Connect with us

top2

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

Published

on

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ সমাবর্তন। সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের বর্জনের ডাকের মধ্যে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

এ আয়োজনের শুরু থেকে সাবেক শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে নেওয়া এবং প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

সকাল সাড়ে ৮টায় সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শোভাযাত্রা, অতিথি ও গ্র্যাজুয়েটদের আসন গ্রহণ, স্বাগত বক্তব্য, ডিগ্রি প্রদান ও গ্রহণ, শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সভাপতির বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুপুর আড়াইটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

সমাবর্তনের সভাপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, “বাংলাদেশকে এমন স্নাতকদের প্রয়োজন, যারা শুধু তাদের পেশাগত ক্ষেত্রে উৎকর্ষ লাভ করবে না, বরং যারা প্রশ্ন করবে, তাদের সাফল্য সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।

“আমরা এমন মানুষদের চাই, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, যারা প্রতিষ্ঠানের শক্তি বাড়াবে, যারা সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দেবে।”

স্নাতকদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আপনার শিক্ষা কেবল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক সমাজ গড়ার জন্য ব্যবহার করুন। যারা আপনাদের আগে এসেছিলেন তাদের উদাহরণ অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, জ্ঞান একটি শক্তি এবং সেই শক্তি সততার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সেই চেতনাকে সামনে রেখে সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।

“অনুষ্ঠান শেষে আপনারা যখন ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলবেন, প্রজ্ঞার সঙ্গে চিন্তা করবেন এবং হৃদয়ে দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করবেন। দেশ এবং বিশ্বকে জানাতে হবে আপনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক, যে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত, সেবা করতে প্রস্তুত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।”

স্নাতকদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ বলেন, “তোমাদেরকে চিন্তা ভাবনা করে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হবে। চারদিকে অনেক অস্থিরতা ও চঞ্চলতা কাজ করে এগুলোর পেছনে পড়লে চলবে না। সবকিছু চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাদের সঙ্গে আছে পরিবার ও শিক্ষকসহ গোটা দেশ।”

সমাবর্তনে ৬০, ৬১ ও ৬২তম ব্যাচের মোট পাঁচ হাজার ৯৬৯ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে সমাবর্তন আয়োজনে নানা অসঙ্গতি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাবর্তনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী।

সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা সাবেক শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয় বলেন, “সমাবর্তনে অংশ নিতে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু প্রশাসন নামমাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন করেছে।

“অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি। রেজিস্ট্রেশন পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসলেও তারা এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করেননি। আমাদের পরবর্তীতে যারা সমাবর্তন পাবেন, তারা যেন এমন সমাবর্তন না পায়!”

সমাবর্তনের মূল ভেন্যুতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ চেয়ারের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল ফাঁকা। শিক্ষা উপদেষ্টা যখন শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত স্নাতকদের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দেয়।

একাধিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিথি নিয়ে অসন্তোষ থাকায় তারা স্টেজে উপস্থিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় তাদের এই অসন্তোষ তৈরি হয়।

সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের অনেকেই এই সমাবর্তন বর্জন করেছে। রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করার দাবি জানালেও প্রশাসন তা করেনি। তাই আমরা সমাবর্তনের স্থান ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলাম। ক্যাম্পাসে এসেছি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে, আড্ডা দিতে। এমন একটি সমাবর্তনে অংশ নিতে নয়।”

দ্বাদশ সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জন্য কোনও আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংবাদকর্মীরা। এদিন সকালে সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় আইডি পাস সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে রাজশাহী মহানগরের সংবাদকর্মীদের আইডি পাসের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে যমুনা টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান শিবলী নোমান বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন সক্কালবেলাতেই। রাত ৩টা অবধি সংবাদমাধ্যমগুলোর অধিকাংশকেই আমন্ত্রণপত্র দূরের কথা, কেউ একটা ফোন দিয়েও জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। ২৫ বছর পেরিয়ে গেলো সংবাদকর্মী হিসেবে। এমন পরিস্থিতি দেখলাম এই প্রথম!”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। এরপর ১৯৫৯, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালে একাধিক সমাবর্তন হয়। দীর্ঘ ২৮ বছর বিরতির পর ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর অষ্টম, ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি নবম, ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দশম এবং ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

একাদশ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দশম ও একাদশ সমাবর্তনে উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

বন্ধুর ডাকে শপিং মলে গিয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর, আদালতে শুনানি কাল

Published

on

By

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী চট্টগ্রাম এলাকার এক সংসদ সদস্য মোবাইলে ফোনে ডেকে নিয়ে শপিং মলে দেখা করার কথা বলে দুবাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার (১৫ জুন)সহ গত কয়েক দিন দুবাইয়ে সরকারি ছুটি থাকায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাইয়ের একটি আদালতে বেনজীর আহমদের জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি হতে পারে। এ জন্য তার পক্ষে দুবাইয়ের একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

বেনজীর আহমদের স্ত্রীর বরাত দিয়ে তার একসময়ের স্টাফ অফিসার বলেন, বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের মতো গত ১২ জুন দুবাইয়ের বাসায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় তার বন্ধু চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে কল করে বাসার পাশের একটি শপিং মলে দেখা করার কথা বলেন। তিনি বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শপিং মলে গেলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ওই সংসদ সদস্যের লোকজন উপস্থিত ছিল বলে আমরা জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক জারি করা ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই সংসদ সদস্য দুবাই পুলিশের কাছে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করান।

আটকের সঙ্গে সঙ্গে এ খবর পৌঁছে যায় দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত পলাতক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে। পরে তার পরিবার ও দুবাইয়ে অবস্থানরত নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনাটি দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট থানায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ আরেকজন জানান, আটক হওয়ার পর পুলিশ প্রথমে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ কী করছেন, কত দিন ধরে অবস্থান করছেন, ভিসার বৈধতা এবং তার দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তাও যাচাই করা হয়। এতে তারা নেতিবাচক কোনো তথ্য পায়নি। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ও তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এবং বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকায় চলমান একটি মামলার এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আমরা দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিই। ওই আইনজীবীর পরামর্শে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার নথিপত্র ঢাকা থেকে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের দিন ১২ জুন শুক্রবার দুবাইয়ের আদালত খোলা থাকলেও তা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া শনি ও রোববার দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামিক নববর্ষ (হিজরি ১৪৪৮) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সরকারি ছুটি পালন করে। অর্থাৎ টানা তিন দিন সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

তাই ওই দিনই দুবাইয়ের আদালতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে হাজির করা হতে পারে। যদি দুবাই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর জন্য বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আবেদন করে, তাহলে তার আইনজীবী ওই আদালতে জামিন চাইবেন। আর যদি আদালতে তাকে হাজির করা না হয়, তাহলে আইনজীবী স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রসিকিউশন দপ্তরে বেনজীর আহমেদের পক্ষে আবেদন করবেন। এ লক্ষ্যে শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বেনজীর আহমদকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে জানতে ওই সংসদ সদস্যের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে সোমবার বিকেল ৫টার পর থেকে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। পরে এই বিষয়ে প্রশ্ন রেখে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটি তিনি দেখলেও কোনো উত্তর দেননি। কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবার কল দিলে এবার তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু তার নাম ও সংসদীয় আসন ধরে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।

এদিকে দুবাই থেকে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপি। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পুলিশ ইন্টারপোলে যে আবেদন করেছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ দুবাই পুলিশকে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করানোটা দুবাই আদালত সহজভাবে দেখবেন না বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করানোর পেছনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিরোধ রয়েছে বলে শুনেছি। পরে দুবাই পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরকে অবগত করে। এখন যদি বাংলাদেশ সরকার তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষাপটও দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তর বিবেচনায় নেবে। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। কিন্তু মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তরে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে অভিযোগ অনেকাংশে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান ধর্মমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। তাকে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক চেষ্টা করেও দুবাই সরকারের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনতে পারেনি। কারণ তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে সরকারের করা মামলার আসামি ছিলেন।

তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগে দুবাই পুলিশ আরাভ খানকে আটক করেছিল। যিনি পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হত্যা মামলার আসামি এবং তাকেও ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড অ্যালার্টের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আদালতে আরাভ খান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি ভারতের পাসপোর্টধারী হওয়ায় তাকে এখনো বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। বেনজীর আহমেদও বাংলাদেশ থেকে দুবাই যাওয়ার সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে চলাচল করছেন। আবার কেউ বলছে তার কাছে কোনো পাসপোর্টই নেই। ফলে পরিচয়-সংকটে তাকে বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হন এবং তার বিরুদ্ধে যেহেতু ইন্টারপোলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাই বাংলাদেশের পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, ইন্টারপোলের নিয়মিত পদ্ধতিতে গ্রেপ্তার হয়েছে নাকি গ্রেপ্তারে অন্য কোনো ইস্যু আছে কি না এবং এক মাসের মধ্যে যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে বলে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে

Continue Reading

top1

খুলনায় মসজিদে নামাজের সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই মুসল্লি বিদ্ধ

Published

on

By

খুলনায় নামাজের সময় মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৪ জুন) ফজরের নামাজের সময় দৌলতপুর ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জামে মসজিদের ভেতর ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, মুসল্লিরা নামাজে দাঁড়ালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এলোপাতাড় গুলি ছোড়ে। এতে লোকমান এবং আলম নামে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হন।

তাদেরকে মুসল্লিরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য লোকমানকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত জাহিদুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুই দিন আগে খুলনা নগরীর মাথাভাঙ্গা কাজীপাড়া এলাকায় দোকানে বসে থাকা রফিক গাজী নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার দুপুরে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এক যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Continue Reading

top2

হরমুজে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নিহতের ঘটনায় ইরানের শোক

Published

on

By

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের নিহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছে ইরান।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ শোক জানিয়েছেন।

এক্সবার্তায় বাঘায়েই বলেন, ‘ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর নিষ্ঠুর হামলা এবং তার জেরে ভারতের ৩ জন নাগরিকের মৃত্যু আরও একবার প্রমাণ করলো যে যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র ডাকাতি এবং সরকারি জলদস্যুতার নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা নিহত ভারতীয় নাগরিক, তাদের পরিবার, বন্ধু-স্বজন, ভারতের জনগণ এবং সরকারের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং স্বান্তনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এ ধরনের আইনবহির্ভূত কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া আচরণের কারণে আজ বৈশ্বিক শান্তি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সমুদ্র চলাচলের স্বাধীনতা- উভয়েই গুরুতর হুমকির মধ্যে আছে।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন বুধবার হরমুজ প্রনালীর ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক বা ক্রু ছিলেন, তাদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়।

মার্কিন হামলার পর তিন জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ চলাচলমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিখোঁজ ৩ জনই নিহত হয়েছেন।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

Continue Reading

Trending