Connect with us

ক্যাম্পাস

রাকসুর উদ্যোগে মাসব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্প শুরু ৩০ জানুয়ারি 

Published

on

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানসিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে ৩০ জানুয়ারি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর উদ্যোগে এবং মেন্টাল হেলথ ক্লাব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি (MHCRU)-এর সহযোগিতায় মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারী) বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফছা। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর উদ্যোগে এবং মেন্টাল হেলথ ক্লাব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি (গঐঈজট)-এর সহযোগিতায় হলভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্পেইন শুরু হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীই কোনো না কোনো হলের সাথে সংযুক্ত, অই ক্যাম্পেইনটি হলভিত্তিক পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে পরিচালিত হবে ক্যাম্পেইনটি 

মানসিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইনটি পরিচালিত হবে দুইটি সেগমেন্টে। প্রথম সেগমেন্টে নির্ধারিত বুথে শিক্ষার্থীদের জন্য দুই ধাপে বিনামূল্যে মেন্টাল হেলথ চেক-আপ (যেমন ডিপ্রেশন লেভেল, এংজাইটি, স্ট্রেস, হোপলেসনেস, ইন্টারনেট এডিকশন, আত্মহত্যা ঝুঁকি ইত্যাদি) পরিচালিত হবে। এই চেক-আপ কার্যক্রম চলবে সকাল ৯.৩০টা থেকে বিকাল ৪.০০টা পর্যন্ত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন তারা কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন কিনা অথবা মানসিক ঝুঁকিতে আছেন কিনা

দ্বিতীয় সেগমেন্টে সংশ্লিষ্ট হলের সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে। ওয়ার্কশপটি চলবে বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত। এই সেশনে মানসিক স্বাস্থ্য কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা কোথায় পাওয়া যায়, কীভাবে আশেপাশের বস্তু বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের মানসিকভাবে সহায়তা করা যায়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও ট্যাবু দুরীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাইকো-এডুকেশন প্রদান করা হবে। আবাসিক ও অনাবাসিক র্শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট হলে ক্যাম্পেইন শুরু হবার আগে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। ক্যাম্পেইনটি ১৭টি হল ও ১টি ডরমেটরি সহ মোট ১৮টি পয়েন্ট কে ৬ টি ক্লাস্টারে ভাগ করে পরিচালিত হবে।

ক্যাম্পেইনে যেসকল সুবিধাসমূহ পাবে শিক্ষার্থীরা 

নির্ধারিত বুথে দুই ধাপে বিনামূল্যে মেন্টাল হেলথ চেক-আপের সুবিধা; নিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগ; মানসিক ঝুঁকি বা সমস্যার ক্ষেত্রে প্রফেশনাল স্ক্রিনিং ও দিকনির্দেশনা; মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি; ইন্টারঅ্যাকটিভ মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের সুযোগ; মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সাপোর্ট সার্ভিস ও রেফারাল সংক্রান্ত তথ্য; বন্ধু ও সহপাঠীদের মানসিকভাবে সহায়তা করার প্রয়োজনীয় স্কিল অর্জনের সুযোগ; মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারণা ও ট্যাবু দূরীকরণে সহায়তা; একটি নিরাপদ, গোপনীয় ও জাজমেন্ট-ফ্রি পরিবেশে নিজের কথা প্রকাশের সুযোগ

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরোও বলেন, গত বছরের শেষ দিকে, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। গত বছরের ১২ নভেম্বরে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সোনিয়া সুলতানা এবং ৩১ ডিসেম্বরে  ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নামিস নওরীন পুষ্পিতা আত্মহত্যা করে। এই ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নাজুক মানসিক অবস্থার চরম বহিঃপ্রকাশ।

জাতীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যানও আমাদের শল্পিত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশে প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ হাজার মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেন। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী দেশের ৯২% প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৯৪% কিশোর-কিশোরী মানসিক সমস্যার চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত সচেতনতা এবং ‘ট্রিটমেন্ট গ্যাপ’-এর কারণে অনেকেই জানেন না তাদের মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো-কাম্পাসে একটি জাজমেন্ট-ফ্রি বা বিচারহীন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে তাদের মানসিক কষ্টের। কথা বলতে পারবে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক সময়ে সঠিক সচেতনতা এবং ইন্টারভেনশন সোনিয়া বা লামিসার মতো আর কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া রোধ করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম সালমান সাব্বির, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফছা, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সামিয়া জাহান, সহ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাসুমা ইসরাত মুমু সহ মেন্টাল হেলথ ক্লাব রাজশাহী ইউনিভার্সিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

ইবির আল-কুরআন বিভাগের আয়োজনে নবীণ বরন অনুষ্ঠিত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০১ নং কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.এ.কে.এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দার আলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও নবীন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ব্যাগ, খাতা, কলম ইত্যাদি উপহার প্রদান করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও নিজেদের জন্য দোয়া প্রত্যাশা করেন।

এসময় সিনিয়র শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী নবীনদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ইবির আল-কুরআন বিভাগের আয়োজনে নবীণ বরন অনুষ্ঠিত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০১ নং কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.এ.কে.এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দার আলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও নবীন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ব্যাগ, খাতা, কলম ইত্যাদি উপহার প্রদান করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও নিজেদের জন্য দোয়া প্রত্যাশা করেন।

এসময় সিনিয়র শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী নবীনদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীদের সেবা নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব: শাবিপ্রবি উপাচার্য

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে যেকোনো সমস্যা সমাধানে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’ হিসেবে পাঠিয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলা সমিতি আয়োজিত ফল উৎসবে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা সবাই একটি পরিবারের সদস্য। পরিবারে নানা ধরনের সমস্যা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। আমার হাতে যদি কিছু করার সুযোগ থাকে, তাহলে মেয়েদের জন্যই আগে কাজ করব। কারণ, আমার অগ্রাধিকার তালিকায় মেয়েরাই রয়েছে। তাদের সমস্যাও তুলনামূলক বেশি।
আমরা ভালো কিছু করতে চাই, আর তোমরা পাশে থাকলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে এবং এখন থেকেই দায়িত্বশীল ও সিরিয়াস হতে হবে। আমার প্রত্যাশা, তোমরা প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা করবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের যে কোন সমস্যা সমাধান করার জন্য বলেন, যেকোনো সমস্যা হলে প্রথমে বিভাগের দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধান, ডিনসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানাবে। তাদের মাধ্যমে সমাধান না হলে আমার মোবাইল নম্বর তোমাদের কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রিজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক মুহ. মিজানুর রহমানসহ আরো অনেকে।

Continue Reading

Trending