪৫ মিনিট পর শান্তকে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে এবং তাদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending