Connect with us

top3

শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যায় না

Published

on

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল নয়, এরা হচ্ছে রেজিমেন্ট পলিটিক্যাল পার্টি। তাদের একটা গোল আছে, তাদের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য আছে, সেই গোলে তারা পৌঁছাতে চায়। শরিয়াহভিত্তিক একটা ইসলামিক রাষ্ট্র তারা তৈরি করতে চায়। যেটা আমাদের বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশের মানুষ একটা উদারপন্থি রাজনীতি করতে চায়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে সরিয়েছি। কিন্তু আমাদের সামনে আবার একটা শক্তি এসে দাঁড়িয়েছে, যে শক্তিটা ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ১৯৭১ সালে বিশ্বাস করেনি। এটা বাস্তবতা। এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। তারা আজকে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, আমাদের ধর্মপ্রাণ মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে ভোট ব্যাংকে হাত দিয়েছে। এই জায়গাগুলোকে নির্মূল করার দায়িত্ব আপনাদের, যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন।

তিনি বলেন, ধর্মে যারা বিশ্বাস করে তারা ধর্মভীরু মানুষ, ধর্মান্ধ কেউ নয়। আমাদের দেশে মুসলমান আছে, হিন্দু আছে, বৌদ্ধ আছে, খ্রিস্টান আছে। সবাই একসাথে কাজ করতে চায়। আজকে বিভিন্নভাবে ভিন্ন কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই বিভ্রান্ত রুখে দিতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্য মির্জা ফখরুল বলেন, খুব জোরেশোরে কথা বলছে, আন্দোলন করার চেষ্টা করছে। জুলাই সনদ নাকি আমরা মানি নাই। আমরা নাকি গণভোটের রায়কে বাদ দিয়েছি। জুলাই সনদের প্রতিটি পাতায় যে কথাগুলো লেখা আছে, সেখানে পরিষ্কার করে বলা আছে- এটা এই কয়েকটা রাজনৈতিক দল মেনেছে আর এই কয়েকটা রাজনৈতিক দল এটা মানে নাই। যারা নির্বাচনের জয়ী হবে সেই দলের যে ইশতেহার থাকবে, সেই ইশতেহার ম্যান্ডেট অনুযায়ী পালিত হবে। সুতরাং ম্যান্ডেট আমরা পেয়েছি। ইশতেহারে আমরা যা বলেছি জনগণের সামনে, সেটা আমরা পূরণ করতে চাই। প্রতিটি জায়গায় প্রতিটি কথায় আমরা জুলাই সনদকে মেনে চলছি। জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ আমরা অবশ্যই পূরণ করব।

তিনি আরও বলেন, আমরা পার্লামেন্টে বলেছিলাম, সংসদে যে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে আপনারা আসুন। আলাপ আলোচনার মধ্যে আমরা পরিবর্তন করব। কিন্তু তারা সেখানে না গিয়ে রাস্তায় নামছে। ১১ দল নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। রাস্তায় নেমেছে কিন্তু জনগণের কোনো সমর্থন দেখতে পাচ্ছি না আমরা। তারা ঢাকায় সভা-সমাবেশ করছে জনগণের কোনো সমর্থন নাই। আমাদের ছোট মিটিং ডাকলেই তাদের চেয়ে বেশি লোক হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য মন্ত্রী বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন কোনো হতাশা না আসে, আমরা সবসময় আশা নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো। আমরা কখনো পরাজিত হইনি। বিএনপি কোনো নির্বাচনের পরাজিত হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় আইসিটি বিভাগের সংবাদ সম্মেলন, হুঁশিয়ারি

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার মারামারির ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার না হলে আমরণ অনশনে বসবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনের নিচতলায় ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য সংবাদ সম্মেলন করেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। এসময় কথা বলেন আইসিটি বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, সিয়াম ও শামিম।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বাসের বিষয়ে উভয় বিভাগের সভাপতি সহ কয়েক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রক্টর অফিসে মীমাংসা করা হয়।আমরা যখন বের হচ্ছিলাম সেই মুহূর্তে আমাদের উপর এক অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায় (অটাকিং টু মার্ডার)। ওদের (বাংলা) ইন্টেনশন ছিল পুরোপুরি মার্ডার করার যেভাবে আমার উপর বা আমার সহপাঠী আমরা সেখানে ছিলাম মাত্র আটজন শিক্ষক তিনজন এই মোট ১১ জন। তাছাড়া আরেকজন শিক্ষক আহত হয়েছে গুরুতরভাবে বারি স্যার নামে। ওখানে আমাদের একজন শিক্ষককে বুকে লাথি মেরেছে তারপর উনি হাসপাতালে গিয়েছেন। আমাদের উপর একটা মব কালচার সৃষ্টি করে আমাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করার চেষ্টা করা ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজকের এই অতর্কিত হামলার তদন্ত কমিটি গঠন করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে উনারা একটা প্রতিবেদন দেন। সেখানে তিনজন সন্ত্রাসী শিক্ষার্থীদেরকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দৃঢ় আস্থা রাখতে চাই। আইসিটি বিভাগ বিভাগের সকল শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সবাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে।

তারা আরও বলেন, প্রশাসন উক্ত ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে যারা দোষী তাদেরকেই শুধু বিচারের আওতায় নিয়ে আসুক। আমরা চাই না— এখানে বাহিরের তৃতীয় পক্ষের কোন একজন ব্যক্তির নাম ঢুকিয়ে ওকে আবার বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক। আমি ধন্যবাদ জানাই বাংলা বিভাগের সকল শিক্ষকদের প্রতি, বিশেষ করে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার সহ আরো যারা অন্যান্য স্যার ছিলেন উনারা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। উনারা সবার প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এ কারণে উনারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম আজকের যে ঘটনাটা ঘটেছে তিন ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে তিনজনকে দোষী সাভ্যস্ত করে তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে।

বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও কিছু কিছু শিক্ষার্থীকে সনাক্ত করেছেন দাবি তাদের। তারা বলেন, বাংলা বিভাগে ২১-২২ বর্ষের আকো, ২২-২৩ বর্ষের চয়েজ কুমার ও রনি নামের শিক্ষার্থীদের সনাক্ত করেছে বলে দাবি। এছাড়া অজ্ঞাত ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী কায়দায় মারধর করেন বলে দাবি আইসিটি বিভাগের।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যাদেরকে আমরা আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি এবং যারা এখনো আইডেন্টিফাই হয়নি তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। আর যদি এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয় তাহলে পুরো আইসিটি বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি নেব এবং আমরা অনুসরণ অনশনে যাব।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাবল ডেকার বাস ‘গোধূলি’তে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে। পরদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বুর) দুপুরে দুই বিভাগের মীমাংসা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদের ওপর অতর্কিত হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে দুই শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ফটক আটকে রাখেন।

Continue Reading

top3

ইবিস্থ দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায়

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মুগ্ধ সরোবরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল, ক্রেস্ট ও চাবির রিং দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইনসানুল ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মালেক, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক সিলভিয়া খানম ও ফাইন আর্টস বিভাগের অধ্যাপক অনিন্দিতা হাবিব।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য সুদৃঢ় করাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্বাগত জানানো এবং তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। এই পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে নবীনদের একে অপরের সহযোগিতা করতে হবে। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিজেকে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়। একই সঙ্গে আমাদের জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুনাম ধরে রাখার দায়িত্বও সবার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মূল লক্ষ্য যেন শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করা অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করাই হওয়া উচিত প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন জরুরি। নিজের যে বিষয়ে পারদর্শিতা রয়েছে, সে বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি লিংকইন্ড, বিডিজবসসহ পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকা এবং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় যোগ্যতার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতাও ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

তিনি আরও বলেন, “ভালো ফলাফলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সিজিপিএ ও যোগাযোগ দক্ষতা বিবেচিত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। ইসলামের প্রথম বার্তাগুলোর একটি হলো ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়ো। জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বাবা-মা, শিক্ষক ও অন্যদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।”

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এমন একটি পরিচয় রেখে যেতে হবে, যাতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভদ্রতা, বিনয়, ভালো ফলাফল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য স্মরণ করেন। ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীলতা বা কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে নয়, বরং ভালো উদ্যোগ, মানবিক কাজ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের পরিচিত করতে হবে।”

Continue Reading

top3

মামলা ছাড়া হবে না ফরেনসিক, কমিটির এই দাবিতে অডিওর সত্যতা যাচাই ছাড়াই মিলল অব্যাহতি

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন না হলেও তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।কমিটির দাবি মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরিক্ষা করার কোনো নিয়ম নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর ই-মেইলে অভিযোগ দেন। অভিযোগে ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, যৌন হয়রানি এবং নম্বর টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল খারাপ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক ও এক ছাত্রীর কথোপকথনের কণ্ঠসদৃশ তিনটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলামকে রাখা হয়।তদন্ত কমিটি অডিওগুলো পর্যালোচনা করে।

পর্যালোচনায় অডিওতে অন্য একজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার আভাস পাওয়া গেছে উল্লেখ করে অডিওগুলোর সত্যতা যাচাই ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পৃথকভাবে তদন্তের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যে আরেকটি কমিটি গঠন করে। তবে শেষ পর্যন্ত অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।

এ বিষয়ে ২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।

ফরেনসিক পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়ে কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ফরেনসিক রিপোর্ট করতে হলে আগে মামলা থাকা লাগে। জীবন স্যারের নামে কোনো মামলা নেই। বিষয়টি সিন্ডিকেটকে জানানো হয়েছে—এখন কী করা দরকার, সেটি সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ নেই।শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লেখা রয়েছে।

পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভায় অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন না হলেও ড. তানজিউল ইসলাম জীবনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তাহলে মামলা ছাড়া কোনো ফরেনসিক করতে বলা হলো এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন কলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছিলেন।

Continue Reading

Trending