Connect with us

ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীরা দাদাগিরি চায় না, চায় অধিকার ও ন্যায়বিচার: শিশির মনির

Published

on

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বলেছেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে দেশের শিক্ষার্থীরা যে সাহস ও সংগ্রামের পরিচয় দিয়েছে, তা এ জাতির ভবিষ্যৎ বদলানোর শক্তি বহন করে। ৫ আগস্টের পরও যদি দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও সংস্কার না আসে, তবে সেই গণঅভ্যুত্থানের মূল্যহানি ঘটবে। আজকের শিক্ষার্থীরা দাদাগিরি চায় না; তারা চায় অধিকার, ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা।’

আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত “𝗞𝗻𝗼𝘄 𝗬𝗼𝘂𝗿 𝗥𝗶𝗴𝗵𝘁𝘀 𝗪𝗶𝘁𝗵 𝗖𝗨𝗖𝗦𝗨” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় আইন, অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

শিশির মনির আরও বলেন, ‘কোনো দেশের রাজনৈতিক দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পদ যদি একই ব্যক্তির হাতে থাকে, তাহলে দেশ আবারও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।’

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), চট্টগ্রাম শাখার পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে দুদকে অভিযোগ দাখিলের বিভিন্ন পদ্ধতি, অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং দুর্নীতিবিরোধী আইনি কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)’র সহ-সভাপতি (ভিপি) জনাব ইব্রাহিম রনি বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা কোনো বাজেট পাইনি। তবে বাজেট বা কোনো প্রশাসনিক জটিলতা আমাদের অগ্রজাত্রা রুদ্ধ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে চাকসু তার গতি ধরে রাখবে—ইনশাআল্লাহ। ভবিষ্যতেও আইনভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে গবেষণা উৎকর্ষতায় ডিন’স এওয়ার্ড পেলেন চার শিক্ষক

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার শিক্ষককে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চ এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের ২৩২ নম্বর রুমে এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং শাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম।

সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়েশা ফেরদৌস মিতা। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘অপ্টিমাইজিং প্রোপার্টিজ অব কংক্রিট কনটেইনিং স্টোন ডাস্ট অ্যান্ড সিরামিক টাইলস অ্যা রেসপন্স সারফেস মেথডোলজি অ্যাপ্রোচ’। গবেষণাটি ক্লিনার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৭.৩, এসজেআর ১.৩৮১ এবং এটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত।

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের জাহিদ হাসান শৌরভ ও ড. মো. জহুরুল ইসলাম।

জাহিদ হাসান শৌরভের গবেষণার বিষয় ‘এক্সট্রাকশন অব পেকটিন ফ্রম ওয়াটারমেলন রাইন্ডস ইউজিং সিকুয়েনশিয়াল আল্ট্রাসাউন্ড-মাইক্রোওয়েভ টেকনিক, অপ্টিমাইজেশন ইউজিং আরএসএম অ্যান্ড এএনএন মডেলিং অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন’। গবেষণাটি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ম্যাক্রোমলিকিউলস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৮.৭, এসজেআর ১.২৮৭ এবং এইচ-ইনডেক্স ২৪৭।

একই ক্যাটাগরিতে ড. মো. জহুরুল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন অব অ্যান ইনোভেটিভ ইউভি-রেজিস্ট্যান্ট বায়োকম্পোজিট ফিল্ম বেজড অন হিপটিস সুয়াভিওলেনস মিউসিলেজ, ব্ল্যাক গ্রাম হাস্ক লিগনিন, অ্যান্ড সিট্রাস ম্যাক্রোপটেরা এসেনশিয়াল অয়েল’ শীর্ষক গবেষণার জন্য। গবেষণাটিও ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ম্যাক্রোমলিকিউলস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিসেস নাসিমা বেগম। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘কন্ট্রোলড হিট ইনপুট ইন লেজার মেশিনিং অব পিএমএমএ: আ জিএ-আরএসএম অ্যাপ্রোচ’। গবেষণাটি রেজাল্টস ইন ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৯.৪, এসজেআর ১.২৪ এবং এটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত।

গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয় কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড শাহিদুর রহমানকে। তার জার্নাল আর্টিকেল ৭ টি, সাইটেশন ১২০, কনফারেন্স পেপার ৩৯।

পুরস্কারের মূল্যায়নে জার্নাল আর্টিকেল, কিউ ইনডেক্স, কনফারেন্স পেপার, গুগল স্কলারের সাইটেশন, পিএইচডি, এমএসসি ও বিএসসি পর্যায়ের সুপারভিশন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিসার্চ গ্রান্ট এবং জাতীয় স্বার্থে গবেষণায় অবদানের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রসার এবং জাতীয় উন্নয়নে গবেষণার ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে গবেষণা জোরদারের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপ-উপাচার্য রবিউল ইসলাম বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেই গবেষণার কাজ শেষ হয় না; গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো যায়, এখন সেদিকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনেক ধরনের সফটওয়্যার, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সবগুলো সবসময় যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। তাই প্রত্যেক বিভাগে একই ধরনের সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে বিদ্যমান সুবিধাগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে সবাইকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া দরকার।

গবেষণার ফলাফল পেটেন্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যেই আটকে না থাকে। একটি ভালো গবেষণা থেকে যদি পেটেন্ট বা বাস্তব কোনো উদ্ভাবন তৈরি করা যায়, সেটিই হবে গবেষণার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেটেন্টিং ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তরুণ গবেষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পিএইচডি বা পোস্টডক্টরাল গবেষণা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছেন, তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার ধারণা নিয়ে আসছেন। এসব জ্ঞান অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় আরও আগ্রহী হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার যে সুযোগ রয়েছে, সেটি আমাদের বড় শক্তি। বিশেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা বেরিয়ে আসবে।শাবিপ্রবিতে গবেষণা উৎকর্ষতায় ডিন’স এওয়ার্ড পেলেন চার শিক্ষক

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: প্রক্টরের তৎপরতায় বড় সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেল ইবি ক্যাম্পাস

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

এক শিবির নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। দফায় দফায় শোডাউন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মুখোমুখি অবস্থান, নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে নিয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান ও প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সার্বক্ষণিক তৎপরতায় ক্যাম্পাসে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড় মারেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য আলীনূর রহমান। ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া হলে জড়ো হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তাঁরা দুই পক্ষকে শান্ত করার পাশাপাশি ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করেন। পরে জিয়া হলের প্রভোস্টের কক্ষে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট।

বৈঠকে অভিযুক্ত আলীনূরকে উপস্থিত করার দাবি ওঠে। তাঁকে আনতে প্রক্টরিয়াল বডি কক্ষে গেলে বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয়। কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় প্রথমে আলীনূরকে বের করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। ফের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির মাঝখানেই দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে দেখা যায় প্রক্টরকে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, শিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে পাইপ হাতে অবস্থান নেন। এর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশের সহায়তায় ক্ষুব্ধ শিবির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে আলীনূরকে জিয়া হল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা তাঁকে মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রক্টরের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করেন। গাড়ির গ্লাসও ভেঙে যায়। এসময় প্রক্টর অফিসের কর্মচারীর মোবাইলও চাপে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর ছিলেন প্রক্টর ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দল। প্রক্টরের দাবি— “অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গাড়ি তোলার সময় পাশে থেকে ইট নিক্ষেপ করলে আমার কানের নিচ দিয়ে গিয়ে গাড়িতে পড়ে। এটা আল্লাহর রহমত মনে করি।”

পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রক্টর অফিসে আবারও আলোচনা করা হয়। প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে সমঝোতা হয়। ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‍্যাব ও ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়।কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান এবং মেধার ভিত্তিতে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে এখনও ক্যাম্পাস থমথমে অবস্থা। গতকাল সার্বক্ষণিক প্রধান ফটকে আনসার সদস্যদের ভূমিকায় অবস্থান নিলেন তিনি। গতকাল শেষ রাতেও (২ টা ০৬ মিনিটের দিকে) নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতেও তদারকি ও টহল দিতে দেখা গেছে।

সর্বশেষ আজ বিএনপি জামায়াত সমাবেশ কর্মসূচি দিলে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়। উপাচার্যের নির্দেশনায় প্রক্টর তাঁর অফিস কার্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়ে আলোচনায় বসেন। এসময় ছাত্রদল-শিবিরের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের সহাবস্থান বজায় রাখতে সমঝোতায় চলে আসেন। এতেও নেতৃত্ব দিলেন প্রক্টর নিজেও। সর্বশেষ উভয় পক্ষ সমঝোতায় চলে গেলে আপাতত ক্যাম্পাসে শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই ভিসির নির্দেশে প্রক্টোরিয়াল বডির মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস পরিদর্শন করা হয়। ক্যাম্পাসে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। মাইকিং করে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রক্টর ও প্রক্টোরিয়াল বডির পক্ষ থেকে সারারাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ঘটনার দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনের দলীয় ইস্যুতে রূপ নেওয়ায় ঘটনাটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই তাদের মধ্যে সহবস্থান তৈরি করে আসছি। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় এমনটা সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে অভিযুক্তকে উদ্ধার করেছি।

Continue Reading

top3

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে দুইটায় হলের ২জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে সংগঠিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অত্র হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম তালুকদারকে আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের করতে বলা হলো।

এদিকে একইদিনে ঘটনার তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা লিখিতভাবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন ভবনের ১০৯ নম্বর কক্ষে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। তথ্য সত্য, নিরপেক্ষ ও যথাসম্ভব বিস্তারিতভাবে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় ও দেওয়া তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তথ্যদাতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বা আলোচনার জন্য নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি তথ্য প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাৎ বা আলোচনা করে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, গতকাল (শনিবার) দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলিনূর রহমান বাঁধন কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় উত্তাল হয় ক্যাম্পাস। হলেই এক দফা হট্টগোলের পরে ছাত্রশিবির জিয়া মোড়ে এবং ছাত্রদল মেইন গেটে অবস্থান নেয়। এসময় উভয় দলের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এদিকে ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগত অনেককে হাতে রামদা, কিরিচ, চাপাতি-সহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনার পরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে ইবি প্রশাসন।

Continue Reading

Trending